• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:১৫ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে কাউসার নামে এক ইউপি সদস্য ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে দৈনিক মানবকন্ঠের সংবাদিক রাশেদুল ইসলামকে পুলিশ নিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।


সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি দৈনিক মানবকন্ঠে পত্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় আওয়ামীলীগ নেতাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এসকল বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রশিদের ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে রাশেদুল ইসলামকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় তিনি গালাগালাজ করতে নিষেধ করলে কাউসার ক্ষিপ্ত হয়ে রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজনকে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করবে বলে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। বর্তমানে রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবারের চরম আতঙ্কে দিন পার করছে।


ভোলাব এলাকার স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য কাউসারের বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে কাউসার আওয়ামীলীগের সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর খুব কাছের লোক ছিলেন। গোলাম দস্তগীরের সক্ষ্যতা কাজে লাগিয়ে কাউসার বনে যান ইউপি সদস্য। কাউসার ও তার বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক গ্রামে ছিল আতঙ্কের নাম। তারা বাবা ছেলে মিলে অবৈধভাবে কৃষকের জমিতে বালু, অবৈধ ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ থেকে একাধিক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের চারিতালুক এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। গত ৫ ই আগষ্টের পর কাউসার মিয়া দল পাল্টে বনে যায় বিএনপি নেতা। বিএনপিতে যোগ দিয়ে ইউপি সদস্য কাউসার আবারো বেপরোয়া হয়ে যেতে থাকে।


এ ঘটনায় রূপগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।


এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তবে আমি তাকে কোন হুমকি ধামকি বা গুম করার কথা বলিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।


এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারীউত্তাল সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী নামে এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


বৃহ্স্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে শহরের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে রায়পুর থানা পুলিশ।


তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  গ্রেফতার ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী রায়পুর উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। তিনি পৌর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।  এ বিষয়ে জানতে তার স্ত্রী রায়পুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


রায়পুর থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগে ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠান হবে।


জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

‎শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে ক্ষমা চেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।



‎শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে হুইপ নিজান লেখেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আমার বক্তব্যের কিছু অংশের কয়েকটি বাক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আপনারা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।’



তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা লক্ষ্মীপুর-৪ এর রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ, তরুণ-তরুণী, আমার বিপক্ষ দলের রাজনৈতিক নেতা এবং অন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই- আমার বক্তব্যের যে অংশটুকু আসলে ধর্মীয়ভাবে বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দেয়, সে অংশটুকুর জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনাদের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি।’



বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জানিয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান লেখেন, ‘আমি বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের মদীনায় অবস্থান করছি। এ পবিত্র স্থানে এসে আমি কায়মনোবাক্যে দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার ঈমানকে আরও সুদৃঢ় ও মজবুত করেন। মহান আল্লাহ যেন আমাকে সবার কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত রাখেন, আপনাদের কাছে সে দোয়া চাই।’



উল্লেখ্য, সম্প্রতি রামগতি ও কমলনগরের দুর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় দেওয়া তার একটি বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সুশীল ও তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পাহাড়ে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি

থমথমে সাজেকে আতঙ্ক, পর্যটন ব্যবসায় ধস


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। 


এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে আবারও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।




এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা। 


গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে।


অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসাবে বিভিন্ন মহল থেকে উলে­খ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। 


জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ


বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে 


রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে।  


বন্ধ সাজেক, বড় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা


নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। 


সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা  মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন,  কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহণ খাত, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়েছে। একই কথা জানান সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা। 


সাজেক খুলে দিতে আলটিমেটাম


পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, ‘আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব।’ 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।


কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।


তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।


প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে। 


অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।


বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।


গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।


হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়। 


গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।


হেমন্ত ঋতু আমাদের  জানিয়ে দিচ্ছে  জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার  ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।


গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।


এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।


গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।


তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।