• প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

হাজারো ফুটবলপ্রেমী দর্শকের বাঁধভাঙা জোয়ার আর তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় সম্পন্ন হলো জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে (পুরানো স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলকে পরাজিত করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল। 


গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই জমকালো ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মাঠ কাঁপিয়ে তুললেও কোনো দলই গোল করতে না পারায় ফাইনাল ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে বাজিমাত করে আলমডাঙ্গা উপজেলা। টাই ব্রেকারে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল ৪-৩গোলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলকে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করে। 


খেলা শেষে এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলোকিত করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম।




পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল্লাহ হারুন উপস্থিত দর্শক ও খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজকের এই মাঠ ও উপচে পড়া দর্শক প্রমাণ করে চুয়াডাঙ্গার মানুষ ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন। খেলাধুলা কেবল শারীরিক  ও মানসিক বিকাশ ঘটায় না, বরং যুবসমাজকে মাদক, স্মার্টফোনের অপব্যবহার ও সব ধরণের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে একটি সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।”


তিনি আরও বলেন, “টুর্নামেন্ট পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ উভয় দলই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। আমাদের তরুণেরা এই মাঠ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গার নাম উজ্জ্বল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, গ্রাম বাংলার সবচাইতে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। এই ফুটবলকেই কেন্দ্র করে সোনালী অতীতে চুয়াডাঙ্গা ফুটবলের ইতিহাস বিস্তৃত হয়েছে বাংলাদেশের পণ্ডি পেরিয়ে ওপার বাংলায়। চুয়াডাঙ্গা থেকে বর্তমানে আর তেমন কোনো ভালো ফুটবলার তৈরি হচ্ছেনা। তাই চুয়াডাঙ্গার সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চুয়াডাঙ্গার মাঠে-ঘাটে নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট। আমি আশা করবো এই ধরনের টুর্নামেন্ট থেকেই একদিন চুয়াডাঙ্গা জেলা ফুটবল আবারো ফিরে পাবে তার অতীতে হারানো গৌরব। সমৃদ্ধ হবে চুয়াডাঙ্গার ফুটবল অঙ্গন। 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতেও চুয়াডাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গনকে মুখরিত রাখতে এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন আলমডাঙ্গা উপজেলা দল ও রানার্স-আপ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলের খেলোয়াড়দের হাতে প্রাইস মানি ও  ট্রফি তুলে দেন। তীব্র উত্তেজনা আর জমকালো সাংস্কৃতিক আবহ আর কর্দমক্ত মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে চুয়াডাঙ্গার বেশ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। 


ফাইনাল খেলার ট্রফি উন্মোচন, মঞ্চে বসে জমকালো ফুটবল লড়াই উপভোগ করতে ও ন্যাশনাল ক্যাটাগরির মঞ্চে আহরণ করে  ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের স্বামী এ বি এম নাজিমউদ্দিন আহমেদ, দুই সন্তান রুহি ও রহিন,চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা: হাদী উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান।


এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিকুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোঃ হুমায়ুন কবীর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনুর আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া সুলতানা এ্যানী, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আরডিসি এসএম আসিফ মমতাজ, আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মহেশ্বর মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরি, আব্দুর রউফ শিবলু, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বিলাস, চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক  সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, সদর উপজেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি ইকরামুল হক, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি আতিয়ার রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদর উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা ,সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ইমরান মহলদার রিন্টু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাকন প্রমূখ। 


সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহরিন হক মালিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা, সাবেক কৃতি ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন, সারোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু, শেখ শরিফুল ইসলাম, নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতি গোলরক্ষক রবিউল ইসলাম মল্লিক, সাবেক কৃতি ফুটবলার মিজানুর রহমান মানিক, আইয়ুব হোসেন, টিপু সুলতান, বাবু মুন্সী,শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার,আলমডাঙ্গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মন্ডল, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, সোহাগ, মুরাদ ফেরদৌস, দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুর রহমান বাচ্চু, জীবন নগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শাহাজাহান কবীর, ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ক্রীড়া সংগঠক আবদুল মতলু, চুয়াডাঙ্গা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কোষাধক্ষ্য আশাবুল হক আশা, দপ্তর সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজন, সাবেক ফুটবলার মিলন বিশ্বাস, ঢাকা ব্রাদারস ক্লাবের সাবেক অধিনায় তরিকুল ইসলাম তরু, সোহেল রানা,আহসান খান, সুমন প্রমূখ।


পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি ও জেলা প্রশাসক লুৎফুনাহরের যৌথ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার সাবেক ফুটবলারদের কে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। 


মরণোত্তর সম্মাননা ক্রেস্ট প্রাপ্তরা হলেন: বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত হায়দার আলী জোয়ার্দ্দার, প্রয়াত সাবেক ফুটবলার মোজাম্মেল হক, প্রয়াত সাবেক ফুটবলার নুরুজ্জামান, প্রয়াত সাবেক ফুটবলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ তোতা মিয়া, সাবেক ফুটবলার প্রয়াত আশরাফ জোয়ার্দ্দার সাবু।


আজীবন সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় সাবেক কৃতি ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন ও কানাডা প্রবাসী কৃতি ফুটবলার মামুন জোয়ার্দ্দারকে।


এছাড়া জীবিত কৃতি ফুটবলারদের দেওয়া হয় সম্মাননা স্বারক। স্মারক ক্রেস্ট প্রাপ্ত সাবেক ফুটবলরা হলেন, সাবেক ফুটবলার সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু, সাবেক ফুটবলার আবুল কালাম আজাদ, সাবেক কৃতি গোলরক্ষক রবিউল ইসলাম মল্লিক, সাবেক ফুটবলার শহিদুল ইসলাম কদর জোয়ার্দ্দার, সাবেক ফুটবলার শেখ শরিফুল ইসলাম, সাবেক ফুটবলার গিয়াস উদ্দিন পিনা, সাবেক ফুটবলার নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতি গোল রক্ষক খন্দকার আমিরুল ইসলাম বাবলু, সাবেক কৃতি গোল রক্ষক রিয়াসাদ শামীম জোয়ার্দ্দার আবির, সাবেক ফুটবলার মিজানুর রহমান মানিক ও সাবেক ফুটবলার রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা। 


ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় চুয়াডাঙ্গা ডি এফ এর সভাপতি একলাস উদ্দিন সুজন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের থিম সং রচয়িতা শাহ আলম সনি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী মামুনুজ্জামান আদুন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ইমরান মহলদার রিন্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মন্ডল, জীবননগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শাহাজাহান কবীর, দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুব বাচ্চুকে। টুর্নামেন্টে বিশেষ অবদানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজীকে। 


খেলোয়াড়দের কে উৎসাহিত করার জন্য টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফাইনাল অবধি বিভিন্ন ক্রীড়া মোদী ব্যাক্তি, ক্রীড়া সংগঠকরা ফুটবলারদের কে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফুটবলারদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেন। সে ঘোষণা অনুযায়ী টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা কে আর্থিক পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড়ের আর্থিক পুরস্কার দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম- সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট  খন্দকার অহিদুল আলম মানি, তরুণ উদীয়মান দু-জন খেলোয়াড়কে আর্থিক পুরস্কার দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি'র ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও বিশিষ্ট আম ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, টুর্নামেন্টের ৮ জন সেরা দর্শকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রায়ত কৃতি ক্রিকেটার মাহফুজের পিতা চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, সেরা গোলরক্ষক ও সেরা ধারাভাষ্যকারের পুরস্কার প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুল হক।

 

টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফাইনাল অবদি প্রতিটি ম্যাচের ম্যান অব দি ম্যাচের আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন আলমডাঙ্গা মন্ডল স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী মামুন অর রশিদ মন্ডল, টুর্নামেন্টের নির্ধারিত সময়ের প্রথম গোলদাতার পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আল্লাহর দান হোটেলের স্বত্বাধিকারী রায়হান উদ্দিন। গ্র্যান্ড ফাইনালের প্রথম গোলদাতাকে পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন আনাস এগ্রোর স্বত্বাধিকারী রাসেল বিশ্বাস।এছাড়া উদীয়মান সেরা ডিফেন্ডার ও মিড ফিল্ডার কে পুরস্কার দেন তুষন এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মনোয়ারুল ইসলাম সুমন এবং ম্যান অব দ্যা ফাইনালের আর্থিক পুরস্কার প্রদান চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি। 


চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনে খুশি হয়ে জেলার ফুটবলপ্রেমী দর্শকরা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিকুজ্জামান ও সদ্য বদলি আদেশ পাওয়া এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।


গতকালের ফাইনাল ম্যাচটি পরিচালনা করেন প্রধান রেফারি সাজ্জাদ হোসেন, দুই সহকারি শফিকুন নবী রিয়ান, লিটা হোসেন, ইমাম হোসেন ও ম্যাচ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন রেজাউৱ হক জোয়ার্দ্দার রেজা। 


খেলার ধারা বিবরণী করেন ইসলাম রকিব ও শামীম খান।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।


কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।


তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।


প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে। 


অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।


বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।


গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।


হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়। 


গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।


হেমন্ত ঋতু আমাদের  জানিয়ে দিচ্ছে  জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার  ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।


গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।


এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।


গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।


তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

"নাটক মনুষ্যত্ব ও বিবেককে শাণিত  করে” -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নুতন নাট্যকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে এই কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 


ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বিশেষ অতিথি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক  এস, এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলকে মোবাইলে অনলাইনে অযথা সময়  নষ্ঠ না করে আলোকিত মানবিক জীবন গড়তে নাটক বা সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া চর্চা বা পাঠ্যাভাষে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।


কর্মশালায় মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা আরণ্যক নাট্য দলের সিনিয়র নাট্য শিল্পী ও মিউজিক ডিরেক্টর পরিমল মজুমদার এ  নাটকের মঞ্চে ও ব্যক্তি জীবনে নিজেদের উপযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করছেন। 


উন্মুক্ত এ কর্মশালায়  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য  পেশাজীবীসহ ৫০জন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

দ্রুততম সময়ে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়াচ্ছে নীলফামারীর বিচার বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় একদিনে পৃথক তিনটি মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।​গত (২৩ অক্টোবর)নীলফামারীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।


আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. রনি ইসলাম ও মো. রাজু নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে জনউপদ্রব সৃষ্টির দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মো. শামীম নামে অপর এক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়।


আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে যেমন বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। আদালত অপরাধের ধরন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

​

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আজ শুক্র/শনি ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যটকদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো বুকিং হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে রুম সংকট। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড় 


 বৃহস্পতিবার পুজার ছুটি শেষ হলেও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটায়। বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্নয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।


আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা সমুদ্রের নোনাজলে গোসল, খেলাধুলা সহ হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাকঁড়ার চর সহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাতার কেটে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন শিশু কিশোর সহ নানা বয়সী ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউবা আবার প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার মোবাইলে কিংবা ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় বন্ধী হয়ে এমন সুখকর মুহুর্ত গুলোকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন। সূর্যোদয় সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বীচ কার্নিভাল উৎসব পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ বলে জানিয়েছেন আগতরা।


বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সড়ক ও বীচ এলাকায় তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন, এলইডি টিভি স্থাপন সহ নানা সাজসজ্জা করা হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে বীচ ফুটবল, বীচ ম্যারাথন, ঘুরি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুথিপাঠ, সাংস্কৃতিক সন্ধা, বাউল গান,পর্যটন বিষয়ক প্রমান্য চিত্র,ভলিবল খেলা, সেলিব্রিটি বীচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো,আতশবাজি সহ নানা আয়োজন করেছে। 


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী আরমান আলিফ, হাসান (আর্ক), ঐশি সহ দেশের খ্যতনামা শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও গান পরিবেশন করবেন কার্নিভাল উৎসবে। বীচ কার্নিভাল উৎসব উপভোগ সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীরা রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।


বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এ বীচ কার্নিভাল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।বীচ কার্নিভাল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীচ কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। বিশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি, পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, স্থানীয় সাংসদ এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের মিজ সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসি প্রমুখ।


এদিকে কুয়াকাটার ৩ শতাধিকেরো বেশি আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট থাকলেও তা আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় বুকিং ছাড়া এসে রুম সংকটে পরেছেন পর্যটকরা।পর্যটকদের  ভীড়কে পুঁজি করে চা ১০ টাকা,ডাব ২৫০ টাকা পিচ,ভ্যান-আটো ভাড়া ইচ্ছেমতো,খাবার হোটেলে অতিরিক্ত খাবার বিল ও আবাসিক হোটেলে বেশি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে অনেক হোটেলের বিরুদ্ধে।


পূজার ছুটি এবং বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিক্রি বেড়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কার্নিভালের দুই দিনে ৩ লাখ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনে কিছুটা রুম সংকট দেখা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এসোসিয়েশন ভূক্ত আবাসিক হোটেল গুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এসোসিয়েশন আওতাভুক্ত নয় এমন হোটেল মোটেল রিসোর্ট অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবার পরামর্শ দেন তিনি।


কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. ইনস্পেক্টর নাজমুল ইসলাম জানান, আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশ, এসআরবি সহ গোয়েন্দা সদস্য সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি রাখবেন। এছাড়াও সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা রাখতে কুয়াকাটা পৌরসভা সহ ট্রাফিক পুলিশ টহল থাকবে। 


কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন, পৌর প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক অবস্থা অব্যাহত আছে।কুয়াকাটায় কোন আইন অমান্যকারির ক্ষমা নেই। 


কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, পর্যটকদের উপর কোন অন্যায় আচরন বরদাস্ত করা হবে না। বীচ কার্নিভালের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অতিরিক্ত নজরদারি করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম সহ তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।পর্যটকদের নিরাপত্তায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।