• প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২৮ এএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যুগোপযোগী, আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষাকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী চার বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। 


প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক কারিকুলাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ, লেখা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা নিশ্চিত করতে নতুন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালা ও মানদণ্ডের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন (কেপিআই) এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে দেশের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি সিলেট বিভাগে ছয় ঘণ্টাব্যাপী কর্মশালায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক তদারকি বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা সম্পন্ন করা হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কোনো সুযোগ থাকবে না। নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিতভাবে প্রস্তাব বা তথ্য পেলে মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। পরিকল্পিত সংস্কার, দক্ষ প্রশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


পরিদর্শনকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নূর আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন,একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছে- এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের ভিডিও নিয়ে আলোচনা-সমেলোচনা প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটি বলেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ববি হাজ্জাজ।


এসময় এক সাংবাদিক বিউটি রানী পালের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, এইটা নিয়ে কোন কথা হবে না। একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছে- এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে? আজকে আমি দাঁড়িয়েছি- আপনাদের সাথে কথা বলছি। আপনারা যদি বলেন, এ্যাই- কথা বলল কেন? আলোচনা করি, চলো সমালোচনা করি তাহলে?সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আপনারা করেছেন ভাই, আপনারাই করছেন- এটা জনগণ বা অন্য কেউ করছে না।


এরআগে সকালে এ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। স্ট্যটাসে তিনি লিখেন- ‘আমার পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপকগণ এবং সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’তিনি লিখেন, ‘আপনারা গান, কবিতা, লেখা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমের মাধ্যমে যে প্রতিবাদ, সংহতি ও নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন, তা আমাকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব।’


শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বিউটি রানী পাল লিখেন- ‘দ্রুত শিক্ষক সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকই সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং শিক্ষক সমাজ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’


সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সাথে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে একটি গোষ্ঠীর তোপের মুখে পড়েন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-হেনস্তা করছেন কেউ কেউ।


এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।তবে এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। অভিনব পন্থায় বিউটি পালকে নিয়ে ট্রলের প্রতিবাদ জানান সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করন তারা। বিউটি রানী পাল ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বিউটি রানী পালের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি প্রায়ই নিজের ফেসবুক একাউন্টে তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, বাচ্চাদের শরীর চর্চা করানো, শিশুদের নাচ গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন পড়া শেখানো, শিক্ষাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করার ভিডিও আপ দিতেন। এ ঘটনায় সোমবার ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন বিউটি রানী পাল।




নতুন গ্যাস কূপ খনন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০৫ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বড় চারিগাঁও এলাকায় নতুন একটি গ্যাস কূপের খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। 


নির্ধারিত সময়ের খনন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


গত মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) নতুন কূপটির খনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে পুরোদমে চলছে খনন কার্যক্রম। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’।


বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে কূপটি মাটির নিচে ১ হাজার ৫৫০ মিটার পর্যন্ত খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬১ মিটার এবং ১ হাজার ৪৫০ মিটার গভীরতায় দুটি পৃথক জোনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি (MWD) মেথড ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।


সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বাসসকে জানান, ৪৫ দিনের মধ্যে খনন কাজ এবং পরবর্তী ১৫ দিনের ডিএসটি টেস্ট শেষে কূপটিতে মজুত গ্যাসের পরিমাণ জানা যাবে। মঙ্গলবার খনন কাজ শুরু হয়েছে এবং এটি একনাগাড়ে চলবে। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫৫০ মিটার পর্যন্ত খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাপেক্স জানায়, নোয়াখালীর এ অঞ্চল তথা বেগমগঞ্জে ১৯৭৬ সালে প্রথম গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কূপের সন্ধান মিললে দুটি কূপেই ড্রিলিং করা হলেও সেখানে কোনো গ্যাস পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১৩ সালে তৃতীয় কূপের সন্ধান পাওয়া গেলে ড্রিলিং শেষে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৮ সালে ওই কূপে ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার পর বর্তমানে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।


এ ছাড়া নোয়াখালীতে ‘সুন্দলপুর-১’, ‘সুন্দলপুর-২’ ও ‘সুন্দলপুর-৩’ নামে তিনটি গ্যাস কূপ খনন করেছে বাপেক্স। এর মধ্যে সুন্দলপুর-১ ও সুন্দলপুর-৩ থেকে বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। 


তবে সুন্দলপুর-২ থেকে এখনো জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সুন্দলপুর-৩ কূপে ওয়ার্কওভার শেষ হলে সেখান থেকেও পুনরায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।


সূত্র: বাসস

মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ

আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না?


মহাদেবপুর ইউএনও মানজুরা মুশাররফ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের মামলায় রায়ের আদেশ কার্যকর না করায় আদালত অবমাননার দায়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট-২ এর বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মো: মোনাদিন হক গত ২৩ জুলাই প্রকাশ্য আদালতে এ আদেশ দেন। বিজ্ঞ বিচারক মহাদেবপুর ইউএনওকে দেয়া এ আদেশ সংক্রান্ত পত্রে গত ২৭ জুলাই স্বাক্ষর করেন। ইউএনওকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন তিনি।


এরআগে গত ২৩ মে বিজ্ঞ বিচারক আদালতের রায়ে নালিশী জমির দখল ফরিয়াদি বরাবর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বুঝে দিয়ে আদালতের রায় কার্যকর করার এবং তা আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন মহাদেবপুর ইউএনওকে। ৭ জুন আদালতের এই আদেশপত্র পাবার পর গত দেড় মাসেও তা কার্যকর না করার অভিযোগ করা হয়েছে মহাদেবপুর ইউএনওর বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞ বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেন,“ফরিয়াদির দরখাস্ত ও দরখাস্তের সহিত দাখিলকৃত সি.আর ১৬৭/২০২৫ (মহাঃ) নং মামলার রায়ের জাবেদা পর্যালোচনায় করা হলো। উক্ত রায়ের আদেশে দেখা যায় যে, উক্ত আদেশে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ২০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা মোতাবেক ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নালিশী তফশিল বর্ণিত জেলা-নওগাঁ, উপজেলা-মহাদেবপুর, মৌজা-দোহাগী, আর.এস খতিয়ান নং-৩৩৫, প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-১৫৯২, দাগ-৫২০ এর দক্ষিন পূর্বাংশে ০.০২২৫ একর জমির দখল অত্র মামলার ফরিয়াদি মোছাঃ বুলবুলি চৌধুরী, পিতা-মোঃ হারুন অর রশিদ, জং-মোঃ রানা চৌধুরী, সাং-দোহালী, পোঃ দরিয়াপুর, থানা-মহাদেবপুর, জেলা-নওগাঁ বরাবর অদেশের তারিখ হতে ১৫ (পনেরো) কর্মদিবসের মধ্যে বুঝিয়ে দিয়ে অত্র আদালতকে অবগত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে নির্দেশ করা হয়েছিল। ফরিয়াদি তার দরখাস্তে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে বারবার অনুরোধ করেও নালিশী সম্পত্তির দখল বুঝে পাননি। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে আদেশের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আদালতের আদেশ প্রতিপালনপূর্বক অবগত করতে বলা হলেও অদ্যাবধি তিনি কে অবগত করেননি যা আদালত অবমাননার সামিল। এমতাবস্থায়, আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার একটি লিখিত ব্যাখ্যা আগামি ১০/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে দাখিলের জন্য উপজেল নির্বহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।”


মামলা সূত্রে প্রকাশ, বুলবুলি চৌধুরি দোহালী গ্রামের ভবেন্দ্রনাথের ছেলে মিন্টু কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে গতবছর ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, ফরিয়াদি বুলবুলি চৌধুরি নালিশী জমি আসামী মিন্টু কুমার মন্ডলের কাছ থেকে গত ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রেজিস্ট্রি দলিলযোগে কিনে নিজ নামে খারিজ করে খাজনা পরিশোধ করেন। কিন্তু মিন্টু বিক্রি করা জমি বুলবুলিকে বুঝে দেননি। এনিয়ে গ্রাম্য শালিসেও সে জমির দখল বুঝে দিতে অস্বীকার করে এবং ধারালো হাসুয়া দিয়ে ফরিয়াদিকে হত্যার হুমকি দেয়।


বিজ্ঞ বিচারক মামলাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। প্রতিবেদন পাবার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২৩ মে রায় দেন। রায়ে আসামী মিন্টু কুমার মন্ডলের ছয় মাস সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। একই সাথে নালিশী তপশীল বণিত সম্পত্তির দখল ফরিয়াদি বরাবর আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বুঝে দিয়ে আদালতকে অবগত করার জন্য মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।


জানতে চাইলে মোবাইলফোনে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে মহাদেবপুর ইউএনও মানজুরা মুশাররফ আদালতের পত্র পাবার কথা নিশ্চিত করে জানান, জবাব প্রস্তুত করা আছে। সময়মত আদালতে দাখিল করা হবে।





স্টেডিয়ামের সামনে ময়লার ভাগার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী ৫৭ নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়ামের সামনে ময়লার ভাগার স্থাপন ও এর কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫৭ নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। 


পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ি, সুস্থ-সুন্দর গাজীপুর গড়ি এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্টেডিয়ামের মতো জনবহুল ও ক্রীড়া এলাকার সামনে ময়লার ভাগার থাকায় এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে আধুনিক ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা। 


বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ডাঃ হাফিজুর রহমান-এর প্রধান উপস্থিতিতে মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ৫৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আঃ রহমান, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সহ-সম্পাদক আবুল হোসেন এবং মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী চৌধুরী।


​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ৫৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর এবি এম সাইফুল্লাহ ও সেক্রেটারি মাসুদ আলম। ৫৫ নং ওয়ার্ডের আমীর মোক্তার হোসেন মুন্সীর সাবলীল সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী অংশ নেন। বক্তারা অবিলম্বে স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ময়লার ভাগার অপসারণ করে পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জোরালো দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।


যশোর কোতয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে যশোরের কোতয়ালির ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। 


যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চারটি ও কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম এ অভিযানে ছিল। পরে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।' 


চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে তার ব্যাপারে কাজ করছিলাম। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের ঝুমঝুমপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে যশোর পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’


ডেবিট ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। এলাকায় তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর চট্টগ্রামে একের পর এক খুনে নাম জড়ায় তার। পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন সাজ্জাদের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'। 


গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। 




ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। 


হামলার দু'দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। 


ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, 'আমার নাম ডেভিড ইমন, আমার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।' ওই হুমকির দুদিন পর নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। 


হামলাকারীরা ডিডিএন অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বলেন, 'আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। আমাদের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে। ডেভিড ইমনসহ এই চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।'


ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চকবাজার থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৭ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। 


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। খুন, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখা, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি ও চুরি অভিযোগে এসব মামলা দায়ের হয়েছে।


শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:০৮ পিএম

শাড়ি পরে গানের তালে হাঁটার ভিডিও নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর পাশে থেকে সমর্থন দেওয়ায় দেশবাসী, পরিবার এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।


ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ফেইসবুকে মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখার পর তিনি প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা তাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল একটি গানের সঙ্গে মিলিয়ে রিল ভিডিও পোস্ট করেন।


বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেখা যায়, তিনি শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত ছিল নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিফারেন্ট টাচের’ মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের একটি অংশ-‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’।


ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিউটি রানী পালকে নিয়ে সমালোচনা ও ট্রলের ঝড় ওঠে। তবে এর প্রতিবাদে অনেক নারী এগিয়ে এসে বিউটি রাণীর পক্ষে সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে একই ধরনের ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেইসবুক ভিডিও বার্তায় বিউটি রাণী পাল বলেন, “দেশবাসী সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ আসলে। তারা আমার প্রতি যে অসীম ভালোবাসা দেখিয়েছে... এক-দুজন মানুষ সব সমাজেই থাকে। আমি সবার প্রতি আসলেই কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে, আমার এক সাংবাদিক ভাই আমাকে ভাইরাল করেছিল, কিন্তু বাকি সাংবাদিক ভাইয়েরা যে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি আসলেই সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।


“আমাদের মন্ত্রী মহোদয়, প্রধানমন্ত্রী-সবার প্রতি আমি আসলেই কৃতজ্ঞ। কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক এবং সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ-আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”


এদিকে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ। ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।


ওই পেইজটিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জে স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রধান শিক্ষিকার টিকটক নাচ! অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ’ শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শিক্ষিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে 'অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি' করেছেন-যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কটু মন্তব্য ও ট্রল শুরু হয়।


সমালোচনার জবাবে এর আগে শিক্ষিকা বিউটি রাণী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মন-মানসিকতা যদি ডিজিটাল, স্মার্ট ও উন্নত করতে না পারি, তাহলে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না। আমাদের সব দিক থেকেই সমানতালে এগিয়ে যেতে হবে।”


এই ঘটনায় প্রবাসী ওই তরুণসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


বিউটি পালের ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি ঘটনাটিকে কোনো অন্যায় বা অপরাধ হিসেবে দেখছেন না।


ফেইসবুকে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকে তার পাশে ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিউটি রাণী পাল।


তিনি বলেন, “আমি প্রথমেই অনলাইনে ভিডিওটা দেখে নিজেই আপসেট হয়ে গেছি। আমার পরিবারের যে পাঁচজন-আমার আরো বোন আছে, ওরাও শিক্ষক-ওরাও আমাকে বলছিল, তুমি থানায় জিডি করো। তুমি কেন বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছ? তুমি রাইট পয়েন্টে আছো, তুমি কোনো ভুল করো নাই। আমরা তোমাকে জানি।”


জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ আয়োজনে সিলেট জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিউটি রানী পাল। তার ফেইসবুক আইডিতে বিদ্যালয়ে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা করানো, নাচ-গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্ন ও পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু শেখানো, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ এবং গাছের চারা বিতরণের বিভিন্ন ভিডিও দেখা যায়।


বিউট রাণী বলেন, “আমার পরিবারের সকল বোন, ভাই-বোন প্লাস আমার স্বামী আমাকে যে পরিমাণ সাপোর্ট করছে... বিশেষ করে আমার ছোট মেয়েটা সবসময় আমাকে বলে, 'মা, তুমি রাইট। সবসময় তুমি রাইট। আমি তোমাকে অনুসরণ করি, আমি তোমার মতো হতে চাই। তো আমি আসলে ওই জায়গা থেকে, আমার পরিবার থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতা পাই নাই। উনারা আমারে সবসময় সাপোর্ট করেছেন, এখনও সাপোর্ট করতেছেন।


“আমি কম্পিউটারের বিষয়ে অত বেশি পারদর্শী না। আমি কোন ধরনের অ্যানালিটিকস ব্যবহার করলে বা কোথায় কী ভুল করছি, সে বিষয়ে তারা বারবার আমাকে নক করে সাহায্য করেছে।”


  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

হবিগঞ্জে বিএনপি ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।


পুলিশ জানায়, এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ছাড়া দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।


জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম এবং চলমান উত্তেজনার কারণে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে পুরো হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।


এর আগে এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।


পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।


এনসিপি নেতাদের দাবি, সন্ধ্যায় শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়ি বহরে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন।


অপরদিকে ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, দুপুরে আজমিরীগঞ্জে শহীদ মিনারে সমাবেশে এনসিপি নেতারা বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে ‘গুণ্ডাবাহিনী’ বলে বক্তব্য দেন। এতে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় জেলা শহরের টাউন হলে পদযাত্রা শেষে এনসিপি নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় বলে জানান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের সিলেটে পাঠানো হয়।