ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ এএম

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি ভেবেছিলেন, এ ঘোষণা শুনে বড়জোর কেউ কেউ ভ্রু কুঁচকাবেন। তবে এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়া যে এতটা তীব্র হবে এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে এত বিভক্ত মতামত তৈরি হবে, তা ৩৫ বছর বয়সী কাওয়াতা কল্পনাও করেননি। এই মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটিকে ঘিরে এখন জাপানে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্তান জন্মদানের জন্য ছুটি নেওয়া উচিত কি না। এমন এক সময়ে এই বিতর্ক দেখা দিল, যখন দেশটি জন্মহার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।


বিবিসিকে কাওয়াতা বলেন, ‘আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। কারণ, বিষয়টি নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া এত বড় আকার ধারণ করবে, তা আমি ভাবতেই পারিনি।’


স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্তান জন্মদানের সময় ছুটি নেওয়ার জন্য বর্তমানে জাপানে কোনো আইনি কাঠামো নেই। তাই শোকো কাওয়াতা আনুষ্ঠানিকভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যেতে পারছেন না। এর পরিবর্তে, তিনি সাময়িকভাবে নিজের দায়িত্বগুলো সামলাতে উপ–মেয়র শিগেতো নোসেকে বলেছেন।


গত মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে কাওয়াতা তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা আছে। ওই তারিখের আগে দুই মাস এবং পরে আরও দুই মাস তিনি দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। এর মাধ্যমে জাপানের ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র হিসেবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার নজির গড়তে যাচ্ছেন তিনি।


কাওয়াতা বলেছেন, তাঁর কর্মস্থলের সবাই তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।


তবে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত হাজারো পোস্ট এবং ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিওতে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মতামত ও বিতর্ক দেখা গেছে।


অনেকেই কাওয়াতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, সন্তান জন্ম দেওয়া ও লালন-পালন সহজ নয়, আর কাওয়াতা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, জাপানের সমাজ এখনো এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি, যেখানে গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।


আরেকজনের মতে, পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাওয়াতা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতে ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত হবেন।


তবে সমালোচকদের মত ভিন্ন। তাঁদের দাবি, জনসেবার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোটা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণ। কেউ কেউ বলেছেন, কাওয়াতা যদি সন্তান নিতে চাইতেন, তাহলে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তা করা উচিত ছিল। আবার কেউ বলেছেন, উচ্চপদস্থ কোনো জনপ্রতিনিধি যদি দীর্ঘ সময়ের ছুটি নিতে চান, তাহলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। অনেকে আবার মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় তাঁর বেতন কমিয়ে দেওয়ারও দাবি তুলেছেন।


তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি কাওয়াতা। এই মেয়র গর্বের সঙ্গে বলেছেন, তিনি তাঁর কাজ ভালোবাসেন। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, এখনই সন্তান নেওয়া এবং পরিবার গড়ে তোলার জন্য তাঁর জীবনের উপযুক্ত সময়।


কাওয়াতা বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার কারণে রাজনীতিকদের সমালোচনা করার অর্থ হলো কার্যত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী, অর্থাৎ সন্তান ধারণে সক্ষমতা থাকা সব নারীকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া।’


হিরোশিমার আকিতাকাতা শহরের সাবেক মেয়র শিনজি ইশিমারুর মতে, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় কীভাবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হবে, তার কার্যকর ব্যবস্থা করাটাই আসল বিষয়।


নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইশিমারু বলেন, অধিকাংশ মানুষই মাতৃত্বকালীন ছুটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তবে তিনি চান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন একটি গঠনমূলক আলোচনা শুরু হোক, যেন পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না করেই সমস্যাটির কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা যায়।


শোকো কাওয়াতা ৩৩ বছর বয়সে জাপানের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নারী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর স্থানীয় সরকার ও রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।


সরকারিভাবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাওয়াতা অবসরে চা–চক্রে অংশ নিতে, কিমোনো পোশাক পরতে এবং বিভিন্ন শিন্তো মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করতে পছন্দ করেন। জাপানে পুরুষ আধিপত্যপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বাধা পেরিয়ে তিনি ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে ১ হাজার ৭২০টি পৌরসভার প্রধানের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ ছিলেন নারী।


দেশটি ইতিমধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। তবে রাজনীতিতে আরও বেশি নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগে জাপান সরকার নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ে।


অনেকের মতে, পুরুষপ্রধান মন্ত্রিসভা এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এ সমস্যার অন্যতম কারণ। এই এলডিপি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ সময় জাপানের শাসনক্ষমতায় আছে।


২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাপানের মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথে কয়েকটি বড় প্রতিবন্ধকতা আছে। এর মধ্যে আছে গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের বিষয়, রাজনীতি পুরুষদের কাজ—এমন প্রচলিত ধারণা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি।


জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হলেও লিঙ্গসমতার সূচকে দেশটির অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই নিচের দিকে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৪৬টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ছিল ১১৮তম। লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে এটি জি–৭–ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ।


জাপানে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা আছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নারীরা সন্তান জন্মের নির্ধারিত সময়ের আগে ছয় সপ্তাহ এবং সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহ ছুটি নিতে পারেন। অন্যদিকে বাবারা সন্তানের জন্মের পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চার সপ্তাহের সবেতন ছুটি পাওয়ার অধিকার রাখেন।


সন্তানের বয়স এক বছর হওয়া পর্যন্ত মা–বাবা দুজনই শিশুর দেখাশোনার জন্য ছুটি নেওয়ার অধিকার রাখেন। এ সময় যোগ্য কর্মীরা প্রথম ১৮০ দিন তাঁদের বেতনের ৬৭ শতাংশ এবং এরপর ৫০ শতাংশ হারে ভাতা পান। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মা–বাবা দুজনই যদি ছুটি নেন, তাহলে প্রথম ২৮ দিনের জন্য কিছু পরিবার আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।


উপ–মেয়র শিগেতো নোসে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কোনো নারী মেয়র দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দিলে বাস্তবে সেই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা অনেকেই এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন।’


কাওয়াতার অনুপস্থিতিতে ৬২ বছর বয়সী নোসে মেয়রের সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তিনি সপ্তাহে একবার দূর থেকে কাওয়াতার সঙ্গে আলোচনা করবেন।


দুই সন্তানের বাবা নোসে বলেন, তিনি নিজে কখনোই পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি। সন্তানদের দেখাশোনার প্রায় পুরো দায়িত্বই তাঁর স্ত্রী পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে আমি খুব ক্লান্ত থাকতাম। রাতে বাচ্চা কাঁদলেও আমি সেটি আমার স্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দিতাম। এখন পেছন ফিরে তাকালে সত্যিই মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে আমার আত্মসমালোচনা করা উচিত।’


তবে সময় বদলেছে বলে মনে করেন নোসে। তাঁর জামাতা বর্তমানে ছয় মাসের ছুটি নিয়ে তাঁর মেয়েকে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের দেখাশোনায় সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটা দেখে আমি খুব আনন্দ পাই। সময় সত্যিই বদলেছে। তাদের এভাবে একসঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে দেখে খুব ভালো লাগে।’


কাওয়াতার মতে, তাঁকে ঘিরে সমালোচনার একটি বড় কারণ হলো সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা। সেটা হলো, জনপ্রতিনিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন ছেড়ে পুরোপুরি জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে।


গর্ভধারণকে ঘিরে এত আলোচনা-সমালোচনা সম্পর্কে তাঁর অনাগত সন্তান ভবিষ্যতে কী ভাববে—এমন প্রশ্নের জবাবে কাওয়াতা বলেন, ‘আমার ধারণা, সে বিস্মিত হবে।’


এই নারী মেয়র আরও বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারীরা একই সঙ্গে কাজ ও পরিবার—দুটিই স্বাভাবিকভাবে সামলাতে পারবেন। তাঁদের যেন আর চাকরি ও পরিবার—এ দুটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।’




ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জামাতা জ্যারেড কুশনার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গোপনে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত।


আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের মুঠোফোনে নজরদারি চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজেদের এজেন্ডা বা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কুশনারের গোপন আর্থিক সমঝোতার তথ্য এতে উন্মোচিত হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন জ্যারেড কুশনার। দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব আপত্তিকর মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’


অভিযোগে যা আছে


ম্যাথু কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে ভ্যানিটি ফেয়ার এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।


উল্লেখ্য, ম্যাথু কোল একজন খ্যাতনামা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোপনীয়তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।


প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের ওপর নজর রাখছিলেন। সে সময়ই তাঁরা কুশনারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দেখেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই অ্যাকাউন্টে শত শত মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। কুশনার এ অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন। অ্যাকাউন্টটিতে তাঁর প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি এর মালিক ছিলেন না। আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তথা এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ অ্যাকাউন্টটি দেখভাল করতেন।


প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গোপন তহবিল বা স্ল্যাশ ফান্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মূলত তাঁদের মাথা থেকেই এ অ্যাকাউন্টের ধারণা আসে; যদিও গোপন তহবিলের সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জমা করেছিলেন।


এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সেখানে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।


প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে এ অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।


এ লেনদেনের বিষয়ে কুশনার তৎকালে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এ পর্যন্ত আইনিভাবে কোনো অপরাধ বা অন্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনকালে। ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের শান্তি আলোচনা–বিষয়ক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।


কুশনারের অস্বীকৃতি


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জ্যারেড কুশনার এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা ও এমন কিছু কখনোই ঘটেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন।


কুশনার লিখেছেন, ‘আমরা নথিবদ্ধভাবে বা অন দ্য রেকর্ড প্রতিটি দাবি অস্বীকার করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করার জন্য সামান্যতম প্রমাণও হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই নজিরবিহীন অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের তারিখ বা যাচাইযোগ্য অন্য কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।’


ট্রাম্পের জামাতা উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন। তখন তাঁকে তীব্র গণমাধ্যম কাভারেজ, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং একজন বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।


কুশনার আরও বলেন, ‘আমি নিজে থেকে এসব তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। এসব অভিযোগের কোনোটি তখন সামনে আসেনি। কারণ, ঘটনাগুলোর কোনোটিই আসলে ঘটেনি।’


কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এ প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।


এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিজেল লেখেন, ‘এটি কোনো ভুল–বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের বিষয় নয়। বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই। এগুলো একদমই অবাস্তব। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন আপত্তিকর এবং মানহানিকর দাবি করা হয়েছে।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মামলা করবেন?’ জবাবে মিজেল লেখেন, ‘সব পথই খোলা আছে।’


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৪ পিএম

কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।


সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।


২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।


অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।


তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।


তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।


কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।


কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।


উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।


নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।


কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।


সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।


আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: আল জাজিরা



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।


চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।


মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।


সূত্র: এনডিটিভি


চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।


চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।


চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।