৫৪ বছর পর আজ চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ এএম

ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্রে শুরু হয়েছে কাউন্টডাউন। বহু প্রতীক্ষিত আর্টেমিস-২ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। এই অভিযানে চারজন নভোচারীকে চাঁদের চারপাশে ঘুরিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। 


১৯৭২ সালের পর এটিই হবে মানুষের অংশগ্রহণে প্রথম চন্দ্র অভিযান।


গত সোমবার মিশন ব্যবস্থাপনা দলের বৈঠকের পর মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র সহযোগী প্রশাসক অমিত ক্ষত্রিয় জানান, আর্টেমিস-২ উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ও বুধবারই (১ এপ্রিল) তা উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। তবে আবহাওয়া এখনো একটি বড় বিবেচ্য বিষয়।


সংস্থাটি জানিয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী অনুকূল পরিবেশের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। তবে মেঘের উপস্থিতি ও ঝোড়ো বাতাস উদ্বেগের কারণ হতে পারে।


কবে উৎক্ষেপণ হবে?


আজ বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণের জন্য দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা শুরু হবে। ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকেই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে।


সূর্যাস্তের পর প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে সোমবার (৬ এপ্রিল) পর্যন্ত এই সময়সীমা খোলা থাকবে। তবে চাঁদের অবস্থান, কক্ষপথ, আবহাওয়া ও পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সবকিছু নিরাপদভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই কেবল উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে।


উৎক্ষেপণে দেরি হওয়ার কারণ


মূলত ২০২৬ সালের শুরুর দিকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকলেও দুটি বড় সমস্যার কারণে তা পিছিয়ে যায়। ফেব্রুয়ারির শুরুতে মহড়া চলাকালে তরল হাইড্রোজেন গ্যাসের লিক ধরা পড়ায় প্রথম প্রচেষ্টা বাতিল করা হয়। এরপর মার্চের শুরুতে দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও বাতিল করা হয়, যখন প্রকৌশলীরা রকেটের ওপরের ধাপে হিলিয়াম প্রবাহের সমস্যার সন্ধান পান।


যেভাবে দেখা যাবে উৎক্ষেপণ


মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তাদের নিজস্ব মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করবে। এর আগে যান সংযোজন ভবন থেকে উৎক্ষেপণ প্যাড পর্যন্ত পুরো প্রস্তুতি ধাপও সরাসরি দেখানো হয়েছে।


আর্টেমিস প্রোগ্রাম কী?


আর্টেমিস প্রোগ্রাম হলো মানুষের আবার চাঁদে ফেরার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার মানুষের চাঁদে ফেরা, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটি স্থাপন ও ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের অভিযান চালানোর পথ তৈরি করাই এর লক্ষ্য।


এই কর্মসূচি বর্তমানে পাঁচটি ধাপে বিভক্ত, আর্টেমিস-১, ২, ৩, ৪ ও ৫।


আর্টেমিস-১ ছিল প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন, যেখানে কোনো মানুষ ছিল না। ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর উৎক্ষেপণ হয়ে ২৫ দিন স্থায়ী এই অভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযানকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয় এবং আর্টেমিস-২-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


আর্টেমিস-২ কী?


আর্টেমিস-২ হলো এই কর্মসূচির প্রথম মানববাহী অভিযান। আর্টেমিস-১ যেখানে কেবল পরীক্ষামূলকভাবে পুতুল ও বিভিন্ন যন্ত্র বহন করেছিল, সেখানে আর্টেমিস-২ এ প্রথমবার ১৯৭২ সালের পর নভোচারীরা নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করবেন।


আর্টেমিস-২ কি চাঁদে নামবে?


না, এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদে নামবেন না। তারা চাঁদের দূরবর্তী অংশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।


মূল লক্ষ্য কী?


এই অভিযান মূলত একটি পরীক্ষামূলক যাচাই মিশন। এতে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনধারণ ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ ও গভীর মহাকাশে সামগ্রিক কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে, যা পৃথিবীতে পুরোপুরি পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।


এই মিশন সফল হলে পরবর্তী ধাপগুলো এগিয়ে যাবে। আর্টেমিস-৩ এ নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে মানববাহী অভিযান, আর্টেমিস-৪ এ চাঁদে অবতরণ ও ভবিষ্যতে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


১০ দিনের যাত্রাপথ


এই অভিযানের পুরো যাত্রা প্রায় ১০ দিন স্থায়ী হবে। যেসব ধাপে শেষ হবে এই অভিযান-


উৎক্ষেপণের দুই মিনিট পর বুস্টার বিচ্ছিন্ন হবে।


ছয় মিনিট পর মূল ধাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সৌর প্যানেল খুলবে।


৯০ মিনিট পর কক্ষপথ বাড়াতে ইঞ্জিন চালু হবে এবং ২৪ ঘণ্টা ধরে সিস্টেম পরীক্ষা চলবে।


এরপর ওরিয়ন আলাদা হয়ে হাতে নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন করা হবে।


২৩ ঘণ্টা পর চাঁদের পথে যাত্রা শুরু হবে, যা প্রায় চার দিন সময় নেবে।


চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার চার দিনে পৃথিবীতে ফেরা শুরু হবে।


পুনঃপ্রবেশের আগে ক্রু মডিউল আলাদা হবে।


পৃথিবীতে প্রবেশের সময় গতিবেগ হবে ঘণ্টায় প্রায় ৩২ হাজার ১৮৭ কিলোমিটার এবং তাপমাত্রা ২ হাজার ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠবে।


প্যারাসুট খুলে গতি কমিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করা হবে।


অ্যাপোলো কর্মসূচির সঙ্গে পার্থক্য


গ্রিক পুরাণে আর্টেমিস চাঁদের দেবী ও অ্যাপোলোর যমজ বোন। নামটি আগের অ্যাপোলো কর্মসূচির সঙ্গে সংযোগ নির্দেশ করে, যা ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল।


এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল অ্যাপোলো-১১, যখন ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখেন।


শেষ অভিযান ছিল অ্যাপোলো-১৭, যেখানে ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউজিন সার্নান ও হ্যারিসন শ্মিট চাঁদের মাটি ত্যাগ করেন এবং তারাই এখন পর্যন্ত শেষ মানুষ, যারা চাঁদে হেঁটেছেন।


কারা যাচ্ছেন এই অভিযানে


এই অভিযানে চারজন নভোচারী থাকবেন।


রিড উইজম্যান, বয়স ৫০। অভিযানের কমান্ডার। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাবেক কমান্ডার।


ভিক্টর গ্লোভার, বয়স ৪৯। পাইলট ও প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চন্দ্র অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।


ক্রিস্টিনা কচ, বয়স ৪৭। একজন নারী হিসেবে একটানা ৩২৮ দিন মহাকাশে থাকার রেকর্ডধারী।


জেরেমি হ্যানসেন, বয়স ৫০। প্রথম কানাডীয় হিসেবে চাঁদের পথে যাত্রা করবেন।


তারা কী করবেন


এই অভিযানে নভোচারীরা মহাকাশযানের কার্যকারিতা যাচাই করবেন, বিকিরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করবেন ও পোশাকের চাপ পরীক্ষা চালাবেন।


তারা চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালাবেন ও চাঁদের পৃষ্ঠ সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করবেন।


কেন আবার চাঁদে যাওয়া


এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বিশেষ করে দক্ষিণ মেরু এলাকায় যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


এটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেও কাজ করবে। একই সঙ্গে মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব ধরে রাখতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটেও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টি সামনে রেখে।


পরবর্তী সব অভিযান


আর্টেমিস-৩: ২০২৭ সালে নির্ধারিত। এতে চাঁদে নামার পরিবর্তে নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশযানের সমন্বিত কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে।


আর্টেমিস-৪: ২০২৮ সালের শুরুতে পরিকল্পিত। এতে চাঁদের কক্ষপথে গিয়ে দুই নভোচারীকে দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করানো হবে।


আর্টেমিস-৫: ২০২৮ সালের শেষ দিকে পরিকল্পিত। এতে দ্বিতীয়বারের মতো মানুষ চাঁদে অবতরণ করবে এবং একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের কাজ শুরু হবে।




ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে গলিতে পার্ক করা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সি এক যুবক। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে আনন্দ অ্যাভিনিউ এলাকায় নিজের বাড়ির সামনেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একই এলাকার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার দাবি, অভিযুক্তরা তার ছেলের বন্ধু ছিলেন।

নিহত অমিত সাবরওয়াল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কাজ করতেন। অভিযুক্তরা হলেন অভি শাহ, সানি শাহ ও ঋতিক শাহ। গেট হাকিমা থানার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অমিতের বাবা বলেন, নিজের বন্ধুদের গুলিতেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কারও সঙ্গে অমিতের শত্রুতা ছিল না। হোন্ডা অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও পার্টি শেষে বাড়ি ফেরেন অমিত। এরপর গলিতে পার্ক করা একটি অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র হলে অভি শাহ দেশি পিস্তল দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অমিতের বাবার ভাষ্য, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির সামনেই তার ছেলেকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে দুটি গুলি মাথায় এবং একটি করে কোমর ও পায়ে লাগে। বাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা পটকার মতো শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে অমিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা রবনীত সিং বিট্টু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান কবে এই লাগামহীন রক্তপাতের দায় নেবেন? ফাঁকা দাবি আর প্রচারণার কৌশল বন্ধ করুন। পাঞ্জাবের মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষ যখন নিজের বাড়ির দরজার সামনেও নিরাপদ নয়, তখন তা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকে প্রকাশ করে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অমিত হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, গত ৩ অক্টোবর অমৃতসরে দিনের বেলায় গুলিতে নিহত হন ২৯ বছর বয়সী মধুসূদন ‘ম্যাড’ সান্ধু। তিনি পাঞ্জাবের পরিচিত কুইয়ার মেকআপশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে লোহরকা রোডে নিজের সেলুনের কাছে একটি গাড়ি ধোয়ার স্থানে অপেক্ষা করার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে একাধিক গুলি ছোড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিল্লোঁ গ্যাং’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। পরে গুজরাটে পালিয়ে যাওয়া কথিত বন্দুকধারী পরমিন্দর কাকা ও তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অক্টোবর মাসে পাঞ্জাবে একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র করেছে।

আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদকবিরোধী কর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটার হত্যাকাণ্ড। মানসা শহরে একটি মেডিকেল স্টোরের মালিকের বিরুদ্ধে আসক্তি সৃষ্টিকারী ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করার সময় ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) মামলাটির তদন্তভার নেয়।

এরপর বাটালায় ৪০ বছর বয়সী বিক্রমজিৎ সিংকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।


হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।


 হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ পিএম

সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।


সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।


বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।


বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।


সূত্র:আল-জাজিরা


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।


ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


 চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর


এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।


সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা



মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।


মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।



বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৩ পিএম

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।


ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।



মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা