সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:২৫ এএম

মাঠ ও মাঠের বাইরে বিভিন্ন প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের দেখা পায়নি ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে দলটি। এই ম্যাচের পরও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছে ইরানকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকো যাওয়ার আগে সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি চিঠি রেখে যান ইরানি ফুটবলাররা।


ইরান ফুটবল ফেডারেশন সেই চিঠির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায় চিঠিতে তারা লিখেছে, ‘হাজার হাজার বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের চেতনা জীবন্ত ও অটল রয়েছে।’


এর আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে ইরান। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয় ইরান। এ নিয়ে দলের অধিনায়ক ও কোচ ক্ষোভ জানিয়েছেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ শেষেও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়।


এদিকে চিঠিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইরান। তারা লিখেছে, ‘ধন্যবাদ লস অ্যাঞ্জেলেস, আপনাদের আতিথেয়তার জন্য। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম গর্ব নিয়ে, সম্মানের সঙ্গে লড়েছি এবং এখন মর্যাদা নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছি।’


সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বিশ্বের সকল দেশে শান্তি বজায় রাখার বার্তাও রয়েছে ইরানের চিঠিতে, ‘প্রত্যেক ইরানিয়ানকে ধন্যবাদ, যারা তাদের হৃদয়, আওয়াজ এবং প্রাণ দিয়ে ১৮০ মিনিট আমাদের সমর্থন দিয়েছে। প্রত্যেক দেশের মাঝে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’


নীল কালিতে লেখা ওই চিঠিতে লাল কালিতে ‘৭৬৮’ এবং ‘মিনাব’ নামে দুটি শব্দ উল্লেখ করেছে ইরান। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি স্কুল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ১৬৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছিল।


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নানা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে ইরান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইরানকে তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের তিজুয়ানায় নিতে বাধ্য করা হয়। সেখান থেকে ম্যাচের আগেরদিন ভেন্যুতে গিয়ে ম্যাচ শেষ করেই তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই ম্যাচের দুটিতে ড্র করে নকআউট পর্বের আশা এখনও টিকিয়ে রেখেছে ইরান। 


বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই ড্রয়ের মূল কারিগর ছিলেন দলটির গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। ম্যাচজুড়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে ইউরোপের পরাশক্তিদের আটকে রাখেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক পুরো ম্যাচে মোট ৭টি সেভ করেছেন, যার মধ্যে ৪টি ছিল ডাইভিং সেভ। এদিন ২৩টি শট নিয়ে ৭টিই লক্ষ্যে রেখেছিল বেলজিয়াম। কিন্তু কোনোটিই ইরানের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেনি।




ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ এএম

১৮ তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স আজ শেষ হয়েছে। তিন দিন ব্যাপী প্রতিযোগিতায় ২১ স্বর্ণ, ২০ রৌপ্য ও ১৯ ব্রোঞ্জ সহ মোট ৬০টি পদক জিতে চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী। ১৮ স্বর্ণ, ১৭ রৌপ্য ও ১০ ব্রোঞ্জে ৪৫ পদকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ১ স্বর্ণ ও ৩ ব্রোঞ্জসহ মোট ৪টি পদক জিতে ৩য় স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে বিকেএসপি।



আসরে সেরা অ্যাথলেটের পুরষ্কার ১০০ সিসি ইলেট্রনিক্স মোটরসাইকেল জেতেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান। তিনি ১০০মিটার, ২০০মিটার ও ৪*১০০মিটার রিলেতে স্বর্ণপদক জিতে সেরা অ্যাথলেট নির্বাচিত হন। নারী অ্যাথলেটদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার হিসেবে নগদ ৮০ হাজার টাকা পান নৌবাহিনী প্রিয়া আক্তার। তিনি ৮০০, ১৫০০ ও ৩০০০ হাজার মিটার দৌড়ে সোনা জেতেন। এর মধ্যে ১৫০০ ও ৩০০০ হাজার মিটারে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন প্রিয়া। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কোচ আনসার আলীর ৫ অ্যাথলেট জাতীয় রেকর্ড গড়ায় তিনি সেরা কোচের পুরস্কার পান।



আজ শেষ দিনে রবিবার ১০টি ইভেন্টের খেলা সম্পন্ন হয়। পুরুষদের ১০হাজার মিটার দৌড়ে সেনাবহিনীর সোহানুর রহমান (৩৩ মিনিট ১২.৪০ সেকেন্ড) স্বর্ণপদক জয় করেন। বিকেলে দিনের আকর্ষণীয় ইভেন্ট পুরুষ ২০০ মিটার ইভেন্টে ২১.১৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে স্বর্ণ পদক জেতেন নৌবাহিনীর ইমরানুর রহমান। ২১.৬৩ সেকেন্ড সময়ে সেনাবহিনীর শান্ত কর্মকর রৌপ্য এবং ২১.৭৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন নৌবাহিনীর রাকিবুল হাসান। ইমরান মূলত ১০০ মিটার ও ইনডোরে ৬০ মিটারে বেশি লড়েন। ২০০ মিটারে সেভাবে তার মনোযোগ থাকে না।



সেই ইভেন্টে জিতে তার প্রতিক্রিয়া, ‘আমি আসলে এই ইভেন্টে আনন্দের ছলে খেলে সেরা হয়েছি।’ রেকর্ড গড়ে মহিলাদের ২০০মিটার স্প্রিন্টে সোনা জেতেন নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার। তিনি সময় নেন ২৪.৩৪ সেকেন্ড। এর আগে ২০২৪ সালে ২৪.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন শিরিন নিজেই। এই ইভেন্টে ২৫.১১ সেকেন্ড সময়ে রৌপ্য জেতেন সেনাবাহিনীর শরিফা খাতুন এবং ২৫.৩৩ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ জিতে নেন একই সংস্থার বর্ষা খাতুন। রেকর্ড গড়ে শিরিন আক্তার বলেন, ‘এবারের প্রতিযোগিতা বেশ উৎসবমুখর হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিদিন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসেছেন। সাজসজ্জাও ছিল বেশ, যা আগে কখনো ছিল না। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান ভালোই ছিল এবং রেকর্ডও হয়েছে অনেক।’



পুরুষদের ৮০০মিটার দৌড়ে ১ মিনিট ৫৩.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জেতেন সেনাবাহিনীর মোশারফ হোসেন। ১ মিনিট ৫৪.৯৫ সেকেন্ড সময়ে একই সংস্থার রাকিবুল ইসলাম রৌপ্য ও ১ মিনিট ৫৬.৭৪ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ জয় করেন বিকেএসপির মোঃ সামি ইসলাম সানি। ৮০০মিটার মহিলা ইভেন্টে ২ মিনিট ১৭.৮৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জেতেন নৌবাহিনীর পাপিয়া আক্তার। ২ মিনিট ১৯.৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেনাবহিনীর মুন্নি কর্মকর রৌপ্য ও ২ মিনিট ২০.৮৩ সেকেন্ড সময়ে ব্রোঞ্জ জিতেন নৌবাহিনীর মোছাঃ সুমাইয়া আক্তার।



দিনের শেষ ইভেন্টে মহিলাদের ৪*৪০০মিটার রিলেতে ৩ মিনিট ৪৮.৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জেতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী (শিরিন আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, নুসরাত জাহান রুনা ও সুমাইয়া দেওয়ান)। এই ইভেন্টে ৩ মিনিট ৫২.৮৮ সেকেন্ড সময়ে সেনাবাহিনী রৌপ্য পদক এবং ৪ মিনিট ৯ দশমিক তিন সেকেন্ড সময়ে ব্রোঞ্জ জেতে বিকেএসপি। 


মোহাম্মদ আশরাফুল

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

গতকাল সকালে অনুশীলনের সময়ই আঁচ করতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। একাডেমি মাঠে এক সহকর্মীর কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণেই এমন মনে হওয়া। কিন্তু ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে, মোহাম্মদ আশরাফুল ভেবে পাচ্ছিলেন না। সন্ধ্যার পর আর ভাবতে হয়নি। বিসিবি থেকে ক্রিকেট পরিচালনা ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফীসের ফোন। সারমর্ম- ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেই আশরাফুল আর জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ নন। 


নতুন বিদেশি কোচ খোঁজা হচ্ছে। আশরাফুলকে শিগগিরই নতুন দায়িত্ব জানিয়ে দেওয়া হবে। আশরাফুল বিস্মিত হয়েছেন। 


২৮ অক্টোবর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু, তার ঠিক আগমুহূর্তে বিসিবি এই সিদ্ধান্ত নিল! আর তাঁর ব্যাটিং কোচ থাকার সময়ে তো টেস্টে বাংলাদেশ ভালোই করছে। আশরাফুল দায়িত্বটা নেন গত বছর ১ নভেম্বর, আমিনুল ইসলাম বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর। তার আগে আশরাফুলের ছেড়ে দেওয়া কাউন্সিলরশিপ নিয়ে আমিনুল বিসিবি সভাপতি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল আশরাফুলের ব্যাটিং কোচ হওয়াটা তাঁর প্রতি আমিনুলের একধরনের ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ’ নয় তো!


সেই প্রশ্ন বেশি গভীরে যেতে পারেনি বাংলাদেশ দল ভালো খেলায়, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আশরাফুল দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮টি টেস্ট খেলে ৫টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ, ড্র একটিতে, হারও মাত্র একটিতে। এই সময়ে বাংলাদেশ ১৪টি ওয়ানডে খেলেছে, ১১টি টি-টুয়েন্টি; যদিও এশিয়ান গেমসের দুই ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন না।


অন্য দুই সংস্করণ বাদ দিয়ে টেস্টের সঙ্গেই আশরাফুলের বেশি হিসাব মেলানো স্বাভাবিক, কারণ তাঁকে বিদায় করা হলো একটা টেস্ট সিরিজের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়, যে টেস্ট সংস্করণে তাঁর সময়ে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স এককথায় দুর্দান্ত। তা ছাড়া বিদেশি কোচও তো এখনো ঠিক হয়নি। নতুন কোচ পাওয়া পর্যন্ত তো তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতেই পারতেন।


আশরাফুলের ভাবনা একরকম, বিসিবির আরেক রকম। বিসিবি মনে করে, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বটা একটু অপরিণত অবস্থাতেই পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বয়সভিত্তিক, একাডেমি বা হাইপারফরম্যান্স পর্যায়ে কোচিং করিয়ে জাতীয় দলের সিঁড়ি ধরলে ব্যাটসম্যানরা যেমন তাঁর মাধ্যমে আরও বেশি উপকৃত হতেন এবং তাঁর ওপর আরও বেশি আস্থা রাখতে পারতেন; তেমনি আশরাফুলও তাঁদের কোচিং করানোটা আরও বেশি উপভোগ করতেন। এখন ব্যাটসম্যানরা হয়তো নেটে তাঁর সঙ্গ উপভোগ করেন, কিন্তু খুব বেশি টেকনিক্যাল বিষয়ে আশরাফুলের শরণাপন্ন হন না। 


নতুন ব্যাটিং কোচ পাওয়ার আগপর্যন্ত তাই দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনকে, যাঁকে এর আগে জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে সরিয়ে হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।


বিসিবির ভাবনার সমান্তরালে এটাও ঠিক- ক্রিকেটারদের অনেকে আশরাফুলের সঙ্গে কাজ করাটা উপভোগ করতেন। গত অস্ট্রেলিয়া সফরেও সেটি দেখা গেছে। 


বিশেষ করে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা, বড় বড় বোলারদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে ব্যাটিং করা; এসবকে গুরুত্ব দিতেন ব্যাটসম্যানরা। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অন্য কোনো ব্যাটিং কোচের নেই।


দায়িত্ব হারানোর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আশরাফুল অবশ্য বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন। বিসিবি নতুন দায়িত্ব দিলে সেটিও আনন্দের সঙ্গে পালন করবেন বলে জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে, ‘এটা পুরোপুরি ক্রিকেট বোর্ডের হাতে, তাদের সিদ্ধান্ত। বোর্ড চাইলে আমাকে অন্য জায়গায়ও কাজে লাগাতে পারবে। যে দায়িত্বই দেয়, আমি তা পালন করব।’


আজ বিকেলে এক অনুষ্ঠানে বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের তিনি এ-ও বলেছেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে এক দিন কাজ করতে পারাও অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে আমি তো ১১ মাস কাজ করেছি।’


বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয়েছিল হুট করে আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ। 


আশরাফুলের সাবেক এই সতীর্থ মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও বলেছেন, ‘আমরা আসলে জাতীয় দলের জন্য ভালো এবং নামী বিদেশি ব্যাটিং কোচ খুঁজছি। সে রকম দু-একজনের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তাও চলছে। আশরাফুল ভাইকে আমরা নতুন দায়িত্ব দেব।’


৩১ জানুয়ারির পর চুক্তি নবায়ন করে আশরাফুলকে অন্য দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বোর্ডের আরেক কর্মকর্তাও, ‘মোহাম্মদ আশরাফুল প্রায় এক বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতার অপচয় আমরা কেন করব? জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে হয়তো উনি একটু আগে চলে এসেছেন; তবে তাঁর ওয়ার্ক এথিকস ভালো। আমরা তাঁকে তাঁর উপযোগী জায়গাতেই কাজে লাগাব।’


নতুন ব্যাটিং কোচ কে হতে যাচ্ছেন- এই প্রশ্নে স্বাভাবিকভাবেই আপাতত নীরব তামিম ইকবাল। শুধু বলেছেন, ‘কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই সময়ে ভালো কোচ পাওয়া কঠিন। কেউ লম্বা সময়ের জন্য এখানে আসতে চান না। তবে আমাদের ইচ্ছা লম্বা সময়ের জন্যই কাউকে নেওয়ার।’


সূত্র জানিয়েছে, নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে বিসিবি যাঁদের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৯ পিএম

ফিফা অ-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে আজ বাংলাদেশের দুই ম্যাচ। পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লিড নিয়েও ৩-১ গোল ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া। আর গতকাল ইউরোপের আরেক দল ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ।ফিফা প্রথমবারের মতো অ-১৫ পর্যায়ে ফেস্টিভ্যালকে বৈশ্বিক রূপ প্রদান করেছে। ১৯১ দেশ ৩২ গ্রুপে খেলছে। বিশ মিনিট করে মোট ৪০ মিনিটের এইট-এ-সাইড ম্যাচ।


বাংলাদেশ আজ ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে বায়েজিদের গোলে লিড নেয়। রোনালদোর দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচের শুরুতেই গোল করে আশা সঞ্চার করেছিল। যদিও ম্যাচের পরবর্তী সময়ে কিছু ভুল ও পতুর্গালের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি।


২০২৪ সালের শেষ দিকে অ-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিনশিপ শুরু করেছিল বাফুফে। দেশজুড়ে সেই টুর্নামেন্ট হওয়ার পর বাফুফে সেখান থেকে মেধাবী ফুটবলারদের বাছাই করে। ঐ বাছাইকৃত ফুটবলাররা ক্যাম্প করেন। এরপর আরেকটি ওপেন ট্রায়ালের মাধ্যমে অ-১৫ দল গঠন হয়।সেই মাস দু’য়েকের বেশি অনুশীলন করে আজারবাইজানে বিশ্বকাপ খেলতে গেছে। বাংলাদেশের চেয়ে ওয়েলস-পর্তুগাল ফুটবলে অনেক এগিয়ে। ইউরোপের এই দুই দেশের বিপক্ষে ড্র ও এগিয়ে থেকে হার অনেকটাই ইতিবাচক।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। অনেক সময় ক্যামেরা কিংবা দর্শকদের চোখ এড়াতে মুখ ঢেকেও কথা বলেন ফুটবলাররা। কিন্তু সেই অভ্যাসই এবার বড় বিপদ ডেকে আনল নেইমারের জন্য। প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের সঙ্গে তর্কের সময় মুখে হাত দেওয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেটিও আবার এমন এক নিয়মে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার স্বদেশি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম।


শনিবার রাতে ব্রাজিলিয়ান লিগের ৩২তম রাউন্ডে নিজেদের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে বাহিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল সান্তোস। ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে একাধিকবার বিবাদে জড়ান নেইমার। বিরতির পর সেই বিতর্কই নতুন মোড় নেয়। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে নেইমারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইও।


ঘটনার শুরু প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে। একটি ফাউলের পর নেস্তরের দিকে বল ছুড়ে মারেন নেইমার। পরে তাকে মাঠ থেকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই ফুটবলারের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।


বিরতির সময় সম্প্রচারমাধ্যম স্পোরটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারের আচরণের সমালোচনা করেন নেস্তর। তার দাবি, করমর্দন করতে এগিয়ে গেলেও নেইমার তার শরীরের দিকে বল ছুড়ে মেরেছিলেন। এরপর তাকে উদ্দেশ করে অসম্মানজনক কথাও বলেছেন।


নেস্তর বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার দিকে বল ছুড়ে মারেন। এরপর আমাকে অনেক কিছু শুনতে হয়েছে। আমার মা-বাবা আমাকে ভালো শিক্ষা দিয়েছেন। আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি, সেটিও জানি। ইতাকেরায় আমার জন্ম। আজকের অবস্থানে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না। বাহিয়ার জার্সি পরতে পেরে আমি গর্বিত।’


নেইমারের বলা কথাগুলো নিয়ে নেস্তর আরও বলেন, ‘তিনি জানেন, আমাকে কী বলেছেন। কথাগুলো শুধু আমার জন্য নয়, বাহিয়ার জার্সির জন্যও অসম্মানজনক।’


নেইমারের ফুটবলীয় প্রতিভার প্রশংসা করলেও তার আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন বাহিয়ার এই মিডফিল্ডার, ‘ফুটবলার হিসেবে তিনি সবার আদর্শ। কিন্তু আজ মানুষ হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। যেভাবে কথা বলেছেন, সেটি ঠিক হয়নি। আমি কখনো কাউকে এমন কথা বলতাম না।’


বিরতির পর মাঠে ফিরে আবারও নেস্তরের সঙ্গে কথা বলতে যান নেইমার। মাঝমাঠে দুজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে কিছু বলেন সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী। সঙ্গে সঙ্গেই রেফারির কাছে অভিযোগ জানান নেস্তর।


এরপর ভিএআর থেকে রেফারিকে ঘটনাটি পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়। মনিটরে নেইমারের মুখ ঢেকে কথা বলার দৃশ্য দেখেই সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নেন রেফারি।


মাঠ ছাড়ার সময় নিজের ভুল স্বীকার করেন নেইমার। তবে নেস্তরের আচরণকে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেন তিনি, ‘আমরা মাঝমাঠে মজা করছিলাম, একে অন্যের সঙ্গে হাসাহাসি করছিলাম। এরপর আমি নেস্তরের সঙ্গে কথা বলতে যাই। মুখে হাত দিয়ে ভুল করেছি, এটা ঠিক। কিন্তু আমি কিছু বলার আগেই সে রেফারির কাছে অভিযোগ জানায়।’


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সান্তোসের সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। নেইমার বলেন, ‘প্রথমেই সান্তোসের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমাকে নিয়ম অনুযায়ীই লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।’


এদিকে নেইমারের লাল কার্ডের সময় ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাহিয়া। লুসিয়ানো জুবার গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। একজন কম নিয়ে খেললেও অবশ্য হাল ছাড়েনি সান্তোস। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লুয়ান পেরেসের গোলে ১-১ সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।


হুলিয়ান আলভারেজ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৩ পিএম

বিশ্বকাপ চলাকালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ছেড়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ইচ্ছার বিরুদ্ধে থেকে যাওয়ার পর ভক্ত-সমর্থকদের রোষানলে পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। 


শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে অ্যাতলেতিকো। এই ম্যাচে একমাত্র গোল করেছেন আলভারেজ, লা লিগায় আট মাসে প্রথমবার জালের দেখা পেলেন। এছাড়া ১১ মাসে প্রথমবার ঘরের মাঠে লা লিগা গোল করলেন তিনি।


ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে প্রথম লিগ গোলের পর আলভারেজ তার আগের মন্তব্যগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। মুভিস্টারকে তিনি বলেন, ‘আমার কথার জন্য আমাদের ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাই। আমার কথা বলার ধরন ও মন্তব্য করার সময় ভুল ছিল। আমি তাদের রাগ বুঝতে পারি। আমি তাদের জায়গায় থাকলে, আমিও রাগ করতাম, বিশেষ করে যেভাবে তারা প্রতিনিয়ত আমাকে সমর্থন দিয়েছে, সেটা বিবেচনা করলে।’


চলতি মৌসুমে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া পেয়েছেন আলভারেজ। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ সমর্থন পেয়েছি অনেক। এখন আমি আমার উন্নতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এই সময়ে তারা আমার পাশে ছিল এবং এখন সময় এসেছে কঠোর পরিশ্রম করার। কারণ আমাদের সামনে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে।’



  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৬ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নতুন প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকা এই ক্যারিবীয় তারকা এবার মাহেলা জয়াবর্ধনের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। প্রধান কোচ হিসেবে এটিই তার প্রথম অভিজ্ঞতা।


খেলোয়াড় হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্বর্ণযুগের অন্যতম নায়ক ছিলেন পোলার্ড। ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২০ সালে মুম্বাইয়ের পাঁচটি আইপিএল শিরোপাজয়ী দলেরই সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। 


১৮৯ ম্যাচে ১৪৭.৩২ স্ট্রাইক রেটে ৩৪১২ রান এবং ৬৯ উইকেট নিয়ে আইপিএলে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই ক্যারিবীয় মহাতারকা।


২০২২ মৌসুমে খেলোয়াড় হিসেবে সর্বশেষ আইপিএল খেলার পর ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেন পোলার্ড। টানা চার মৌসুম সফলতার সঙ্গে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালনের পর এবার তাকে ডাগআউটের শীর্ষ পদে নিয়ে এল আইপিএলের অন্যতম সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।


নতুন এই দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পোলার্ড, ‘মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। মুম্বাই আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের একটি বিশাল অংশ। এই দল, খেলোয়াড়েরা এবং পল্টনের সঙ্গে আমার যে বন্ধন, তা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। খেলোয়াড় ও পরে কোচ হিসেবে এই যাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কীসের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দলের নীল ও সোনালি জার্সি গায়ে জড়ানোর সঙ্গে কী ধরনের দায়িত্ব জড়িয়ে আছে।’


দলের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রতিভার বিকাশে কাজ করতে মুখিয়ে পোলার্ড, ‘খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে, দলের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে সহায়তা করতে এবং পল্টনকে উদ্‌যাপনের আরও অনেক উপলক্ষ এনে দিতে আমি মুখিয়ে আছি।’


পোলার্ডের এই নতুন পদোন্নতিতে বেশ আনন্দিত মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক নীতা আম্বানিও। 


তিনি বলেন, ‘মাত্র ২২ বছর বয়সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দিয়েছিল পোলার্ড। গত ১৬ বছরে সে আমাদের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় হিসেবে সে আমাদের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। আর কোচ হিসেবে ভাগাভাগি করে চলেছে নিজের অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং খেলা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।’