সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এক বিশেষ ধরনের বিপদ লুকিয়ে আছে, যা কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি দিয়ে পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। আর বিপদটি হলো, এমন একজন নেতা, যাঁর হারানোর কিছুই নেই, অথচ তাঁর অধীন একটি আস্ত সেনাবাহিনী রয়েছে। আজকের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হলেন সেই নেতাই।
গত মার্চ মাস থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করে রাখা সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরান গত বুধবার রাতে একটি সমঝোতা স্মারকে (অন্তর্বর্তী চুক্তি) সই করেছে। তবে এ চুক্তিতে ইসরায়েল কোনো পক্ষ ছিল না। নেতানিয়াহুও এটি অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি এ চুক্তির শর্ত মেনে চলতে কোনোভাবেই বাধ্য নন।
নেতানিয়াহুর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আরও এক ধাপ এগিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কোনো ‘সময়সীমা ছাড়াই’ লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় অবস্থান করবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই রূপরেখা চুক্তি কার্যকর করার সব দায় সরাসরি ওয়াশিংটনের ওপর চাপিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে, মাসের পর মাস ধরে আলোচনা চলার পর যে চুক্তিটি সই হলো, সেটি বাস্তবে এখনই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। আর এ পরীক্ষাটি নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এমন এক পক্ষ, যাকে কখনোই এ চুক্তির বেড়াজালে বাঁধা সম্ভব হয়নি।
ধৈর্য হারাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
নেতানিয়াহুর আগের অবাধ্যতাগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তফাত হলো, হোয়াইট হাউসের সুর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসময় নেতানিয়াহুকে একজন শর্তহীন মিত্র হিসেবে গণ্য করতেন। তবে জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি ব্যক্তিগত আলাপে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি লেবাননে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি বলব, আরেকটু সংযত হয়ে কাজ করা সম্ভব। প্রতিবার কোনো হিজবুল্লাহ সদস্য একটি ভবনে ঢুকলেই হয়তো পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও কড়া ভাষায় কথা বলেছেন। ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তিনি নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিরস্কার করেছেন। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে তাঁদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলকে সরবরাহ করা অস্ত্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ‘মার্কিন করদাতাদের অর্থে তৈরি ও কেনা।’
এ সংঘাতের বহু আগে রাজনৈতিক তাত্ত্বিক হ্যান্স মর্গেনথাউ একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। বাস্তবসম্মত রাজনীতির নীতি অনুযায়ী, কোনো পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের সহনশীলতা কখনোই শর্তহীন হয় না। এটি মূলত স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। আর ওয়াশিংটনের সেই স্বার্থ এখন স্পষ্টতই বদলে যাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ ফাঁদ
বিদেশে নেতানিয়াহুর এ একগুঁয়েমি আসলে দেশের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতার সঙ্গে জড়িত। ইরান যুদ্ধে নিজের নির্ধারণ করা বড় লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেননি তিনি। ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ঠেলে দেওয়ার পরও তেহরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন বা পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করার মতো কোনো লক্ষ্যই বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ইরানে ইসরায়েলের হামলা ও সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের প্রতিবেশীদের জড়িয়ে যেকোনো যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে যে ধরনের বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়, এখানেও ঠিক তা-ই হয়েছে। দেশের মাটিতে নেতানিয়াহু এমন এক ভোটাভুটি বা নির্বাচনের মুখোমুখি, যেখানে আগামী শরতে (অক্টোবর মাসে) ভোটাররা তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও এখনো রয়ে গেছে। আবার, তাঁর জোট সরকার টিকে আছে এমন কিছু মন্ত্রীদের সমর্থনে, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে খোদ নেতানিয়াহুর চেয়েও চরম উগ্রপন্থী। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ যুদ্ধের শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে এ সরকারকে চরম ব্যর্থ বলে অভিযুক্ত করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া শুধু যে অপ্রীতিকর তা-ই নয়, বরং এটি তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবেও মারাত্মক আত্মঘাতী হতে পারে; বিশেষ করে যখন সেই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে কোনো দৃশ্যমান সাফল্য এনে দিচ্ছে না।
কেন তাঁকে বাগে আনা যাচ্ছে না
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের মূলে রয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। ওয়াশিংটনই ইসরায়েলকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দেয়। অথচ এ তিনটির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের শর্ত মানাতে পারে না তারা।
জন মিয়ারশেইমার ও স্টিফেন ওয়াল্টের মতো বাস্তববাদী গবেষকেরা তাঁদের ‘ইসরায়েল লবি’ সংক্রান্ত বিশ্লেষণে দীর্ঘদিন ধরে একটি যুক্তি দেখিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাঠামো ইসরায়েলি নেতাদের এমন এক ধরনের স্বাধীনতা দেয়, যা দেশটির অন্য কোনো মিত্র রাষ্ট্র পায় না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলেও এ পরিস্থিতি বদলায় না।
তাই নেতানিয়াহুর টিকে থাকার ক্ষমতা কোনো রহস্য নয়, বরং এটি মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির বড় দাতাগোষ্ঠী, যার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ দাতা মিরিয়াম অ্যাডেলসন, মার্কিন সিনেটের ইসরায়েলপন্থী কট্টরপন্থী একটি অংশ ও চরমপন্থী গণমাধ্যমগুলো এখনো নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের চাপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে তুলে ধরে।
চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্য কৌশল
নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তি প্রত্যাখ্যান না করেও কীভাবে তা ভেস্তে দিতে পারেন, তার একটি কৌশলগত পথ রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এখনো চলছে। এসব হামলায় ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হিজবুল্লাহও তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
এই সংঘাতের ধারাবাহিকতা ইরানকে আবারও যুদ্ধের দিকে টেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, যে যুদ্ধ থেকে বের হতেই ইরান সম্প্রতি চুক্তিতে সই করেছে। তেহরানের আলোচকেরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চুক্তির মূল দলিলে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এ চুক্তির মূল চেতনার অংশ। এখন যদি ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে এবং ইরান বুঝতে পারে যে ওয়াশিংটন তার নিজের মিত্রকে থামাতে পারছে না বা থামাবে না, তবে এই ভঙ্গুর ও নতুন চুক্তি মেনে চলার কোনো আগ্রহই তেহরানের থাকবে না। চুক্তিটি ছিঁড়ে ফেলার জন্য নেতানিয়াহুর কোনো প্রকাশ্য পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তিনি শুধু লেবাননে এখন যা করছেন, তা চালিয়ে গেলেই হবে, বাকি কাজটা ইরানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
মূলকথা
কূটনীতির ভাষায় এমন কিছু পক্ষ থাকে, যারা কোনো চুক্তিতে বাধ্য নয় এবং যাদের কোনো ভেটো দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাও নেই, অথচ তারা পুরো চুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারে। এদের বলা হয় ‘স্পয়লার’ বা চুক্তি বিনষ্টকারী। নেতানিয়াহু এখন ঠিক সেই ভূমিকাই পালন করছেন। তা তিনি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেকেই করুন বা এই বিশ্বাস থেকেই করুন যে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সময়সীমার চেয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন চাইছে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (যেমন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বা রূপরেখার মাধ্যমে) মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত থামাতে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। এটি ওয়াশিংটনের একটি কূটনৈতিক ছক বা সময় পরিকল্পনা। তবে নেতানিয়াহু মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক করে দেওয়া এই সময়ে যুদ্ধ (ইরান কিংবা লেবাননে ইসরায়েলি হামলা) থামালে ইসরায়েলের সামরিক উদ্দেশ্য সফল হবে না। হিজবুল্লাহ বা ইরানকে পুরোপুরি দুর্বল না করে এখনই চুক্তি মেনে নেওয়াটা তাঁর মতে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে, কোনো সংঘাত বা সংকটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার পরও যে পক্ষকে কখনোই চুক্তিতে সই করতে বলা হয়নি, শুধু তাদের নীরবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা যেকোনো শান্তিচুক্তি আসলে চরম ভঙ্গুর হয়ে থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জামাতা জ্যারেড কুশনার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গোপনে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত।
আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের মুঠোফোনে নজরদারি চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজেদের এজেন্ডা বা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কুশনারের গোপন আর্থিক সমঝোতার তথ্য এতে উন্মোচিত হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন জ্যারেড কুশনার। দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব আপত্তিকর মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’
অভিযোগে যা আছে
ম্যাথু কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে ভ্যানিটি ফেয়ার এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ম্যাথু কোল একজন খ্যাতনামা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোপনীয়তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের ওপর নজর রাখছিলেন। সে সময়ই তাঁরা কুশনারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দেখেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই অ্যাকাউন্টে শত শত মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। কুশনার এ অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন। অ্যাকাউন্টটিতে তাঁর প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি এর মালিক ছিলেন না। আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তথা এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ অ্যাকাউন্টটি দেখভাল করতেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গোপন তহবিল বা স্ল্যাশ ফান্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মূলত তাঁদের মাথা থেকেই এ অ্যাকাউন্টের ধারণা আসে; যদিও গোপন তহবিলের সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জমা করেছিলেন।
এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সেখানে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে এ অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।
এ লেনদেনের বিষয়ে কুশনার তৎকালে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এ পর্যন্ত আইনিভাবে কোনো অপরাধ বা অন্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনকালে। ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের শান্তি আলোচনা–বিষয়ক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।
কুশনারের অস্বীকৃতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জ্যারেড কুশনার এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা ও এমন কিছু কখনোই ঘটেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
কুশনার লিখেছেন, ‘আমরা নথিবদ্ধভাবে বা অন দ্য রেকর্ড প্রতিটি দাবি অস্বীকার করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করার জন্য সামান্যতম প্রমাণও হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই নজিরবিহীন অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের তারিখ বা যাচাইযোগ্য অন্য কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।’
ট্রাম্পের জামাতা উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন। তখন তাঁকে তীব্র গণমাধ্যম কাভারেজ, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং একজন বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
কুশনার আরও বলেন, ‘আমি নিজে থেকে এসব তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। এসব অভিযোগের কোনোটি তখন সামনে আসেনি। কারণ, ঘটনাগুলোর কোনোটিই আসলে ঘটেনি।’
কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এ প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিজেল লেখেন, ‘এটি কোনো ভুল–বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের বিষয় নয়। বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই। এগুলো একদমই অবাস্তব। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন আপত্তিকর এবং মানহানিকর দাবি করা হয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মামলা করবেন?’ জবাবে মিজেল লেখেন, ‘সব পথই খোলা আছে।’
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।