ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে চড়ে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন, সেটিতে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই। উড়োজাহাজটি কীভাবে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এ বিমানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষমতা যুক্ত করা হয়নি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এ ক্ষমতাগুলো না থাকায় এটি নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকির বিষয় গত বুধবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নতুন উড়োজাহাজটি রেখে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্ক ছাড়ার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন।


এ ঘটনার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি দাবির ওপর সবার নজর পড়েছে। সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত আগের বিমানবহরটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে অভিযোগ তুলে কাতার থেকে পাওয়া ৭৪৭ বিমানটিকে দ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য তিনি অনড় ছিলেন। 


গত এক বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাতারের দেওয়া এ উড়োজাহাজের সংস্কারকাজ চলেছে। এটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।


এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা শুধু প্রেসিডেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তাঁর সঙ্গে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যও সমান জরুরি।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ নতুন উড়োজাহাজ যত দ্রুত সম্ভব চালু করার জন্য শুরু থেকেই জোর দিচ্ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান যথেষ্ট আকর্ষণীয় বা জমকালো নয় বলে তিনি প্রায়ই অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।


নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য


গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের জবাব না দিলেও এর নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক আকাশযান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকল যুক্ত করা হয়েছে। 


প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর ওপর নজর রাখছে।” আমরা সেসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’


কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। বলেছে, প্রেসিডেন্টের বহরের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে তৈরি হতে থাকা দুটি বোয়িং জেটের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি ‘সেতু’ বা সাময়িক উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


তবে উপহার হিসেবে পাওয়া উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য প্রস্তুত, এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় বিমানবাহিনী স্বীকার করেছিল, সাময়িক ব্যবহারের জন্য এই উড়োজাহাজে সাধারণত একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সব সরঞ্জাম নেই।


গত ১৯ জুন এক বিবৃতিতে বিমানবাহিনী বলেছিল, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা মিশনের যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। তবে উড়োজাহাজটি যেন আগামী ৪০ বছর ভালোভাবে সেবা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে গিয়ে কম ব্যবহৃত মিশন সেটের ক্ষেত্রে (কম প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা) ছাড় দিতে হয়েছে।’


‘কম ব্যবহৃত মিশন সেট’ বলতে প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিমানবাহিনী। তবে উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।


ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশ সফরে ট্রাম্পের নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারে বিস্ময়


পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, বিমানবাহিনীর এমন দুজন সাবেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেখানে নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক বেশি, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশ সফরে গেছেন।


উল্লেখ্য, ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যে দেশটিতে গিয়েছিলেন, সেই তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে ইরানের সীমান্ত। আর এ সপ্তাহেই ইরানজুড়ে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


সাবেক এ কর্মকর্তারা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গতি দেখেই বোঝা যায়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যেসব নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার, তার সব কটি করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখানে পাওয়া যায়নি।


বিমানবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল বলেন, ‘সময়স্বল্পতার কারণে একটি সাধারণ এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের পরিবর্তন এখানে করা সম্ভব হয়নি। তাই এর নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।’ 


কেন্ডাল যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বোয়িং যাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দুটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ সরবরাহের কাজ দ্রুত শেষ করে, সেই চেষ্টা তিনি করেছেন।


চলমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কেন্ডাল আরও বলেন, ‘বর্তমান ইরান পরিস্থিতির কারণে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সত্যি বলতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন এ উড়োজাহাজের ব্যবহার দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি।’


বাইডেন প্রশাসনের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু পি হান্টারও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ‘একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থেই এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার প্রয়োজন হয়।’


ট্রাম্প তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগের দিন, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিমানবাহিনীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তাঁরা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং এতে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।


কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস মারফি এবং অন্য ১২ সিনেটরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প নিজেই এ উড়োজাহাজের নজিরবিহীন বিলাসিতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আরাম ও পছন্দই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’


আঙ্কারায় উড়োজাহাজ বদলের নেপথ্যে


পেন্টাগনের তিনজন সাবেক কর্মকর্তার মতে, এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো বিমানগুলোতে এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, যা তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্রকে (হিট-সিকিং মিসাইল) ধ্বংস করতে পারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নির্মাণাধীন বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজগুলোতেও এ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


নিরাপত্তা প্রোটোকলের বর্ণনা দিতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডানার নিচে ও লেজে এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়। তবে কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজের ছবিতে এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।


এয়ার ফোর্স ওয়ানের ইতিহাসে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যবহার খুব একটা না হলেও, উড়োজাহাজটির নিরাপত্তার জন্য এটিকে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।


মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বর্তমানে নির্মাণাধীন বোয়িং বিমানগুলোর যে বিবরণ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে নতুন জেটগুলোতে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ ও ‘মিশন যোগাযোগব্যবস্থা’ থাকবে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান নির্বাহী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের’ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য এ নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো থাকা জরুরি।


মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার আগেও তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা আবার শুরু হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্রিফিং পাওয়া মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বাস করেন না যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে হত্যা করার কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা ইরানের রয়েছে।


গোয়েন্দা মূল্যায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের জীবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কতটা বড় উসকানি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে সম্পর্কে ইরানের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।


তা সত্ত্বেও আঙ্কারায় থাকাকালীন ইরানের এত কাছাকাছি অবস্থানে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এতটাই চিন্তিত ছিল যে দেশ ছাড়ার সময় তারা প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।


অবশ্য উড়োজাহাজ পরিবর্তনের এ ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ভিন্ন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি পুরোনো উড়োজাহাজে ফিরছেন যাতে নতুন জেটটি আগেভাগে রওনা হতে পারে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে সেনাদের কাছে এর ‘চমৎকার’ রূপ প্রদর্শন করতে পারে।


প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত সামরিক বিমানসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত থাকা হোয়াইট হাউসের সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভ্রমণের সময় যখনই নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তখনই হোয়াইট হাউসের কর্মী, সামরিক উপদেষ্টা ও সিক্রেট সার্ভিসের মধ্যে প্রায়ই একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।


তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা যখনই কোনো পরিবর্তনের দাবি জানান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সাধারণত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, যা সম্ভাব্য হুমকি প্রশমিত করতে সহায়তা করে।




হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।


 হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ পিএম

সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।


সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।


বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।


বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।


সূত্র:আল-জাজিরা


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।


ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


 চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর


এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।


সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা



মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।


মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।



বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৩ পিএম

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।


ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।



মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা


সুলতান আল-কাহতানি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের এক হামলার সময় অন্য যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে সুলতান আল-কাহতানি নামের এক বিমানবন্দর কর্মী বীরের মতো প্রাণ হারিয়েছেন।


গত ২১ অক্টোবর বিমানবন্দরে হামলার পরপরই প্রস্থান গেটের কাছে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। সেই আগুন যাতে রানওয়েতে থাকা অন্য কোনো বিমানে ছড়িয়ে না পড়ে এবং যাত্রীদের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য সুলতান ও তার সহকর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে তারা আগুন নেভাতে প্রাণপণে চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন নেভাতে গিয়ে তিনি এতটাই অতিরিক্ত ধোঁয়া গ্রহণ করেন যে, তার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।


 পরবর্তীতে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি। নিহত সুলতানের ছয়টি সন্তান রয়েছে। তার বাবা ছেলের এই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা করতে গিয়েই তার ছেলে শহীদ হয়েছে। চরম বিপদের মুখে নিজের জীবনের পরোয়া না করে অন্যদের প্রাণ বাঁচাতে সুলতানের এই অসাধারণ সাহসিকতা এখন পুরো দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।