ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ব্যস্ত প্লাজাগুলো দৈনন্দিন জীবনের চেনা ছন্দেই চলছে। হাতে চকোলেট কিংবা বরফজমানো ফল বিক্রি করছেন ফেরিওয়ালারা।
দোকানিরা বিকেলের ভিড়ের মধ্যে তাক সাজাতে ব্যস্ত। তবুও এই চিরচেনা দৈনন্দিন জীবন-যাপনের মধ্যেও বিরাজ করছে নতুন এক উদ্বেগ, উত্তেজনার আবহ।
ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, আর দুই দেশের উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। শঙ্কা, সংশয় আর আশার মিশ্রণে ভেনেজুয়েলাবাসী এখন বিভক্ত।
কেউ বিদেশি শক্তির আগমনকে সম্ভাব্য মুক্তি হিসেবে দেখছেন, কেউ দেখছেন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হিসেবে। মাতৃভূমিকে রক্ষায় কেউ আবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
৫২ বছর বয়সী কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা বলেন, “মাতৃভূমি তো মাতৃভূমিই, আর আমাদের সেনাবাহিনী আমাদেরই বাহিনী।”
ওরোপেজা নিজেই ফল সংগ্রহ করে ফ্রোজেন স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরি বিক্রি করেন। স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তাকে সপ্তাহে তিনবার চিকিৎসা নিতে হয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা করলে তিনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
“ওদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ ময়দানে নামতে আমি প্রস্তুত। আগ্রাসনকারীদের মুখোমুখি হব ভেনেজুয়েলার সেনাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েই,” আল-জাজিরাকে বলেন ওরোপেজা।
ডাউনটাউন কারাকাসে বাসের অপেক্ষায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ৫২ বছর বয়সী এই কৃষক-ব্যবসায়ী বলেন, “যেভাবে পারি দেশের জন্য সাহায্য করব।”
‘ইতিবাচক পরিবর্তন’
সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই ডজন হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ হামলায় চারজন নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলোতে মাদক বা চোরাচালানকারী ছিল। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ তুলে ধরেনি। নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল এমন কোনও প্রমাণও ট্রাম্প প্রশাসন দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র নৌযানগুলোতে হামলা চালানোর কোনও আইনি যৌক্তিকতাও তুলে ধরেনি। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এইসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এর মধ্যেই ট্রাম্প আবার একথাও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলভাগে মাদক চোরাচালানকারীদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে ভেনেজুয়েলার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই চলতে পারে এমন আভাসই মেলে।
ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার কাছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বে র সবচেয়ে বগ বিমানবাহী রণতরী ইউএএস গেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছে। সঙ্গে মোতায়েন হয়ে হাজার হাজার সেনা এবং এফ-৩৫ জঙ্গিবিমানও।
কয়েক দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এমন শক্তি প্রদর্শন আর দেখা যায়নি। ভেনেজুয়েলাবাসীদের কেউ কেউ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ দেশের জন্য ভাল।
এক ভেনেজুয়েলাবাসীর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কারণে “ভেনেজুয়েলা মুক্ত হবে। আমাদের মুক্তির দিন আসবে।” মাদুরো এখনই অনেক চাপ অনুভব করছেন- এমনটিই মনে করেন বলে জানান তিনি।
তার কথায় মাদুরোর শাসন ঘিরে ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক হতাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। জানুয়ারিতে তৃতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা নেওয়া মাদুরোর শাসনামলে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংকটই কেবল আরও গভীর হয়েছে।
‘মাতৃভূমি মাতৃভূমিই’
ভেনেজুয়েলা এবং এর অভিজাতদের নিয়ে এমনকি ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা।
তারপরও তিনি মনে করেন, দেশে যত সমস্যাই থাকুক, যুদ্ধ এর কোনও জবাব হতে পারে না। তার কথায়, “কেউ যুদ্ধ চায় না। সবাই শান্তি চায়।”
তার মতে, “মার্কিন রাজনীতি অস্ত্রের ওপরই অনেকটা চলে, আর সেটা ক্ষমতায় থাকা মানুষকে আরও ধনী করে। ভেনেজুয়েলার পক্ষেও সেনা মোতায়েনে স্থানীয় অভিজাতরাই হয়ত লাভবান হবে।” তিনি বলেন, “কারা ধনী হচ্ছে? তারা, আর আমরা যাদেরকে চিনি না তারা।”
ওরোপেজা নিজেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সমর্থক তিনি নন। তবু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তার অবস্থান কঠোর। সরকারে অনাস্থা থাকলেও বিদেশি হামলাকে সমর্থন করেন না তিনি।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোও পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করেছেন। সেনা ও মিলিশিয়াদের সমাবেশ ঘটেছে, ক্যারিবিয়ান উপকূল জুড়ে অ্যান্টি–এয়ার সিস্টেম পরীক্ষা করেছে সেনাবাহিনী।
নভেম্বর নাগাদ সরকার জানায়, সম্ভাব্য যে কোনও মার্কিন পদক্ষেপের মোকাবেলায় সেনা ও নাগরিকদের ব্যাপকমাত্রায় সমাবেশ করা হবে।
সন্দেহ ও সম্পদ:
তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ মূলত ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। “আমার মনে হয় আমরা বিপদে আছি,” বলেন ২৪ বছর বয়সী সুপারশপ কর্মী দিয়েগো মেহিয়া।
‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন’ এটা নিয়ে সন্দেহ আছে দিয়েগোর। তার কথায়, “যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আগেই হামলা করতে পারত।” কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কি চায় সে বিষয়ে তার ধারণা পরিষ্কার। তিনি বলেন,
“ভেনেজুয়েলা অনেক বেশি সম্পদশালী। ভেনেজুয়েলার তেল এবং ইউরেনিয়াম আছে উল্লেখ করে দিয়েগো বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভেনেজুয়েলা নিয়ে আগ্রহী। কারণ তাদের এই দেশটির সম্পদ প্রয়োজন।”
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। এছাড়া আছে বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত।
তেল–গ্যাস ছাড়াও দেশটিতে গ্যাস, স্বর্ণ, হীরা, বক্সাইট, লোহার আকরিক, এবং ইলেকট্রনিকস–অ্যারোস্পেস শিল্পের জন্য জরুরি কোলটানের মতো বিরল খনিজ আছে।
তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার উদ্বেগ সামলাতে মেহিয়া ভরসা করেন বিশ্বাসে; তার কথায়, “ঈশ্বর এখানে কিছু হতে দেবেন না।”
ভেনেজুয়েলার রাস্তায় এখনও মানুষের স্বাভাবিক আনাগোনা দেখে এবং খাদ্য মজুতে ব্যস্ত হতে না দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন নয়।
অজানার ভয়ে ভেনেজুয়েলা:
অন্যান্য ভেনেজুয়েলাবাসী আবার এতটা নিশ্চিত নন।
সন্তানকে নিয়ে পার্কে এসে ৩৪ বছর বয়সী গৃহিণী দালিবেথ ব্রেয়া বললেন, এই পরিস্থিতি তার মনে আশা ও শঙ্কা- দু’য়েরই উদ্রেক করে। এই উদ্বেগ, উত্তেজনা তার পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিমন্ডলেও বাস্তব।
তার এক বন্ধু সরকারি চাকরিতে আছেন। চাকরি বিরূপ প্রভাব পড়ার ভয়ে তিনি এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।
ব্রেয়া মনে করেন, ভেনেজুয়েলা যে চাপের মুখে পড়েছে তা দেশের জন্য ভাল কিছুও বয়ে আনতে পারে। তার কথায়, “বাইরের দেশগুলোতে যে উন্নয়ন দেখি, সেটা এখানে হলে ভালো লাগবে।”
তবে সহিংসতার সম্ভাবনা ব্রেয়াকে আতঙ্কিতও করেছে। কৃষক ও ব্যবসায়ী ওরোপেজার মতো শত্রুবাহিনীকে রুখে দাঁড়ানোর মনোভাব তার নেই; বরং লুকিয়ে থাকারই প্রবণতা।
“ভয়ে আমি আশ্রয় নিতাম,” স্বীকার করেন তিনি। তার প্রস্তুতি খুব সাধারণ: “বাড়িতে খাবার জমা রাখা, আর সবাইকে এক জায়গায় রাখা।”
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা শহরটিতে সূর্য ডবিতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেয়ার মুখে শোনা যায় অন্য লাখো মানুষের মতোই অনিশ্চয়তার সুর।
“আমি জানি না কিছু ঘটবে কি না,” বলেন তিনি। “কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে—আবার কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে না।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জামাতা জ্যারেড কুশনার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গোপনে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত।
আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের মুঠোফোনে নজরদারি চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজেদের এজেন্ডা বা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কুশনারের গোপন আর্থিক সমঝোতার তথ্য এতে উন্মোচিত হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন জ্যারেড কুশনার। দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব আপত্তিকর মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’
অভিযোগে যা আছে
ম্যাথু কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে ভ্যানিটি ফেয়ার এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ম্যাথু কোল একজন খ্যাতনামা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোপনীয়তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের ওপর নজর রাখছিলেন। সে সময়ই তাঁরা কুশনারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দেখেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই অ্যাকাউন্টে শত শত মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। কুশনার এ অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন। অ্যাকাউন্টটিতে তাঁর প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি এর মালিক ছিলেন না। আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তথা এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ অ্যাকাউন্টটি দেখভাল করতেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গোপন তহবিল বা স্ল্যাশ ফান্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মূলত তাঁদের মাথা থেকেই এ অ্যাকাউন্টের ধারণা আসে; যদিও গোপন তহবিলের সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জমা করেছিলেন।
এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সেখানে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে এ অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।
এ লেনদেনের বিষয়ে কুশনার তৎকালে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এ পর্যন্ত আইনিভাবে কোনো অপরাধ বা অন্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনকালে। ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের শান্তি আলোচনা–বিষয়ক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।
কুশনারের অস্বীকৃতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জ্যারেড কুশনার এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা ও এমন কিছু কখনোই ঘটেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
কুশনার লিখেছেন, ‘আমরা নথিবদ্ধভাবে বা অন দ্য রেকর্ড প্রতিটি দাবি অস্বীকার করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করার জন্য সামান্যতম প্রমাণও হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই নজিরবিহীন অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের তারিখ বা যাচাইযোগ্য অন্য কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।’
ট্রাম্পের জামাতা উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন। তখন তাঁকে তীব্র গণমাধ্যম কাভারেজ, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং একজন বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
কুশনার আরও বলেন, ‘আমি নিজে থেকে এসব তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। এসব অভিযোগের কোনোটি তখন সামনে আসেনি। কারণ, ঘটনাগুলোর কোনোটিই আসলে ঘটেনি।’
কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এ প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিজেল লেখেন, ‘এটি কোনো ভুল–বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের বিষয় নয়। বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই। এগুলো একদমই অবাস্তব। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন আপত্তিকর এবং মানহানিকর দাবি করা হয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মামলা করবেন?’ জবাবে মিজেল লেখেন, ‘সব পথই খোলা আছে।’
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।