মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানই প্রথমে হামলা চালাতে পারে এ ধারণা থেকে তিনিই মার্কিন বাহিনীকে ইরানে ইসরায়েলি হামলায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ আগেরদিনই তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে ভিন্ন ভাষ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত সোমবার মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তেহরানে ইসরায়েলের পরিকল্পিত আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপরও পাল্টা হামলা চালাতে পারে এই ভয় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র হামলায় যোগ দেয়।
“আমরা জানতাম ইসরায়েল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপরও পাল্টা আঘাত আসতে পারে, এবং আমরা জানতাম যদি তাদের (ইরান) ওই হামলা শুরুর আগে আমরা আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে না যাই তাহলে আমরা অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হব,” বলেছিলেন তিনি।
ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে নিয়ে গেছে- ট্রাম্প মঙ্গলবার এ ধারণাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইরানে যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে তার প্রশাসনের এমন আলাদা আলাদা মত রিপাবলিকান সমর্থকগোষ্ঠীর ভেতর যুদ্ধ নিয়ে দ্বিধাবিভক্তিকেই স্পষ্ট করছে। প্রেসিডেন্ট যে ‘অকারণে নিজের পছন্দে এ যুদ্ধ শুরু করেছেন’, ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের অনেক সমর্থকও এখন এ কথা বলা শুরু করেছেন।
“আমিই হয়তো তাদের (ইসরায়েল) বাধ্য করেছি। আমরা এই পাগলাটে লোকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, এবং আমারই মত ছিল যে তারা আমাদের ওপর প্রথম আক্রমণ করতে যাচ্ছে। আমরা যদি (হামলা শুরু) না করতাম, তারাই আমাদের ওপর হামলা করতে যাচ্ছিল। আমি এটা দৃঢ়ভাবে অনুভব করছিলাম,” ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য নানান যুক্তি খুঁজলেও ইরান শুরু থেকেই তাদের ওপর আক্রমণকে ‘বিনা উসকানিতে হামলা’ বলে আসছে। যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের নয়, ইসরায়েলের- রুবিওর এ ভাষ্যকে সামনে এনে রক্ষণশীল অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকারই ইরানে হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন।
“তার কথার সোজাসাপ্টা মানে দাঁড়াচ্ছে, আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছি, কারণ ইসরায়েল আমাদের বাধ্য করেছে। তিনি কার্যত সবচেয়ে খারাপ কথাটাই বলেছেন,” রুবিওর ভাষ্য প্রসঙ্গে এক্সে ৪০ লাখ অনুসারীকে এমনটাই বলেছেন রক্ষণশীল পডকাস্টার ম্যাট ওয়ালশ।
আরেক রক্ষণশীল পডকাস্টার মেগান কেলি বলছেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
“ইরান বা ইসরায়েলের খোঁজখবর করা আমাদের সরকারের কাজ নয়। তাদের কাজ হচ্ছে আমাদের খোঁজখবর নেওয়া। এটাকে স্পষ্টতই ইসরায়েলের যুদ্ধ মনে হচ্ছে আমার,” রুবিরও মন্তব্যের আগেই এ কথা বলেছিলেন কেলি।
এমন এক সময়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে এ বিরোধ দেখা যাচ্ছে যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা যাবে কিনা, তা নিয়ে দলটির ভেতরেই সন্দেহ ক্রমশ বাড়ছে।
‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ হোয়াইট হাউস
যুদ্ধে জড়ানোর কারণ নিয়ে বিতর্কে শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসকেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ‘ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে’ উদ্যোগী হতে হয়। তেহরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা শুরুর তিন দিন পর মঙ্গলবার প্রথম ট্রাম্প জনসমক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এর আগে তিনি হামলা নিয়ে দুটি ভিডিও বার্তা, বাছাই করা কয়েক সাংবাদিককে একান্ত সাক্ষাৎকার এবং হোয়াইট হাউসে সোমবার অল্প কয়েকটি মন্তব্য করেছিলেন।
কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট এখন বলছেন, ইরান হামলা চালানোর দ্বারপ্রান্তে ছিল বলে তার ধারণা। অথচ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলার আগে বৃহস্পতিবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় ওই আলোচনা ‘ইতিবাচক দিকে যাচ্ছিল’ এবং সামনের দিনগুলোতে আরও আলোচনার পরিকল্পনা হচ্ছিল বলে ভাষ্য ইরানের।
“এটা (হামলা) এমন কিছু, যেটা করাই লাগতো,” বলছেন ট্রাম্প।
এদিকে গত মঙ্গলবার রুবিও ক্যাপিটল হিলে এসে তার আগের মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “মোদ্দাকথা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে কোনোভাবেই আমাদের ওপর প্রথম আঘাত হানতে দেওয়া যাবে না। এটাই আসল ব্যাপার, বন্ধুরা।”
মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে কোন কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষ করে জেনিভায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পজামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনার পরও কেন সামরিক অভিযান শুরু করতে হল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তারা বলেছেন, উইটকফ ও কুশনার বারবার ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে তাগাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানিরা তা না মেনে তাদের দেশের উত্তরাঞ্চলে তেহরান গবেষণা চুল্লিতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সুযোগ চেয়ে প্রস্তাব দেয়।
এর মাধ্যমে ইরানিরা কার্যত সময়ক্ষেপণের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মার্কিন দূতদের মনে হয়, বলেন ট্রাম্প প্রশাসনের ওই দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
“(পরমাণু) বোমা বানাতে যা যা দরকার, সেসব উপকরণ হাতছাড়া করতে কোনোমতেই রাজি হচ্ছিল না,” বলেন এক কর্মকর্তা। ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি একেবারেই শান্তিপূর্ণ, এবং তারা বোমা বানাতে কাজ করছিল না।
জেনিভা আলোচনা থেকে ফিরে উইটকফ ও কুশনার ট্রাম্পকে জানান, ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অন্য বিশ্ব শক্তিগুলো ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল সেরকম একটা চুক্তি হয়তো করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে পৌঁছাতেও কয়েক মাস লেগে যাবে।
পরদিনই ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন, যার ধারাবাহিকতায় শনিবার থেকে হামলা শুরু হয়।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা