এসপি রুহুল কবীর খান

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৭ পিএম

মাদকবিরোধী অভিযান, চাঁদাবাজি, সড়ক অবরোধ, যানজট নিরসন, মোবাইল গেইম- জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির সাধ্যমে সামাজিক আন্দোলনের পথ ধরে চুয়াডাঙ্গার আইন-শৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তনে উন্নয়ন ও প্রত্যাশার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) রুহুল কবীর খান।


বিগত মাসের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে,চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।


২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে দর্শনা থানাধীন আকন্দবাড়িয়ায় একটি বড় ধরনের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। "মাদকের আগ্রাসন দৃশ্যমান, প্রতিরোধেই সমাধান", প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ সভায় তিনি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উদ্যোগেও মাদকবিরোধী বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


চলতি পআগস্ট মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের হাতিকাটায় জেলা পুলিশ এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একটি বড় অনলাইন জুয়া ও মাদক সিন্ডিকেটের সন্ধান পায়, যেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ চক্রের মূল হোতাদের আটক করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


আগস্ট মাসের শেষের দিকে (২৮ আগস্ট ২০২৬) পুলিশের দায়ের করা পূর্বের মাদক মামলার শক্তিশালী তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা আদালত এক মাদক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন, যা পুলিশের অপরাধ দমনে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।


গত ২২ আগস্ট দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৩৩০ কেজি প্রক্রিয়াজাত করা চুল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের সরাসরি দিকনির্দেশনায় জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও দামুড়হুদা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ে ঘটনার ক্লু উদ্ধার করে এবং লুণ্ঠিত মালামালসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।


আইনশৃঙ্খলা তদারকির অংশ হিসেবে আগস্টের ১৯ তারিখে পুলিশ সুপার আলমডাঙ্গা থানাধীন আসমানখালী পুলিশ ক্যাম্পের বার্ষিক পরিদর্শনের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন।


আগস্টের শেষ সপ্তাহে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এবং হাটবোয়ালিয়া ক্যাম্প পুলিশ বিশেষ রাত্রিকালীন অভিযান চালিয়ে মাদক, চুরি ও নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনে একাধিক মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দ করেছে।


চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ, অপরাধমুক্ত এবং শান্তিময় হিসেবে গড়ে তুলতে এক অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়ে চলেছেন নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) রুহুল কবির খান। যোগদানের পর থেকেই তিনি মাদক, চাঁদাবাজি, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এক মাস ধরে জেলাজুড়ে পরিচালিত তার বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে নেওয়া দূরদর্শী পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তৈরি হয়েছে একটি দুর্বার সামাজিক আন্দোলন এবং উন্নয়ন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির নতুন ঠিকানা।


চুয়াডাঙ্গাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পুলিশ সুপার রুহুল কবির খানের নির্দেশে জেলা পুলিশ দিনরাত সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ও মাদকপ্রবণ পয়েন্টগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে চিহ্নিত বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে।


শুধু মাদকই নয়, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বাঁধা জুয়ার আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে জেলার কুখ্যাত জুয়াড়িরা এখন এলাকাছাড়া।


তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অনলাইন জুয়া এবং ক্ষতিকর মোবাইল গেমের (যেমন- ফ্রি ফায়ার, পাবজি) বিরুদ্ধে অভিনব এক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন এসপি রুহুল কবির খান।


বিভিন্ন পার্ক, চায়ের দোকান ও স্কুল-কলেজের আশেপাশে অভিযান চালিয়ে মোবাইল গেমে আসক্ত কিশোরদের আটক করে সচেতন করা হচ্ছে।


আটককৃতদের থানায় এনে শাস্তির বদলে তাদের অভিভাবকদের ডেকে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে, যা চুয়াডাঙ্গায় অপরাধ দমনে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


সাধারণ ব্যবসায়ী এবং পরিবহন খাতের ওপর চেপে বসা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন নতুন এসপি। মহাসড়ক কিংবা বাজার-কোথাও কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় বরদাশত করা হচ্ছে না। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে চাটুকার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


রুহুল কবির খান চুয়াডাঙ্গায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই পুলিশি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়েও দ্রুততর সাথে সাথে । থানায় জিডি বা অভিযোগ করতে এসে এখন আর সাধারণ মানুষকে কোনো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের বক্তব্য—"বর্তমান এসপি স্যারের কঠোর ও সততারুণ্য পদক্ষেপের কারণে চুয়াডাঙ্গার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং নিরাপদ।"


চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সমাজকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব। এসপি রুহুল কবির খানের এই সাহসী অভিযান চুয়াডাঙ্গাবাসীর মনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।




জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

‎শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে ক্ষমা চেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।



‎শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে হুইপ নিজান লেখেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আমার বক্তব্যের কিছু অংশের কয়েকটি বাক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আপনারা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।’



তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা লক্ষ্মীপুর-৪ এর রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ, তরুণ-তরুণী, আমার বিপক্ষ দলের রাজনৈতিক নেতা এবং অন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই- আমার বক্তব্যের যে অংশটুকু আসলে ধর্মীয়ভাবে বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দেয়, সে অংশটুকুর জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনাদের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি।’



বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জানিয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান লেখেন, ‘আমি বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের মদীনায় অবস্থান করছি। এ পবিত্র স্থানে এসে আমি কায়মনোবাক্যে দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার ঈমানকে আরও সুদৃঢ় ও মজবুত করেন। মহান আল্লাহ যেন আমাকে সবার কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত রাখেন, আপনাদের কাছে সে দোয়া চাই।’



উল্লেখ্য, সম্প্রতি রামগতি ও কমলনগরের দুর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় দেওয়া তার একটি বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সুশীল ও তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পাহাড়ে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি

থমথমে সাজেকে আতঙ্ক, পর্যটন ব্যবসায় ধস


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। 


এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে আবারও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।




এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা। 


গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে।


অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসাবে বিভিন্ন মহল থেকে উলে­খ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। 


জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ


বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে 


রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে।  


বন্ধ সাজেক, বড় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা


নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। 


সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা  মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন,  কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহণ খাত, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়েছে। একই কথা জানান সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা। 


সাজেক খুলে দিতে আলটিমেটাম


পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, ‘আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব।’ 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।


কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।


তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।


প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে। 


অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।


বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।


গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।


হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়। 


গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।


হেমন্ত ঋতু আমাদের  জানিয়ে দিচ্ছে  জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার  ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।


গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।


এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।


গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।


তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

"নাটক মনুষ্যত্ব ও বিবেককে শাণিত  করে” -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নুতন নাট্যকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে এই কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 


ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বিশেষ অতিথি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক  এস, এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলকে মোবাইলে অনলাইনে অযথা সময়  নষ্ঠ না করে আলোকিত মানবিক জীবন গড়তে নাটক বা সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া চর্চা বা পাঠ্যাভাষে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।


কর্মশালায় মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা আরণ্যক নাট্য দলের সিনিয়র নাট্য শিল্পী ও মিউজিক ডিরেক্টর পরিমল মজুমদার এ  নাটকের মঞ্চে ও ব্যক্তি জীবনে নিজেদের উপযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করছেন। 


উন্মুক্ত এ কর্মশালায়  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য  পেশাজীবীসহ ৫০জন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।