প্রতীকী ছবি
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। মাঠে প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটানোর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজেদের সমর্থনের জানান দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নজর কাড়ছে প্রিয় দেশের জার্সি পরা এআই-তৈরি প্রোফাইল ছবি। অনেকেই এমন ছবি দেখে আগ্রহী হলেও জানেন না কীভাবে তৈরি করতে হয়। আসলে কাজটি খুবই সহজ। কয়েকটি জনপ্রিয় এআই ইমেজ জেনারেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই মুহূর্তের মধ্যে বানিয়ে নেওয়া যায় বিশ্বকাপ স্পেশাল প্রোফাইল ছবি। এ ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি দিয়ে আপনি আপনার প্রিয় দেশের জার্সি পরা নিজের ছবি বানিয়ে নিতে পারবেন।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক প্রম্পট ব্যবহার করা। নির্দেশনা যত স্পষ্ট হবে, ছবিও তত নিখুঁত হবে। নিজের একটি ছবি আপলোড করে নিচের প্রম্পটটি ব্যবহার করতে পারেন-
‘Create a photorealistic square profile picture using the uploaded face photo as the identity reference. Dress like a player of (পছন্দের দেশের নাম) national football team, who is standing in a field. Warm golden-hour sunlight illuminates the scene, creating cinematic highlights and realistic shadows. highly detailed skin texture, realistic fabric details, HDR, ultra-realistic, 8K quality, vibrant colors, premium social media profile picture, centered composition, square format’
প্রম্পট দেওয়ার পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার পছন্দের দেশের জার্সি পরা প্রোফাইল ছবি। চাইলে মাঠের বদলে স্টেডিয়ামের গ্যালারি, ট্রফির সামনে দাঁড়ানো কিংবা সমর্থকদের ভিড়ে থাকা এমন বিভিন্ন দৃশ্যও প্রম্পটে উল্লেখ করে ছবিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের আবহকে আরও জমিয়ে তুলতে নতুন একটি বিশেষ ফিচার এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফুটবলপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত করা হয়েছে বিশ্বকাপ-থিমের বিশেষ ফুটবল ইমোজি। ফলে বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে আলোচনা, স্কোরের পূর্বাভাস বা প্রিয় দলের জয় উদযাপন সবকিছুই এখন হবে আরও প্রাণবন্ত ও মজাদার।
ছবি : সংগৃহীত
একটি স্মার্টফোনের জন্য এতটা আগ্রহ কেন? প্রশ্নটি নতুন নয়। আইফোনকে ঘিরে একের পর এক ঘটনা সেই প্রশ্নটিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে লাশ হয়ে ফেরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম।
২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের মহারাষ্ট্রে ১৮ বছরের এক তরুণ নতুন আইফোন চাওয়া ও পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যে দ্বন্দ্বের পর পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তাকে থামাতে গিয়ে তার বাবা-মায়েরও মৃত্যু হয়। পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অবশ্য ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে আসে। অর্থাৎ পুরো ঘটনাকে শুধু একটি ফোন কেনার বিরোধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
তবু প্রশ্ন থেকে যায় আইফোন কেন মানুষের কাছে এতটা আকর্ষণীয়? বাজারে তো স্যামসাং, গুগল, শাওমি, ভিভো, অপ্পো-সহ আরও অনেক স্মার্টফোন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর হার্ডওয়্যারও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাহলে আইফোনের বিশেষত্ব কোথায়?
শুধু ফোন নয়, একটা অভিজ্ঞতা
আইফোনের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত শুধু ক্যামেরা, প্রসেসর বা ডিজাইন নয়; বরং পুরো ব্যবহার-অভিজ্ঞতা। অ্যাপল হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার দুটিই নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ফোন, অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ ও বিভিন্ন সেবার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়। একজন ব্যবহারকারী যদি আইফোনের পাশাপাশি ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ বা এয়ারপডস ব্যবহার করেন, তাহলে ডিভাইসগুলোর মধ্যে কাজ ভাগ করে নেওয়া সহজ হয়। গবেষণাতেও অ্যাপলের এই আন্তঃসংযুক্ত বাস্তুতন্ত্র বা পরস্পর-সংযুক্ত পণ্যব্যবস্থাকে ব্যবহারকারীর আনুগত্য তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ব্র্যান্ডের আলাদা একটা পরিচয়
আইফোন শুধু প্রযুক্তিপণ্য নয়, অনেকের কাছে এটি একটি ব্র্যান্ড-পরিচয়ের অংশ। নতুন মডেল বাজারে আসার আগে থেকেই কেন এত আলোচনা শুরু হয়, তার পেছনে এই ব্র্যান্ড-ইমেজের বড় ভূমিকা রয়েছে। ডিজাইন, বিজ্ঞাপন, অ্যাপল স্টোরে অভিজ্ঞতা, পণ্যের উপস্থাপন সব মিলিয়ে অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে আইফোনকে একটি প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে কারও কাছে নতুন আইফোন কেনা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে ওঠে একটি অর্জন বা সামাজিক পরিচয়ের বিষয়।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ফোনের ছবি, আনবক্সিং ভিডিও এবং ক্যামেরা পরীক্ষার মতো কনটেন্ট এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। একটি নতুন আইফোন তাই শুধু একজনের কেনাকাটা থাকে না; সেটি দ্রুত সামাজিক আলোচনার অংশ হয়ে যায়।
দাম বেশি, তাই চাহিদাও আলাদা?
এখানেও মানুষের মনস্তত্ত্ব কাজ করে। কোনো পণ্য যখন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল, তখন সেটি অনেকের কাছে ‘প্রিমিয়াম’ বা বিশেষ পণ্য হিসেবে ধরা পড়ে। ভারতে ২০২৬ সালের নতুন আইফোনগুলোর দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনা হয়েছে। কিছু মডেলে মূল্যবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে দাম বেশি হলেই পণ্যটি ভালো এমন সরল সমীকরণ করা যায় না। একই দামের মধ্যে অন্য ব্র্যান্ডের ফোনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি র্যাম, দ্রুত চার্জিং, বড় ব্যাটারি বা উন্নত জুম ক্যামেরা পাওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ব্যবহার করার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ
আইফোনের প্রতি আনুগত্যের আরেকটি কারণ হলো দীর্ঘদিন একই প্ল্যাটফর্মে থাকার অভ্যাস। ২০২৬ সালের একটি মার্কিন জরিপে ৯৬.৪ শতাংশ আইফোন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, পরবর্তী ফোন কেনার সময়ও তারা আইফোন বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের মধ্যে আইওএস পছন্দ এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগ দুই কারণই উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে এই জরিপটি ৫ হাজার মার্কিন উত্তরদাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই পুরো বিশ্বের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে একই হার ধরে নেওয়া যায় না।
একবার কেউ আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস, আইক্লাউড এবং অন্যান্য অ্যাপল সেবার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়া কিছুটা ঝামেলার মনে হতে পারে। গবেষণাতেও এই প্ল্যাটফর্ম বদলের খরচকে অ্যাপল ইকোসিস্টেমের আনুগত্যের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে।
তাহলে কি আইফোন অন্য ফোনের চেয়ে অনেক বেশি ভালো?
এর উত্তর এক কথায় দেওয়া যায় না। স্মার্টফোন বেছে নেওয়া নির্ভর করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, বাজেট এবং পছন্দের ওপর। কেউ ক্যামেরাকে গুরুত্ব দেন, কেউ গেমিং, কেউ ব্যাটারি, আবার কারো কাছে সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইফোনের আকর্ষণ তাই একটি মাত্র ফিচারে আটকে নেই। এর পেছনে আছে ব্র্যান্ডের দীর্ঘদিনের পরিচিতি, ডিজাইন, সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা, ইকোসিস্টেম, সামাজিক প্রভাব এবং নতুন মডেল ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা।
কিন্তু এই আকর্ষণ যেন অন্ধ আবেগে পরিণত না হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্মার্টফোন প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হতে পারে, কিন্তু সেটি কখনোই মানুষের জীবন, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বা সম্পর্কের চেয়ে বড় নয়। আইফোনের প্রতি মানুষের আগ্রহ হয়তো আরও বাড়বে। নতুন মডেল আসবে, নতুন ফিচার যোগ হবে, আবার নতুন করে শুরু হবে আলোচনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি একটি স্মার্টফোনই মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি একটি যন্ত্র। তার মূল্য যতই হোক, মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি।
মহাকাশ অভিযান
বিশাল মহাকাশের অন্তহীন অন্ধকারে লুকিয়ে আছে নানা ধরনের রহস্য। সেই রহস্য উন্মোচনে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার মহাকাশে আমাদের নিকটবর্তী গ্যালাক্সিগুলো পর্যালোচনা করে ৮৪টি রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের একদল বিজ্ঞানী।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে রহস্যময় বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এত দিন মানুষের চোখের আড়ালে ছিল। নতুন এই আবিষ্কারের বিষয়ে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুস্তফা মুহিবুল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো শনাক্ত করা কঠিন হলেও এগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে।’
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, বস্তুগুলো সূর্য থেকে লাখ লাখ গুণ বেশি শক্তি নির্গমন করতে পারে। কিন্তু এত দিন বস্তুগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়নি। অদ্ভুত বস্তুগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাইপারসফট এক্স-রে সোর্স’। বস্তুগুলো থেকে নির্গত এক্স-রে রশ্মির শক্তির পরিমাণ খুবই কম। এগুলোর বেশির ভাগ বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্তনাক্ষত্রিক গ্যাস এই অতিবেগুনি রশ্মিকে শুষে নেয়। ফলে টেলিস্কোপে কেবল কম শক্তির এক্স-রে রশ্মি পৌঁছাতে পারে।
এ বিষয়ে মুস্তফা মুহিবুল্লাহ জানান, এই হাইপারসফট জনসংখ্যার একটি অংশ যদি গ্যাস সংগ্রহকারী শ্বেত বামন হয়, তবে তা নিখোঁজ পর্যবেক্ষণের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বস্তুগুলোর তাপমাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব হবে। এক্স-রে ও অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে যুগপৎ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এদের আসল রূপ স্পষ্ট হবে। মহাকাশের কোলজুড়ে লুকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত বস্তুগুলো গ্যালাক্সির অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করবে।
অ্যান্ড্রোমিডা ও এম১০১-সহ ছয়টি গ্যালাক্সির প্রতিটিতে ৭ থেকে ২১টি এমন উৎস পাওয়া গেছে। এই ঝাপসা বিন্দুগুলো টেলিস্কোপের কোনো ত্রুটি নয়, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। বারবার একই অবস্থানে এই বস্তুগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেমস ওয়েব কিংবা অন্যান্য টেলিস্কোপেও এদের কিছু সংকেত ধরা পড়েছে। আর তাই বস্তুগুলো আসলে কী, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা কৌতূহল কাজ করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শনাক্ত করা বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ বা শ্বেত বামন থাকতে পারে। আবার কিছু বস্তু হতে পারে নিউট্রন তারা কিংবা ব্ল্যাক হোল। শ্বেত বামন তারা আশপাশের অন্য নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিজের ওজন বাড়াতে থাকে। একসময় বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই নক্ষত্রগুলোর ধ্বংস ঘটেছে। এই মহাজাগতিক বিস্ফোরণগুলোর আগের অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এত দিন অন্ধকারে ছিলেন। হাইপারসফট উৎসগুলোর আবিষ্কার সেই হারানো যোগসূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
গুগল
উইন্ডোজ ১০ ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অফিশিয়াল জেমিনাই অ্যাপ চালু করেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল। এ বছরের শুরুতে ম্যাকওএস সংস্করণের জন্য সফল উন্মোচনের ধারাবাহিকতায় এবার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্যও এআইভিত্তিক চ্যাটবটটি ব্যবহারের পথ সুগম হল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নতুন অ্যাপটির মাধ্যমে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা পিসিতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুততার সঙ্গে গুগলের বিভিন্ন এআই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
পিসিতে অ্যাপটি ইনস্টলের পর নির্ধারিত কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে যে কোনো সময় তা চালু করা যাবে, যা ম্যাকের জেমিনাই অ্যাপের কার্যপদ্ধতির মতোই।
গুগল বলেছে, ব্যবহারকারীরা যখন ‘কোনো নথিতে দ্রুত তথ্য যাচাই বা উপস্থাপনার জন্য কিছু আকর্ষণীয় শিরোনামের আইডিয়ার প্রয়োজন হয়’ তখন টুলটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, জেমিনাই যেহেতু জেনারেটিভ এআই মডেল ফলে এআই প্রদত্ত তথ্যের শতভাগ নির্ভরতার বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং ম্যানুয়ালি তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাপটি গুগলের অন্যান্য এআই পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে, যার ফলে বিভিন্ন টাস্ক বা কাজ এজেন্টিক অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনাই স্পার্ক’-এর কাছে পাঠানো সম্ভব।
স্মার্টফোন থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও করার সময় শুধু বেশি মেগাপিক্সেল হলেই চলে না; আলো-স্বল্পতার ছবি কেমন হবে, ব্যাকগ্রাউন্ড কতটুকু ব্লার হবে, ভিডিওর শব্দ কতটা নিখুঁত শোনা যাবে– এসব জরুরি শর্ত। ঠিক এই জায়গাতে বড় ধরনের আপডেট করল অ্যাপল, যার দেখা মিলবে সদ্য ঘোষিত আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেলে। বিশেষ করে ক্যামেরার ক্ষেত্রে এবার এমন কিছু ফিচার আসছে, যা স্মার্টফোনে ছবি তোলা ও ভিডিওচিত্র ধারণের অমূল পরিবর্তন আনবে।
প্রথমবার ভেরিয়েবল অ্যাপারচার
নতুন সিরিজের প্রো মডেলে আকর্ষণীয় ক্যামেরা আপডেট হলো ভেরিয়েবল অ্যাপারচার। এটি আইফোনে নতুন সংযোজন। ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশনপ্রধান ক্যামেরাতে প্রথমবার অ্যাপারচার কন্ট্রোল করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সহজ ভাষায় বললে, ক্যামেরার লেন্সে কতটা আলো প্রবেশ করবে, তা তার পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলানো যাবে। ফলে দিনের উজ্জ্বল আলো থেকে কম আলো– সব আলোতে ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব। শুধু স্বয়ংক্রিয় নয়, চাইলে যে কেউ নিজে চারটি আলাদা অ্যাপারচার সেটিং নির্বাচন করতে পারবেন। এর অর্থ, ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ আনা যাবে।
কম আলোতে স্বচ্ছ ছবি
নতুন সেন্সর ও কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি ফিচারের মাধ্যমে ছবির ডিটেইলিং বাড়ানো যাবে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম আলোতে ও একসঙ্গে অনেক মানুষের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ছবির মানোন্নত সংস্করণ মিলবে। এ ক্ষেত্রে রাতে ছবি তুললে, ইনডোর শট বা কোনো আয়োজনে একসঙ্গে অনেকের ছবি তুললেও তা হবে পরিষ্কার। ক্যামেরাতে জুড়ে থাকা এআই ফিচার এতটা উন্নত হবে যে ছবির ডায়নামিক রেঞ্জ হাই হবে। এর অর্থ, আলো-ছায়া পরিবেশে নিজস্ব ব্যাকগ্রাউন্ডে আলো যত কম থাকুক না কেন, তা দৃষ্টিনন্দন হয়ে অ্যাডজাস্ট করে মিরর লেস ক্যামেরার মতো ছবিতে ইফেক্ট দিতে পারবে।
গতির প্রসেসর
অনেক অ্যাপল গ্যাজেট বিশ্লেষক বলছেন, আগে আইফোন ১৭ ও ১৭ প্রো মডেলে ব্যবহার হতো নাইন্টিন্থ প্রো প্রসেসর। নতুন সিরিজে ব্যবহৃত হয়েছে টুয়েন্টিন্থ প্রো প্রসেসর। এতে ক্যামেরার গুণগত মান অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ
অ্যাপে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন প্রো কন্ট্রোলস সুবিধা। সেখানে নিজে অ্যাপারচার, শাটার স্পিড ও হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সঙ্গে রয়েছে হিস্টোগ্রাম। যার সহায়তায় ছবি তোলার আগে আলো ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, তা সুস্পষ্ট বোঝা যাবে। ফলে যারা স্মার্টফোনে ফটোগ্রাফি করেন বা রিল তৈরি করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ সুখবর।
কতটা এআইবান্ধব
অ্য়াপলের এবারের সিরিজের ক্যামেরার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এআই প্রযুক্তি। অনেকে বলছেন, এই আপগ্রেডেড এআই টেক দিয়ে ছবি তোলার পর তার ডেফথ অন ফিলড নিয়ন্ত্রণ করানো যাবে। ছবির ব্লার ইফেক্ট কেমন হবে, এটি দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফলে মিরর লেস ক্যামেরায় ছবি তুললে যেমন ইফেক্ট পাওয়া যায়, অনেকটা তেমন ইফেক্ট দেবে।
ভিডিওতে বড় ধাক্কা
ভিডিও ধারণে মিলবে বেশ কিছু নতুন সুবিধা। ভিডিও রেকর্ড করার পর সিনেম্যাটিক ইফেক্ট দেওয়া যাবে। ফলে শুট করার সময় কোনো কিছু মিস হয়ে গেলে পরে এডিট করার পূর্ণ সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে ফোরকে ডলবি ভিশন এইচডিআর টাইম-ল্যাপস ও শ্রুতিমধুর অডিও সংযোগ করা যাবে। নতুন অ্যালগরিদমের সহায়তায় ভিডিওর কথা বলার সময়ে কণ্ঠস্বরকে নিখুঁত করার সঙ্গে চারপাশের মিউজিক বা অন্য শব্দ অডিওকে মানোন্নত করা যাবে।
প্রতীকী ছবি
উইন্ডোজ ১০ ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অফিশিয়াল জেমিনাই অ্যাপ চালু করেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল। এ বছরের শুরুতে ম্যাকওএস সংস্করণের জন্য সফল উন্মোচনের ধারাবাহিকতায় এবার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্যও এআইভিত্তিক চ্যাটবটটি ব্যবহারের পথ সুগম হল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নতুন অ্যাপটির মাধ্যমে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা পিসিতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুততার সঙ্গে গুগলের বিভিন্ন এআই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
পিসিতে অ্যাপটি ইনস্টলের পর নির্ধারিত কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে যে কোনো সময় তা চালু করা যাবে, যা ম্যাকের জেমিনাই অ্যাপের কার্যপদ্ধতির মতোই।
গুগল বলেছে, ব্যবহারকারীরা যখন ‘কোনো নথিতে দ্রুত তথ্য যাচাই বা উপস্থাপনার জন্য কিছু আকর্ষণীয় শিরোনামের আইডিয়ার প্রয়োজন হয়’ তখন টুলটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, জেমিনাই যেহেতু জেনারেটিভ এআই মডেল ফলে এআই প্রদত্ত তথ্যের শতভাগ নির্ভরতার বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং ম্যানুয়ালি তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাপটি গুগলের অন্যান্য এআই পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে, যার ফলে বিভিন্ন টাস্ক বা কাজ এজেন্টিক অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনাই স্পার্ক’-এর কাছে পাঠানো সম্ভব।
এটা জিমেইল ও গুগল ড্রাইভের মতো গুগলের অন্যান্য সেবার সঙ্গেও কাজ করবে। ব্যবহারকারীর পছন্দ হলে তা ‘ন্যানো ব্যানানা’ ও ‘জেমিনাই ওমনি’র মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও তৈরি করে দেবে।
গুগল বলেছে, অ্যাপটি ‘হালকা ও নিঃশব্দ’ হওয়ায় তা উইন্ডোজ পিসির গতি কমিয়ে দেবে না। এটা এখনই ডাউনলোডের জন্য পাওয়া যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এতে আরও নতুন ডেস্কটপ ফিচার যোগ হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আইফোন কিনতে গিয়ে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কোন মডেলের ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি বেশি টিকবে কিংবা প্রসেসর কতটা শক্তিশালী। কিন্তু এবার অ্যাপলের নতুন আইফোন ডুও সেই হিসাবটাই বদলে দিয়েছে। কারণ এটি আর সাধারণ স্মার্টফোন নয়। অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, অথচ বন্ধ করলে এটি আবার একটি পকেটসাইজ ফোন।
খুললেই বদলে যাবে ফোনের চেহারা
আইফোন ডুওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর ফোল্ডেবল ডিজাইন। খোলা অবস্থায় রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। অ্যাপল বলছে, এটি এখন পর্যন্ত আইফোনে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। আর ফোনটি ভাঁজ করলে সামনে পাওয়া যাবে ৫.৪ ইঞ্চির কভার স্ক্রিন। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা কাজের সময় বড় স্ক্রিন পাওয়া যাবে।
শুধু বড় স্ক্রিন নয়, কাজেও সুবিধা
ডুওর বড় ডিসপ্লের আসল সুবিধা পাওয়া যাবে মাল্টিটাস্কিংয়ে। একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং কিংবা বড় স্ক্রিনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকটা ছোট ট্যাবলেটের মতো হতে পারে। অ্যাপল পেন্সিলের সমর্থনও রয়েছে, ফলে নোট নেওয়া বা সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও ফোনটি অন্য আইফোনের তুলনায় আলাদা।
ক্যামেরাতেও রয়েছে নতুনত্ব
পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরায় অপটিক্যাল-কোয়ালিটি 2x টেলিফোটো সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা ফ্রেমে থাকা ব্যক্তিদের অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিউ সামঞ্জস্য করতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয়, ডুও-প্রিভিউয়ের মাধ্যমে ফোনের বাইরের ডিসপ্লেতেই ছবির লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। ফলে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার সময়ও ফ্রেম ঠিকভাবে দেখা সম্ভব।
শক্তির দিক থেকেও পিছিয়ে নেই
ফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভারী কাজের সময় পারফরম্যান্স ধরে রাখা যায়। অ্যাপলের দাবি, আইফোন ডুও আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্সে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দিতে পারে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুবিধা। ভেতরে দুই পাশে আলাদা উচ্চ-ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের হিসাবে, ভেতরের বড় স্ক্রিনে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং বাইরের স্ক্রিনে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যেতে পারে। ম্যাগসেফ বা কিউআই২ ওয়্যারলেস চার্জারেও দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে।
তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন?
যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। এর ২টিবি মডেলের দাম প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? সত্যি বলতে, শুধু ফোন করার জন্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য আইফোন ডুও কেনার যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়। একই কাজ অনেক কম দামের আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও করা সম্ভব। কিন্তু যারা ফোল্ডেবল ফোনের নতুন অভিজ্ঞতা, বড় স্ক্রিনে কাজ, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেম সবকিছু একসঙ্গে চান, তাদের কাছে ডুও-র আকর্ষণ আলাদা।
আর সবচেয়ে বড় কারণ? এত দিন অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই দেখা যেত ফোল্ডেবল আইফোন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে অ্যাপল। তাই প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপলের নতুন প্রযুক্তি সবার আগে ব্যবহার করতে চান এমন ক্রেতাদের কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকার এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী বড় আকর্ষণ।