কবির হোসেন
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক নন বলে প্রচার পায়। তার কিছু ছবি প্রচার করে তাকে বিত্তশালী এবং কৃষক নন বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে তার কিছু এআই নির্মিত ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়।
তবে স্থানীয়রা বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে কবির হোসেন একজন কৃষক। পৈত্রিক জমি ছাড়াও অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করেন তিনি।
জানা যায়, মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের পৈত্রিক জমি রয়েছে ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। তবে কৃষিকাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রী কবির হোসেনসহ আরও ১৫ জন কৃষককে নিজ হাতে কার্ড দেন।
অনুষ্ঠানে কৃষক হিসেবে কবির হোসেন বক্তব্য রাখেন। এরপরই কবির হোসন প্রকৃত কৃষক নয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ২০২৫ সালে তিনি এআই দিয়ে তৈরি করা কিছু ছবি নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করেন। সেই ছবিগুলো হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে। আর সেসব ছবি পোস্ট করেই তার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।
এছাড়া বুধবার আলোচিত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্যও তাদের নিজস্ব ফেসবুকে কবির হোসেন সম্পর্কে পোস্ট করেন। তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
এছাড়া বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় কবিরের বাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কবির হোসেন মূলত প্রকৃত কৃষক। ধানচাষের পাশাপাশি তিনি গরুও লালনপালন করে থাকেন। তিনি এলাকায় একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই পরিচিত। একটি টিনের ঘরে থাকেন তিনি। বাড়ির সামনেই সবজি আবাদ করেছেন। এছাড়া বাড়ির পেছনে তিনি গরু লালন পালন করেন।
স্থানীয়রা জানায়, বাবার মতো কবির হোসেনও একজন প্রকৃত কৃষক। তাদের টিনের ঘর রয়েছে। কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন। যার কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব রয়েছেন। তিনি নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে থাকেন। তিনি কৃষি কার্ড পাওয়ার যোগ্য। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয় আমেনা বেগম বলেন, কবির আমাদের এলাকার ছেলে। তিনি প্রকৃতপক্ষেই কৃষক। ছোট থেকেই আমরা দেখে আসছি তিনি কৃষি কাজ করছেন। তিনি ধানচাষের পাশাপাশি গরুও লালনপালন করেন।
মির্জা শিশির বলেন, কবির আমাদের সঙ্গে লেখাপড়া করেছে। ছোটবেলা থেকেই তারা গরিব। তাদের পেশা মূলত কৃষিকাজ। তিনি একজন প্রকৃত কৃষক। যারা বলছেন কবির কৃষক না- তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
রমজান আলী বলেন, অনেকদিন ধরেই কবির কৃষি কাজ করছেন। তার বাবা-দাদা সবাই কৃষক। একজন কৃষকের কী ভালো মানের পোশাক পরার অধিকার নেই। প্রধানমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। কৃষক কার্ডের আবেদনের জন্য আমাদের এলাকায় মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে।
কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমি একজন কৃষক। বাবার দেওয়া আমার ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া আমি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করি। কৃষিকাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি। আমার নিজের কিছু ছবি এআই দিয়ে বানিয়ে ফেসবুকে দেয়েছিলাম। বর্তমানে তা নিয়ে অনেকেই অপ্রচার করছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
সবাইকে তার বাড়িতে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন কৃষকের কি ভালো মানের পোশাক পরা অপরাধ? আমার কোনো দলীয় পদ নেই।
এ ব্যাপারে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। তিনি দীর্ঘদিন করে অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করেন। এছাড়া তিনি গরু লালন পালন ও সবজি আবাদ করেন। কবিরের নামে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করার জন্য আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। কবির হোসেন আমাদের তালিকাভুক্ত প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক। তিনি নিজ বাড়ির সামনেই অনেক সবজি ও ফসল আবাদ করছেন। কৃষকদের তালিকাগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কবির কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। সরজেমিনে আমার যা পেয়েছি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবো।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে আবারও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা।
গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে।
অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসাবে বিভিন্ন মহল থেকে উলেখ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ
বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে।
বন্ধ সাজেক, বড় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহণ খাত, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়েছে। একই কথা জানান সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা।
সাজেক খুলে দিতে আলটিমেটাম
পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, ‘আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব।’
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।
প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে।
অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।
বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।
গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।
হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়।
গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।
হেমন্ত ঋতু আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।
এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
"নাটক মনুষ্যত্ব ও বিবেককে শাণিত করে” -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নুতন নাট্যকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে এই কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বিশেষ অতিথি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এস, এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলকে মোবাইলে অনলাইনে অযথা সময় নষ্ঠ না করে আলোকিত মানবিক জীবন গড়তে নাটক বা সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া চর্চা বা পাঠ্যাভাষে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।
কর্মশালায় মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা আরণ্যক নাট্য দলের সিনিয়র নাট্য শিল্পী ও মিউজিক ডিরেক্টর পরিমল মজুমদার এ নাটকের মঞ্চে ও ব্যক্তি জীবনে নিজেদের উপযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করছেন।
উন্মুক্ত এ কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য পেশাজীবীসহ ৫০জন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।
দ্রুততম সময়ে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়াচ্ছে নীলফামারীর বিচার বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় একদিনে পৃথক তিনটি মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।গত (২৩ অক্টোবর)নীলফামারীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. রনি ইসলাম ও মো. রাজু নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে জনউপদ্রব সৃষ্টির দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মো. শামীম নামে অপর এক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে যেমন বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। আদালত অপরাধের ধরন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।