• প্রকাশ : বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬, সময় : ৩:২৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে গেছেন। তার এ সফর নিয়ে ভারতীয় মিডিয়াগুলোতে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তবে তারেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতে এত মাতামাতির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ প্রকাশ করেছে চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমস।


মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, তারেক রহমান কেন তার প্রথম সরকারি সফরে ভারতে গেলেন না, সেটি নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া সরগরম। কিন্তু এমনটি হওয়া উচিত নয়। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে চীন সফর করেছেন মিয়ানমার, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধানরা। তারেক রহমানের সফরও এটির অংশ।


এছাড়া চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, ভারত-চীনের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলা হয়েছে নিবন্ধে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমান ভারত না গিয়ে চীনে গিয়ে ভারতকে উপেক্ষা করেছেন— কিছু ভারতীয়ের এমন মন্তব্য তাদের দাদাগিরি বা বড় ভাইসুলভ আচরণ প্রকাশ করে।


নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশ চীনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশও একই পথে হাঁটছে। তাই তারেক রহমান চীন সফর করছেন। এছাড়া তার এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।


নিচে গ্লোবাল টাইমসের নিবন্ধটি হুবহু তুলে ধরা হলো—


“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চীনে একটি সরকারি সফর করবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম চীন সফর। সফরকালে তিনি ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৭তম 'অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স' (সামার ডাভোস ফোরাম)-এ অংশ নেবেন। তার এই ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সফরসূচি থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের নতুন সরকার চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই সফরে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সহযোগিতা চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। এটি দুই দেশের মধ্যকার গভীর রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনাকে পুরোপুরিভাবে প্রমাণ করে।”


“২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাইরের আঞ্চলিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য প্রধান অগ্রাধিকারগুলো হলো—আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান তৈরি করা, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ঘাটতি দূর করা।”


“গত ১৬ বছর ধরে চীন ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। যা কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চীন বাংলাদেশের জন্য শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, যা চীনে বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।”


“বাংলাদেশি মিডিয়ার খবর অনুযায়ী—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং কৌশলগত সংলাপ করা।”


 বহু দেশ চীনের উন্নয়ন সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়, তারেক রহমানের সফর তারই অংশ


“এই সফরটি আসলে চীনের সাথে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর গভীর সম্পর্কের একটি ছোট প্রতিফলন মাত্র। চলতি মাসেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাই চীনে রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন। বেইজিং, সাংহাই এবং হাংঝু সফরের পর দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তারা দুই দেশের স্বার্থে কাজ আরও দ্রুত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চীন সফর করেন এবং দুই দেশের নেতারা সম্পর্ক আরও গভীর করার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হন।”



“এছাড়াও তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন এবং ব্রুনাইয়ের যুবরাজ হাজি আল-মুহতাদী বিল্লাহ পরপর চীন সফর করে জ্বালানি ও ডিজিটাল অর্থনীতি খাতে সহযোগিতা আরও বাড়িয়েছেন। গত এপ্রিল মাসে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি ও প্রেসিডেন্ট তো লাম চীন সফর করেন। সে সময় দুই দেশ আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং ডিজিটাল শিল্পের মতো বিষয়ে বেশ কিছু সমঝোতায় পৌঁছায়।”


“ডালিয়ানে গ্রীষ্মকালীন ডাভোস সম্মেলনে চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতারা একত্রিত হবেন। উচ্চপর্যায়ের নেতাদের চীন সফর বার্তা দেয় যে— বহু দেশ চীনের উন্নয়নের সুযোগকে কাজে লাগাতে কতটা আগ্রহী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরও সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।”


ভারতের দাদাগিরির মনোভাব


“বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশের সাথে চীনের সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, কিংবা এটি কোনো তৃতীয় পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়াও উচিত নয়। এটি সবসময়ই চীনের একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট অবস্থান। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের নেতার প্রথম বিদেশ সফরে ভারতকে বাদ দিয়ে চীনকে বেছে নেওয়ায় কিছুটা অসন্তুষ্ট। কিছু ভারতীয় বিশ্লেষক দাবি করেছেন যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে ‘প্রতিবেশী ভারতকে এড়িয়ে চীন যাচ্ছেন’। তারা বাংলাদেশ ভারতকে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। অন্য কয়েকজন আবার সতর্ক করে বলেছেন যে, তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা ‘নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল’।


এই ধরনের মন্তব্যগুলোর পেছনে কিছু ভারতীয়দের মধ্যে কাজ করা ‘দাদাগিরি’ বা ‘বড় ভাই সুলভ’ মানসিকতা ফুটে ওঠে। তারা মনে করেন, প্রতিবেশী দেশের কোনো নেতার প্রথম বিদেশ সফর মানেই তা আঞ্চলিক অভিভাবকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম। তারা অন্য দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে নিজেদের জন্য একটি অপমান হিসেবে গণ্য করেন।


“প্রকৃতপক্ষে চীন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে যেমন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়, তেমনি ভারতের সাথেও বাস্তবমুখী সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। চীন ও ভারতের উচিত একে অপরের বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং অংশীদার হওয়া, যা তাদের একে অপরকে সফল হতে সাহায্য করবে। একে প্রায়শই চীন ও ভারতের যৌথ উন্নয়ন বলা হয়ে থাকে। একই সাথে, ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার প্রচেষ্টাকে চীন স্বাগত জানায়। এই সম্পর্কগুলো একে অপরের পরিপন্থী নয়। বরং এগুলো একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। পুরো দক্ষিণ এশিয়াই এমন একটি আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম, যা সব পক্ষের জন্য সুফল বয়ে আনবে।”


“চীন সবসময় একটি উন্মুক্ত আঞ্চলিক সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী। চীন-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর কিংবা চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব হোক— এইসব ব্যবস্থার কোনোটিই কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। এগুলো এই অঞ্চলের সবার জন্য উন্মুক্ত ও পারস্পরিক সুবিধাজনক বহুপাক্ষিক সহযোগিতা হিসেবে মনে করে বেইজিং।”


“উদাহরণস্বরূপ তিস্তা নদী প্রকল্পের সহযোগিতার কথাই ধরা যাক। ভারত ও বাংলাদেশ হলো এই নদীর উজান ও ভাটির দেশ। অন্যদিকে চীন ও বাংলাদেশ পানি সম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। আবার চীন ও ভারতের মধ্যে বয়ে নদীর পানির অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার মতো বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। এটি দেখায় যে এই ক্ষেত্রে তিন দেশের সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।”


দেশ বড় বা ছোট হোক, সবাই সমান— এ নীতিতে বিশ্বাসী চীন


আজকের দিনে নিজেদের উন্নয়নের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মূল অগ্রাধিকার হলো—মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা। চীন সবসময় 'শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতি' এবং ‘দেশ বড় হোক বা ছোট, সবাই সমান’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। যা দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের মঙ্গলের জন্য সহযোগী হবে।”


সূত্র: গ্লোবাল টাইমস




ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জামাতা জ্যারেড কুশনার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গোপনে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত।


আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের মুঠোফোনে নজরদারি চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজেদের এজেন্ডা বা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কুশনারের গোপন আর্থিক সমঝোতার তথ্য এতে উন্মোচিত হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন জ্যারেড কুশনার। দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব আপত্তিকর মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’


অভিযোগে যা আছে


ম্যাথু কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে ভ্যানিটি ফেয়ার এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।


উল্লেখ্য, ম্যাথু কোল একজন খ্যাতনামা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোপনীয়তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।


প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের ওপর নজর রাখছিলেন। সে সময়ই তাঁরা কুশনারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দেখেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই অ্যাকাউন্টে শত শত মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। কুশনার এ অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন। অ্যাকাউন্টটিতে তাঁর প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি এর মালিক ছিলেন না। আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তথা এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ অ্যাকাউন্টটি দেখভাল করতেন।


প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গোপন তহবিল বা স্ল্যাশ ফান্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মূলত তাঁদের মাথা থেকেই এ অ্যাকাউন্টের ধারণা আসে; যদিও গোপন তহবিলের সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জমা করেছিলেন।


এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সেখানে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।


প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে এ অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।


এ লেনদেনের বিষয়ে কুশনার তৎকালে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এ পর্যন্ত আইনিভাবে কোনো অপরাধ বা অন্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনকালে। ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের শান্তি আলোচনা–বিষয়ক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।


কুশনারের অস্বীকৃতি


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জ্যারেড কুশনার এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা ও এমন কিছু কখনোই ঘটেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন।


কুশনার লিখেছেন, ‘আমরা নথিবদ্ধভাবে বা অন দ্য রেকর্ড প্রতিটি দাবি অস্বীকার করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করার জন্য সামান্যতম প্রমাণও হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই নজিরবিহীন অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের তারিখ বা যাচাইযোগ্য অন্য কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।’


ট্রাম্পের জামাতা উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন। তখন তাঁকে তীব্র গণমাধ্যম কাভারেজ, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং একজন বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।


কুশনার আরও বলেন, ‘আমি নিজে থেকে এসব তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। এসব অভিযোগের কোনোটি তখন সামনে আসেনি। কারণ, ঘটনাগুলোর কোনোটিই আসলে ঘটেনি।’


কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এ প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।


এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিজেল লেখেন, ‘এটি কোনো ভুল–বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের বিষয় নয়। বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই। এগুলো একদমই অবাস্তব। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন আপত্তিকর এবং মানহানিকর দাবি করা হয়েছে।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মামলা করবেন?’ জবাবে মিজেল লেখেন, ‘সব পথই খোলা আছে।’


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৪ পিএম

কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।


সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।


২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।


অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।


তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।


তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।


কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।


কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।


উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।


নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।


কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।


সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।


আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: আল জাজিরা



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।


চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।


মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।


সূত্র: এনডিটিভি


চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।


চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।


চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।