মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ইকো রিসোর্টের নামে এভাবে হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা এমনই। যত্রতত্র হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ নির্মাণ, নিয়মনীতি না মানা এবং প্রশাসনের দুর্বল নজরদারিতে বাড়ছে ঝুঁকি। ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে জোরালোভাবে সামনে এনেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতির ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ পর্যটন খাত। কিন্তু দেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কক্সবাজার সেই স্তরে পৌঁছাতে পারছে না। একটি আদর্শ পর্যটন শহরে যা কিছু বিদ্যমান থাকার কথা, তার অধিকাংশ কক্সবাজারে অনুপস্থিত। 


অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাব রয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জরিমানার মধ্য দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যায়। কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। পূজার ছুটির পর সব সংস্থা মিলে এটি শুরু হবে। এর আগে শনিবার হোটেল, রিসোর্ট মালিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপদ পর্যটনের জন্য করণীয় বিষয়ে সেখানে উঠে আসবে। টুপটুপ ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারে ঠিক কতগুলো হোটেল রিসোর্ট রয়েছে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমরা প্রতিদিন সার্ভে করি না। কিন্তু অনেকে রাতারাতি হোটেল, রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। তবে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ হোটেল, রিসোর্ট ও মোটেল রয়েছে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। পূজার ছুটির পর আমরা বড় পরিসরে অভিযান চালাব।’ 


তিনি বলেন, ইকো রিসোর্টের প্রতি পর্যটকের আগ্রহ বেশি। চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে রাতারাতি ইকো রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। 


তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল থাকলে অনেক সময় পর্যটকদের অনুরোধের কারণে যাত্রীদের নিয়ে বাসগুলো শহরে প্রবেশ করে। পর্যটকরা তাদের হোটেলের সামনে বা কাছাকাছি স্থান থেকে বাসে উঠতে চান। 


কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সোমবার যানবাহন থামিয়ে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ও বিকেলে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রায় ৫০টি যানবাহনের যাত্রীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন। ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন যাত্রীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে। ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশ পরা এক দল সশস্ত্র ডাকাত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। কক্সবাজারে এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।  


সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারে অনিরাপদ পর্যটনের পেছনে বেশ কিছু কারণ দায়ী। এর মধ্যে আছে, সৈকতসহ পুরো শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব। পর্যটকদের টার্গেট করে একের পর এক গড়ে উঠেছে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ।  অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকরা সেখানে রাত কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল। মেরিন ড্রাইভের পাশে জমি কিনছেন প্রভাবশারীরা। এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসনে বৈধ ফায়ার লাইসেন্স নেই। সৈকতজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য, চিপসের প্যাকেট ও নানা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। বেশির ভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট পয়োনিষ্কাশন ও তরল বর্জ্য শোধনাগার নেই। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) অবৈধভাবে বহু রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন জোনিংয়ের অভাব কক্সবাজারের কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা এখন একটি ‘কংক্রিটের জঙ্গলে’ পরিণত হয়েছে। 


সুনির্দিষ্ট কোনো পর্যটন জোনিং বা মহাপরিকল্পনা না থাকায় যত্রতত্র বহুতল ভবন উঠছে। পাহাড় কাটা, বালিয়াড়ি দখল এবং বাঁকখালী নদী ভরাটের মতো পরিবেশবিধ্বংশী কর্মকাণ্ড শহরের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। সৈকতে হকার, ভিক্ষুক এবং অপেশাদার গাইডদের কারণে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হন।  ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপে মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার অটোরিকশা হয়ে উঠছে দুর্ঘটনার কারণ। আবার পর্যটকদের জন্য খোলা গাড়ি শহরের ভেতরে যেখানে সেখানে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। 


সমুদ্র সৈকতের চোরাবালি ও অদৃশ্য গর্তে ডুবে প্রতিবছরই পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রে ভাটার সময় লাল পতাকা বা বিপৎসংকেত থাকার পরও অনেক পর্যটক তা মানছেন না, আর সেখানে লাইফগার্ডের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। ছুটির দিনগুলোতে বা পর্যটনের ভরা মৌসুমে হোটেল ভাড়া কয়েকগুণ করা হয়। এর জন্য একটি কার্যকর ভাড়ার রেগুলেটরি বোর্ড থাকা প্রয়োজন। কতজন পর্যটক আসছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বা ডেটাবেজ আমাদের কাছে নেই। তথ্যের অভাবে কোনো সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। গত চার-পাঁচ দিনে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণি ও কলাতলী পয়েন্টে চার শতাধিক দোকান-রেস্তোরাঁ বসানো হয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান ও অন্যান্য বালিয়াড়ি দখল করে আরও দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। 


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, দেশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩টি এলাকার একটি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা  নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, মাটি, পানি ও বায়ুর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট করতে পারে– এমন সব কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 


পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, কক্সবাজার সৈকতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে নির্মিত সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে কক্সবাজারে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার। 


তিনি বলেন, এ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে সৈকতসংলগ্ন প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জোনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর পরও সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। 


শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে নয়তলা বিশিষ্ট তারকা মানের আবাসিক হোটেল ‘উইন্ডি টেরেস’। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি এ হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাড়পত্রবিষয়ক কমিটির ৯৪তম সভার সিদ্ধান্ত মতে ১২ শর্তে এ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অর্থাৎ পয়োবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে এর নকশা এবং কার্যকারিতা প্ল্যান পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।  এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এসব শর্তে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিবেশ ছাড়পত্রের নবায়নও করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের পর এ হোটেলের পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রেখেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। 


২০ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয় থেকে হোটেল উইন্ডি টেরেস কর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, পয়োবর্জ্য শোধনাগারের ড্রয়িং, ডিজাইন ও ক্যালকুলেশন, হালনাগাদ আয়কর প্রত্যয়নপত্র এবং এসটিপি নির্মাণের অগ্রগতির কাগজপত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের পর ৯ মাস পার হলেও তারা কোনো কাগজপত্র পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেয়নি। এসব কাগজপত্র জমা দিতে না পারলে পরিবেশ ছাড়পত্র আর নবায়ন করা হবে না। পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৪৪টি আবাসিক হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শর্তপূরণ করতে না পারায় ২৯ হোটেলের ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি হোটেলে পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার ১১ কিলোমিটার সড়কে ২৩ হাজারের বেশি তিন চাকার যান চলাচল করে। এর বাইরে দূরপাল্লার আরও চার শতাধিক গণপরিবহন, পাঁচ হাজারের বেশি মিনিবাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কার-জিপ চলাচল করে। টানা কয়েক দিনের ছুটিতে যখন কক্সবাজারে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে, তখন যানবাহনের সংখ্যা আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বেড়ে যায়। কক্সবাজার শহরে তিন হাজার ইজিবাইক চলতে পারে। কিন্তু এখন চলছে ২৩ হাজার। গত এক বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে এসব যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। শহরের বাইরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মাত্র দুই শতাধিক বাস রাখার জায়গা রয়েছে। অবশিষ্ট গাড়ি ফেলে রাখা হয় বাইপাস, কলাতলী ও সৈকত সড়কের দুই পাশে। 


পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ বলেন, এক যুগ আগে শহরে চলাচলের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছিল। সম্প্রতি আরও ৫০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু শহরের অভ্যন্তরে চলাচল করছে ২০ হাজারের বেশি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইজিবাইক জব্দ করা হলেও গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। 


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গণি জানান, কক্সবাজার শহরে চলাচল করা তিন চাকার গাড়িগুলোয় ব্যাটারি চার্জ দিতে দৈনিক দুই থেকে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। শহরের নানা জায়গায় গ্যারেজে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। 


কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, তিন চাকার যান এতই বেড়েছে যে সড়কে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। শহরের লালদীঘিরপাড় থেকে বার্মিজ মার্কেট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। যানজটের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।





ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।


থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।


ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।


সংসদ সদস্য, তাঁর পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।


একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।


পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’


ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’


মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’


ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’


ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’


নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তাঁর সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’


ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ তুলে ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।


অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।


জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।


বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।


নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।


কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। 


বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। 


বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।


প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।


সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।


রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।