ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন বলে জানানো হয়েছে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৪:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর ধারণা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন, তবে তিনি ‘গুরুতর আহত’।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনই মোজতবার বাবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।


গত রোববার ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর থেকে ইরানিরা তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখেননি। গত বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন উপস্থাপক তাঁর দেওয়া প্রথম বক্তব্যটি পড়ে শোনান।


এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মোজতবাকে ‘রণাঙ্গনে আহত’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।


গত বুধবার এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সামান্য আঘাত পেয়েছেন, তবে তিনি দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


ফক্স নিউজের ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি সম্ভবত (জীবিত) আছেন। আমার ধারণা, তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তবে কোনো না কোনোভাবে সম্ভবত বেঁচে আছেন।’


গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফক্স নিউজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ করে।


মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম বক্তব্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় সেসব ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল এবং যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান।


যুদ্ধ দুই সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ব আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের এক সরকারি মুখপাত্র। 


তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতের পূর্ণ সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি খাদে ট্রেনের বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়।


রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, মধ্য স্পেনের মোরা ও অরগাস শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাওয়া রেনফে ও ইরিওর দুটি দ্রুতগতির ট্রেন জড়িত ছিল।


তোলেদো শহরের কাছের উরদা পৌরসভার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আহতদের রাখার জন্য একটি ক্রীড়া হল প্রস্তুত করতে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে অনুরোধ করেছেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আদিফ জানায়, দুই ট্রেনের পেছন থেকে সংঘর্ষের কারণে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।


তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৮ পিএম

গত বছরের বেশির ভাগ সময় ভারত ও চীনের সম্পর্ক সতর্কতার সঙ্গে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছিল বলে মনে হয়েছে। কয়েক দশক ধরেই দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন দেখা গেছে। বিশেষ করে হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।


তবে গত কয়েক দিনের ঘটনাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২০ সালের সর্বশেষ সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে বরফ গলতে শুরু করেছিল, তা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর হতে পারে।


সাম্প্রতিক উদ্বেগের সূত্রপাত হয় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানের একটি বক্তব্য থেকে। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে চীনের সেনা সদস্যরা হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার কয়েকটি স্থানে বিপুলসংখ্যায় ফিরে এসেছেন। এসব এলাকায় তারা ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছে।


ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুরের এই বক্তব্য দিল্লিতে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


প্রথমত, দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য খুব একটা শোনা যায় না। সংবেদনশীল সীমান্ত সমস্যাগুলো সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তুলে ধরে।


রাজস্থান রাজ্যে সম্প্রতি কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে কাপুর বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় ও চীনের সেনা সদস্যরাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা এখনো চলছে।


তিনি বলেন, জুলাইয়ে এই মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনাগুলো শুরু হয়। তবে প্রথম দিকে উভয় পক্ষই সেখান থেকে সেনাসদস্য সরিয়ে নেয়।


তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন পর চীনের সেনা সদস্যরা আরও বেশি সংখ্যায় ফিরে আসে। তারা লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) নামে পরিচিত সীমান্তরেখা নিয়ে ভারতের ধারণা অনুযায়ী ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করে।


এলএসি হলো একটি অস্পষ্ট সীমারেখা। এটি দুই প্রতিবেশী দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোকে আলাদা করেছে। তিন হাজার ৪৪০ কিলোমিটার বা প্রায় দুই হাজার ১০০ মাইল দীর্ঘ এই বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে।


চীন অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে। তবে দিল্লি বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের বক্তব্য, অরুণাচল প্রদেশ দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ।


১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত যে সমস্যাগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে এই সীমান্ত বিরোধ অন্যতম। এটি দেশটির জন্য সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।


এই বিরোধের জেরে ১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সীমান্তযুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ভারত শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়ে।


ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সীমান্তের বড় একটি অংশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত হয়নি। ফলে দুই দেশই একই ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে।


এ অঞ্চলের দুর্গম ভূপ্রকৃতি সমস্যাটিকে আরও জটিল করেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, হ্রদ এবং বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের কারণে সুস্পষ্ট সীমান্ত নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনা সদস্যরা প্রায়ই মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন। কখনো কখনো এসব ঘটনা সহিংস সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দেয়।


সর্বশেষ বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা দেয় ২০২০ সালের জুনে। সে সময় লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনের সেনা সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চারজন চীনের সেনা সদস্য নিহত হন।


১৯৭৫ সালের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম প্রাণঘাতী সংঘর্ষ।


ভারতের বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, সরকার চীনের কাছে ভূখণ্ড হারিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বারবার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।


ওই সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। কূটনৈতিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বাণিজ্য ও ভ্রমণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েক দফা আলোচনার পর ২০২৪ সালে দুই প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়।


এরপর থেকে তারা সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা এবং সংঘর্ষের পর আরোপ করা ভিসার বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে।


চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন। সাত বছরের মধ্যে এটিই ছিল তার প্রথম ভারত সফর।


এসব ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ক আরও ব্যাপকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে আবার মুখোমুখি অবস্থানের খবর প্রকাশিত হওয়ায় বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


কাপুরের বক্তব্যের পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস আবারও অভিযোগ করেছে, মোদি সরকার বেইজিংয়ের কাছে ছাড় দিচ্ছে।


কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'এই গুরুতর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো প্রশাসন নীরব রয়েছে।'


চীনের সেনা সদস্যরারা ভারতীয় ভূখণ্ড বলে বিবেচিত এলএসি সীমান্তরেখার ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছিল—কাপুরের এই বক্তব্য ভারত সরকার স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেনি।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে বলেন, 'চীনা বাহিনী যখন প্রতিষ্ঠিত টহল দেওয়ার নিয়ম থেকে সরে আসে, তখন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হয়।'


তিনি বলেন, দুই দেশই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ব্যবহার করছে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, চীন ভারতের সঙ্গে হওয়া প্রাসঙ্গিক চুক্তিগুলো 'ধারাবাহিকভাবে এবং কঠোরভাবে মেনে চলছে'।


তিনি আরও বলেন, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য চীন সীমান্ত এলাকায় 'স্বাভাবিক টহল ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম' পরিচালনা করছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপুরের বক্তব্য থেকে বিতর্কিত সীমান্তে চীনের ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানের একটি বিরল চিত্র পাওয়া যায়।


ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বলেন, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চীনের এ ধরনের তৎপরতা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে।


২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে কয়েক দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।


শ্যাম শরণ বলেন, চীনের এসব পদক্ষেপ 'তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ শুরু করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এর মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতিতে নতুন কিছু প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব'।


ভারতের বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, চীন লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশ—উভয় এলাকাতেই নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।


চীনের গণমুক্তি ফৌজের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্নেল ঝৌ বো এখন বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার মতে, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ থেকে ভারত ও চীন-উভয় দেশই শিক্ষা পেয়েছে।


তিনি বলেন, 'ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষেরই আরও সতর্ক হওয়া উচিত।'


তিনি আরও জানান, অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনাগুলো চীনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।


ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বেশ জটিল অবস্থায় রয়েছে।


মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারত ও চীন এখনো একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৫১ বিলিয়ন ডলার। তবে এই বাণিজ্যে ভারসাম্য চীনের পক্ষে অনেক বেশি। গত বছর ভারতে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার।


যন্ত্রপাতি, বিরল মৃত্তিকা চুম্বক, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং ওষুধের মতো পণ্যের জন্য ভারত এখনো চীনের ওপর নির্ভরশীল।


এই নির্ভরতার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব ভারতের শিল্প খাত এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও পড়তে পারে।


গত সপ্তাহে চীন সুড়ঙ্গ খননের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। পাতাল রেল ও মহাসড়ক নির্মাণে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।


চীন বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।


এই বিধিনিষেধ শুধু ভারতকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়নি। তবে ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।


নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ক্লারি বলেন, 'ভারতের প্রতি চীনের নীতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভারতের উত্থানকে জটিল করে তোলা যায়। এর মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতকে বাধার মুখে ফেলাও রয়েছে।'


গত বছর বিরল মৃত্তিকা চুম্বকের রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ আরোপের সময়ও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল।


বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের টারবাইন এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ক্যানার তৈরিতে এসব চুম্বক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।


চীনের ওই পদক্ষেপের কারণে সাময়িকভাবে ভারতের বিভিন্ন শিল্পে সরবরাহের সমস্যা দেখা দেয়। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকরণের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে।


ভারত এখন নিজস্বভাবে বিরল মৃত্তিকা চুম্বক উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এই শিল্প গড়ে তুলতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।


বিতর্কিত সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের জন্য চীনের সঙ্গে উত্তেজনার প্রভাব আরও তাৎক্ষণিক।


অরুণাচল টাইমসের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টোঙ্গাম রিনা বলেন, 'সীমান্ত এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা আমাদের জানিয়েছেন, চীনের অনুপ্রবেশ ও দখলদারির কারণে তারা চারণভূমিতে যেতে পারছেন না। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমনটি ঘটছে।'


তিনি আরও বলেন, এর ফলে 'এখানকার মানুষরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


গ্রামবাসীরা সাধারণত ওই 'নিষিদ্ধ' এলাকাগুলোতে শিকার করতে বা চমরি গাই পালতে আর ফিরে যান না। আবার কবে সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাবেন, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত নন।


এই সীমান্ত বিরোধের প্রভাব দিল্লির বৃহত্তর কৌশলগত হিসাব-নিকাশেও পড়ছে।


ভারতের মধ্যে ক্রমেই এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো সংঘাত হলে ভারতকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আগ্রহ সীমিত হতে পারে।


চীনের হয়তো ভারতের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়ানোর বিশেষ আগ্রহ নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত বিরোধ অব্যাহত থাকলে চীন কিছু সুবিধা পেতে পারে।


চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি যত বাড়ছে, ততই দেশটি হিসাব করতে পারে যে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা ভবিষ্যতের আলোচনায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।


ভারতের জন্য সর্বশেষ সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনাগুলো একটি সতর্কবার্তা। এগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলেই সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় না।


ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর বক্তব্য দিচ্ছেন লিবারেল পার্টির প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তার পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে তিনটি সূত্র ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন।


রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও। তবে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়া হবে এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।’


অর্থ পাচারের একটি তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওর পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। সোমবার তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা না দেওয়ায় পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।


আদালতের আদেশে বলা হয়, ফ্লাভিওর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় পাসপোর্ট জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার ফ্লাভিও বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর কথাও জানিয়েছিলেন।


ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার খবর তার নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপককেও বিস্মিত করেছে। সিনেটর রজেরিও মারিনহো সাংবাদিকদের বলেন, আগের দিনই ফ্লাভিওর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নির্বাচনে প্রায় ছয় কোটি ভোট পাওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে তার থাকা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছিল।


ফ্লাভিওর দেশত্যাগে আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় আনতে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করছে। রোববারের নির্বাচনের আগে বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরাতে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর জইর বলসোনারোও পরাজয় স্বীকার না করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দেশটির সরকারি ভবনে তাঁর সমর্থকদের হামলার পর তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ফ্লাভিওর দেশত্যাগ নিয়ে কিছু বলেননি। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের লুলা বলেন, ফ্লাভিও দেশ ছেড়েছেন-এ কথা তিনি মাত্রই শুনেছেন। তার মতে, দেশ ছেড়ে না গিয়ে ব্রাজিলেই থেকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা উচিত ছিল ফ্লাভিওর।


নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও রোববার ফল বাতিলের দাবি তোলার কথা জানিয়েছিলেন। ভোটে অনিয়মের অভিযোগও করেছিলেন তিনি। তবে সোমবার তার দল লিবারেল পার্টি লুলার বিজয় মেনে নেওয়ার কথা জানায়।


ফ্লাভিও কীভাবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমার মধ্যে দেশ ছাড়লেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও নিয়মিত অভিবাসন তল্লাশিচৌকি দিয়ে দেশ ছাড়েননি।


ফ্লাভিওর সিনেটর হিসেবে মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হলে তিনি বিচার থেকে পাওয়া দায়মুক্তি হারাবেন।


বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজেদের জোট এগিয়ে থাকার আভাসের মধ্যে ‘শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 


তবে সরকার গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিকুদ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়ব।’ 


মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে প্রথমে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও পরবর্তী হালনাগাদে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে যায়।


ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের জোট এগিয়ে আছে ৫০টি আসনে। আরব লিস্ট এগিয়ে রয়েছে ১৯টি আসনে। একক দল হিসেবেও লিকুদ পার্টি এগিয়ে আছে।


তবে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটই নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও জোটের হিসাব-নিকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নির্বাচনী ফলাফলে নিজেদের জোট এগিয়ে থাকার খবর পাওয়ার পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি বলেন, সরকার গঠনের বিষয়ে এখনই আলোচনা করা আগাম হয়ে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোটের প্রকৃত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবেন তিনি।


নেতানিয়াহু আরও স্পষ্ট করে বলেন, আরবদের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলে কোনো সরকার পরিচালনা করা হবে না।


এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলি আরবদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণে এসব দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে, বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জনগণকে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান।


আইজেনকট বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’


নেতানিয়াহুকে জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির পর আবার নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করাকে মারাত্মক ভুল বলে মন্তব্য করেন।


সরকার গঠনের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আইজেনকট বলেন, তিনি সবাইকে নিয়ে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।


চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই ইসরায়েলে সরকার গঠনের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোট

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে বিরোধী জোটের সমানে-সমান লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। নির্বাচনের ফলাফল এতটাই কাছাকাছি যে, এখনই চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। 


সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহু জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে তা বেশ দূরে। দুটি বুথফেরত জরিপের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে,গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমান-সমান। আর তৃতীয় একটি জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। 


বিবিসি বলছে, ইসরায়েলের ‘কান এলেভেন’ এবং ‘চ্যানেল থার্টিন’ নিউজ নেটওয়ার্ক তাদের বুথফেরত জরিপের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট দুটির প্রত্যেকটিই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এসে চ্যানেল-টুয়েলভ তাদের বুথফেরত জরিপ সংশোধন করেছে। তাদের নতুন বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে সামান্য পিছিয়ে ৫০টি আসনে এবং নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২টি আসনে দেখানো হয়েছে।


এর আগে, তারা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোটের চাইতে বিরোধী জোটকে কিছুটা এগিয়ে দেখিয়েছিল। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট নেসেটে একক বৃহত্তম দল হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে চ্যানেল টুয়েলভের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫২ আসনে জিতেছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯ আসনে জিতেছে। আরব লিস্ট জিতেছে ১৯ আসনে।


তবে বুথফেরত জরিপের বরাতে বিবিসি বলছে, আরব দলগুলো ১৭টি বা তারও বেশি আসনে জয়ী হয়ে এ যাবতকালের মধ্যে তাদের সেরা ফলাফল অর্জন করার পথে রয়েছে।


এরই মধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি থেকে আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা ও ফলাফল আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিক গণনা শুরু হয়েছে যা এখনও চলছে। ভোর ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। তবে ভোট গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।


এখন পর্যন্ত কোনো জোটেরই স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। যদিও নির্বাচনের ফলাফল এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র রূপ নিয়েছে। 


সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট নবগঠিত ‘ইয়াশার’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিই মূলত বিরোধী শিবিবের ‘চেঞ্জ ব্লক’ এর প্রধান মুখ। এই জোটটি মূলত বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত যাদের সবার লক্ষ্য- নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।


সরকার গঠনে দীর্ঘ আলোচনা-দরকষাকষি হতে যাচ্ছে


সরকার গঠনের জন্য সম্ভবত দলগুলোর মধ্যে সামনের দিনগুলোতে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা ও দরকষাকষি হতে যাচ্ছে, যেখানে একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।


নেসেটের ১২০টি আসনের সবকটিতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দেশটির ইতিহাসে কোনো দলই এককভাবে কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আগে থেকেই সেখানে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠিত হয়ে আসছে।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নিয়ন্ত্রিত হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম আইনসভা (পার্লামেন্ট) নির্বাচন। 


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকছেন, নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটছে তা নির্ধারণে ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকেরা। গাজায় যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন। প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


মঙ্গলবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ।


ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; বরং পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। নেসেটে আসন পেতে একটি দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১২০টি আসন বণ্টন করা হয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।


এর আগের জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সঙ্গে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। তবে ভোটে নেতানিয়াহুকে হারালেই যে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে, বিষয়টা এমন নয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচনী ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে দলগুলোকে জোট গঠন নিয়ে আলোচনা করতে হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। দেশটির ইতিহাসে এখনো কোনো দল এককভাবে এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে পারেনি।


স্ত্রী সারাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু


সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি। ফলে কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে অন্য কয়েকটি দল। এরমধ্যে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোও আছে।


জনমত জরিপে কিছুটা পিছিয়ে আছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। কিন্তু বর্তমান মিত্র ও নতুন জোটসঙ্গীদের কাছে থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারেন। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে আছে- কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইহুদিত ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি।


অতি-কট্টর ইহুদিদের দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দল দুটি অতীতে একাধিকবার নেতানিয়াহুর জোট সরকারে যোগ দিয়েছে। তবে পরে জোট ছেড়েও গেছে। সবশেষ ২০২৫ সালে তারা জোট থেকে বেরিয়ে যায়।


সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে চারটি বিরোধী দল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সেগুলো হলো ইয়াশার পার্টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু ও টুগেদার পার্টি। দলগুলোর জোট জানায়, ইসরায়েলকে একটি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই জোটটি সরকার গঠন করলে কে নেতৃত্ব দেবেন তা এখনো ঘোষণা করেনি। তবে ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি ইয়ার লাপিদের সঙ্গে টুগেদার জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।


ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তাদের প্রতিনিধিত্ব করে রাজনৈতিক দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট নামের একটি জোট। তারা প্রায় ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাআম ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ নামেও পরিচিত। ২০২১ সালে তারা নাফতালি বেনেটের জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল। ইসরায়েলের কোনো সরকারে অংশ নেওয়া প্রথম আরব নেতৃত্বাধীন দল এটি।


রাআমের নেতা মানসুর আব্বাস ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার গঠন করতে বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন জোটের যদি অতিরিক্ত আসনের প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি সমঝোতায় রাজি হতে পারেন। তবে আইজেনকোটসহ বিরোধী নেতাদের অধিকাংশই এ ধরনের জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।


জোট সরকার চাইলে প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পূরণের জন্য বাইরের দলের কাছে থেকে সমর্থন নিতে পারবে। এক্ষেত্রে ওই দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি নয়। ঠিক এ জায়গাতেই নির্ধারক হতে পারে আরব ও ফিলিস্তিনপন্থি দলগুলো। হাদাশ, তাআল ও বালাদ নামের তিনটি গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বিরোধী জোটে যোগ না দিলেও তারা সমর্থন দেবে। বিনিময়ে দলটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনসহ কিছু শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে। তবে এ ধরনের সমঝোতা হলে দলত্যাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতির বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সরকার টিকে থাকার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


অন্যদিকে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নিয়ম আছে। সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক সংকটের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের সরকার গঠন করা হয়। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে দেখা গেছে। ২০২০ সালের মে মাসে পরপর তিনটি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। তখন নেতানিয়াহু ও ‘ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট’ দলের নেতা বেনি গান্তজ ঐক্যের সরকার গঠন করেন। তবে এক বছরের মধ্যে তাদের সমঝোতা ভেঙে যায়।


২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গান্তজ ও তাঁর দলের সদস্যরা নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দেন। এটিকেও জরুরি পরিস্থিতিতে গঠিত ঐক্যের সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতার আওতায় দুই রাজনৈতিক নেতা পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে সম্মত হতে পারেন। ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও গান্তজ এ ধরনের সমঝোতায় রাজি হয়েছিলেন। তবে গান্তজ দায়িত্ব নেওয়ার আগে জোট ভেঙে যায়।


২০২১ সালের জুনে নাফতালি বেনেট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইয়ার লাপিদের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতা করেন। চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পর তাঁদের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের জুনে বেনেটের জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। 


পরে জুলাই মাসে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন লাপিদ। ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নেসেটের সদস্যদের সমর্থনে। কিন্তু সরকার গঠন নিয়ে দলগুলো অচলাবস্থায় পড়লে এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট জোটের বিরোধী শিবিরের সদস্যও হতে পারেন।


কোনো জোটই যদি সরকার গঠনে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে না পারে তাহলে ইসরায়েল আবারও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে। যা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দিকে গড়াবে। স্থিতিশীল সরকার গঠনে বারবার ব্যর্থতার কারণে দেশটিতে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচবার নির্বাচন হয়। এবারও তেমনটা হলে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্ববধায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।


ভোটগ্রহণ শেষে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ভোট-পরবর্তী জরিপের ফল প্রচার করবে। জরিপ থেকে ফলাফল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। এরপর আসতে শুরু করবে প্রকৃত ভোটের ফল। নির্বাচনে কারা বিজয়ী হতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আভাস পাওয়া যাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। তবে পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে কয়েকদিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।


কোনো একক দল বা জোট পার্লামেন্টে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে আরও সময় লাগতে পারে। আশা করা হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হবে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে ৪ নভেম্বর।