সিলেটে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম

নানা আয়োজনে সিলেটে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখের সকাল থেকেই নাচ-গান আর বর্ণিল পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে নগরী। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যেখানে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ। 



সকালে ‘শ্রুতি সিলেট’-এর আয়োজনে নববর্ষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন বছরে সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, যারা অতীতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চায়নি, তারা এখনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





এদিকে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মুরারি চাঁদ কলেজ,সরকারি মদন মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসেও বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করা হচ্ছে। 



বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় সিলেট সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রার সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। 


এ দিন সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী ও গোত্র নির্বিশেষে এক মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেছে, যা জাতির ঐক্যের প্রতীক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ এবং সিলেট অঞ্চলের মানুষও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই মিলনমেলার মাধ্যমে সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 


নববর্ষ উপলক্ষে সারদা হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করে। এছাড়া ক্বিন ব্রিজের নিচে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিশু পরিবার (এতিমখানা) সমূহে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়। 



জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংগীত এবং বৈশাখী সংগীত ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন সারদা হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থীও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। 




এদিকে,শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। সকাল থেকেই পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল নববর্ষের রঙিন উচ্ছ্বাস। বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মাছ, তরমুজ, ডাকটিকিটের বক্স, হাত পাখাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যের প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নববর্য উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবন-ই এর সামনে থেকে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। 



শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই জায়গা গিয়ে শেষ হয়।শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উন্নয়নে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। 


আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা যেন নববর্ষের শপথ নিয়ে মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে। শিক্ষাজীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; পড়ালেখা ও খেলাধুলা উভয় ক্ষেত্রেই একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, আমি শাবিপ্রবি পরিবারের সকল সদস্যকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা পুরোনো খাতা বন্ধ করে নতুন খাতা উন্মোচন করি-এটাই নববর্ষের বার্তা। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুলে নতুনভাবে কাজ শুরু করব।


এ দিনে তিনি দেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কথা স্মরণ করেন এবং সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিঠির সভাপতি ও ছাত্র উপদেশ নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ইফতেখার রহমান। 



পরবর্তীতে বিকাল ৩টায় মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিকে,বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।




আইনজীবী শরিফুল আলম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম।


তিনি বলেছেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত।’


রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামির জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিন গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।


আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। মাদ্রাসায় প্রবেশ করে সেখানে অতর্কিত হামলা এবং মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হয়েছে।’ এই শিক্ষকের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে বসে কথা বলা যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু তা না করে সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে, বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। আমার আসামি যদি কোনো অন্যায়ও করে থাকেন, তাহলে তো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন লোক নিয়ে গিয়ে মব সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারেন না।’


শিশুকে চুম্বন দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিভাবকের কথা হচ্ছে, আমার বাচ্চাকে চুম্বন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চার বাবা-মা বলছেন, বিষয়টি তাদের বাচ্চা খারাপভাবে নিয়েছে।’


আইনজীবী শরিফুলের দাবি, ‘ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি, সেখানে চুমু দিতে চাওয়ার কথা এসেছে।’


অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘দেড়-দুই বছর আগেও এই বাচ্চা শিক্ষকের ঘাড়ে উঠে বসেছে, দাড়ি টেনেছে। ছোট বাচ্চা তো। মানে স্যারের সঙ্গে সে খুব ফ্রি। স্যার হয়তো বলেছেন, তুমি ভালো রেজাল্ট করেছ, তোমাকে আমি একটা চুমু দেব। অথবা তোমাদের প্রত্যেককে একটা সারপ্রাইজ দেব, তোমাদের আরও বেশি স্নেহ করব।’


মামলার বাদীপক্ষের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাদীপক্ষ আজকে অনেক দুর্বল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের পিটিশন দেওয়া হলেও তিনি দাঁড়াতে পারেননি। কাজেই সত্য-মিথ্যা আমরা বিজ্ঞ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করব। আমি মনে করি, আমার আসামি নির্দোষ। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং সেটা প্রমাণ করব।’


জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়ে শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি জামিন প্রার্থনা করেছি। আদালত স্বাভাবিকভাবেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং সেখানে জামিন প্রার্থনা করব।’


ভুক্তভোগী শাহজালাল রুমি ও তার তালাবদ্ধ বাসা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৪ এএম

কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের পর তার ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এবং লাগাতার হুমকি পাওয়ার পর গাজীপুর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন শাহজালাল রুমি। স্ত্রী এবং দুই সন্তানসহ তিনি ঠিক কোথায় আছেন তার কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।


রুমি যে ভবনে বসবাস করেন সেখানকার কেয়ারটেকার কালবেলাকে জানিয়েছেন, গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন রুমি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে তিনি এখন অন্যত্র অবস্থান করছেন।


রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে গিয়ে রুমির ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেখতে পান এই প্রতিবেদক। ভবনটির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, দুই থেকে তিন দিন ধরে রুমির পরিবারের সদস্যরা ভয়ে বাসায় থাকছেন না। যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন। রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী। মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।


পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।


পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ


মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।


টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’


তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।


মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়


ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৩ এএম

আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলের সব স্তরের শীর্ষ নেতাদের এই নজিরবিহীন মেলবন্ধন ঘিরে আলোচনা নগরজুড়ে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় সিলেট নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ মকসুদ আহমদের সভাপতিত্বে এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম টিপু ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারের যৌথ পরিচালনায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিসিক প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।


বিশেষ অতিথি ছিলেন- মহানগর, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।


সভায় সিটি প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বজয়ী হাফেজ হীরা সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য এক বিরল গৌরব ও সম্মান বয়ে এনেছেন। তার এ অসামান্য সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কুরআন চর্চায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা মো. সম্রাট হোসেন, জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কয়েস আহমদ, সহ-সভাপতি মকসুদুল করিম নুহেল, মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এমদাদুল হক স্বপন, জেলা যুবদলের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসরুর রাসেল, মহানগর যুবদলের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসিন মেহেদী প্রিন্স, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল বাশার হাবিব এবং মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমদ।

আলোচনা শেষে সংবর্ধিত অতিথি বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরার হাতে সব অতিথি যৌথভাবে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩০ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বসতবাড়ীর রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ১ নম্বর বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নিহত মনোরঞ্জন রায় দিনাজপুরের চক শুকদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি চিরিরবন্দর উপজেলার সোনাপুকুর মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত অসীম চন্দ্র রায়ের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের মরহুম আজিজুল মাস্টারের বসতবাড়ীসংলগ্ন রাস্তার জমি নিয়ে প্রতিবেশী আসাদুজ্জামান ও তাঁর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।


রোববার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা বা পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় আসাদুজ্জামান ও তাঁর সঙ্গীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা চালান। সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।


এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি পাশের একটি ধানখেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা আল রোমান জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।


খবর পেয়ে পার্বতীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আসাদুজ্জামানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারীও জোরদার করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৭ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অপবাদকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের এক গর্ভবতী নারীসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।


উপজেলার ভাগ্যকূল ইউনিয়নের উত্তর কামারগাঁও এলাকায় গতকাল শনিবার সকাল ১২ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে, আহতরা হলেন মমতাজ বেগম ও তার ৪ মাসের গর্ভবতী মেয়ে অহনা আক্তার।


স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর কামারগাঁও এলাকার শওকত মৃধা বাড়ির পাশে জনৈক আনেচের মুদি দোকানে গেলে জালাল শেখ নামে এক ব্যক্তি তাকে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দেন। পরবর্তীতে শওকত মৃধার মা মমতাজ বেগম বিষয়টি জানেন এবং প্রতিবাদ করতে গেলে জালাল শেখ ও তার মেয়ে জথি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা মমতাজ বেগম ও তার চার মাসের গর্ভবতী মেয়ে অহনা আক্তারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে শ্রীনগর থানায় পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ পিএম

দিনাজপুরে ৫৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রুনা আক্তার সুমি (৩২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় নগদ ২ লাখ ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।


গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে জেলার কোতোয়ালী থানাধীন ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুর নতুনপাড়া গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।


জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।


পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ওই নারীর দেহ তল্লাশী করে সাত পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো মতে বসতঘরের তোষকের নিচ থেকে আরও ৫০ পিস ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলো ১০০ মিলিগ্রাম মাত্রার। এ ছাড়া মাদক বিক্রির অর্থ বলে উল্লেখ করা নগদ ২ লাখ ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়।


পুলিশের দাবী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারী ট্যাবলেটগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। 


এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে বলে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে।