• প্রকাশ : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। 


জেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার আওতায় মোট সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৮২৬.৭০ কিলোমিটারে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যে ২,৯৪৬.৫০ কিলোমিটার সড়ক বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা পাকা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬,৮৮১.২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ককে ক্রমান্বয়ে পাকা সড়কের আওতায় আনার মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এলজিইডি। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮১৪.৫০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১,০৭৫.৪০ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক ৭,৯৩৬.৮০ কিলোমিটার। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত বজায় রাখতে ২৮৬.৭০ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।


সূত্রমতে, প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে এলজিইডি এই সড়ক সমূহে আনুমানিক ২,৫০০.০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরেই যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়াতে ৯৪.৯১৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৭১.১৭৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৩৯.০৯১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৬টি আধুনিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে চলে আসছে। পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখতে বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডির প্রাথমিক শিক্ষা 

অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় নির্মিত এই আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়গুলো প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে রাখছে যুগান্তকারী ভূমিকা।


এলজিইডি সূত্র আরো জানায়, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলজিইডি পানির উৎস সৃষ্টি ও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র পানি সম্পদ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১২ কিলোমিটার খাল এবং ৫টি সরকারি দিঘি/পুকুর সফলভাবে খনন করা হয়েছে। সেই সাথে স্লুইসগেট ও সেচ উপ-প্রকল্পসহ ২টি বড় অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১টি সেচ উপ-প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। 


টাঙ্গাইল শহরের চাকুরিজীবী উম্মুল কাউছার, রাফিউর রহমান, আজিজুল হক, আইনজীবী শামসুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন, সাগর আহমেদ, শামীমুল ইসলাম, নাসিমুল হক, রেজাউল করিম বাদশা, হুমায়ুন কবির সহ অনেকেই জানান, জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি অফিস-এলজিইডি মোড়(বৈল্লা) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ও চলাচলকারী মানুষচন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সড়কটি এলজিইডি নাকি সড়ক বিভাগ করবে এ নিয়ে জটিলতা ছিল। এলজিইডি সড়কটি পুণ:নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়েছে- মানুষ সড়কের সুফল ভোগ করছে।


ধনবাড়ীর কৃষক নাজমুল হাসান, পোল্ট্রী খামারের মালিক আজগর আলী, ব্যবসায়ী রহমত হোসেন, আলী ইসলাম, মুদি দোকানদার কায়েম উদ্দিন, শামসুল আলম, আ. কুদ্দুছ সহ অনেকেই জানান, উপজেলার মুশুদ্দী-ঝোপনা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এখন আর তাদেরকে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়না। কৃষিপণ্য, পোল্ট্রী মুরগি ও ফিড, নিত্যপণ্য সহজেই আনা-নেওয়া করা যায়। ফলে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।


বাসাইল উপজেলার শিক্ষক আবুল কাশেম, হাসান আলী রেজা, ইসমত আরা, চাকুরিজীবী রাশেদ রহমান, আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ, আমির হামজা সহ অনেকেই জানান, ঝিনাই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দাপনাজোর এলাকায় অবস্থিত উন্নতমানের ওয়াটার গার্ডেন ও স্পা’তে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি নিত্য ও কৃষিপণ্য এবং শিক্ষার্থী-চাকুরিজীবীদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে।  


টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ অবকাঠামোর এই টেকসই উন্নয়ন মূলত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এলজিইডির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিভিন্ন অংশীজন এবং মাঠ পর্যায়ের সহকার্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় জেলার উন্নয়ন কাজ সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষি-অকৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারি সহ উৎপাদনমুখি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত জনগোষ্ঠি গ্রামীণসড়ক যোগাযোগের সুবিধাগ্রহণ করছে। তাদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কম খরচে সহজে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার সাথে দ্রুত সময়ে যোগাযোগ করে পণ্য বাজারজাত করে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হচ্ছে।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।


কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।


তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।


প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে। 


অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।


বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।


গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।


হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়। 


গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।


হেমন্ত ঋতু আমাদের  জানিয়ে দিচ্ছে  জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার  ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।


গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।


এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।


গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।


তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

"নাটক মনুষ্যত্ব ও বিবেককে শাণিত  করে” -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নুতন নাট্যকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে এই কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 


ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বিশেষ অতিথি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক  এস, এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলকে মোবাইলে অনলাইনে অযথা সময়  নষ্ঠ না করে আলোকিত মানবিক জীবন গড়তে নাটক বা সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া চর্চা বা পাঠ্যাভাষে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।


কর্মশালায় মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা আরণ্যক নাট্য দলের সিনিয়র নাট্য শিল্পী ও মিউজিক ডিরেক্টর পরিমল মজুমদার এ  নাটকের মঞ্চে ও ব্যক্তি জীবনে নিজেদের উপযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করছেন। 


উন্মুক্ত এ কর্মশালায়  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য  পেশাজীবীসহ ৫০জন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

দ্রুততম সময়ে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়াচ্ছে নীলফামারীর বিচার বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় একদিনে পৃথক তিনটি মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।​গত (২৩ অক্টোবর)নীলফামারীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।


আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. রনি ইসলাম ও মো. রাজু নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে জনউপদ্রব সৃষ্টির দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মো. শামীম নামে অপর এক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়।


আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে যেমন বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। আদালত অপরাধের ধরন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

​

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আজ শুক্র/শনি ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যটকদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো বুকিং হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে রুম সংকট। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড় 


 বৃহস্পতিবার পুজার ছুটি শেষ হলেও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটায়। বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্নয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।


আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা সমুদ্রের নোনাজলে গোসল, খেলাধুলা সহ হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাকঁড়ার চর সহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাতার কেটে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন শিশু কিশোর সহ নানা বয়সী ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউবা আবার প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার মোবাইলে কিংবা ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় বন্ধী হয়ে এমন সুখকর মুহুর্ত গুলোকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন। সূর্যোদয় সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বীচ কার্নিভাল উৎসব পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ বলে জানিয়েছেন আগতরা।


বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সড়ক ও বীচ এলাকায় তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন, এলইডি টিভি স্থাপন সহ নানা সাজসজ্জা করা হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে বীচ ফুটবল, বীচ ম্যারাথন, ঘুরি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুথিপাঠ, সাংস্কৃতিক সন্ধা, বাউল গান,পর্যটন বিষয়ক প্রমান্য চিত্র,ভলিবল খেলা, সেলিব্রিটি বীচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো,আতশবাজি সহ নানা আয়োজন করেছে। 


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী আরমান আলিফ, হাসান (আর্ক), ঐশি সহ দেশের খ্যতনামা শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও গান পরিবেশন করবেন কার্নিভাল উৎসবে। বীচ কার্নিভাল উৎসব উপভোগ সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীরা রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।


বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এ বীচ কার্নিভাল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।বীচ কার্নিভাল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীচ কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। বিশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি, পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, স্থানীয় সাংসদ এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের মিজ সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসি প্রমুখ।


এদিকে কুয়াকাটার ৩ শতাধিকেরো বেশি আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট থাকলেও তা আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় বুকিং ছাড়া এসে রুম সংকটে পরেছেন পর্যটকরা।পর্যটকদের  ভীড়কে পুঁজি করে চা ১০ টাকা,ডাব ২৫০ টাকা পিচ,ভ্যান-আটো ভাড়া ইচ্ছেমতো,খাবার হোটেলে অতিরিক্ত খাবার বিল ও আবাসিক হোটেলে বেশি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে অনেক হোটেলের বিরুদ্ধে।


পূজার ছুটি এবং বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিক্রি বেড়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কার্নিভালের দুই দিনে ৩ লাখ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনে কিছুটা রুম সংকট দেখা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এসোসিয়েশন ভূক্ত আবাসিক হোটেল গুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এসোসিয়েশন আওতাভুক্ত নয় এমন হোটেল মোটেল রিসোর্ট অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবার পরামর্শ দেন তিনি।


কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. ইনস্পেক্টর নাজমুল ইসলাম জানান, আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশ, এসআরবি সহ গোয়েন্দা সদস্য সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি রাখবেন। এছাড়াও সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা রাখতে কুয়াকাটা পৌরসভা সহ ট্রাফিক পুলিশ টহল থাকবে। 


কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন, পৌর প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক অবস্থা অব্যাহত আছে।কুয়াকাটায় কোন আইন অমান্যকারির ক্ষমা নেই। 


কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, পর্যটকদের উপর কোন অন্যায় আচরন বরদাস্ত করা হবে না। বীচ কার্নিভালের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অতিরিক্ত নজরদারি করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম সহ তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।পর্যটকদের নিরাপত্তায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।