প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

দেশের কয়েকটি জায়গায় ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। পলাতক স্বৈরাচার শ্রমিক অসন্তোষ তৈরিতে অর্থ সরবরাহ করছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা কয়েকটি দলও এতে যুক্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।


শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতটা দল আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। তারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।’


তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে, নিরাপত্তা বাড়াতে, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। সরকার শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এসব কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সময়ও ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো দেশের অগ্রগতির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইকে ধারণ করে


বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করে বলে জনসভায় উল্লেখ করেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিদায় নেওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে।


তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করার কথা বলে, এমন সব রাজনৈতিক দলকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। 


জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটির প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।’


এ সময় রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি সরকার। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সে চেষ্টা করবে।


এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে উঠে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে একযোগে মুঠোফোনে আর্থিক পরিষেবার মাধ্যমে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দেন।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশন প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ।


‘অতীতের রাজনীতি পরিবর্তন করতে চাই’


এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরের ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন করতে চাই। এই পরিবর্তনের বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। অতীতের মতো জনগণকে পাশে নিয়েই বর্তমান সরকার এগিয়ে যেতে চায়।’


জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, কিছুদিন ধরে আমরা দেখছি, বর্তমান সরকার যে ঐক্য গড়ে তুলতে চাচ্ছে, সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাচ্ছে, একটি মহল তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’


তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কোনো অঞ্চলে হননি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও সরকার; যাঁরা ভোট দেননি, তাঁদেরও সরকার। বর্তমান সরকার সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে দুই সপ্তাহ আগে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে জেলা পরিষদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাম, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।


প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে পৌঁছালে তাঁকে বরণ করে নেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। মন্দিরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকার চেক দেন। এ ছাড়া দূরদূরান্ত থেকে আসা পূজারিদের থাকার জন্য মন্দিরের পেছনে নির্মাণাধীন অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন করতে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


মন্দির পরিদর্শন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা সামরিক উড়োজাহাজটি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আধা ঘণ্টা পর তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে পৌঁছান। জনসভা শেষে উড়োজাহাজে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।




ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।


থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।


ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।


সংসদ সদস্য, তাঁর পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।


একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।


পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’


ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’


মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’


ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’


ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’


নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তাঁর সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’


ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ তুলে ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।


অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।


জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।


বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।


নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।


কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। 


বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। 


বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।


প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।


সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।


রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।