• প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ সুনীল কুমার বণিক এর সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম।


কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজের প্রভাষক অন্তর হোসেন রানা ও নুসরাত জাহান মুনার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারী কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান খান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন।




কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নবীনবরণে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিরা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষাজীবনে নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য মনোযোগী হয়ে শিক্ষা গ্রহণ এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।



সর্বশেষ সব খবর

এসআই ফরহাদ মাতুব্বর

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ পিএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফরহাদ মাতুব্বরকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলার ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে কুলাউড়া থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে একটি পিকআপ গাড়ি আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। 


প্রতিবেদকের হাতে থাকা সংশ্লিষ্ট এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় ১নং আসামী দেশ পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ এজাহারনামীয় ১৮৪ নম্বর আসামি হিসেবে এসআই ফরহাদ মাতুব্বর (বিপি নং- ৮৯১৭২০১৮৪৫) এর নাম রয়েছে। এজাহারে ১৪৩/১৪৪/১৪৯/৩৪২/৪২৭/৩৮৪/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১১৪ ধারাসহ অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া হত্যা, ককটেল বিস্ফোরক ঘটানো ও সহায়তা করার অপরাধে এ মমালা রুজু করা হয়। এজাহারে তার কর্মস্থল হিসেবে পল্টন মডেল থানার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মামলার এজাহারে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন :  ফরহাদ মাতুব্বর পল্টন থানায় উপ-পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিএনপি‘র অনেক নেতাকর্মীকে রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাযুঘর ভাঙচুরের মামলায় বিএনপি‘র তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স-কে রিমান্ডে এনে হয়রানী ও নির্যাতন করেন।


পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ : অন্যদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬ কুলাউড়া থানায় একটি পিকআপ ঢাকা মেট্রো- ন- ১২-৪৭০১ গাড়ি আটকের ঘটনায় এসআই ফরহাদ মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।


সূত্রে প্রকাশ- পিকআপটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য এসআই ফরহাদ প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।


অভিযোগটি সত্য হলে, একজন মামলার এজাহারনামীয় আসামি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মামলার বিষয়টি কি কর্তৃপক্ষের জানা ছিল?


প্রশ্ন উঠেছে- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য যাচাই করা হয়েছিল কি না। এছাড়া মামলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানা থাকলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতাই বা কী? এমন প্রশ্নও উঠেছে।


যা বললেন এসআই ফরহাদ : অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানায় কর্মরত এসআই ফরহাদ মাতুব্বর বলেন, মতিঝিল ও পল্টন থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার একটা জরুরি ফোন আসছে। আপনার সাথে পরে কথা বলবো।” 


এরপর তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি।


পুলিশের বক্তব্য : এ বিষয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের মুঠোফোনে বলেন, “উনার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। উনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন- “ঘুষের টাকা লেনদেনের বিষয়টি সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার আসামির বিষয়টি আমার জানা নেই।”


সব মিলিয়ে, একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনকালে পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুটি বিষয়ই এখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি রাখে।

সর্বশেষ সব খবর

টঙ্গী শিশু উন্নয়ন (বালক) কেন্দ্র

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ পিএম

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চার আসামির মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে। 


আজ সোমবার বেলা ৩টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান।


শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে না পাঠিয়ে এই উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। 


মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, অপ্রতিম হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তদন্তে আরও একজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মোট চার আসামিকে আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বয়স বিবেচনা করে দুই কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 


নিহত ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 


গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরদিন গত শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

‎ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৯ পিএম

‎ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকারের এক পার্সেন্ট জমিও ছাড় দেওয়া হবে না। যারা সরকারি জমি দখল করে রেখেছে, তাদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা হবে। একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছিল কিন্তু বেচা হয়নি। এখন বাংলাদেশীদের দোযখের পথে নিতে চায়। দেশে যখন আমরা চেষ্টা করছি সকলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের উন্নতি সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে তখনই একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারো বাংলাদেশের নতুন করে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চায়।


‎২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানাগার উপকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য সাবমারসিবল পাম্প বিতরণ, পৌর শিশু পার্কের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন উদ্বোধন  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


তিনি আরো বলেন, এ সরকার রাতের ভোটের সরকার নয়, এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। তারেক রহমানের সরকার ১৮ কোটি মানুষের নির্বাচিত সরকার। সরকারের ১ ইঞ্চি জমিও কোন দখলদারের আয়ত্বে থাকতে দেয়া হবে না। সরকারি জমি উদ্ধার করে আমরা জনগণের কাজে সরকারি কাজে ব্যবহার করব। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও কাজ করার অনীহা একদিনে ঠিক করা যাবে না।


বাংলাদেশ যখনই স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যায় তখনই পলাতক স্বৈরাচাররা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসব আরেকদল বলে বোর্ডে সরকার পতন করে ফেলবে। এসব বলে কোন লাভ হবে না। আপনারা যে রাজপথের ভয় আমাদের দেখাচ্ছেন আমরা সেই রাজপথ থেকে সংসদে ও মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি।


এ সরকার যখন যাত্রা শুরু করে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শুরু করেছিল। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পেশ করার সাহস দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকা বাজেটের বরাদ্দ রেখেছেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, আজকে রূপগঞ্জের মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। তাদের ঠকানো হচ্ছে। নিরীহ এসব মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া একশ্রেণীর লোকেরা সরকারি জমিগুলো দখল করে রেখেছে। আজকে ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার মাঠ নেই। ঐসব সরকারি জমি উদ্ধার করে খেলাধুলার জন্য মাঠ তৈরি করার দাবি জানান তিনি। 

‎তারাবো পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।


অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, রুপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান হুমায়ুন, সহ-সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, আশরাফুল হক রিপনসহ রূপগঞ্জ থানা ও তারাবো পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দেড় ডজন মামলার আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। 


ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের ফরিঙ্গা গ্রামের ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের অফিস কক্ষে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


সূত্র জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় খালাতো ভাই পরিচয়ে অবস্থান করছিলেন।


গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁপাইন তালতলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত একাধিক মামলাসহ প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।


পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি সোহেল রানা। এসব মামলায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যাপক তৎপরতা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বারবার উঠে আসে সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানার নাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা যাচাই করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই তার ওপর বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন রোয়াইল এলাকার ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের ভবনে অভিযান চালায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। এ সময় সেখানে আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থাকার সময় সোহেল রানা নিজেকে কখনো স্কুল শিক্ষক, আবার কখনো ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় নিজেকে তার খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন, এভাবে ছদ্মবেশ ধারণ করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সোহেল রানা।


ঢাকা জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম।


গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে তার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।


পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।


এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তার পৃষ্ঠপোষক ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার বিচার দাবি করেছেন ফ্যাসিস্ট বিরোধী ছাত্র-জনতা।


প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা জুলাই মাসসহ গত ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাভার উপজেলার পতিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

জনপ্রিয় যুবদল নেতা সাজু

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৮ পিএম

মশিউর রহমান রাসেল দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ত্যাগ, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সাজুকে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ।


ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এনামুল হক সাজু দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এনামুল হক সাজু বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে মামলা ও কারাবরণের ঘটনাও রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা তাঁর রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করছেন নেতাকর্মীরা।


তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে এনামুল হক সাজুর প্রতি দলের তরুণ নেতাকর্মীদের একটি অংশের আস্থা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে তাঁর নামও সামনে এসেছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক সাজু বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। এ সময়ে অসংখ্য মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সবসময় রাজপথে ছিলাম। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যেভাবে, যখন যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেভাবেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছি।


ভবিষ্যতেও জিয়া পরিবারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বস্ততা রেখে রাজপথে থেকে দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, রাজনীতি করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন একদিন অবশ্যই হবে-ইনশাআল্লাহ।”


তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, ত্যাগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

সর্বশেষ সব খবর

নজরুলের কুশপুতুল দাহ করা হয়

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ পিএম

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় নজরুলের কুশপুতুল দাহ করা হয়। আজ সোমবার বেলা পৌনে ১২টায় শ্যামনগর জেসি কমপ্লেক্সের সামনে ‘সচেতন নাগরিক কমিটির’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।


এ সময় মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়। মিছিল শেষে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে গাজী নজরুলের কুশপুতুল দাহ করা হয়।


স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, “মরিয়মের মৃত্যুর জন্য গাজী নজরুল দায়ী। আমরা তার শাস্তি চাই।”


ভুরুলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, “গাজী নজরুল একজন নীতিহীন পথভ্রষ্ট মানুষ। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিল শ্যামনগরের মানুষ। সেই দাবির প্রতি মনোযোগ দিলে আজকে মরিয়মের মত মানুষকে জীবন দিতে হত না।”


সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির শাস্তি দাবি করে আটুলিয়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান হেলাল বলেন, “গাজী নজরুল আজীবন একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। তিনি গরিবের টিন চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন। কিন্তু রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি বিবেচনায় সব সময় নিজেকে নিরাপদ রেখেছেন।”


সদর উপজেলার বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, “মরিয়মকে বিয়ের কথাটি গাজী নজরুল প্রতারণামূলক প্রচারণা চালিয়ে ছিলেন। শুরুতে সেই অপরাধ চিহ্নিত করতে পারলে, আজকে মরিয়মের প্রাণহানি ঠেকানো যেতো।”


একই এলাকার রাফিয়া ইসলাম বলেন, “গাজী নজরুল সাতক্ষীরার মান-সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। সংসদের উচিত তাকে শুধু বরখাস্ত নয়, তার বিরুদ্ধে বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।”


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।


এ ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার।

সর্বশেষ সব খবর