২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মরাপুকুরপাড় গ্রামের শামসুজ্জামান সবুজ ও স্ত্রী কুলসুম আক্তার দম্পতি। ২০২০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কুলসুম একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। মাত্র চার মাস বয়সে পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়। এরপর ওই দম্পতি সন্তানের জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। চিকিৎসক দেখিয়েও সুফল মেলেনি। তবে চলতি বছর তারা সন্তান না হওয়ার কারণ হিসেবে জানতে পারেন কুলসুম আক্তারের অনুমতি ছাড়াই তার লাইগেশন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সময় গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ জিনান রেজা অনুমতি ছাড়াই কুলসুমের দুই ফেলোপিয়ান টিউব কেটে বন্ধ দিয়েছিল (লাইগেশন)। চিকিৎসকের এই ভুলে বন্ধ্যত্বকরণের কবলে পড়ে সন্তান নিতে পারছেন না গৃহবধূ কুলসুম।
তবে হাসপাতালের ভাষ্য, গাইনি ওয়ার্ডে লাইগেশনের রেজিস্ট্রারে এই রোগীর বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। রোগীসহ পরিবারের সম্মতি ছাড়া লাইগেশন সম্পন্ন হয় না। ওই রোগী কোথায় কী করেছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কোথায়, কীভাবে এই লাইগেশন হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে তৎকালীন চিকিৎসার মূল নথিপত্র চেয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন কুলসুম আক্তার। ওই দিন দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সে সময় অস্ত্রোপচার করান চিকিৎসক জিনান রেজা। এর চার দিন পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। কিন্তু ২০২০ সালের ১০ এপ্রিল শিশুটি মারা যায়। সন্তান হারিয়ে দম্পতি পুনরায় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে স্থানীয় চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও কবিরাজি চিকিৎসার পেছনে ঘুরেও কোনো ফল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন।
সন্তান ধারণ না হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে এক চিকিৎসকের পরামর্শে কুলসুম আক্তারের পরীক্ষা করানো হলে তার জরায়ুর দুটি ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে গত ২ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুলসুম আক্তারের ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করা হলে সেখানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
সন্তান পাওয়ার শেষ চেষ্টায় দম্পতি ছোটেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৩ আগস্ট সেখানে ভর্তি হন। গত ৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা কুলসুম আক্তারের ‘মাইক্রোসার্জিক্যাল রিক্যানালাইজেশন’ (টিউব পুনর্সংযোগ) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজের অপারেশন নোটে উল্লেখ করা হয়, কুলসুমের ডান ও বাম উভয় পাশের ফ্যালোপিয়ান টিউব ‘ইস্থমাস’ অংশে শক্ত করে লাইগেশন (বাঁধা) ও কাটা ছিল। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউব দুটির ব্লকেজ অপসারণ করে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করেন।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ২০২০ সালের ২ জানুয়ারির অস্ত্রোপচার কক্ষের রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রেজিস্টারের ২০ নম্বর ক্রমিকে কুলসুমের অপারেশনের বিবরণে শুধু লোয়ার ইউটেরিন সিজারিয়ান সেকশন উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি নথিতে লাইগেশন করার কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, ছয়টি বছর আমার চোখের জলে কেটেছে। এখনো আমার স্ত্রী অসুস্থ। বেঁধে রাখা টিউব জোড়া লাগানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন বাধা থাকায় টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন সন্তান ধারণের সম্ভাবনা খুব কম। আমি চিকিৎসকের বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক জিনান রেজা বলেন, এটি ২০২০ সালের ঘটনা। একজন রোগীর সব চিকিৎসা কার্যক্রম রেজিস্টার খাতায় লেখা থাকে। ওই রোগীর স্থায়ী লাইগেশন হয়েছে এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ হাসপাতালের ওটির রেজিস্ট্রারে নেই। ওই রোগীর কোনো লাইগেশন করা হয়নি। আমি অনুমতি ছাড়া রোগীর লাইগেশন করিনি। রোগী ও তার স্বজনের অনুমতি ছাড়া স্থায়ী বন্ধ্যত্বকরণ করা হয় না। আমরা কুমিল্লা মেডিকেলের প্রতিবেদনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে তারা ওই রোগীর টিউব ব্লকের কথা উল্লেখ করেছে। আর টিউব ব্লক ইনফেকশন বা নানা কারণে হয়ে থাকতে পারে। আমরা সাধারণত দলগতভাবে কাজ করি। তখনও আমি দলগত কাজের অংশ ছিলাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ওই রোগীর স্বজন হাসপাতালে একটি অভিযোগ করেছিল। ছয় বছর আগের ঘটনা এটি। নথিপত্র ঘেঁটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের তথ্য রেজিস্ট্রারে আছে। কিন্তু ওই রোগীর লাইগেশন করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য হাসপাতালের নথিতে নেই। গৃহবধূর স্বামীর সামনেই সব নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই রোগীর অন্যান্য প্রতিবেদন দেখে আমাদের ধারণা, অন্য কোথাও তার অস্ত্রোপচার হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর অনুমতি ছাড়া সার্জনরা লাইগেশন করার কোনো সুযোগ নেই। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের ওটি নোট কিংবা কোথাও ওই রোগীর লাইগেশনের কথা উল্লেখ নেই। ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে আবারও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা।
গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে।
অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসাবে বিভিন্ন মহল থেকে উলেখ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ
বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে।
বন্ধ সাজেক, বড় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহণ খাত, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়েছে। একই কথা জানান সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা।
সাজেক খুলে দিতে আলটিমেটাম
পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, ‘আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব।’
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।
প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে।
অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।
বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।
গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।
হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়।
গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।
হেমন্ত ঋতু আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।
এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
"নাটক মনুষ্যত্ব ও বিবেককে শাণিত করে” -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নুতন নাট্যকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে এই কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বিশেষ অতিথি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এস, এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলকে মোবাইলে অনলাইনে অযথা সময় নষ্ঠ না করে আলোকিত মানবিক জীবন গড়তে নাটক বা সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া চর্চা বা পাঠ্যাভাষে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।
কর্মশালায় মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা আরণ্যক নাট্য দলের সিনিয়র নাট্য শিল্পী ও মিউজিক ডিরেক্টর পরিমল মজুমদার এ নাটকের মঞ্চে ও ব্যক্তি জীবনে নিজেদের উপযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করছেন।
উন্মুক্ত এ কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য পেশাজীবীসহ ৫০জন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।
দ্রুততম সময়ে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়াচ্ছে নীলফামারীর বিচার বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় একদিনে পৃথক তিনটি মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।গত (২৩ অক্টোবর)নীলফামারীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. রনি ইসলাম ও মো. রাজু নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে জনউপদ্রব সৃষ্টির দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মো. শামীম নামে অপর এক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে যেমন বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। আদালত অপরাধের ধরন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।