দুই দফায় অ্যাম্বুলেন্স রাস্তায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ এএম

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে রোগী গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই দফায় অ্যাম্বুলেন্স রাস্তায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর সেই রোগী ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছার আগে মারা যান। মারা যাওয়া ব্যক্তির নামা জমশেদ আলী ঢালী (৭০)। তাঁর বাড়ি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকায়। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।


মারা যাওয়া ব্যক্তির স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন লোক ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও জামতলায় দুই দফায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁরা মুক্ত হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে জমশেদ আলী বিকেল চারটার দিকে মারা যান।


জমশেদ আলীর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জমশেদ আলী গতকাল সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্বজনেরা সকাল নয়টার দিকে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়। এরপর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।


রোগীর স্বজনেরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করেন। রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স ওঠানোর পর ভাড়া আরও বেশি দাবি করা হয়। তখন স্বজনেরা তাঁদের পরিচিত একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার দিকে রওনা হন। 


তখন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেন। তাঁরা দাবি করতে থাকেন, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে কেন বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া হচ্ছে।


এরপর স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে ৪০ মিনিট পর অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে আবার রওনা হয়। নড়িয়ার জামতলা এলাকায় যাওয়ার পর আবার ওই চক্র অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। ৫০ মিনিট বাগ্‌বিতণ্ডার পর অ্যাম্বুলেন্সটি ছাড়া হয়। 


তখন রোগীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করে। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের কাছাকাছি যাওয়ার পর রোগী মারা যান।


রাত আটটার দিকে জমশেদ আলীর লাশ নিয়ে তাঁর স্বজনেরা শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় আসেন। তাঁরা ঘটনাটি প্রথমে মৌখিকভাবে পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।


জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন গতকাল রাত নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা যাওয়ার পথে দুটি স্থানে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে আমরা অসুস্থ নানাকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হই। ঢাকায় পৌঁছালেও হাসপাতালে পৌঁছাতে পারিনি, তার আগেই নানা মারা গেছেন।’


শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালের দিকে বয়স্ক এক লোক স্ট্রোকের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর যাওয়ার পথে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে কী ঘটেছিল, তা আমরা বলতে পারব না।’


এর আগে গত বছরের ১৪ আগস্ট শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ওঠানোর কারণে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা তা আটকে রাখেন। তখন ওই অ্যাম্বুলেন্সে এক নবজাতক শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা পালং মডেল থানায় ১৬ আগস্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক চালক আবু তাহের, তাঁর ছেলে সবুজ দেওয়ানসহ চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।


জানতে চাইলে অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালক সুমন খান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় চলাচল করে এমন একটি অ্যাম্বুলেন্সে শরীয়তপুর হাসপাতালের রোগী ওঠানোর কারণ জানতে চেয়েছিলাম চালকের কাছে এর বেশি কিছু নয়। আমি কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখিনি, এ অভিযোগ সঠিক নয়।’


শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি মৌখিক হওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা লিখিত অভিযোগ করবেন। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’





  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০০ পিএম

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) বিজিবির দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ধর্মজান, রামচন্দ্রপুর ও চাপসার বিওপির সদস্যরা দিনাজপুর জেলার বিরল এবং ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালান। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় মদগুলো উদ্ধার করা হয়।


বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত গড়ে তুলতে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। সীমান্ত অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান বজায় রেখে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা ও গোয়েন্দা নজরদারী আরও জোরদার করা হবে।


সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।


সুগন্ধা পয়েন্টে ‘দ্য সি প্রিসেন্স’ নামের এই আবাসিক হোটেলের নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০২ পিএম

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে ‘দ্য সি প্রিসেন্স’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় হোটেলটিতে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর সকলেই নিরাপদে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান।


শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে হোটেলটির নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পার্কিং এলাকার জেনারেটরসহ বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগুনের পর হোটেল থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন পর্যটকেরা

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুতই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধারণা করা হচ্ছে, জেনারেটরের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তবে কেউ হতাহত হননি।


দ্য সি প্রিসেন্স- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের জানান, আমাদের যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে। কর্মীদের দক্ষতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকেরা নিরাপদে আছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা

এর আগে ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় ‘টুপটুপ রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার এক সপ্তাহের ব্যবধানে কক্সবাজারের আরেকটি হোটেলে আগুনের ঘটনা ঘটল।




ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।


থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।


ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।


সংসদ সদস্য, তাঁর পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।


একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।


পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’


ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’


মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’


ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’


ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’


নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তাঁর সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’


ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ তুলে ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।


অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।


জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।