ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-দুই পরাশক্তি। গত মে মাসে দুই দেশের প্রেসিডেন্টরা বৈঠকে বসেছিলেন। তখন চীন সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। 


দুই নেতার ওই শীর্ষ বৈঠককে যদি ‘অচলাবস্থায় পর্যবসিত বৈঠক’ বলা হয়; তাহলে এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে তাঁদের শীর্ষ বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতির আশা যেন পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।


সি চিন পিং এবার সস্ত্রীক ওয়াশিংটন সফর করেছেন। হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে। দুই প্রেসিডেন্টের এ বৈঠককে কূটনীতির চেয়ে বরং ‘ডিপ্লোটেইনমেন্ট’ বলছেন অনেকেই। 


অর্থাৎ, কূটনীতি ও বিনোদন উদ্‌যাপনের মিশেল ছিল বৈঠকটি। এখানে বিরোধ দূর করা ও অগ্রগতির অর্জনের চেয়ে জাঁকজমক ও লোকদেখানো বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।




ট্রাম্প-সির এবারের বৈঠকে মোটাদাগে ফলাফল হলো- শিগগিরই চীন থেকে দুটি জায়ান্ট পান্ডা আটলান্টার চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে।


চীনের প্রেসিডেন্ট গত বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছান। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে সি’কে বরণ করে নিতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ উড়োজাহাজের দোরগোড়ায় হাজির হন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। দেওয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্পের নতুন হেলিপ্যাড ও মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার ঘুরে দেখেন সি। এরপর তাঁরা ৯০ মিনিট বৈঠক করেন।


ট্রাম্প বলেছেন, সির সঙ্গে তাঁর ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও ইরান যুদ্ধ নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন দুই নেতা। ট্রাম্প বলেন, সি ‘গ্রানাইটের প্রতি বেশ আগ্রহী’, এটা তিনি বৈঠকে জানতে পেরেছেন।


দুই বিশ্বনেতার এ বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সি চিন পিংয়ের প্রতি অতিমাত্রায় সম্মান দেখাচ্ছেন ট্রাম্প- মন্তব্য করেন জুলিয়ান গেউয়ার্টজ। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে চীন-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।


কিন্তু বৈঠক থেকে বাস্তবিক কোনো অগ্রগতি কি হয়েছে? যদিও আগে থেকেই এ বৈঠক নিয়ে প্রত্যাশা বেশ কম ছিল। তবে প্রত্যাশার পারদ সেই পর্যায়েও উঠতে পারেনি।


যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অন্যতম বড় একটি বিষয়- বাণিজ্য। গত বছর ট্রাম্প চীনা পণ্যে একের পর এক শুল্ক আরোপ করেন। তখন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চীনের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ তোলা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭ লাখ কর্মসংস্থান কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি।


চীন থেকে পণ্য আমদানি কমানো এবং চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই ছিল ট্রাম্পের শুল্কারোপের উদ্দেশ্য। কিছু ক্ষেত্রে সেটা কাজেও দিয়েছে। ২০২৪ সালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে তা ২০ হাজার কোটি (২০০ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে।


বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ বাণিজ্য ঘাটতির কিছু অংশ পূরণ হচ্ছে তৃতীয় দেশ হয়ে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর মাধ্যমে। চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছর রেকর্ড ১ লাখ কোটি (১ ট্রিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪৩ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র আর চীন থেকে। কাজেই দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দেশ দুটি যখন বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়, তখন শুধু চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা স্বস্তি পাননি, বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্বস্তি এসেছিল।


আসছে নভেম্বরে এ সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চীনা অর্থনীতি মূলত রপ্তানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই বেইজিং সমঝোতার মেয়াদ ট্রাম্পের শাসনামল শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করছিল বলে খবর পাওয়া যায়। ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন।


গত বৃহস্পতিবার জানা গেছে, চীনের প্রেসিডেন্টের তুমুল আলোচিত ওয়াশিংটন সফর থেকে উভয় দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার সমঝোতার মেয়াদ মাত্র দুই মাস বেড়েছে। এ বিষয়ে চিন্তক প্রতিষ্ঠান এশিয়া সোসাইটির জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল টমাস বলেন, ‘বৈঠকটি জাঁকজমক ও আনুষ্ঠানিকতায় পূর্ণ ছিল। তবে এর বাইরে এটা বৈঠকের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টিই তুলে ধরে।’


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, এটা একেবারে স্পষ্ট, বৈঠকে মূল বিষয়বস্তুর চেয়ে প্রতীকী বিষয় ও আনুষ্ঠানিকতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই মাসের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে, বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে।


ট্রাম্প যখন চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করেছিলেন, তখন বেইজিংও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। ওই সময় বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় চীন। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প উৎপাদন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এসব খনিজ খুবই দরকারি। কাজেই বেইজিংয়ের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত চীনের ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল।


জুলিয়ান গেউয়ার্টজ বলেন, বেইজিংয়ের পাল্টা পদক্ষেপ ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। চীনের বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ কমিয়েছে।


বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে সামান্য অগ্রগতি ছাড়া দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকে আর কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি- চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে কোনো বিষয়েই উল্লেখযোগ্য অর্জন কার্যত নেই।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে তাইওয়ান ইস্যুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে চীন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে বেইজিং। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সরাসরি সহায়তা দেয়। এ সহায়তা কমিয়ে আনতে ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন সি।


বৈঠকের পর চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, সি ট্রাম্পকে বলেছেন, তিনি আশা করছেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক অবস্থান বজায় রাখবে’।


এখন ট্রাম্প যদি বলেন, ‘আমরা তাইওয়ানে স্বাধীনতা সমর্থন করছি না’, বেইজিং অবশ্যই স্বাগত জানাবে। কিন্তু সেটা হবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো অবস্থান থেকে স্পষ্টত সরে আসা। সি’র এমন চাওয়ায় ট্রাম্প রাজি হয়েছেন কিনা, সেটা অবশ্য তিনি বলেননি।


তবে মনে হচ্ছে, তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি (১৪ বিলিয়ন) ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়টি ট্রাম্প এখনো এগিয়ে নেননি। চীন চায়, এ প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাক।


বৈঠক থেকে বড় কোনো অর্জনের খবর না আসাটা বরং চীনের জন্য একটি সাফল্য, বলেন নিল টমাস। তিনি আরও বলেন, চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বৈঠকটি দারুণ হয়েছে।


নিল টমাস বলেন, সি চিন পিং রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বিপুল সম্মান পেয়েছেন। চীনের মানুষের কাছেও দারুণ কিছু ছবি পৌঁছেছে। এসব ছবিতে ট্রাম্প ও সিকে বিশ্বমঞ্চে সমমর্যাদার নেতা হিসেবে দেখা গেছে। অথচ এ জন্য চীনকে কোনো ছাড় দিতে কিংবা সমঝোতা করতে হয়নি।




মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ এএম

ইরানে আজ নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়ত ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে। ইরানে মার্কিনিরা যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন রোববারই এ হামলা শুরু হতে পারে।


সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”


তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয় তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প।


তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”


ট্রাম্প দাবি করেন তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে।


গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোতে যথার্থ হতো না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।


ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাজটি হয়ত সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়ত চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”


সূত্র: আনাদোলু


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে গলিতে পার্ক করা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সি এক যুবক। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে আনন্দ অ্যাভিনিউ এলাকায় নিজের বাড়ির সামনেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একই এলাকার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার দাবি, অভিযুক্তরা তার ছেলের বন্ধু ছিলেন।

নিহত অমিত সাবরওয়াল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কাজ করতেন। অভিযুক্তরা হলেন অভি শাহ, সানি শাহ ও ঋতিক শাহ। গেট হাকিমা থানার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অমিতের বাবা বলেন, নিজের বন্ধুদের গুলিতেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কারও সঙ্গে অমিতের শত্রুতা ছিল না। হোন্ডা অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও পার্টি শেষে বাড়ি ফেরেন অমিত। এরপর গলিতে পার্ক করা একটি অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র হলে অভি শাহ দেশি পিস্তল দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অমিতের বাবার ভাষ্য, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির সামনেই তার ছেলেকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে দুটি গুলি মাথায় এবং একটি করে কোমর ও পায়ে লাগে। বাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা পটকার মতো শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে অমিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা রবনীত সিং বিট্টু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান কবে এই লাগামহীন রক্তপাতের দায় নেবেন? ফাঁকা দাবি আর প্রচারণার কৌশল বন্ধ করুন। পাঞ্জাবের মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষ যখন নিজের বাড়ির দরজার সামনেও নিরাপদ নয়, তখন তা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকে প্রকাশ করে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অমিত হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, গত ৩ অক্টোবর অমৃতসরে দিনের বেলায় গুলিতে নিহত হন ২৯ বছর বয়সী মধুসূদন ‘ম্যাড’ সান্ধু। তিনি পাঞ্জাবের পরিচিত কুইয়ার মেকআপশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে লোহরকা রোডে নিজের সেলুনের কাছে একটি গাড়ি ধোয়ার স্থানে অপেক্ষা করার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে একাধিক গুলি ছোড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিল্লোঁ গ্যাং’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। পরে গুজরাটে পালিয়ে যাওয়া কথিত বন্দুকধারী পরমিন্দর কাকা ও তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অক্টোবর মাসে পাঞ্জাবে একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র করেছে।

আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদকবিরোধী কর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটার হত্যাকাণ্ড। মানসা শহরে একটি মেডিকেল স্টোরের মালিকের বিরুদ্ধে আসক্তি সৃষ্টিকারী ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করার সময় ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) মামলাটির তদন্তভার নেয়।

এরপর বাটালায় ৪০ বছর বয়সী বিক্রমজিৎ সিংকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।


হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।


 হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ পিএম

সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।


সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।


বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।


বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।


সূত্র:আল-জাজিরা


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।


ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


 চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর


এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।


সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা



মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।


মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।