বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ এএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় এখন নদী ভাঙন রোধ করা যাচ্ছেনা। নদীর দুই দিকেই ভাঙছে।  ভবিষ্যতে একনেক কমিটিতে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প পাস হবে। এরপর মুছাপুর রেগুলেটর ও মুছাপুর ক্লোজারের কাজ শুরু হবে।


মঙ্গলবার (১০মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিস্কাশন ব্যবস্থানর উন্নয়ন (অংশ-১) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন কর্মসূচিতে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রীর সাথে আমি স্থানীয় এমপিসহ কথা বলেছি। আমরা তাকে আমাদের সমস্যার কথা অবহিত করি। 


তিনি বলেছেন, মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে তিনি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। আপনারা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।  


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন,মুছাপুর রেগুলেটর শুধু মুছাপুরের সমস্যা না, এটা পুরো নোয়াখালীর সমস্যা। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বেঁচে আছে।


এ্যানি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি অবহিত আছেন। মুছাপুর রেগুলেটর সরজমিনে পরিদর্শন করে আমাকে প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করতে বলেছেন। এক কৃষকের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নোয়াখালীকে বাঁচাতে, নোয়াখালীর মানুষকে বাঁচাতে হবে। মুছাপুর রেগুলেটর নোয়াখালী মানুষের জীবন মরণ সমস্যা 


এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী ৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো.এনায়েত উল্যাহ, ঢাকা বাপাউবো (পূর্ব রিজিয়ন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো.মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো.আবু বক্কর সিদ্দিক, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, নোয়াখালী পুলিশ পুলিশ সুপার টি, এম মোশারেফ হোসেন।  


এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল প্রমূখ। এতে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম সিকদার।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।


ভাঙন প্রতিরোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ওই স্থানে নতুন একটি আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলেই দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।

 প্রাক্কলিত ব্যয়ে চলতি মাস থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।


২০০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপকূলে নদীভাঙন ও পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাশন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩ ভেন্টের মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রেগুলেটরটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ৭৫৬.১৫ ঘনমিটার। স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন রেগুলেটর নির্মাণ হলে কোম্পানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম

​নীলফামারীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির ব্যাপক প্রসারে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন বিচারপ্রার্থীরা। বিশেষ করে মাদক ও চুরির মতো অপরাধমূলক মামলায় এই পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়েছে।


​আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ দিনে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে জেলাজুড়ে বিভিন্ন মামলায় অন্তত ৬০ জন আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও সাজা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় এসব মামলার বিচার মাত্র এক দিনেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের মামলা জট ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এখন পর্যন্ত জেলার সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতগুলোতে মোট ৫৯টি মামলা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।


​চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. মার্জিয়া খাতুনের দিকনির্দেশনায় জেলার বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কার্যক্রমে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান, রায়হানুল হাসান চৌধুরী, মো. মাহমুদুল হাসান ও ফয়সাল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।


​আইন সংশ্লিষ্টরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে ভোগান্তির শিকার হওয়া বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে এসেছে।


​অনেকে মোবাইল কোর্টের সাথে সামারি ট্রায়ালের তুলনা করলেও দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মোবাইল কোর্টের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনের এখতিয়ার ও আসামির দোষ স্বীকারের ওপর নির্ভর করার বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে সংক্ষিপ্ত বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার না করলেও পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও তা মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ফলে এই পদ্ধতির আইনি গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।


​মাদক ও চুরির মতো সমাজে বহুল ঘটে যাওয়া অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। তবে দ্রুত বিচারের পাশাপাশি আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের সার্বিক বিধান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। 


নীলফামারীতে বিচারিক প্রক্রিয়ার এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে মামলা জট কমার পাশাপাশি জেলাজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি বড় সুফল আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৩ পিএম

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, হতাশা ও বিষণ্নতা মোকাবিলা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন। তবে এ উদ্যোগ এখনো অনুমোদন পায়নি।


গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা, বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় পাঠ্যক্রমের অতিরিক্ত চাপ ও পড়ার বিষয়বস্তুর আধিক্যও মানসিক চাপের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। পাঠ্যক্রম পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি তিন দিনব্যাপী করা হয়েছে। এর একটি দিনে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা, সেমিনার ও পোস্টার উপস্থাপনার মতো কার্যক্রম রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সহপাঠীদের মানসিক অবস্থার প্রতিও সচেতন হতে পারবেন।


প্রতিটি মেডিকেল কলেজে প্রস্তাবিত স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ‘ফিজিক্যাল অ্যান্ড মেন্টাল ওয়েলবিং কমিটি’ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এবং মানসিক সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।


মেডিকেল কলেজগুলোতে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধের বিষয়ে অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, এসব আচরণ বন্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কমিটি থাকলেও সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষার্থী যেন সহপাঠীর মানসিক কষ্টের কারণ না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।


শিক্ষকদের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষ, ছোট দলে পাঠদান, ব্যবহারিক ক্লাস ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে আগের তুলনায় ভিন্ন আচরণ করতে দেখা গেলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই না কোনো মেডিকেল কলেজের কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করুক। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে যদি একজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, সেটিও হবে বড় সাফল্য।


শিক্ষার্থীদের নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি বন্ধু, জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সহপাঠীদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন।


ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদিয়া খান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. রুবিনা হোসেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাজনীন সুলতানা, নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা সুরক্ষা ট্রাস্ট বোর্ডের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিওল আলম চৌধুরী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এএইচএম কাজী মোস্তফা কামাল।


এ ছাড়া বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপদেষ্টা ডা. মো. এনায়েত করিম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মহবুবা সুলতানা এবং হাসপাতালের পরিচালক মেজর ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক (অব.)।


এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মেজর (অব.) ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক, মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. স্বপ্না ভট্টাচার্য, গাইনি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. রওশন আরা খানম, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আব্দুল মতিন।

সর্বশেষ সব খবর

‘তরী বাংলাদেশ’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫২ পিএম

ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’।


গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের প্রেসক্লাব চত্বর থেকে র‍্যালিটি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়।


কর্মসূচিতে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা, আশপাশের নালা-নর্দমা এবং পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে- এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র ও পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। তাই মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি বা রক্তপাতের মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।


কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। শুধু মশা নিধন নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

রংপুর বিভাগে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত এক বছরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার ২০০ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে। যা সার্জারি বিভাগের মোট অস্ত্রোপচারের মধ্যে সর্বাধিক। অজ্ঞতার কারণে অনেক রোগী হাসপাতালে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসছে না। চিকিৎসা নিতে দেরী করায় অনেককে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হচ্ছে। 


আজবৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রংপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগ আয়োজিত ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ তথ্য দেন। সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন। 


সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম নন্তুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক, সার্জারি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. সৈয়দা শাহনাজ নাসরুল্লাহ ইলোরাসহ সার্জারির মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার থেকে সুস্থ্য হওয়া নারীরা।


এতে বক্তারা বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জার বিভাগ স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় বর্হিবিভাগে একটি ক্লিনিক চালু করেছে। যেখানে স্তনের স্ক্রিনিংসহ চিকিৎসকরা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যাদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ কিংবা তার বেশি, তাদের স্তনে যদি কোন গুটি, চাকা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যা পরবর্তী মাসিক ঋতুচক্র পাড় হওয়ার পরও থেকে যায়। তাহলে স্তন ক্যান্সারের শংঙ্কা থেকে দ্রুত কোন সার্জনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বেশির ভাগ রোগী দেরী করে হাসপাতালে আসায় তাদের সুস্থ্য করে তোলা সম্ভব হয় না।  


বক্তারা আরও বলেন, স্তন ক্যান্সার হলে মানুষ মারা যায় সমাজে এমন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এই ক্যান্সারের চিকিৎসা করে মানুষ সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিও থেরাপি মেশিন নেই। যদি এই মেশিন চলে আসে তখন স্তন কেটে না ফেলেও স্তন ক্যান্সারের অপারেশন করা সম্ভব হবে। এছাড়া স্তন ক্যান্সার রোগীদের অপারেশনসহ কেমোথেরাপি কার্যক্রম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু রয়েছে।


এরপর একটি র‌্যালী রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর কেককাটাসহ কলেজ অডিটরিয়ামে বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যদিও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় গত ১২ অক্টোবর হতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক নেই।


সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র কর্মীদের সাজেক এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি দেয় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। অবরোধের কারণে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ সাজেক ভ্যালি ও তার আশেপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সকাল থেকে কোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি সড়কগুলোতে।


সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা।


এদিকে অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাটের দিনেও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। পরিবহন সংকটে জুমের উৎপাদিত ফসল হাটে নিতে পারছেন না জুমচাষীরা। 


স্থানীয়রা বলছেন অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে সাজেকে খাদ্যসংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।


সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়ক অবরোধ চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। অবরোধ ঘিরে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। 


এর আগে বুধবার সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ব্যানারে দুটি সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে সাজেক ইউনিয়নে এ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।


এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে চলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। অবরোধে সাজেকে আটকা পড়ে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে পর্যটক ফিরিয়ে আনতে গেলে সাজেকের ওজোবাজার আটকে দেয় অবরোধকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর পর্যটকবাহী নিরাপত্তা স্কটটি ছেড়ে দেয়া হয় এবং সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়। 


এরপর বুধবার আবার দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ ডাকা হয়। পরে পর্যটক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।


এদিকে, পর্যটনকেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি জেলা শহরে মানববন্ধন করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক কর্মচারীরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

সীমান্তের কাছাকাছি ৬৪ মণ্ডপ, বিসর্জন পর্যন্ত থাকবে টহল তৎপরতা। শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পূজাকে কেন্দ্র করে দুই জেলার সীমান্ত এলাকায় মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। এর মধ্যে ৬৪টি মণ্ডপ আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব কাছাকাছি অবস্থিত। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাটালিয়নের দায়ীত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।


এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ২২টি, দিনাজপুরের বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। বিজিবি জানায়, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন এই উৎসব। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


ইতোমধ্যে বিজিবির টহল দল সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দায়ীত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় কাজ করছে। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এ তৎপরতা অব্যাহত ও জোরদার থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপের সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ও বিজিবির সদস্যরা।


এর মাধ্যমে পূজার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সহযোগীতার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বিজিবির প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করাও বাহিনীর অন্যতম অগ্রাধীকার।


বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সীমান্ত বা পূজামণ্ডপ এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি কিংবা তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে হবে। স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগীতাকে নিরাপত্তা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে বাহিনী।


উল্লেখ্য, এ বছর ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে বলে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর