গ্রামীণ সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে ভিআইপি গাড়ি। সামনে পিছনে নেই গতানুগতিক মোটরসাইকেলের বহর। মাঝপথে হঠাৎই থেমে গেলে গাড়ি। খুলে গেল গাড়ির দরজা। ভিতর থেকে নেমে এলেন নেতা। ধান কাটার ভরা মওসুম তখন। মাঠে কাজ করছেন একদল কিষাণ-কিষাণী। এক পা, দু’পা করে তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন নেতা। কামলারা ভয় পেলেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা। নেতা তাদের একদম কাছে গিয়ে তাদের ভঙ্গিমায় তাদের ভাষায় সালাম দিলেন (গড় লাগি)। কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। সুখ দু:খের কথাও শুনলেন। আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়লেন তারা। অভিভূত হলেন উপস্থিত অন্যরাও। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর মাঠের কাহিনী এটি। আর নেতা হলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের নবনির্বাচিত এমপি ফজলে হুদা বাবুল।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই, কৃষকের ঘামেই দেশের সমৃদ্ধি।”
তার ভাষায়, বিএনপি মাঠে ঘাটে কৃষকের মাঝে, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশনেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা। জনসেবাই রাজনীতি। বিএনপি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে চলছে। সাধারণ মানুষের ভালবাসাই বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি। মাঠের ঘামে যে মানুষ দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে, সেই কৃষকের সম্মানেই গড়ে উঠবে নতুন নওগাঁ, নতুন বাংলাদেশ। কৃষকের হাসি মানেই দেশের সমৃদ্ধি।
নওগাঁ-৩ থেকে শুরু হোক উন্নয়ন, মানবতা আর ভালোবাসার নতুন ইতিহাস। এমপি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “আদিবাসীদের জন্য আমি দুই উপজেলায় দুইটা প্রতিষ্ঠান করতে চাই, আদিবাসীদের সংস্কৃতি ধারণ করার জন্য এবং সংরক্ষণ করার জন্য।”
প্রতিবছরের মত চলতি ইরি বোরো মওসুমেও ধান কাটা শ্রমিকের দারুণ সংকট দেখা দেয়। গত ১৬ মে এমপি ফজলে হুদা বাবুল নিজে নেতাকর্মীদের নিয়ে দু:স্থ কৃষকের ধান কেটে দেন। শুধুমাত্র ফটো সেশনের জন্য নয়, বরং লুঙ্গি পড়ে, গামছা লাগিয়ে, কাস্তে হাতে দিনভর অন্যদের সাথে ধান কেটেছেন তিনি। মাঠে বসে পান্তা খেয়েছেন সবার সাথে। কাটার পর মাড়াই। তারপর বস্তায় ভরে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। পরে তার নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে অব্যাহত রেখেছিলেন সে ধান কাটা। এছাড়া তার নির্দেশে নেতারা মাঠের পরে মাঠ পেরিয়ে তপ্ত রৌদ্রে দগ্ধ ধান কাটা শ্রমিকদের পাশে গিয়ে তাদের ঠান্ডা পানি আর খাবার বিতরণ করেছেন।
নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি দুই উপজেলার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রতিদিন। গেছেন মাটি ও মানুষের গভীরে, সাধারণ জনতার কাতারে। খেটে খাওয়া মানুষের সাথে দারুণ সখ্য গড়ে তুলেছেন। শুনেছেন তাদের দু:খ গাথা, সহযোগিতা করেছেন বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত ফিরে আসেন তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটারদের মাঝে। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি যান মহাদেবপুর উপজেলার নুরপুর মধ্যপাড়া আদিবাসী পাড়ায়। গতবছর ৩১ জানুয়ারি সড়ক দূর্ঘটনায় এই গ্রামের একই পরিবারের চার জনসহ মোট পাঁচ জন নিহত হয়েছিলেন। এমপি ফজলে হুদা বাবুল সেখানে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। দুর্ঘটনার সময়ও তিনি সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জ্ঞাপন করেছিলেন। কিন্তু আচরণবিধি ভঙ্গ হতে পারে এই আশঙ্কায় তখন তাদের আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেননি। এসময় তিনি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের দু:স্থদের মধ্যে দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করেন। এগুলোও আচরণবিধির কারণে আগে বিতরণ করতে পারেননি। গত ১৭ বছর তিনি বিভিন্ন সময় দু:স্থদের মধ্যে কয়েক হাজার শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছেন। সম্পূর্ণ নিজের অর্থে। নির্বাচিত হবার পর সরকারি অনুদান আসে। কিন্তু অল্প। তিনি নিজ তহবিল থেকে আরো কম্বল, শাড়ি, লুঙ্গি, ঢেউ টিন কিনে এবং বিভিন্ন দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করেছেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিজ তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৪ মার্চ তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে গিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ক্যানসার আক্রান্ত তার বাল্যবন্ধু এস, এম, জার্জিস আলম চপলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। ২২ মে বদলগাছীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম ও শিক্ষার্থী তাসনিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা রাজনৈতিক রেওয়াজ। আন্দোলনের দিনগুলিতে তিনি দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পৃথক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় গত ১৪ মার্চ তিনি মহাদেবপুর উপজেলার শিবপুর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘসময় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাথে কাটান, তাদের খোঁজ খবর নেন, সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন, তাদের সাথে ইফতার করেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
১৪ মার্চ তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিজে ঝাড়ু হাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, আশেপাশের রাস্তা, ড্রেন পরিষ্কার করেন। মহাদেবপুরেও অনুরুপ কর্মসূচি পালন করা হয়।
১৪ মার্চ তিনি বদলগাছীতে একটি অনুষ্ঠানে যান তার গাড়িবহর রেখে, একটি ভ্যানগাড়িতে চেপে। তার এসব কর্মকান্ড সরকারি দায়িত্বের মধ্যে নয়। কিন্তু একের পর এক তার এসব চমক লাগানো কর্মকান্ড তাকে একজন মানবিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি এখন দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলাধীন ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম শহিদুল শেখের স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুলাই, ২০২৬ (ইং), রোজ শুক্রবার, ভদ্র ঘাট ইউনিয়নে এই আয়োজন সম্পূর্ণ হয়।
স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের ওপর আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল সামাদ মীর্জা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল আলিম খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা মরহুম শহিদুল শেখের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন এবং তাকে একজন নিষ্ঠাবান ও জনদরদী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, তাঁর শূন্যতা ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
আলোচনা সভা শেষে মরহুমের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয় এবং দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু তুহিনের বাবা পুলিশ কনস্টেবল শামসুল হক
একটি ফোনকল—সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র নিহত। প্রতিদিনের মতোই দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে যায় পুলিশের টহলদল। সেই দলে ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও। কিন্তু তিনি জানতেন না, কয়েক মিনিট পর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সত্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত নিথর শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়েন তিনি। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পড়ে থাকা শিশুটি আর কেউ নয়—তারই আদরের ছেলে, দশ বছরের তুহিন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ওসি স্যার ফোন দিয়ে বলেন, “সার্কিট হাউসের দিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, টহল পুলিশ নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছাও।”’ নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সেখানে ছুটে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের চোখকেই যেন নিজে বিশ্বাস করতে পারছি না। কে জানত নিথর শিশু আমার নিজেরই আদরের সন্তান। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের এমন করুণ মৃত্যু দেখতে হবে, সেটা কখনো কল্পনা করিনি। এই কষ্ট কাউকে বলে বোঝাতে পারব না, কলিজা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর তো কারও হাত নেই। কী আর করব?’
অতিকষ্টে কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু মোহাম্মদ তুহিনের (১০) বাবা পুলিশ সদস্য শামসুল হক। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মারা যায় তাঁর ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা–পুলিশের একটি টহল দল। ওই দলে গাড়িচালক ছিলেন শামসুল হক।
নিহত তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের পাশেই ভাড়া বাসায় বাবা–মা ও আরও দুই ভাইয়ের সঙ্গে থাকত সে। ভাইদের মধ্যে তুহিন ছিল মেজ। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদরে।
পুলিশের ওই টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপপরিদর্শক ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। দুর্ঘটনার খবর পেলেই বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যাই আমরা। চালক শামসুল হকই নিয়ে যান আমাদের নিয়ে। তবে এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। ঘটনাস্থলে গিয়ে যখন দেখলাম সড়ক দুর্ঘটনার শিকার শিশুটি আমাদের সঙ্গে যাওয়া গাড়ি চালক শামসুল হকের ছেলে। তখন তাঁকে কী বলে যে সান্ত্বনা দেব, ভাষা আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু আমরা না, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনও এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়ে শামসুল হককে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, জুমার নামাজের পর কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে তুহিনের প্রথম জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নেত্রকোনায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রূপগঞ্জে
রূপগঞ্জে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাবেক এমপি, জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জামিয়া মনির উদ্দিন বেপারী কওমি মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের দখলে রয়েছে। পাঁচ গ্রামের মানুষের অবিলম্বে ওই জমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, মহসিন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, মো. সিরাজুল ইসলাম প্রধান, মো. ওবায়দুল হক ভূঁইয়া, আব্দুল হালিম ভূঁইয়া, মো. কামরুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান এবং হাজী মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর দখল করে রেখেছেন। মামলা হামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কথা বলতে পারে নাই। এসব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত এবং মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার ও আলাল খন্দকার। মানববন্ধন শেষে ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বৃক্ষরোপন সংরক্ষনের যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মসুচি নিয়েছিলেন তারই ধারা বাহিকতায় পঞ্চগড় জেলায় আজকে বৃক্ষরোপন অভিযান ও ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
আজ শুক্রবার(২৪জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় বনবিভাগ এর আয়োজনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পঞ্চগড় সড়কারী অডিটোরিয়ামে এসে বেলুন উড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বৃক্ষমেলা পরিদর্শন করেন।
তিনি আরও বলেন, গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের সাথে নদীর সম্পর্ক আছে। পঞ্চগড়ে করতোয়া, মহানন্দা, তালমাসহ বিভিন্ন নদী রয়েছে। এসব রক্ষায় গাছ লাগানো আবশ্যক।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। পাশাপাশি একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের।
এসময় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম, দিনাজপুরের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সদস্য সচিব ফাহিম ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম চাচ্চু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
এজাহারে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা
"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ।
শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।
বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।