ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দেড় ডজন মামলার আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের ফরিঙ্গা গ্রামের ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের অফিস কক্ষে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় খালাতো ভাই পরিচয়ে অবস্থান করছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁপাইন তালতলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত একাধিক মামলাসহ প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি সোহেল রানা। এসব মামলায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যাপক তৎপরতা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বারবার উঠে আসে সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানার নাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা যাচাই করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই তার ওপর বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন রোয়াইল এলাকার ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের ভবনে অভিযান চালায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। এ সময় সেখানে আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থাকার সময় সোহেল রানা নিজেকে কখনো স্কুল শিক্ষক, আবার কখনো ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় নিজেকে তার খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন, এভাবে ছদ্মবেশ ধারণ করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সোহেল রানা।
ঢাকা জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে তার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তার পৃষ্ঠপোষক ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার বিচার দাবি করেছেন ফ্যাসিস্ট বিরোধী ছাত্র-জনতা।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা জুলাই মাসসহ গত ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাভার উপজেলার পতিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় মানবপাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকায় জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হন। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং মানবপাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই শতাধিক মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রেখেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলি হয়। ওই এলাকায় মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে শতাধিক মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, লেদার পাহাড়ি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসেরর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। । ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা
পিরোজপুর জামায়াতের আমির হলেন আব্দুর রব
দীর্ঘ ৩৫ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা আব্দুর রব। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান মাওলানা আব্দুর রব। এবার রুকনদের ভোটে তিনি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলেন।
গত ৯ অক্টোবর পিরোজপুর শহরের টাউন স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা রুকন সম্মেলনে নতুন আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৬৭২ জন নারী ও পুরুষ রুকন গোপন ব্যালটে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে নতুন আমিরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করেন।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক রুকনদের প্রত্যক্ষ গোপন ভোটের ভিত্তিতেই এসব শাখার আমির নির্বাচিত হয়েছেন।
ভালুকায় জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন