সংগৃহীত ছবি
স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টি দেখল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অফিস তথ্য দিচ্ছে, ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি ঝরেছে ৩৯৪ মিলিমিটার! যা ১৯৮৩ সালের পর, অর্থাৎ ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শঙ্কা থাকলেও এই তুমুল বৃষ্টিতে নগরের কোথাও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে টানা বৃষ্টিতে বেশ ভুগছে মানুষ। ছন্দপতন ঘটেছে নগরজীবনে। গত সোমবার শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল মঙ্গলবারও থামেনি। ফলে হাঁটু থেকে কোমরপানিতে ডুবে যায় নিচু এলাকা। বিপাকে পড়েন কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার আজ বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে রেলপথে পানি ওঠায় দুপুরে ছয় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নগরীর ষোলশহর স্টেশনে আটকা পড়ে কক্সবাজারগামী ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার ভোগান্তি শেষে গতকাল রাত ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে রাত কাটানোর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ট্রেনের প্রায় ছয় শতাধিক যাত্রী। এদিকে, সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামায়ও ছেদ পড়ে। পতেঙ্গায় ভেঙে যায় নবনির্মিত সড়ক।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন টিমের সঙ্গে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ২০টি দল। পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বাস করা জনগণকে সরিয়ে নিতে চলছে মাইকিং। খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ভূমিধসের শঙ্কা জানিয়ে আবহাওয়া অফিস থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। টানা বর্ষণে গতকাল নগরীর বাদুরতলা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা, আগ্রাবাদ, পাঠানটুলীসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। হাটহাজারী সড়কে জমে কোমরপানি।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য আটকে থাকায় খাল-নালা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে অনেক এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে। তবে কোথাও পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকেনি। আগে যেসব এলাকা কোমরপানিতে ডুবত, সেসব স্থানে এবারে পানি ওঠেনি সেভাবে। তিনি জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ আগামী বছর পুরোপুরি শেষ হবে। প্রকল্পের সুফলও তখন শতভাগ পাবেন জনগণ।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, চউকের প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল আছে। পানি যাতে জমে না যায়, সে জন্য পাম্পের মাধ্যমে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পানিতে থইথই নগরী
গতকাল সকালে নগরীর বাদুরতলা আরকান সোসাইটি আবাসিক এলাকায় দেখা গেছে হাঁটুসমান পানি। অনেক বাসাবাড়ির পাশাপাশি সোসাইটির মসজিদটিতেও পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর নেওয়াজ বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে।
নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। গতকাল সকালেও এই এলাকার কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র। কাতালগঞ্জ এলাকায়ও যান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, কাতালগঞ্জ এলাকা নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। তবে বৃষ্টি কমলে পানিও নেমে যায়। যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেসব এলাকায় খালের কাজ চলছে। বিদ্যমান জলাবদ্ধতা সমস্যাটি পুরোপুরি নিরসনে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার আজ বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্থগিত হওয়া এলাকার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা পরে আলাদা প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে।
পরীক্ষা স্থগিতের আদেশে বলা হয়, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সিটি করপোরেশনের অধীনে ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।
বৃষ্টি থাকবে আরও কয়েক দিন
আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু অতিমাত্রায় সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। এক সপ্তাহ পর্যন্ত কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা সুমন সাহা জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এবারের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। সেবার ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০৭ মিলিমিটার।
পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল
ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের রেলপথেও পানি ওঠে। এতে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজারগামী ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস আটকা পড়ে নগরীর ষোলশহর এলাকায়। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। এতে যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের টিকিটের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। যাত্রা বাতিলের পর অনেক যাত্রী বাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ কেউ চট্টগ্রামের হোটেলে রাতযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। কিছু যাত্রী ষোলশহর রেলস্টেশনেই থেকে যান।
চট্টগ্রাম রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেললাইনের ওপর এখনও প্রায় ২০ ইঞ্চি পানি জমে আছে। পানি অন্তত ছয় ইঞ্চিতে না নামলে ট্রেনের ইঞ্জিন চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সন্ধ্যার দিকে পানি কিছুটা কমলেও রাতে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় পানি আবার বাড়তে শুরু করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাত্রীদের সুরক্ষায় রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
ষোলশহর স্টেশনের মাস্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, ৬৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা ছিল।
জাহাজ থেকে পণ্য খালাস সাময়িক বন্ধ
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) থাকা বড় ৪৩টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। তবে জেটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। জেটি থেকে পণ্য নিয়ে আসা-যাওয়া করছে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি। স্বাভাবিক আছে কাস্টমসের শুল্কায়ন প্রক্রিয়াও।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে খালাস কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে। তিনি জানান, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি রয়েছে। এ জন্য ৪৩টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজ স্থগিত আছে।
বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত
ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামায় ছেদ পড়ে। ফ্লাইট স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা দুটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ঢাকা থেকে আসা অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটও অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বিমানবন্দর এলাকায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইছিল।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামে নামার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি ঢাকায় অবতরণ করে। একইভাবে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইট শারজাহ থেকে চট্টগ্রামে নামার কথা থাকলেও সেটিও ঢাকায় অবতরণ করে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকা ফিরে যায়।
দেয়াল ধসে যুবকের মৃত্যু
নগরীর পূর্ব নাসিরাবাদ রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি-ব্লকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেয়াল ধসে মাছ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তাঁর দুই শিশুসন্তান ও শাশুড়ি আহত হয়েছেন। শফিকুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে।
প্রধান প্রকল্পের কাজ ফেব্রুয়ারিতে শেষ করার ঘোষণা
চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল নগরের বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, নগরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ। তবে হিজড়া খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৬৮ শতাংশ। এটি শেষ হলেই মিলবে শতভাগ সুফল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নাটোর-১, (লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ না রেখে কেবলমাত্র সবাইকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকারকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাটোরের লালপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৪৬টি মন্দিরে জিআর চালের ডিও প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, আগামী বছর সারা বাংলাদেশের মন্দির গুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে আপনারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে মন্দির পরিচালনা এবং নিজেদের পুজো অনেক চমৎকার ভাবে উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করবো।
সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই বাংলাদেশ এখন আর কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে পারবে না, আমি এখন একটি মসজিদে যেমন অনুদান দেই সাথে সাথে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দেই।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে রাজিয়া সুলতানা নামক এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।
বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতে, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানিয়েছেন। বারবার শর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও শর্তক করেছিলেন ১৪ দিনের কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।
ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে আর একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন, স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান, এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।
শারদীয় দুর্গোৎসবে আগামী ২০ অক্টোবর ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল বিনিময় করবেন তিনি। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আরও দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মোঃ উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকেও সফর সফল করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি অনুযায়ী একটি রাম গোবিন্দ মন্দির (রংপুর ধর্মসভা) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। তবে তার পরিদর্শনের জন্য রাম গোবিন্দ মন্দির ছাড়াও শ্রী শ্রী করুণাময়ী কালীবাড়ী মন্দির ও গুপ্তপাড়া মন্দির প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সফর সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে রওনা দেবেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি আবার সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে রাজশাহী এবং রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এ্যাড. মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এখানকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে সেই সাথে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের মধ্যে এটি একটি বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বাইরে শারদীয় উৎসবে পূজামণ্ডপ দেখতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আসছেন।
উল্লেখ্য; রংপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মিলনকেন্দ্র রাম গোবিন্দ মন্দির। এটি রংপুর ধর্মসভা মন্দির নামেও পরিচিত। এই মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, সভা-সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
নীলফামারীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির ব্যাপক প্রসারে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন বিচারপ্রার্থীরা। বিশেষ করে মাদক ও চুরির মতো অপরাধমূলক মামলায় এই পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ দিনে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে জেলাজুড়ে বিভিন্ন মামলায় অন্তত ৬০ জন আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও সাজা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় এসব মামলার বিচার মাত্র এক দিনেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের মামলা জট ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এখন পর্যন্ত জেলার সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতগুলোতে মোট ৫৯টি মামলা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. মার্জিয়া খাতুনের দিকনির্দেশনায় জেলার বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কার্যক্রমে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান, রায়হানুল হাসান চৌধুরী, মো. মাহমুদুল হাসান ও ফয়সাল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
আইন সংশ্লিষ্টরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে ভোগান্তির শিকার হওয়া বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে এসেছে।
অনেকে মোবাইল কোর্টের সাথে সামারি ট্রায়ালের তুলনা করলেও দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মোবাইল কোর্টের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনের এখতিয়ার ও আসামির দোষ স্বীকারের ওপর নির্ভর করার বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে সংক্ষিপ্ত বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার না করলেও পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও তা মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ফলে এই পদ্ধতির আইনি গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।
মাদক ও চুরির মতো সমাজে বহুল ঘটে যাওয়া অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। তবে দ্রুত বিচারের পাশাপাশি আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের সার্বিক বিধান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল।
নীলফামারীতে বিচারিক প্রক্রিয়ার এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে মামলা জট কমার পাশাপাশি জেলাজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি বড় সুফল আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, হতাশা ও বিষণ্নতা মোকাবিলা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন। তবে এ উদ্যোগ এখনো অনুমোদন পায়নি।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা, বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় পাঠ্যক্রমের অতিরিক্ত চাপ ও পড়ার বিষয়বস্তুর আধিক্যও মানসিক চাপের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। পাঠ্যক্রম পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি তিন দিনব্যাপী করা হয়েছে। এর একটি দিনে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা, সেমিনার ও পোস্টার উপস্থাপনার মতো কার্যক্রম রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সহপাঠীদের মানসিক অবস্থার প্রতিও সচেতন হতে পারবেন।
প্রতিটি মেডিকেল কলেজে প্রস্তাবিত স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ‘ফিজিক্যাল অ্যান্ড মেন্টাল ওয়েলবিং কমিটি’ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এবং মানসিক সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
মেডিকেল কলেজগুলোতে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধের বিষয়ে অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, এসব আচরণ বন্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কমিটি থাকলেও সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষার্থী যেন সহপাঠীর মানসিক কষ্টের কারণ না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
শিক্ষকদের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষ, ছোট দলে পাঠদান, ব্যবহারিক ক্লাস ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে আগের তুলনায় ভিন্ন আচরণ করতে দেখা গেলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই না কোনো মেডিকেল কলেজের কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করুক। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে যদি একজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, সেটিও হবে বড় সাফল্য।
শিক্ষার্থীদের নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি বন্ধু, জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সহপাঠীদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন।
ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদিয়া খান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. রুবিনা হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাজনীন সুলতানা, নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা সুরক্ষা ট্রাস্ট বোর্ডের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিওল আলম চৌধুরী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এএইচএম কাজী মোস্তফা কামাল।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপদেষ্টা ডা. মো. এনায়েত করিম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মহবুবা সুলতানা এবং হাসপাতালের পরিচালক মেজর ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক (অব.)।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মেজর (অব.) ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক, মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. স্বপ্না ভট্টাচার্য, গাইনি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. রওশন আরা খানম, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আব্দুল মতিন।
‘তরী বাংলাদেশ’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র্যালি ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের প্রেসক্লাব চত্বর থেকে র্যালিটি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা, আশপাশের নালা-নর্দমা এবং পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে- এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র ও পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। তাই মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি বা রক্তপাতের মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। শুধু মশা নিধন নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।