সামাজিক বনায়নের টেন্ডার ঘিরে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ
বরগুনা সদর উপজেলার ধূপতি মনসাতলী এলাকায় সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম, ভুয়া মেজারমেন্ট এবং পরিকল্পিতভাবে গাছের পরিমাণ কম দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় উপকারভোগী, জমির মালিক ও এলাকাবাসীর দাবি বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, বনায়ন সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ কাঠ গোপনে লোপাট করা হয়েছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি প্রকৃত উপকারভোগীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা যায়- বরগুনা জেলার খাকধোন নদীর উত্তর পাড় ঘেঁষে মনসাতলী এলাকায় সুধাংশুর বাড়ি থেকে হোসেন শরীফের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়। রেন্ট্রি, মেহগনি, শিশু, চাম্বল, অর্জুন, আকাশমনি, কড়ই, করমজা, খইয়াবাবলা, পিটালি, জাম, খয়ের ও জারুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিয়ে গড়ে ওঠে এই বাগান। এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে স্থানীয় ৩২ জনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ খান।
প্রচলিত সামাজিক বনায়ন নীতিমালা অনুযায়ী, এসব গাছ বিক্রির অর্থের ৬৫ শতাংশ উপকারভোগীদের পাওয়ার কথা। এছাড়া ১০ শতাংশ এনজিও, ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগার এবং ৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে স্থানীয়দের আশঙ্কা। প্রকৃত হিসাব গোপন করে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বন বিভাগের প্রস্তুত করা টেন্ডার শিডিউল অনুযায়ী বিক্রয়যোগ্য গাছের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৪৬৭টি, যার মোট কাঠের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩০৫৫ দশমিক ২৯ ঘনফুট। পাশাপাশি জ্বালানি কাঠ হিসেবে আরও প্রায় ১৪৬৯ ঘনফুট দেখানো হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, বাস্তবে গাছের সংখ্যা সিডিউলে উল্লেখিত সংখ্যার তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ পরিমাপের সময় প্রতিটি গাছে গড়ে ১০ থেকে ১২ সিএফটি পর্যন্ত কাঠ কম দেখানো হয়েছে। ফলে সহস্রাধিক ঘনফুট কাঠ কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ও উপকারভোগীদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, ৩৭৯ থেকে ৪০৩ নম্বর পর্যন্ত মোট ২৪টি মেহগনি গাছ পরিমাপ করা হলেও সেগুলো কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জনৈক মামুন খান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এসব গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কার নির্দেশে এ গাছগুলো অপসারণ করা হয়েছে। সে বিষয়ে বনায়ন কমিটির সদস্যরাও স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এছাড়া বন বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বজনরা এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। এসব অনিয়মকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির প্রকৃত মালিকদের গাছ টেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মালিকপক্ষ ও ঠিকাদারদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় জালাল মোল্লা বলেন, মেজারমেন্টের সময় স্থানীয় মানুষের ব্যক্তিগতভাবে রোপণ করা কিছু গাছেও নম্বর দিয়ে সেগুলোকে সামাজিক বনায়নের আওতায় দেখানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে নিজেদের গাছ তালিকা থেকে বাদ দিতে সক্ষম হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যেসব মালিক অর্থ দিতে পারেননি, তাদের গাছ টেন্ডারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে বনায়ন কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে পূর্ব ধূপতির বাসিন্দা মো. শানু খা বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো প্রতিকার মেলেনি। অভিযোগে টেন্ডার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে গাছের প্রকৃত মেজারমেন্ট পুনঃযাচাই, টেন্ডার ছাড়াই অপসারণ করা ২৪টি মেহগনি গাছের তদন্ত এবং পুরো প্রক্রিয়ার অনিয়ম খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও উপকারভোগীদের বঞ্চিত করার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা বন বিভাগের রেঞ্জ সহকারী মো. হাসান বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই গাছ বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, একটি মহল টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ করার উদ্দেশে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিচ্ছে।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের রেঞ্জ সহকারী পরিচয়ধারী মো. হাসানই এই দুর্নীতি ও লুটপাটের মূল পরিকল্পনাকারী। এ বিষয়ে বরগুনা-পটুয়াখালী অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক নুরুন্নাহারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের গুনে গুনে ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। সোমবার দুপুরে ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেনের নগদ অর্থ নেওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার তার ব্যক্তিগত কক্ষের চৌকির ওপর বসে কোনো এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ নিচ্ছেন। পরে টাকা নিয়ে তিনি নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে পড়েন। এ সময় এক মাসের মধ্যে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে বলে ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সরোয়ার হোসেন বলেন, তাদের কার্যালয়ে নগদ অর্থে সরকারি ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অনলাইনে সরকারি ফি জমা দিতে না পারলে মানবিক কারণে তিনি নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি ফি পরিশোধে সহায়তা করেন। ভাইরাল ভিডিওতে যে অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে, সেটিও সরকারি ফি বলে তার দাবি।
তিনি আরও জানান, ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, সেটিও তার জানা নেই।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, আমি সবাইকে চিনি না। তবে ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের গুনে গুনে ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গত রোববার তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
সেলিনা হায়াৎ আইভী
পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা এক মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী। হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী।’ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজিরা দেন আইভী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে আইভী বলেন, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। আমি সব সময় নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ করেছি। হত্যা, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আজ আমিই অপরাধী! যাই হোক, এর বিচার আল্লাহ করবেন। আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছে, তারাও দেখবে।’
মন্তব্য শেষে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে দেওভোগের বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার অনুসারী নেতাকর্মীদের আদালত চত্বরে অবস্থান করতে দেখা যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, গত বছরের ৯ মে গ্রেপ্তারের পর তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় সদর মডেল থানায় করা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ছিল মঙ্গলবার। ওই মামলায় আইভী জামিনে থাকায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাজিরা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আইভী দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তিনি শারীরিকভাবেও অসুস্থ। এ কারণে আমরা ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলাম।’
আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত আইভীকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ সময় তার পক্ষে আইনজীবী আদালতে উপস্থিত থাকবেন।
গত বছরের ৯ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় আইভীকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে তার বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ৩৯১ দিন কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের ৪ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।
টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সানি
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার ভিতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের সামনে বিজয় টেলিভিশনের টঙ্গী প্রতিনিধি মোর্শেদ আলম খোকনসহ সাংবদিকদের উপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সানিকে (২৮ জুলাই) গভীর রাতে গ্রেপ্তার করেন টঙ্গী পূর্ব থানার (এসআই) বায়েজিদ।
জানা গেছে, টঙ্গীর পাগার জিনু মার্কেট এলাকায় অস্ত্রের মহড়া ও চাঁদাবাজির মামলার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হায়। পরে তাকে আদালতে নেওয়ার জন্য থানার ভিতর থেকে বের করার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা বেল্লাল হোসেন সানির অনুসারী সাংবাদিকদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন।
ঘটনাটি ঘটে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসানের উপস্থিতিতেই। এ সময় টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনসহ বিএনপির আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকরা মোর্শেদ আলম খোকনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
এদিকে ঘটনার সময় থানার ভিতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বার বার তেড়ে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। পরে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকরা থানা থেকে বের হওয়ার সময় ওসি মেহেদী হাসান ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একজন গ্রেপ্তার আসামিকে থানায় আনার পর তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর থানার ভিতরে উপস্থিতি এবং সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিকদের দাবি, থানার মতো একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। থানার ভিতরে এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভর্তি পরীক্ষা
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন টাঙ্গাইলে "তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শহরের আশেকপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২ মাস ব্যাপী (১ম ব্যাচ) এর ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়।
দেশের অন্যতম আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের আগ্রহে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মোট ১৫৬ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।
সকালে ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহকারী রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী মোঃ নাহিদ হাসান। এ সময় তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি ও জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফাতেমা বেগম এবং সহ-সভাপতি ও জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রথীন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেডের জেলা কো-অর্ডিনেটর মো: জুয়েল রানা উপস্থিত ছিলেন।
ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেডের জেলা শাখার সহকারী কো-অর্ডিনেটর তৌহিদুর রহমান, প্রশিক্ষক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার সঙ্গীতা সরকার, ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রশিক্ষক মো: রানা আহমেদ, প্রশিক্ষক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার মাহবুবুর রহমান সহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল এসএমএস এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জানানো হবে এবং আগামীকাল বুধবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
উল্লেখ্য, "তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন” শীর্ষক এই জাতীয় প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের তথ্যপ্রযুক্তি-জ্ঞান সম্পন্ন যুব ও যুব মহিলাদের এআই-ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং এবং ডিজিটাল দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। ২০২৬ সাল থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো তরুণ-তরুণী আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস, দক্ষ ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করাও এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প দেশের যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
ছবি : সংগৃহীত
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কয়েকশ নারী-পুরুষ। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় তিন ঘন্টা পর পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী শহরের নীলগঞ্জ এলাকার আব্দুস সালাম জানান, শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসূলের বাড়ি সংলগ্ন আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সোমবার সকালে এমপির মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহজাবিন অনন্যা মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীকে মারধর করেন। সোমবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে মীমাংসা হয়। মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খোলার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ফের বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারী রবিউল অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হলে দ্বিতীয় তলা থেকে গরম পানি ছোড়া হয়। এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের বিচারের দাবিতে তারা দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান করেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এমপি গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ডিনা বলেন, তার মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে বিভিন্ন সময় শিশুরা গিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি।
এদিকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান জানান, বেলা একটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পুলিশ উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করেছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর সেনবাগে বোনকে দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আবুল কাশেম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনবাগ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্নাগুনি গ্রামের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল কাশেম উপজেলার ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপুর গ্রামের রমিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির মৃত নুর মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার ২৩ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় আবুল কাশেম সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে হাতে ক্যানোলা লাগানো অবস্থায় তিনি বিন্নাগুনি গ্রামে তার বোনের বাড়িতে বোনকে দেখতে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ডোবার পাশ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সেখানে গিয়ে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, বোনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আবুল কাশেম নিখোঁজ ছিলেন। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।