মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জটিল রোগে আক্রান্ত আরও কেউ যদি চিকিৎসা সহায়তার বাইরে থাকেন, তারা আবেদন করলে আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করছি, ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জটিল রোগে আক্রান্ত ছয়জন রোগীর প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও কাজ চলছে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে কীভাবে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে অনুযায়ী সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ছে। গত দুর্গাপূজাতেও প্রধানমন্ত্রী বেশি পরিমাণে অনুদান দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এসব সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়বে। জনগণের পাশে সরকার সব সময় আছে এবং থাকবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও সফিকুর রহমান সফিক, টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
চেক বিতরণ শেষে জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের অদূরে, মাত্র দুই কিলোমিটার দূরেই উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ির ভিতর কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করেন মহিলা শ্রমিকরা। রাতের আঁধারে বাজারজাত করা হয় নকল পণ্য। বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব অবৈধ কারবার। মাঝে মাঝে অভিযান চালায় প্রশাসন। কিন্তু বন্ধ হয়না নকল পণ্য উৎপাদন। এবার সেখানেই অভিযান চালান জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, এসআরবি, উপজেলা প্রশাসন ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। নকল সার আর ভেজাল কীটনাশক তৈরির দায়ে সিলগালা করা হয় সেখানকার “এসডি এগ্রোভেট” নামের কারখানাটি। সেই সাথে একজন মালিককে একমাসের কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অপরজনের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় ভেজাল সার ও কীটনাশক তৈরির বিপুল পরিমাণ সামগ্রী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় অভিযানটি পরিচালনা করার সময় কারখানাটির মালিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর আলম পলাতক ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাহিনুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে নকল পণ্য তৈরি করে সাধারণ চাষীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। নকল পণ্য বাজারজাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। শাহীনুরের পিতা মোতার হোসেনের মৃত্যুর কারখানাটি শাহীনুর ও তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন পরিচালনা করে আসছে।
অভিযান পরিচালনাকারি মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনের অভিযোগে এসডি এগ্রোভেটের মালিক শাহিনুরের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী হাসনাত জাহান পাপিয়ার বিরুদ্ধে বালাইনাশক আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা, একই নামে আরেকটি কারখানা চালানোয় শাহিনুরের ভাই দেলোয়ার হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেয়া মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সেখান থেকে হরমন প্লাস ৬৫ কন্টেইনার, ওস্তাদ ক্যারেট ব্যাডকিলার ১১৫০ প্যাকেট, বিন্না ক্লাস ১ কেজি, দীন জৈব সার ৪০ কেজি, খোলা ছাঁই, খোলা গোবর, বিভিন্ন চকের গুঁড়া, মিশ্রণ মেশিন জব্দ করেছেন। এখানে ছাঁই, গোবর, তামাকের গুঁড়া মিশিয়ে জৈব সারের মিশ্রণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এটার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেষ্টে পাঠানো হবে। জৈব সারের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে। বালাইনাশক চকের গুঁড়া বানাচ্ছে তেলাপোকা মারার জন্য। সেখানে তারা সাইপার মেথিন মেশাচ্ছে যা অবৈধ। চকের গুঁড়া পিএইচপি রেজিষ্ট্রেশনে রাখে, কিন্তু সাইপার মেথিন একটা কীটনাশক, এটা ইমপোর্ট করার অনুমতি নাই। বাড়ির মধ্যে এরকম কীটনাশকের কারখানায় যারা কাজ করছে, তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মথ্যে রয়েছেন। অচিরেই বড় রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে। এই কারখানাটি পরিবেশের এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র কিভাবে পেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এসআরবি-৫ এর কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে অবৈধভাবে নকল সার ও কীটনাশক তৈরি করে আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। কৃষক ফসলের ফলন বাড়ানোর জন্য এসব প্রয়োগ করছেন। কিন্তু ফলন বাড়ার পরিবর্তে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই কৃষিপ্রধান দেশে আমরা যদি কৃষকদের প্রতারণা করি, তাহলে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এখানে উৎপাদিত সারের গায়ে যেসব সামগ্রীর নাম লেখা আছে তার বিন্দুমাত্র বস্তার ভিতর নেই। এটা দেশের জন্য রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অবস্থা।
উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ৪ জুন এই কারখানায় একই অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনিক চৌধুরী। এসময় র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মোহাইমেনুর রশিদসহ সিপিসি-৩, র্যাব-৫ জয়পুরহাটের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।"ওস্তাদ" ব্রান্ডের কীটনাশক ও বিষ উৎপাদনের অনুমতি থাকলেও তারা সিরিয়াস, ম্যাজিক, কারেন্ট, দ্বীন গোল্ড হরমোন প্লাস, অল-ক্লিয়ার ইত্যাদি অননুমোদিত নকল ব্রান্ডের পাউডার ও কীটনাশক উৎপাদন করে আসছিল। অভিযানে শাহিনুর আলমের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
বিরলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে ব্যাপক কর্মসূচী উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮ নভেম্বর ২০২৬ রবিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবুল হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম আক্কাস এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ লিয়াকত আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলন, পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক লুৎফর রহমান প্রমূখ। এসময় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরজামাল হোসেন সোনাহার, সহসভাপতি আাসাদুল হক হীরা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল ইসলাম বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার আলী, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি বেলাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মুবাশ্বেরুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছা সেবকদলের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন রেজা, সদস্য সচিব রেজাউল ইসলাম রুবেল, পৌরছাত্রদলের আহ্বায়ক মাইদুল ইসলাম মাহিদ, সদস্য সচিব শিহাব ইমতিয়াজসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ১২ টি ইউনিয়ন হতে আগত নেতৃবৃন্দসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশাল একটি র্যালি সহকারে পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করেন।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ভালুকায় বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নেতৃত্বে এ র্যালি বের করা হয়।
র্যালিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। র্যালিটি ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন পাঠান ও পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সিলেটের ঐতিহাসিক কিনব্রিজে দীর্ঘদিন ধরেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ‘নতুন ব্রিজ’ নামে পরিচিত নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় সুরমা নদীর উপর নির্মিত হযরত শাহজালাল (রহ.) সেতুতে চাপ বেড়েছে। ওই সড়কে প্রতিদিনই লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। এ অবস্থায় ‘নতুন ব্রিজেও’ যানচলাচলে বিধিনেষেধ আরোপ করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। যা শনিবার রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে আগামী কয়েকদিন। এতে নগরে যানজট আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট নগরেই এমনিতেই যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সিলেট নগরের যাত্রী ও চালকদের দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে হচ্ছে জ্যামে। এ অবস্থায় নতুন করে একটি সেতুতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপে যানজট আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নগরীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ১৯৩৬ সালে চালু হওয়া কিনব্রিজ বর্তমানে জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে সংস্কারের পর এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি শুধু মোটরসাইকেল ও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। আর শনিবার রাত থেকে মেন্দিবাগ এলাকার সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত এক্সপানশন জয়েন্ট মেরামতের কারণে সেতু দিয়ে যানচলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সংস্কার কাজের জন্য দুই দফায় বন্ধ থাকবে সেতুর একটি লেন। এ সময় রিক্সা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার পাশাপাশি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানকে বিকল্প সেতু ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৭ নভেম্বর রাত ১১টা থেকে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রথম দফায় মেরামত কাজ চলবে। দ্বিতীয় দফায় ১৪ নভেম্বর রাত ১১টা থেকে ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে একই কার্যক্রম। এ সময় মেন্দিবাগ থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর এবং বিপরীতমুখী সড়কে সব ধরনের রিকশা চলাচল বন্ধ থাকবে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলবে নির্ধারিত রিক্সা লেন দিয়ে। সেতু দিয়ে চলাচলের সুযোগ পাবে শুধু প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, জরুরি ও সেবামূলক যানবাহন। ছোট-বড় সব ধরনের ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানকে কাজিরবাজার সেতু ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মেরামতকাজের সুবিধার্থে সেতুর একটি লেন পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখা হবে। অপর লেন দিয়ে চলবে উভয়মুখী যানবাহন। এতে যানজটের আশঙ্কা থাকায় চালকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় জানান, মেরামতকাজ চলাকালে যানজট এড়াতে নির্ধারিত ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলতে নগরবাসী ও চালকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে,সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশ দিয়ে নতুন একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পাশাপাশি কান্দিগাঁও ইউনিয়নে সুরমা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি। সিলেট নগরের ব্লু ওয়াটার শপিং সিটিতে একটি অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিন ব্রিজ দিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচল করে না। ব্রিজটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এর পাশে নতুন একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। তিনি বলেন, সিলেটের ঐতিহাসিক স্থাপনা আলী আমজাদের ঘড়ি ও সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অক্ষত রেখে কীভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে একই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সুরমা নদীর ওপর কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এস্থানে সেতু নির্মান হলে সিলেট সুনামগঞ্জ মহাসড়ক থেকে মিরপুর মুফতিরবাজার বাজার হযে বিশ্বনাথ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের সিলেট নগরীর সাথে যাতায়াতের সুবিধাও ব্যবসা বানিজ বাড়বে।
প্রবাসীকল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার রাতে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় যান। এরপর রোববার সকালে বিমানযোগে ঢাকা চলে যান মন্ত্রী।এমন তথ্য জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর সহকারী সোহেল আহমদ জানন, মন্ত্রী এখন অনেটাই সুস্থ। গতরাতে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে কুমারপাড়ার বাসায় যান। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার ফ্লাইটে তিনি ঢাকা চলে গেছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, শুক্রবার সিলেট সফরে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আরিফুল হক চৌধুরী। সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জে যাওয়ার পর তামাবিল স্থল বন্দর পরিদর্শনে গেলে সেখানে বুকে ব্যথা ও শরীর ঝিমঝিম অনুভব করলে তাকে দ্রুত নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নগরের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ডা. শিশির বসাক,ও ডা. নজরুল ইসলামের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা সফর বাতিল করেন ওই এলাকার এই সংসদ সদস্য।