• প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। মামলার আসামীরা হলেন, মোক্তারপুর এলাকার কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ, মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল।


পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ গত প্রায় ৫ মাস আগে প্রতিবেশী কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ নামের এক যুবক শিশুটিকে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটির পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্য অভিযুক্ত স্থাণীয় মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রধান অভিযুক্ত আহাদ গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ওষুধ সেবন করান। 


গত ২১ অক্টোবর ভোরে শিশুটির গর্ভপাত ঘটে এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।


কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর ২২(১০)২৬ দায়ের করা হয়েছে। আসামী আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদের গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

চার মাস ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান পদে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।


​প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় বিসিএস ১৫ ব্যাচের আয়কর ক্যাডারের এই কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে তাঁকে প্রেষণে এনবিআরের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। 


প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে আহসান হাবিবকে তাঁর নিজ ক্যাডারে ফিরে যেতে হবে।


​উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন সরকার আহসান হাবিবকে আইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। এর পূর্বে তিনি এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত যুবকের নাম আক্তার হোসেন (৩০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। হামলার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।


গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দুপরিরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্তার মারা যান। তিনি ওই গ্রামের কালা মিয়ার পুত্র।


স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রোববার রাতে আক্তার হোসেন ও তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুল হালিম তাদের মাছ ধরতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।


পরে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল হালিমের ছেলেসহ ৩০ থেকে ৪০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্তার ও জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালান। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীরও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার অভিযোগে আটক ব্যক্তির নাম জুয়েল আহমদ (২৮)। তিনি একই গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি জানান, পুকুর থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথপট্টি এলাকায় ডিভোর্সের পরও সাবেক স্ত্রী দোলন আক্তারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছেন মো. রনি। ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে খুর দিয়ে গলা ও হাতে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় নগদ ৫ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী রনি ও তার বন্ধু মো. রহমানের বিরুদ্ধে। 


গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথপট্টি এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দোলন আক্তারের প্রথম স্বামী লুৎফর রহমান মারা যাওয়ার পর তিনি মো. রনি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই রনির চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল এবং সে প্রায়ই মাদক সেবন করে বিভিন্ন অজুহাতে দোলন আক্তারের কাছে টাকা দাবি করত। এই আচার-আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দোলন আক্তার তাকে ডিভোর্স দেন। 


ভুক্তভোগী দোলন আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বাপের বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে ঘরে রেখেছিলেন তিনি। এই বিষয়টি জানতে পেরে সাবেক স্বামী মো. রনি ও তার বন্ধু মো. রহমান অতর্কিতভাবে তার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে রনি তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং কাছে থাকা খুর দিয়ে হাতে ও গলায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। পরে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন, তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোলন আক্তার বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার ব্যাপারে  জানতে চাইলে শ্রীনগর থানা ওসি তদন্ত মিল্টন দত্ত জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০০ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের মাটি ও মানুষের বুক চিরে উঠে আসা উদীয়মান তরুণ লেখক আহির হোসেন লিউ। তাঁর সৃজনশীল লেখালেখির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। মানুষের জীবনের নানা অনুভূতির গল্প, যা হারিয়ে যাওয়ার পরও মনে রেশ রেখে যায়, সেগুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলছেন তাঁর সাহিত্যচর্চায়।


কখনো ভালোবাসার মিষ্টি স্মৃতি, কখনো গভীর বেদনা, আবার কখনো উত্তর না মেলা রহস্যময়তার দোলাচলে পাঠকের মন জয় করে চলেছে তাঁর লেখালেখি।


আহির হোসেন লিউর সাহিত্যকর্মের একটি অনন্য উদাহরণ হলো ‘শ্রীনগরের প্রেম যেন অভিশপ্ত’একটি অসমাপ্ত সুফিয়ানা প্রেমকাহিনি। এই গল্পটিতে প্রেম ও রহস্যের পাশাপাশি চমৎকারভাবে উঠে এসেছে মানুষের জীবনের নির্মম বাস্তবতা, প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা এবং সম্পর্কের হাজারো অমীমাংসিত প্রশ্ন। গল্পটির আখ্যানের কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র সরোয়ার সুফি ও মাহিরা মায়াত। তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্য দিয়ে লেখক এক আবেগময় পরিবেশ নির্মাণ করেছেন, যেখানে ভালোবাসা কেবল দুটি মানুষের মন লেনদেনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে দীর্ঘ অপেক্ষা, মধুর স্মৃতি এবং অজানা কোনো সত্যের খোঁজ।


এই গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর রহস্যময় আবহ। পাঠক যখনই একটি ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজতে যান, ঠিক তখনই সামনে চলে আসে নতুন কোনো প্রশ্ন। এর ফলে কাহিনীর অগ্রগতির সাথে সাথে পাঠকের মনে আবেগ, কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে থাকে।

লেখকের সাহিত্যিক ভাবনার একটি দারুণ দর্শন এখানে স্পষ্ট-সব গল্পেরই যে মিলনান্তক বা স্পষ্ট সমাপ্তি হতে হবে, তা নয়। কিছু গল্প পাঠকের মনে চিরকালের মতো প্রশ্ন ও ভাবনার খোরাক রেখে দিয়েই সার্থক হয়ে ওঠে।


প্রেম, বেদনা ও রহস্যকে একসূত্রে গেঁথে লেখক আহির হোসেন লিউ পাঠককে কেবল একটি ঘটনার সাক্ষী করেন না, বরং ঘটনার পেছনের মানুষটির মনস্তত্ত্ব বুঝতেও আহ্বান জানান। তাঁর এই সৃজনশীল পথচলা এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ সাহিত্যকর্মগুলো শ্রীনগর তথা দেশের সাহিত্য অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এমনটাই প্রত্যাশা পাঠকদের।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৪ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকা, হোমিও ডাক্তারখানায় জটিল আল্ট্রাসনোগ্রাম করা প্রভৃতির দায়ে দুই ভূয়া চিকিৎসকের জেল, জরিমানা, একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে বন্ধ করা ও অপর একজনের জরিমানা করা হয়েছে। 


গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা এনএসআই, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এসআরবি সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্পের গোয়েন্দা দল ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। আজ সোমবার বিকেলে এসআরবি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


আভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ। আদালত সূত্র জানায়, আভিযানিক দল উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন কাজী অফিসের পিছনে গলির ভীতর অবস্থিত “ফাতেমা হোমিও এন্ড আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেন্টারে” অভিযান চালিয়ে দেখতে পান যে, ফারুক হোসেন (৩২) নামে একজন হোমিও চিকিৎসক জটিল আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন যেটা একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া করতে পারেন না। এছাড়া চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ও ওষুধ বিক্রির বৈধ কোন নিবন্ধন ছিলনা। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৮(১) ধারায় ফারুক হোসেনের একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২০ দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে বন্ধ করা হয়। ফারুক হোসেন পোরশা এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে।


অভিযানে উপজেলার লিচুতলা এলাকায় প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকা “স্পেশালাইজড সেন্টার ফর ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এখানে যে চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তার ছাপা প্যাডে ব্যবস্থাপত্র লেখেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মাসুম আলী (২৮) নিজেই। চিকিৎসকের ভূয়া স্বাক্ষরও দেন তিনি। এসব অভিযোগে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৯ ধারায় মাসুম আলীর এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। তিনি উপজেলা সদরের সৈয়দ আলীর ছেলে। 


এছাড়া উপজেলার লিচুতলা হাউস বিল্ডিং মোড়ে “ফাইভ স্টার মেডিকেল সেন্টারে” অভিযান চালানো হয়। সেখানে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনিশিয়ান বেদারুল ইসলাম সাইনবোর্ডে নিজেকে চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানান রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তার মেয়ে এমবিবিএস ডাক্তারের নামে ছাপা প্যাডে তিনি নিজেই ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দিতেন। এই প্রতিষ্ঠানেরও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন নেই। এসব অভিযোগে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৮(১) ধারায় বেদারুল ইসলামের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি মান্দা এলাকার মৃত জেহের আলীর ছেলে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ফেরির ধাক্কায় পন্টুনের র‍্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাশে থাকা একটি স্পিডবোট থেকে শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।


বিকেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরি মাস্টার আমির হোসেন। 


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুপ্তছড়া ঘাটে ফেরির ধাক্কায় পন্টুনের র‍্যাম্প ভেঙে যায়। এ সময় পাশের একটি স্পিডবোটে থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে শিশুও ছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


এ ঘটনায় ফেরি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাস্টার আমির হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কীভাবে পন্টুনের র‍্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং যাত্রীরা নদীতে পড়ে গেলেন, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ফেরি মাস্টার আমির হোসেনের দায়িত্ব পালনকালে পন্টুনে ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছিল।


ঘটনার বিষয়ে ফেরি মাস্টার আমির হোসেন বলেন, ‘র‍্যাম্প পজিশনিং করার সময় একটু ডানে-বামে দেয়া লাগে। ওই সময় একটু ধাক্কা লাগে। যেটা দেখে যাত্রীরা ভয়ে লাফ দিয়েছে। তবে বড় ধরনের কিছু ঘটে নাই।’


সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এ নৌরুট। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এ পথে চলাচল করেন। তাই ফেরি ও স্পিডবোট পরিচালনায় সতর্কতা, পন্টুনের নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ সব খবর