• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১১ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৫০ এএম

রাজনৈতিক পালাবদলে সিলেটে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ ও নামহরণ চলছেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, পার্ক ও অডিটোরিয়ামের পর এবার বদল করা হয়েছে একটি গোলচত্বরের নাম। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চণ্ডীপুল গোলচত্বর নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অবস্থিত এই গোলচত্বরটির নাম ২০০৯ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় রাজনীতিবিদ প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদের নামে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি চত্বরটির নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান চত্বর’ করা হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান সিলেটের কৃতী সন্তান। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর এবং ডা. জুবাইদা রহমানের পিতা। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তিনি নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে অভিষিক্ত হন। জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পরে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলী খান। ১৯৮২ সালের ১০ জুলাই থেকে ১৯৮৪ সালের ১ জুন পর্যন্ত যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। তার দায়িত্বকালে সিলেটের শাহজালাল সেতু, লামাকাজি সেতু ও শেওলা সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা হয়। তার স্মরণে 

তারই নামে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লামাকাজি এম এ খান সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। বালাগঞ্জে রয়েছে তার নামে একটি অডিটোরিয়ামও।


অন্যদিকে, আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৯১ সালে তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ভুরাখালী গ্রামের এই নেতার নামে এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদে একটি অডিটোরিয়াম রয়েছে। এর আগে দক্ষিণ সুরমার সিটি করপোরেশন পরিচালিত পার্কটি এম সাইফুর রহমানের নামে পুনর্বহাল করা হয়। সর্বশেষ গত ৩ মার্চ সিলেট নগরীর কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের নাম পরিবর্তন করে এম সাইফুর রহমানের নামে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে এ দুটি স্থাপনার নাম ওয়ান-ইলেভেনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল।


নতুন নামকরণ, সংশোধন ও নাম পুনর্বহালের বড় চিত্র দেখা গেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ দপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সুপারিশ এবং ৪৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এম সাইফুর রহমান হল, শহিদ জিয়া হল ও দুররে সামাদ রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হল, সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী হল এবং সমাজসেবী সুহাসিনী দাসের নামে আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছিল। পরে এসব নাম পুনর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, আব্দুস সামাদ আজাদ হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে হযরত শাহজালাল (রহ.) হল, জেনারেল এম এ জি ওসমানী হল এবং সুহাসিনী দাস হল রাখা হয়েছে।


সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল রিকাবিবাজার এলাকার অডিটোরিয়ামটি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও উন্নয়ন করা হয়। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে চারদলীয় জোট সরকারের সময় সংস্কার শেষে তাঁর নামেই অডিটোরিয়ামটির নামকরণ করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথমে এর নাম পরিবর্তন করে ‘সিলেট অডিটোরিয়াম’ এবং পরে ‘কবি নজরুল অডিটোরিয়াম’ রাখে। প্রায় দুই দশক পর আবারও নাম পরিবর্তন করে এম সাইফুর রহমানের নামে ফিরিয়ে আনা হয়।


নতুন নামকরণের পর চণ্ডীপুল এলাকায় গত সোমবার গিয়ে দেখা যায়, নতুন নামকরণ বাস্তবায়নের উদ্যোগে ‘এম এ খান চত্বর বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত শনিবার বিকেলে পুরোনো নাম মুছে নতুন নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। এ সময় ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে কার্যক্রমটি সম্প্রচার করা হয়। 


লাইভে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, চণ্ডীপুল থেকে জালালপুরমুখী সড়ক হয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের বাড়িতে (বিরাহিমপুর গ্রাম) যেতে হয়। এ পথের সঙ্গে তার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে তার নামে চত্বরটির নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। তাদের দাবি, আগের নামকরণটি বিধি অনুযায়ী হয়নি। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনাও দেখা গেছে। 


‘সিলেট’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে হুমায়ুন কবির লিটন নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মাইক হাতে থাকা সাংবাদিক যখন আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বরের পক্ষে ছিলেন, তখনো তিনি ছিলেন; এখন মাহবুব আলী খান চত্বরের পক্ষেও আছেন। তিনি সব সময়ই আছেন!’


"মাইক হাতে থাকা সাংবাদিক’ অভিহিত ব্যক্তি হচ্ছেন এম আহমদ আলী। তিনি ‘এম এ খান চত্বর বাস্তবায়ন কমিটি’র যুগ্ম আহ্বায়ক। সোমবার রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আগের নামকরণটি বিধিমোতাবেক হয়নি বলেই নতুন নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 


আহমদ আলী বলেন, ‘আমি নিজে দেখেছি, তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরোধিতার মধ্যেও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান চণ্ডীপুল গোলচত্বরের নাম আব্দুস সামাদ আজাদের নামে রেখেছিলেন।’


নতুন নামকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা এ বিষয়ে লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।’চণ্ডীপুল গোলচত্বরটি মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পিকআপ ও ড্রপ-অব পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মহাসড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সিটি বাইপাস সড়কের সংযোগস্থল হিসেবে এটি নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক। এ ছাড়া কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর নামে একটি চত্বর এবং পারাইরচক এলাকায় বাম রাজনীতিক পীর হবিবুর রহমানের নামে ও তেমুখীতে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নামে আরেকটি চত্বর রয়েছে। চণ্ডীপুলের পর এসব চত্বরের নামহরণে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অনেক বাসিন্দা। 


চসণ্ডীপুল গোলচত্বর থেকে আব্দুস সামাদ আজাদের নাম অপসারণের ঘটনায় সিলেটে তার নামে আর কোনো স্থাপনা অবশিষ্ট থাকল না বলে জানিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ। তিনি বলেন, ‘আব্দুস সামাদ আজাদ জীবদ্দশায় নিজের নামে কোনো কিছু করার পক্ষে ছিলেন না। তবে মৃত্যুর পর প্রথমে জগন্নাথপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অডিটোরিয়ামের নাম তার নামে রাখা হয় উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া আমার প্রস্তাবে। পরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও চণ্ডীপুল গোলচত্বরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার নামে নামকরণ করা হয়েছিল। কৃতী সন্তানদের নামে নামকরণ সম্মানার্থে হলেও নামহরণ অসম্মানের। এই সংস্কৃতির ইতি ঘটানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ এএম


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সড়কের পাশে অবস্থান নিতে এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।


কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম খান রাজু, ভালুকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।


অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।


তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


বক্তারা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।


দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে থাকা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।


বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


বিজিবি জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৪ পিএম

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আবারও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় বিভিন্ন কারখানা থেকে বেরিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে আসেন। জানা যায়, লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় তারা অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।


এর আগে গতকাল একই দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। এদিন দুপুর থেকে প্রায় প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এদিন বিকেল সোয়া চারটার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


জানা যায়, গতকাল শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

‘অগ্রহায়নের আট, যেখানে মন সেখানে ধান কাট’ অর্থাৎ অগ্রহায়নের ৮ তারিখ থেকে আমন ধান কাটা যাবে-দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রবাদ রয়েছে পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে। কিন্তু সেদিন বদলেছে। এখন কার্তিকের শুরুতেই মাঠে পাঁকছে আগাম জাতের আমন ধান। এখন পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলাগুলোতে আর আশ্বিন-কার্তিক মাস অভাবের মাস থাকে না। আমন ধান রোপনের পর থেকে অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত কৃষি শ্রমিকদের হাতে কোন কাজ থাকত না। এই সময়টাতে অনেকে কাজের সন্ধানে চলে যেত ভিন্ন জেলায়। এখন আর পঞ্চগড়সহ এই এলাকার লোকজনদের আর কাজের সন্ধানে খুব বেশি একটা জেলার বাইরে যেতে হয়না। 


আগাম জাতের ধান চাষ এবং সেই জমিতে আগাম শীতকালীন শাক সবজি আবাদ করার কারণে কৃষি শ্রমিকদের কাজ লেগেই থাকে। অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকার জমিতে লাগানো ধান কেটে বাড়িতে আনায় কৃষকের ঘর নতুন ধানের গন্ধে মৌ মৌ করছে। চলছে পিঠা-পুলির আয়োজনও। আর এখনও যাদের ধান পাকেনি তারা তাদের কাছ থেকে ধান ধার করে নিয়ে দিন পার করছেন। আর ধান কেটে এনে বাড়িতে মাড়াইয়ের পর কাঁচা খড়ের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট থাকায় অনেকে এই কাঁচা খড় অধিক দামে বিক্রয় করে অধিক লাভ করতে পারছে কৃষকরা।  


কৃষকরা জানান, আদিকাল ধরেই পঞ্চগড়ের কৃষকরা সম্পূর্ণ প্রকৃতি নির্ভর আমন ধান চাষ করে আসছেন। আগে অগ্রহায়ন মাসের শুরু থেকে আমন ধান কাটা শুরু হলেও এখন তার থেকে এক-দেড় মাস আগেই কৃষকরা ঘরে তুলতে পারছেন আমন ধান। বর্ষা মৌসূমের শেষ দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে উত্তরের জেলাগুলোতে। আগামে জাতের ব্রি ধান-৩৩, ৫৬, ৬২, ৭২, বিনা-৭ ধান, ভারতীয় জাতের গুটি পারি, স্বর্ণা পারিসহ বিভিন্ন ধান ইতোমধ্যে পাকা শুরু করেছে। পুরনো জাতের আমন ধান আবাদ করে যেখানে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৮-১০ মন ধান পেত; আগাম জাতের ধান আবাদ করে তারা ১৫-২০ মন পর্যন্ত ধান পাচ্ছেন। শুরুতে ধানের দাম কিছুটা কম হলেও কাঁচা খড় বিক্রয় করে অধিক টাকা আয় করতে পারছেন কৃষকরা। এক বিঘা জমির ধান কেটে মাড়াইয়ের পর কাচা খড় হিসেবে ধানের আটি বাজারে বিক্রয় হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। অনেকে আবার ধান কাটার পর দ্রুত জমিতে চাষ দিয়ে মাটি শুকিয়ে নিচ্ছেন। কিছু দিনের মধ্যে ধানের জমিতে আগাম জাতের আলু, সরিষাসহ শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করবেন কৃষকরা।


পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ময়দানদিঘী ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে সব ধান পেকে গেছে। ধানের চেহারা খুব ভাল। প্রতি বিঘায় ১৯-২০ মন ফলন আসতে পারে। আগামী দুই/দিনের মধ্যে ধান কাটবেন তিনি। 


তিনি আরও জানান, বর্ষার শেষ থেকে ধান ক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমনে দিশেহারা হয়েছিলেন তিনি। অনেক টাকার ওষুধ জমিতে স্প্রে করতে হয়েছে। আগের থেকে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। পাশের ময়দানদিঘী বাজারে নতুন প্রতি মন ধান এক হাজার একশ থেকে এক হাজার দুইশ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। প্রতি মন ধান এক হাজার পাঁচশ টাকা হলে আমরা কৃষকরা লাভবান হতে পারতাম। আমি দুই বিঘা জমির ধান কেটে ওই জমি চাষ করে আলু লাগাবো। কিছু জমিতে বিভিন্ন শাক সবজি চাষ করব। বাড়ির খাওয়ার পর অবশিষ্ট শাক সবজি ময়দানদিঘী বাজারে নিয়ে বিক্রয় করতে পারব।  


এ নিয়ে কথা বললে পঞ্চগড়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, চলতি আমন মৌসূমে পঞ্চগড় জেলায় এক লাখ ৪৪ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ জেলায় এক লাখ ৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি। আমাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তিন লাখ ৬১ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন। তবে আমাদের আশা এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি ধান উৎপাদিত হবে। 


তিনি আরও জানান, নতুন কাঁচা ধান বাজারে উঠায় এখনও দাম বেশ কম। আমরা আশা করছি পুরো মৌসূম শুরু হলে এবং মিলাররা ধান কেনা শুরু করলে ধানের দাম আরও বেড়ে যাবে। এছাড়া আগাম ধান কাটার পর সেই জমিতে আলু, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন শাক সবজি আবাদ করে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের পর এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৬) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।


মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের অদূরে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ওই নারীকে হত্যার পর রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হলেও প্রথম দিকে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পরিবার ওই নারীকে তাদের মেয়ে মনে করে তাঁর দাফন সম্পন্ন করে।


ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ৮ মার্চ রাতে কিসমত এলাকায় ইজিবাইক চুরির সময় রিফাত বিন সাজ্জাদ নামে ওই যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাঁকে ইজিবাইকসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁর মোবাইল ফোনে ওই অজ্ঞাত নারীর একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।


পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি রাতে দিনাজপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে কিসমত রেলস্টেশনে নামিয়ে নেন তিনি।


এরপর তাঁকে শাপলা কিন্ডারগার্টেনের একটি পরিত্যক্ত ঘরে এবং একটি সুপারি বাগানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই নারী তাঁর মোবাইল ফোন ও টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে ওই নারী গালাগাল করলে তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন রিফাত। পরে একটি চাকু সংগ্রহ করে ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং যৌনাঙ্গ ও স্তন কেটে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আলামত আড়াল করতে মরদেহ টেনে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।


এ ঘটনায় আটোয়ারী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত এ রায় দেন।


পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খলিলুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। এ রায় ন্যায়বিচারের একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০২ পিএম

লালপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার ( ৩ নভেম্বর) লালপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়াজেদ আলী মৃধা, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু । 


এসময় উপস্থিত ছিলেন দপ্তর প্রধান গণ, ইউপি চেয়ারম্যান গণ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক।