সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুছা মিয়া।
পুলিশ জানায়, রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে হোসেনপুর গ্রামের জোয়ারার বিল রাস্তার পাশের একটি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুছা মিয়া ওই ইউনিয়নের ছলিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ছলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উনার ছেলেমেয়ে বলেন, আমার বাবার সাথে টাকা লেনদেনের দ্বন্দ্ব নিয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জামিল বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কে বা কারা গলা তাকে কেটে হত্যা করে পালিয়েছে, তার এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আমরা তদন্ত করছি।
শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হলেন সালাহউদ্দিন সরকার
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-২) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে গত ২৩ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন সরকারকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। এছাড়া চুক্তির অন্যান্য শর্ত সরকার নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে সালাহউদ্দিন সরকার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক রাজনীতি ও বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সুপরিচিত।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি দেশব্যাপী অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল। দলীয়ভাবে দাবি করা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন সরকারও একই ধরনের অনিয়মের শিকার হন।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও গাজীপুর-২ আসনে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি হয়। প্রথমে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বৈধ প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলীয় প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করীম রনির বিজয় নিশ্চিত করা এবং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি তার আনুগত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন, কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সংগ্রামে সালাহউদ্দিন সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হওয়া, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শ্রমিক সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, শ্রমিক রাজনীতিতে নেতৃত্ব, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এ নিয়োগকে শুধু একটি প্রশাসনিক পদায়ন হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী আরিফুল হক নাহিদ
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আরিফুল হক নাহিদ বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয়েছে।
অপহরণকারীরা তার দুটি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে একটি আইফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে।
সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নাহিদ ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় পরে পথিমধ্যে নরসিংদী এলাকায় তিনি অপহরণের শিকার হন। এরপর অপহরণকারীরা তার সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় এবং তার ওপর মারাত্মকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে।
এব্যাপারে ২৩ জুলাই রাতে ডুয়েটের ছাত্র আরিফুল হক নাহিদের বড় ভাই বাদী হয়ে নরসিংদী জেলা শিবপুর থানায় অভিযাগ দায়ের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে অপহরণকারীরা নাহিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পরিবার এক ১লাখ ২০ হাজার মুক্তিপণের টাকা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ ও নগদ নাম্বার প্রেরন করে ঐদিন রাত আনুমানিক সারে ৯টা তাকে নাহিদ তাদের হাত থেকে মুক্তি পায়।
বর্তমানে নাহিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি সারা শরীরে ব্যথা অনুভব করছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আরিফুল হক নাহিদ ডুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ঝালকাঠির নলছিটিতে গাঁজাসহ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আদনান রুবেলকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে শহরের সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করে। এছাড়াও পুলিশ ২০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারির নাম হাসিবুর রহমান (৩৫)। তাকে কালিজিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নলছিটি শহরের সবুজবাগ এলাকায় গাঁজাসেবনের সময় পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আদনান রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। খবর পেয়ে তাকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করে পরিবারের লোকজন। তবে পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করায় কোন তদবিরেই তাকে ছেড়ে না দিয়ে আদালতে পাঠায়।
এদিকে নলছিটি থানা পুলিশ ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিজিরা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে মাদক কারবারি হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃত আদনান রুবেল নলছিটির সবুজবাগ এলাকার আব্দুস ছত্তার হাওলাদারের ছেলে এবং হাসিবুর রহমান বরিশালের জাগুয়া এলাকার আব্দুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, আটককৃতদের নামে মামলা হয়েছে। তাদের শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ আলী হাসান বলেন, ছাত্রদলের কারো বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলি এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রস্তাবিত বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (ট্রান্সফার স্টেশন) অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পাঞ্চলের উদ্যোক্তারা।
শনিবার (২৫ জুলাই) ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রীন সোসাইটি, টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই মহাসড়কের পাশে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপন করা হলে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাবে, দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তারা আরও বলেন, বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত বাতাসের কারণে কাশি, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের কর্মপরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যা শিল্পোন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর হবে।
বক্তারা দাবি করেন, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা এবং শিল্পাঞ্চলের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় চেরাগ আলী এলাকায় প্রস্তাবিত বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে জনবসতি ও শিল্পাঞ্চল থেকে নিরাপদ দূরত্বে, পরিবেশসম্মত ও উপযুক্ত কোনো স্থানে কেন্দ্রটি স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা এমন স্থানে হতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি এলাকায় স্পিডবোটে তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া দাবিকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম (৩২) নামে এক যুবক। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মরিচাকান্দি স্পিডবোট ঘাটে এক যাত্রীর সঙ্গে থাকা তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া দাবি করেন স্পিডবোট চালক ইমরান। এ সময় ঘাটের ইজারাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এত ছোট শিশুর ভাড়া না নেওয়ার পরামর্শ দিলে ইমরানের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইমরান ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাটের টোল আদায়কারী বাবুলের ওপর হামলা করেন। পরে লঞ্চ টার্মিনালে দায়িত্বরত এক ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ইমরানকে তার বাড়ির দিকে পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে পূর্বপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাদিরের দোকানে বৈঠক করে প্রতিপক্ষ হামলার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পক্ষের ছোট ভাই আসাদুল্লাহ পূর্বপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থান সংলগ্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হলে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও ঘাটের লোকজন পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় গেলে সেখানে দ্বিতীয় দফায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় শরীফ নামে এক ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে ৪ থেকে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি জাহাঙ্গীর আলমের তলপেটে বিদ্ধ হয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া হামলায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলার পর মরিচাকান্দি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন বলেন, “দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি বাজার এলাকায় স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলম
বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত এক নারী চিকিৎসককে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলমকে বিভাগীয় মামলাসহ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি জান যায় । এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ডাঃ রেজওয়ানুর আলম রায়হান বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। গত জুন মাসে একজন নারী চিকিৎসক একই হাসপাতালে যোগদান করেন। এরপর থেকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুযোগ পেলেই তাকে কারণ ছাড়াই অফিস রুমে ডাকতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাবসহ অশালীন ইঙ্গিত করতেন।
আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়িত্ব হতে বিরত রাখা আবশ্যক। এবং তদন্তের কাজে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বিবেচনায় অভিযুক্ত ডাঃ রেজওয়ানুর আলম রায়হানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা করা হয়।
হাসপাতালে কর্মরত ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। এটা একটি ম্যাসেজ সমাজের জন্য। আমরা যাতে আরও সচেতনভাবে আমাদের আচরণ করি। যে কোনো কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন আর নিম্নতম হোক, সকলেরই সচেতন হওয়া উচিত। কারও কোনো ক্ষতি মানুষ হিসেবে ভালো লাগবে না। বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী চলবে, এটা কারো হাতে নেই। আর এখানে আমার আলাদা কোনো বক্তব্যও নেই। তবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী, আমাদের স্বাস্থ্য সেবায় যারা নিয়োজিত আছি, আমাদের সুরক্ষায় অত্যন্ত তৎপর।”
অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যোগদানের পর সঠিক সময়ে ডিউটি পালন এবং নিয়মিত হাসপাতালে না আসায় তাকে শোকজ করেছিলাম। শোকজ করেছি ১৩ তারিখ, আর সে অভিযোগ দিয়েছে ১৪ তারিখ।