ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

আফগানিস্তানে আবারও হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এবার অন্তত ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, গতরাতে আফগানিস্তানের দক্ষিণে অবস্থিত কান্দাহার শহরে বিমান হামলা হয়েছে।


এই শহরেই তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অবস্থান বলে জানা গেছে।


পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, তাদের বাহিনী আফগানিস্তানে ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে কোথায় কোথায় হামলা চালানো হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি তিনি।


প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে ‘নিজ ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল’ গড়ে উঠতে দেওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি। এই হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আফগানিস্তানের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি এএফপি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর কয়েক দিন আগেও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় বোমা হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান।


গতরাতের হামলার বিষয়ে কান্দাহারের ওই বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, তিনি একটি যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনার পর বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পান। এরপর শহরের কেন্দ্রে আগুন জ্বলতে দেখেন।


কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আফগানিস্তানে বিমান ও ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


তারার এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে নির্ভুলভাবে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।’


পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ভুলভাবে ও নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শুধু চিহ্নিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


তারার আরও দাবি করেন, এর আগে ওই লক্ষ্যবস্তুগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার হয়েছে।


জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে চালানো হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন।


এএফপি বলছে, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের একাধিক হামলার নজির থাকলেও আফগানিস্তানের শহরগুলোতে হামলার ঘটনা বেশ বিরল।


ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হলে কান্দাহার ও রাজধানী কাবুলেও হামলা হয়েছিল।


জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের ওই সহিংসতায় শত শত আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।


মার্চে যুদ্ধবিরতি হলেও কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে স্থায়ী সমাধান আনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে মতবিরোধই প্রধান বাধা হয়ে আছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানের কাছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।


ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক হামলা বেড়ে যাওয়ার পেছনে টিটিপিসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীই দায়ী। তালেবান সরকার ওই গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে।


টিটিপি বহু বছর ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সহিংস অভিযান চালিয়ে আসছে।


তারার এক্সে বলেন, ‘পাকিস্তান বহু বছর ধরে তালেবান সরকার ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী ব্যক্তিদের কাছে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দান ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে এসেছে।’


তারার দাবি করেন, তালেবান সরকার জেনে-বুঝেও এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।


যদিও আফগান কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, পাকিস্তান বৈরী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয় এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখায় না।


চলতি সপ্তাহে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের হামলার আগে শুক্রবার উত্তর পাকিস্তানে পুলিশের সদরদপ্তরে হামলা হয়। ওই হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন।


টিটিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করে।




ছাড়া হলো ৩০ হাজার প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০১ পিএম

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ হাজার পুরুষ মশা ছাড়া হয়েছে। বিশেষ পদ্ধতিতে মশাগুলোকে প্রজননে অক্ষম করা হয়েছে। এশিয়ান টাইগার মশার সংখ্যা কমানো এবং এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।


লিসবনের আলভালাদে এলাকায় এসব মশা ছাড়া হয়েছে। এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির এই মশা ডেঙ্গু, জিকা ও হলুদ জ্বরের মতো রোগ ছড়াতে পারে। তবে পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। স্ত্রী মশাই মানুষের রক্ত পান করে। তাই পরীক্ষামূলকভাবে প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা ছেড়ে দিয়ে বন্য মশার সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।


প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা বন্য পুরুষ মশার সঙ্গে স্ত্রী মশার মিলনে প্রতিযোগিতা করবে। এসব পুরুষ মশার সঙ্গে স্ত্রী মশার মিলন হলেও কোনো বংশধর জন্মাবে না। ফলে ধীরে ধীরে ওই এলাকায় মশার সংখ্যা কমে আসবে।


প্রকল্পের নেতা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক চিকিৎসক আফনসো মোরেইরা বলেন, প্রথম ধাপে ছাড়া মশাগুলো কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং কতদিন টিকে থাকে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।


পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে আগামী মে মাসে মশা ছাড়া হয়েছে এমন এলাকা এবং নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করা হবে।


পর্তুগালে এরই মধ্যে মোট ৬০ হাজার মশা ছাড়া হয়েছে। এবারের উদ্যোগটিই এ ধরনের মশা ছাড়ার শেষ ধাপ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


তবে শুধু প্রজননে অক্ষম মশা ছাড়লেই মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে না। মশার বংশবিস্তারের স্থান, বিশেষ করে জমে থাকা পানি ও অন্যান্য প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


তথ্যসূত্র: ইউরোনিউজ


দুই স্তরে কনটেইনার সাজিয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরুদ্ধ করা হয়েছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

 পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের আগে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলো কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 


আজ বৃহস্পতিবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) দুই স্তরে কনটেইনার সাজিয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরুদ্ধ করা হয়। খবর এএফপির


বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ইসলামাবাদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শাসনাধীন প্রতিবেশী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সঙ্গে রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, প্রবেশপথ ও মোড়গুলো কনটেইনার দিয়ে আটকে দেওয়ায় সড়ক যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। কনটেইনারের ফাঁক দিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের চলাচলের চেষ্টা করতে দেখা যায়।


আগামী রোববারের (২৭ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভকে সামনে রেখে সরকারের এই আগাম পদক্ষেপ চলতি সপ্তাহের শুরুতেই জোরদার হয়। ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকেও আটক করা হয়েছে।


এএফপির হাতে আসা সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাদের ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে। পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষণ অধ্যাদেশের (এমপিও) আওতায় এই আটকাদেশ দেওয়া হয়।


এ ছাড়া পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের কয়েক ডজন আইনপ্রণেতা, আঞ্চলিক নেতা ও বিরোধী দলের কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।


পিটিআইয়ের তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম দাবি করেছেন, দলের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।


পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ব্যাপক ধরপাকড় এবং মৌলিক অধিকার সীমিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে।


অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাবু রাম পান্ত বলেন, ‘ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআইয়ের কর্মীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, সংগঠন করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’


তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ পাকিস্তানে বর্তমানে যে বিধিনিষেধ চলছে, তার মাত্রা তুলে ধরে।’


৭৩ বছর বয়সি সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে সরকারবিরোধী ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতায় উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে।


তবে ইমরান খান ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ইমরানের জনপ্রিয়তা কমিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যেই এসব মামলা করা হয়েছে।


তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ, ইয়াহু 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৮ পিএম

পবিত্র নগরী মক্কাসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ এলাকায় সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) একাধিক সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।


সতর্কতার আওতায় ছিল পবিত্র মক্কা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক, লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর জেদ্দা ও ইয়ানবু এবং দক্ষিণাঞ্চলের তায়েফ। এসব এলাকায় অবস্থানরত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যের জন্য সরকারি নির্দেশনার ওপর নজর রাখতে বলা হয়।


মক্কার সতর্কবার্তায় সম্ভাব্য বিপদের কথা উল্লেখ করা হলেও ঠিক কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। 


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, সৌদি সিভিল ডিফেন্সের এ ধরনের সতর্কতা সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়ে থাকে।


তবে বৃহস্পতিবারের সতর্কতার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে কোনো হুমকির ধরন জানায়নি। সতর্কতার পর মক্কা, তাবুক, জেদ্দা ও ইয়ানবুসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে এসব এলাকায় বিপদ কেটে গেছে বলে সিভিল ডিফেন্স জানায়।


মক্কা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী হওয়ায় সেখানে সতর্কতা জারির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একইভাবে জেদ্দা ও ইয়ানবু লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বন্দর এলাকা। তাবুক ও তায়েফও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।


সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলা নিয়ে একাধিক সতর্কতা জারি হয়েছে। এর আগে জেদ্দা, তায়েফ, ইয়ানবু ও অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও এএফপি


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস থেকে মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশটি স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। একইসঙ্গে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ টিম কেলি এ আদেশ দেন। তিনি বলেন, ওই তিনটি সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ছিল অসাংবিধানিক।


এই আদেশকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বাতিল করে দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলো যে মামলা করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।


বিচারক কেলি ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।


ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখানো হলেও বিচারক তা গ্রহণ করেননি।


আদেশে কেলি বলেন, ‘বাদীদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে, এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, এমন দাবিরও ভিত্তি নেই।’


তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন যে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে “সত্যতার ঘাটতি ও নেতিবাচকতার” কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’


এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।


এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই তিন সংবাদমাধ্যমের ‘মিথ্যা ও কল্পকাহিনী’ প্রকাশ বা প্রচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।


সোমবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারকে লঙ্ঘন করেছে।


মামলার শুনানি চলাকালে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা আদালতের কাছে ট্রাম্পের আদেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে।


বুধবারের শুনানিতে বিচারক কেলি বলেন, কলাম্বিয়া সার্কিটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালতের দুটি পূর্ববর্তী রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিলের আগে সাংবাদিকদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দিতে হবে।


তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে মনে হচ্ছে।


সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবী আদালতে বলেন, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ বা সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছাড়াই তাদের হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি এটিকে নজিরবিহীন, অযৌক্তিক ও কঠোর শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।


তবে বিচার বিভাগের আইনজীবী বলেন, মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রেস পাস বাতিলের যথেষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে। কিন্তু বিচারক এ যুক্তির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই চিঠিগুলো প্রেস পাস বাতিলের পর এবং মামলা দায়েরের পরে পাঠানো হয়েছে।


মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে বিচার বিভাগ যুক্তি দেয়, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার কোনো অধিকার নয়, বরং এটি একটি বিশেষ সুবিধা। তাই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার স্থগিত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে।


এদিকে, বুধবার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এবং কয়েক ডজন সংবাদমাধ্যম ওই তিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আদালতে একটি নথি জমা দিয়েছে। এতে তারা বলেছে, কোনো সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সাংবাদিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দশকের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি।


ওই নথিতে সই করেছে রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস, রয়টার্স, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও ফক্স নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংগঠন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বুধবার ওয়াশিংটনে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এই সফরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ইরান ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই নেতার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই দুই দেশ চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে।


প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা শি জিপিংকে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান ট্রাম্প। সেখানে দুই নেতা ও তাদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে, তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং একটি বি-১ সামরিক বোমারু বিমান ওপর দিয়ে উড়ে যায়।


সিএসপ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ১১ বছর পর প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে বিদেশি কোনো নেতাকে স্বাগত জানালেন। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।


শি জিনপিং এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।’ তার এই বিবৃতিতে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশ ১১ মাসের বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, নতুন চুক্তির আওতায় বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এর আগের মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।


২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধের পর বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র হয়। ওই সময় দুই দেশের পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। নতুন সমঝোতা বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিরল খনিজ ও কম্পিউটার চিপের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এবং তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন— এসব বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।


বৃহস্পতিবার দুই নেতার বৈঠকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে শুল্ক কমানো, মাদক পাচার রোধে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। চীনে আটক কিছু মার্কিন নাগরিক ও অন্যদের মুক্তির বিষয়টিও ট্রাম্প তুলতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশ আরও আলোচনায় সম্মত হতে পারে। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে।


শি জিনপিংয়ের সফরে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং ও ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তি খাতের নেতারা অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসে সামরিক অনুষ্ঠান এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছালে সি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটনে এ সফরকে দুই পরাশক্তির সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনো উত্তেজনা রয়েছে।


প্রায় তিন বছর পর সি চিন পিং ওয়াশিংটন সফর করছেন। তাঁর এ সফর থেকে বড় কোনো অর্জন উঠে আসবে—বিশ্লেষকেরা তা মনে করছেন না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১১ মাস ধরে চলা বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ বাড়তে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এ সমঝোতার মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিষয়ে দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।


বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সি চিন পিংকে উদ্ধৃত করে দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত।’ বিবৃতিতে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে উল্লেখ নেই।


সি চিন পিং ওয়াশিংটনে নামার পর উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ও তাঁদের স্ত্রীরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান। তাঁরা দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট কথা বলেন, ছবি তোলেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ডে বাদ্য বাজছিল। কামানের গোলার শব্দ শোনা যায়। আকাশে উড়ে যায় বি-১ বোমারু বিমান।


ওয়াশিংটনভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সি-স্প্যানের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর পর কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানালেন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানান।


চীন–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমিত পরিসরে হলেও একটি বাণিজ্যচুক্তি বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফেরাতে পারে। ২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় বিশ্বের এ দুই বৃহৎ অর্থনীতির পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক তিন অঙ্কে পৌঁছেছিল।


বেসেন্ট ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ অনুষ্ঠানে জানান, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ নতুন করে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। এর মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।


তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। বিরল খনিজ আর কম্পিউটার চিপ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ, ইরান–চীন সম্পর্ক এবং তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন—এসব বিষয় নিয়ে দুই দেশ পরস্পরের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।


দুই পরাশক্তির প্রেসিডেন্টরা এমন এক সময় বৈঠকে বসছেন, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপকভাবে অসন্তোষের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে চীনেও নানা অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে; যদিও দেশটির বাণিজ্য খাত এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।


যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতা চীনকে তাঁদের দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। কাজেই চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।


দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের বিষয়ে জানাশোনা আছে—এমন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে সি তাইওয়ানের ওপর চীনা দাবির বিষয়টি নতুন করে তুলে ধরতে পারেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে সির আপত্তি থাকলেও ট্রাম্প চীনের ওপর পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর রাখতে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখতে পারেন।


ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান অচলাবস্থা কাটাতে চীন ট্রাম্পকে সহযোগিতা করবে কি না, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া দেশ দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও আলোচনা করতে পারে। এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।