• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ পিএম

সেলিনা হায়াৎ আইভী ও মমতাজ বেগম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ পিএম

কারাগারে থাকার সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গান শোনাতেন সংগীতশিল্পী ও মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি মমতাজ বেগম। 


জামিনে কারামুক্তির পর নিজ বাড়িতে পৌঁছে জেলজীবনের নানা কথার প্রসঙ্গে এ কথাও জানান তিনি। 


আজ ‎বৃহস্পতিবার দুপুরে আইভীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁর স্কুল জীবনের বন্ধুরা। তাঁদের সঙ্গে গল্পের সময় সেলিনা হায়াত আইভী জানান, জেলে প্রায়ই তাঁকে গান শোনাতেন মমতাজ। প্রায়ই অবসর সময়ে জেলে গানের আসর বসত। সেখানে মূল শিল্পী মমতাজ। 


তবে একটি গানে ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’ এমন লাইন থাকায় আইভী তাঁকে এই গান গাইতে নিষেধ করেন। 


তিনি মমতাজকে বলেন, তিনি যেদিন জেল থেকে বের হবেন সেদিন এই গান গাইলে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ তিনি সেদিন বাসায় গিয়ে তার দুঃখ ভাগাভাগি করতে পারবেন। কারণ এই গান শুনলে তার সদ্য প্রয়াত ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা মনে পড়ে যায়।


‎ঘটনাচক্রে তাঁর মুক্তি পাওয়ার দিন বিকেলে গানের আড্ডায় মমতাজ এই গান গেয়েছেন। তখনও আইভী জানতেন না তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। ‎২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল ৫৫ বছর বয়সে তাঁর ভাই হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। 


প্রায় ১ মাস পর ২০২৫ সালের ৯ মে পুলিশ আইভীকে গ্রেপ্তার করে। রিপনের স্ত্রী এর চার বছর আগে মারা যায়। তাদের ৩ সন্তান আইভীর কাছেই থাকেন।


জেলে আইভী একটি কবিতা লেখেন। এটিতে সুর দিয়ে গান তৈরি করেন মমতাজ। মুক্তি পেলে মমতাজ এই গান জনসমক্ষে গাইবেন বলে জানান। কি সেই কবিতা? 


জিজ্ঞেস করতেই আইভী বললেন, ‘ধুর, আমি কি কবিতা লিখতে পারি? খুবই বাজে হইছে। উনি গুণি শিল্পী তাই এটাকে গান বানিয়েছেন। কবিতা ওনার কাছেই রয়ে গেছে। কপি করে আনিনি।’


জামিনে মুক্তি পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় নিজ বাড়িতে পৌঁছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর আত্মীয়স্বজন আর শুভানুধ্যায়ীরা একে একে দেখা করতে আসছেন তাঁর সঙ্গে। ফোনের পর ফোন আসছে। ফোনে কথা বলতে বলতে আর স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতে রাতে আর ঘুমাতে পারেননি। 


আজ বৃহস্পতিবার ‎বেলা ১২টায় সাংবাদিক আর দেখা করতে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এমনটাই বলছিলেন সদ্য কারামুক্ত ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। ছোট ভাই আহম্মদ আলী রেজা রিপনের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আইভী। সে কথা মনে করে বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে যান তিনি।


‎বিকেল সাড়ে চারটায় তার বাসায় আসেন সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগম, শাওন অংকন, সাদিয়া সাউদ, সাবেক কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান। তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ভাইয়ের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন আইভী।


‎সকাল থেকেই তার বাসার ভেতরে অবস্থিত পারিবারিক খানকায় ‘গাদিরে খুম’ এর ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, এ দিন গাদির নামের একটি কুয়ার পাশে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) হযরত আলীকে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। এ উপলক্ষে তরিকতপন্থীরা বিশেষ দোয়ার আয়োজন করে। আইভী জেলে বসে দোয়া করেন, গাদিরে খুম দিবসের আগেই যেন তিনি বাসায় যেতে পারেন। তার সে দোয়া কবুল হয়েছে। এই গল্প করতে করতে তিনি বলেন,  ‘যেসব ধর্মীয় আমল অন্য সময় করা হয়নি জেলে বসে তিনি সেসব আমল করেছেন।’


গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনে ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে সাবেক এই মেয়রের বাসার সামনে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জে তাঁর বাসায় যাওয়ার আগ মুহূর্তে বাড়ির গেটের সামনের ল্যাম্পপোস্টে এই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। 


এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এই সিসি ক্যামেরা শুধু সাবেক মেয়রের বাড়িকে কেন্দ্র করে লাগানো হয়নি। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। 


এরই অংশ হিসেবে সাবেক মেয়রের বাসার সামনেও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এলাকায় মোট চারটি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। 


তিনি জানান, সাবেক মেয়রের সঙ্গে মানুষজন দেখা করতে আসতে পারবে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন কিনা, রাজনৈতিক সভা করছেন কিনা, এটি পুলিশ নজরদারি করবে। তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল দিয়ে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। ১৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দেন। 


এর আগে গত ১০ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক ১০ মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ১২ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।


২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনেও মেয়র পদে জয়ী হন তিনি।



সর্বশেষ সব খবর

ডেগ-দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা ও সোনা-রুপা পাওয়া গেছে

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে এবার নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি স্বর্ণ, রৌপ্য ও ১৮ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।


গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) পঞ্চমবারের মতো সিলগালা অবস্থায় থাকা ডেগ ও দানবাক্স খুলা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া অর্থ গণনা শুরু হয়। কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আগের গণনার এক মাস আট দিন পর পঞ্চমবারের মতো এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।


মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ ও ৩ ভরি ১৩ আনা রৌপ্য। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল ও পয়সা, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বায়সা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া ও ১৭ কাতারি রিয়াল ও পয়সা।


এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি পয়সা, ১০ হংকং ডলার, ১ কুয়েতি ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল ও ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি। গণনার সময় দানবাক্স ও ডেগে ভক্তদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া যায়।


এদিকে, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব হবে দানের টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এখনো প্রতিদিন টাকা গণনার ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি।


সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যার জন্য সিভিও জমা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ন হবে। তারপর মাজারের টাকা প্রতিনিদিন গণনা করা হবে। আজকে ১ মাস ৮ দিন পর আমরা পঞ্চমবারের মতো এই মাজারের দানের টাকার গণনা করছি।’ 


এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়া পাওয়া গিয়েছিল ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ ও ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।


গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

আবু সাঈদ লিওন

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৬ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন অনুমোদিত এই কমিটিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন নীলফামারীর কৃতি সন্তান আবু সাঈদ লিওন। এর আগে তিনি দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 


​গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। আবু সাঈদ লিওনের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।


নতুন এই দায়িত্বপ্রাপ্তিতে নীলফামারী জেলায় আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জেলার রাজনৈতিক সহকর্মী, ছাত্র-যুব সমাজ এবং সাধারণ জনগণ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে। 


এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবু সাঈদ লিওন বলেন, “দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমি চেষ্টা করব  সংগঠনের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে।”


দলটির একাধিক নেতাকর্মী মনে করেন, অভিজ্ঞ ও উদ্যমী একজন নেতার ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে। নীলফামারীসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবু সাঈদ লিওনের প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফয়সল আমীন

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

নির্বাচনে জয়ী হলে কৃষকদের জন্য খোলা বাজারে সার বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও এক আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বলেন আপনাদের দোয়া আশীর্বাদে আমি যদি নির্বাচনের জয়ী হয়ে সংসদে যেতে পারি তাহলে আমার প্রথম কাজটি হবে কৃষক ভাইদের জন্য খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা।


আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ভেলাপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এক নির্বাচনী পথসভায় একথা বলেন তিনি।


মির্জা ফয়সল বলেন বিরোধী দলকে সরকার বেশি উন্নয়নমূলক কাজ দিতে চায় না। কারন তারা সরকারকে সব সময় গালিগালাজ করে। সরকারের বিপক্ষে লেগে থাকে। তাই এই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন। এ সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাস হয়েছে এই ছয় মাসেই ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় দিনাজপুরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। 


তিনি আরোও বলেন ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, একটি ইপিজেড একটি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু, বড় শিল্প কারখানা সহ অনেক অনেক বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট ও মসজিদ মন্দিরে অনেক অনদান দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্প গুলো কাজ শেষ করতে পারলে ঠাকুরগাঁয়ের হাজার হাজার বেকার লোকদের কর্মসংস্থান হবে তাই না? তাই এই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন তো? একথা বলেন তিনি ।


প্রচারণায় মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন। তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানো হলে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিরোধী দল নির্বাচিত হলে উন্নয়নকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।


এসময় তিনি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা শোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।


মির্জা ফয়সলের পথসভার পাশে কথা হয় অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সাথে তারা জানান উন্নয়নের স্বার্থে তারা এবার ধানের শীষকে বেছে নিবেন।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে প্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রমও গতি পাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩০ পিএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে এক আবুধাবি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।


আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিনগর গ্রামের প্রবাসী মো.নেছার আহমেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতের দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওই বাড়িতে আসে। তাদের মধ্যে সাতজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তিনজন সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছিল। অন্য তিন থেকে চারজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরের বাহিরে পাহারা দেয়। ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকে নেছার আহম্মেদের স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও ছেলে রায়হান হোসেনের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে ঘরে থাকা চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।


স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে ডাকাতেরা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের জন্য এসেছে বলে জানায়। এতে স্থানীয় লোকজন দূরে সরে যান। পরে বাড়ির চারপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে ডাকাতেরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে চার জোড়া কানের দুল ও দুটি চেইন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ এখনো মামলা করতে আসেননি। ডাকাত দল প্রবাসীর বাড়ি থেকে চার জোড়া কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে।


তিনি আরও বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা সেনাবাহিনীর প্রকৃত পোশাক পরেননি। তাদের কয়েকজন সেনাবাহিনীর পোশাকের আদলে তৈরি পোশাক পরিহিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


গ্রেপ্তার মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বুধবার ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।


পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।


এদিকে অভিযোগের তদন্তে গতকাল শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। 


তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে তদন্ত এখনো চলমান।


১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে। 


এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।


অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।


পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।


শিক্ষককে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৯ পিএম

পিরোজপুরে পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী মানিক পশারীর মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 


শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে মরদেহটি দাফন করা হয়।


জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিকের মরদেহ আসলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে তার স্বজনেরা। পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তা দিয়ে লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।


পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ। এ সময় মানিক পশারীর স্ত্রী সন্তান সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।


পিরোজপুর জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামাত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কোনো প্রকার বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।


পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


‎মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। 


শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর