কুয়াশায় ছেয়ে গেছে চারপাশ।
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে হিমালয় পাদদেশের এই জেলার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার) ভোর ৬টায় জেলার চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ওই দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত কয়েক দিন ধরে দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা পাওয়া যাচ্ছে না। আজ (শুক্রবার) ভোর থেকেই জেলার গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; চালকদের ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে দেখা গেছে।
টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। কনকনে শীতের কারণে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য ভোর থেকে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেককে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
ছবি: সংগৃহীত
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পৌর শহরের চৌরাস্তায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন পালন করা হয়। মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুল হক চৌধুরী, সদর উপজেলা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও সাবেক উপজেলা কমান্ডার সুবোধ চন্দ্র রায়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার, জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বাধা দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের শেষ বিদায়েও এমন বাধা দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানববন্ধন থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে ব্যাংক ড্রাফট ও খাদ্য গুদাম থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট। গত আট-নয় মাসে এমপি কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ড্রাফট জমা হয়েছে, তার সব তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাংক ড্রাফটের নম্বর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এমপির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন বুলেট।
সম্প্রতি বিএনপি নেতার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রবিউল আলম বুলেটকে বলতে শোনা যায়, মহাদেবপুরে বিএনপির নামে আলাদা সাইনবোর্ড লাগিয়ে কার্যালয় করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শেষে ওই সাইনবোর্ড টেনে খুলে ফেলে দেওয়া হবে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) তাঁদের সুসংগঠিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে হবে। তাঁরা সেই নিয়ম মেনেই চলছেন। এতদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে মুখ খোলেননি। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বুলেট বলেন, ‘আমি শুনেছি, একটি প্রোগ্রামে উনি (এমপি) নাকি বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে টাকা চেয়েছি। আমাদের চিঠির বিনিময়ে জবাব দিক, কোন ইউনিয়নের কাছে আমরা টাকা চেয়েছি? আর এমপি সাহেব কার কাছে টাকা চেয়েছেন, তার প্রমাণসহ হাজির হব মহাদেবপুরের মানুষের কাছে। অপেক্ষা করেন, ওঁর (এমপি) প্যান্ট–টাই এই মহাদেবপুরের মাটিতে আমি যদি খুলে নিতে না পারি, আর কোনো দিন রাজনীতি করব না।’
তিনি আরও বলেন, গত আট-নয় মাসে সংসদ সদস্য কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন এবং কোন ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ড্রাফট জমা হয়েছে, তার সব হিসাব ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করবেন। মহাদেবপুর থানা এলাকায় ব্যাংক ড্রাফটসংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলেও রাজনীতি করবেন না বলে জানান তিনি।
ভিডিওতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের উদাহরণ টেনে বুলেট বলেন, শেখ হাসিনার কাছে পুলিশ, আর্মি, বিজিবি, প্রশাসন ও ক্ষমতা ছিল। কিন্তু জনগণের কাছে তিনি টিকে থাকতে পারেননি। সংসদ সদস্য যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন, তাঁর সঙ্গে পুলিশ কিংবা সিভিল প্রশাসন থাকলেও জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কিছু নয়।
বর্তমান সংসদ সদস্যের সমালোচনা করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আরও বলেন, আট-নয় মাসের সংসদ সদস্য হয়ে জেল থেকে বাঁচতে তাঁর প্রতিনিধিকে ইউএনওর পা ধরতে হয়েছে। সেই ইতিহাস সবার জানা। ইউএনও ওই প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর পা ধরে ক্ষমা চাওয়া হয়। এখন বাইরে এসে বড় বড় কথা বা ‘লম্বাগিরি’ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমপির টকশোতে দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বুলেট। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য টকশোতে দাবি করেন, ডিসি তিন কোটি টাকা নিয়েছেন। কিন্তু ডিসি কি সংসদ সদস্যের অধীন? সরকার কি সংসদ সদস্যের? ডিসি টাকা নিয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন? এসব কথা টকশোতে বলা গেলেও জনগণকে বোঝানো যাবে না, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে রবিউল আলম বুলেট বলেন, বিগত পাঁচ বছরে সেলিম যা করেননি, তাঁর ধারণা, গত আট-নয় মাসেই বর্তমান সংসদ সদস্য তার চেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছেন। একটি খাদ্য গুদাম থেকেই তিনি তিন কোটি টাকার বেশি নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বুলেট। কোনো কাজ না করেই কীভাবে কাজের বিল তোলা হয়েছে, তার সব হিসাব সময়মতো জনগণের সামনে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট বলেন, এ বিষয়ে সময়মতো কথা বলবেন।
অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলবেই। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তাই লুকোচুরির কিছু নেই। যার কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে নতুন নই। রাজনীতি করতে গেলে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আপনারা স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো রিপোর্ট করতে পারেন।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ (ডিএস) ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমের ওপর ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০৪ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অফিসের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, কারিকুলাম পরিমার্জন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য বিএনকিউএফের গাইডলাইন অনুসরণ করে কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। কারিকুলামে নতুন কিছু সংযোজন করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডটার্ম পরীক্ষা চালুর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় কারিকুলাম পরিমার্জনের বিভিন্ন দিক নিয়েও পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করেন।
ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের প্রধান ড. মোঃ হাসান হাওলাদারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন। রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ নুরুজ্জামান হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক তাসনুভা ইয়াসমিন।
কর্মশালায় ডিসিপ্লিনের পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন দিক পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসাইন। তাঁর উপস্থাপনার ভিত্তিতে পাঠ্যক্রমের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরে রিসোর্স পারসনরা পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে মতামত দেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাই ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক ও প্রভাষক আব্দুল ইলাহ্ আল-মাহ্দী। কর্মশালায় সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রধান, আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালক, ডিএস ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পর সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরার একটি মাতৃত্বকালীন (মেন্টারনিটি) সেবা ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। তদন্তে ইউনিটটিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত। তিনি জানান, হাসপাতালের সম্প্রতি চালু হওয়া ‘অল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট নেই। এ ছাড়া দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।
ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, এসব অসংগতির কারণে ইউনিটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় চালুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্দেশনা অমান্য করা হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন নবজাতকের স্বজনেরা।
স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অস্ত্রোপচার না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য ঘটনার দুই দিন আগে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নবজাতকের স্বজনরা জনান, আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুর ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ ছিল। এ কারণে তাঁরা শুরু থেকেই চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর অনুরোধ জানান। তবে চিকিৎসকেরা মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। স্বজনদের অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তারা জানান, প্রসবের একপর্যায়ে নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে যায়। এ সময় টানাটানিতে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হলেও ততক্ষণে নবজাতকটি মারা যায় বলে স্বজনদের দাবি। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নাজমা বেগমের স্বজনেরা। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটির তদন্তে মাউন্ট এডোরার মাতৃত্বকালীন সেবা ইউনিটে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়ার পর রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়।
মতিউর রহমান মিল্টনের নেতৃত্বে
সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি উপজেলার মেঘার মাঠ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন যুবদলের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।
তাঁরা বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তাঁরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক ও মিডিয়া উইং কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের সাথে কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব সদস্যদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে ক্লাবের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো : আসলাম সিকদারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বন্দরের ফার্স্ট ক্লাস মেরিনার মো. রাজিব হোসেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসকে রঞ্জন, সিনিয়র সাংবাদিক এইচ এম আকবর, রাসেল মোল্লা, মোয়াজ্জেম হোসেন, রেহান উদ্দিন রেহান, আরিফ সিকদার, তাজুল ইসলাম আজাদ, এসএম আলমগীর হোসেন, ইমন আল আহসান, নয়ন অভীরাম গাইন নয়নসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার মাধ্যমে পায়রা বন্দর আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় পায়রা বন্দর দেশের আলো ছড়াবে। সভায় পায়রা বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অতিথিদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন প্রেসক্লাবের সকল সদস্যরা।