ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের লক্ষ্য করে সর্বকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি নাকচ করে দিয়েছে। উল্টো যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলে তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেলের আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা। দেশটি বলেছে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের অনুমতি ছাড়া জাহাজ পার না হওয়া-সংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা। সবমিলিয়ে ৪৫টি জাহাজ তাদের নীতিমালা ভেঙেছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা। এসব যখন ঘটছে, ঠিক সে সময়টিতেই তেহরানে মধ্যস্থতার জন্য সফর করছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ মঙ্গলবার ইরান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কিছু আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৯৭৯ সালের পর থেকেই দেশটি ক্রমাগত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।
গত রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে বেসেন্ট লিখেছেন, ‘ভোর থেকে অর্থনৈতিক ডি-ডে শুরু হতে যাচ্ছে। এটি হবে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বৃহৎ আর্থিক আক্রমণ।’ বেসেন্টের ঘোষণার পরপরই ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের সর্বোচ্চ দর পতন হয়েছে। খোলাবাজারে এক ডলারের দাম গিয়ে ঠেকে ২০ লাখ রিয়ালে।
পাকিস্তানের সামরিক প্রধান আসিম মুনির গতকাল সোমবার তেহরানে আলোচনার জন্য পৌঁছান। ইরানের গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে বিষয়টি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসিম মুনিরের সফর আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচারের প্রচেষ্টার অংশ।
এক পাকিস্তানি সূত্র জানায়, এবারের সফরে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে মুনিরের।
পাকিস্তানের দুই সূত্র জানায়, ট্রাম্প মুনিরকে গত সপ্তাহে ফোন করেছিলেন। আরেক সূত্র জানায়, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ও ইরানের সামরিক বাহিনী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অন্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। তবে সর্বশেষ জুনে তারা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। এর মধ্যে দুই দেশের আর কোনো আলোচনাও হয়নি। এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সৌদি আরবের লোহিত সাগর বন্দরের কাছে ট্যাঙ্কারে হামলা
গতকাল সোমবার সৌদি আরবের বন্দর শহর ইয়ানবু থেকে পশ্চিমে এক ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে জাহাজের মূল ডেকে আগুন ধরে যায়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায় এসব তথ্য। তবে ঠিক কে হামলা চালিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। ইরানের হুতি মিত্ররা গত মাসে জানায়, হরমুজ এড়িয়ে সৌদি আরব যেসব তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের মাধ্যমে করছে, সেগুলোকে আটকানো হবে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বিশেষ করে ইরান ও লেবাননে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে স্থবির করে দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে চাপ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। যুদ্ধের অন্যতম প্রধান একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কথা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চেয়েছিল সেটির অবসান ঘটাতে। তবে বর্তমানে সেটির কী অবস্থা, তা এখনও অস্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার জানায়, দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর গত সোমবার তেলের দাম কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী বেসেন্ট সুনির্দিষ্টভাবে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানাননি। তবে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে, যারা ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের জড়িয়েছে। বেসেন্ট ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে লিখেছেন, ‘তাদের এটি চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে ভাবা উচিত।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে একাধিক বিবৃতিতে বড় সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ে গত রোববার বলেন, ‘যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলমান থাকে, তাহলে এক বিন্দু তেলও রপ্তানি হবে না। না হরমুজ প্রণালি দিয়ে, না পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো স্থান দিয়ে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইরান এই যুদ্ধে যে কোনো দেশের অংশগ্রহণ বা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে সমর্থনের বিষয়টিকে যুদ্ধে জড়ানো হিসেবে দেখবে।’
নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কাজ করবে না: চীন
এদিকে, চীন বলেছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কাজ করবে না। এর আগে চীনের কাছে সহায়তা চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি চেয়েছিল, তারা যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর চাপ তৈরিতে সহযোগিতা করে। চীন বহু বছর ধরে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে চলতি বছরের মধ্য জুলাই থেকে ইরানের বন্দরে অবরোধ দেওয়ার কারণে চীনে ইরানের তেল যাওয়ার প্রবাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি সামনে আসার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপের কৌশল সহায়তা করবে না এবং বেইজিং চীনের স্বার্থ রক্ষায় যা যা করার করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে আজ নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়ত ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে। ইরানে মার্কিনিরা যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন রোববারই এ হামলা শুরু হতে পারে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”
তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয় তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”
ট্রাম্প দাবি করেন তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে।
গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোতে যথার্থ হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাজটি হয়ত সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়ত চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”
সূত্র: আনাদোলু
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।