সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২৭ এএম

স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টি দেখল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অফিস তথ্য দিচ্ছে, ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি ঝরেছে ৩৯৪ মিলিমিটার! যা ১৯৮৩ সালের পর, অর্থাৎ ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শঙ্কা থাকলেও এই তুমুল বৃষ্টিতে নগরের কোথাও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে টানা বৃষ্টিতে বেশ ভুগছে মানুষ। ছন্দপতন ঘটেছে নগরজীবনে। গত সোমবার শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল মঙ্গলবারও থামেনি। ফলে হাঁটু থেকে কোমরপানিতে ডুবে যায় নিচু এলাকা। বিপাকে পড়েন কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার আজ বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।


টানা বৃষ্টিতে রেলপথে পানি ওঠায় দুপুরে ছয় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নগরীর ষোলশহর স্টেশনে আটকা পড়ে কক্সবাজারগামী ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার ভোগান্তি শেষে গতকাল রাত ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে রাত কাটানোর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ট্রেনের প্রায় ছয় শতাধিক যাত্রী। এদিকে, সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামায়ও ছেদ পড়ে। পতেঙ্গায় ভেঙে যায় নবনির্মিত সড়ক।


জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন টিমের সঙ্গে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ২০টি দল। পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বাস করা জনগণকে সরিয়ে নিতে চলছে মাইকিং। খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ভূমিধসের শঙ্কা জানিয়ে আবহাওয়া অফিস থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। টানা বর্ষণে গতকাল নগরীর বাদুরতলা,  চকবাজার, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা, আগ্রাবাদ, পাঠানটুলীসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। হাটহাজারী সড়কে জমে কোমরপানি।


সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য আটকে থাকায় খাল-নালা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে অনেক এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে। তবে কোথাও পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকেনি। আগে যেসব এলাকা কোমরপানিতে ডুবত, সেসব স্থানে এবারে পানি ওঠেনি সেভাবে। তিনি জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ আগামী বছর পুরোপুরি শেষ হবে। প্রকল্পের সুফলও তখন শতভাগ পাবেন জনগণ। 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, চউকের প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল আছে। পানি যাতে জমে না যায়, সে জন্য পাম্পের মাধ্যমে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


পানিতে থইথই নগরী

গতকাল সকালে নগরীর বাদুরতলা আরকান সোসাইটি আবাসিক এলাকায় দেখা গেছে হাঁটুসমান পানি। অনেক বাসাবাড়ির পাশাপাশি সোসাইটির মসজিদটিতেও পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর নেওয়াজ  বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে।


নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। গতকাল সকালেও এই এলাকার কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়। সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র। কাতালগঞ্জ এলাকায়ও যান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, কাতালগঞ্জ এলাকা নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। তবে বৃষ্টি কমলে পানিও নেমে যায়। যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেসব এলাকায় খালের কাজ চলছে। বিদ্যমান জলাবদ্ধতা সমস্যাটি পুরোপুরি নিরসনে আরও কিছুটা সময় লাগবে।


এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার আজ বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্থগিত হওয়া এলাকার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা পরে আলাদা প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে।


পরীক্ষা স্থগিতের আদেশে বলা হয়, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সিটি করপোরেশনের অধীনে ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।


বৃষ্টি থাকবে আরও কয়েক দিন

আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু অতিমাত্রায় সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। এক সপ্তাহ পর্যন্ত কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা সুমন সাহা জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এবারের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। সেবার ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০৭ মিলিমিটার। 


পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের রেলপথেও পানি ওঠে। এতে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজারগামী ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস আটকা পড়ে নগরীর ষোলশহর এলাকায়। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। এতে যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের টিকিটের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। যাত্রা বাতিলের পর অনেক যাত্রী বাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ কেউ চট্টগ্রামের হোটেলে রাতযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। কিছু যাত্রী ষোলশহর রেলস্টেশনেই থেকে যান। 


চট্টগ্রাম রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেললাইনের ওপর এখনও প্রায় ২০ ইঞ্চি পানি জমে আছে। পানি অন্তত ছয় ইঞ্চিতে না নামলে ট্রেনের ইঞ্জিন চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সন্ধ্যার দিকে পানি কিছুটা কমলেও রাতে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় পানি আবার বাড়তে শুরু করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাত্রীদের সুরক্ষায় রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।


ষোলশহর স্টেশনের মাস্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, ৬৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা ছিল।


জাহাজ থেকে পণ্য খালাস সাময়িক বন্ধ

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) থাকা বড় ৪৩টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। তবে জেটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। জেটি থেকে পণ্য নিয়ে আসা-যাওয়া করছে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি। স্বাভাবিক আছে কাস্টমসের শুল্কায়ন প্রক্রিয়াও।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে খালাস কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে। তিনি জানান, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি রয়েছে। এ জন্য ৪৩টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজ স্থগিত আছে। 


বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত

ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামায় ছেদ পড়ে। ফ্লাইট স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা দুটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ঢাকা থেকে আসা অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটও অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বিমানবন্দর এলাকায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইছিল।


শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামে নামার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি ঢাকায় অবতরণ করে। একইভাবে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইট শারজাহ থেকে চট্টগ্রামে নামার কথা থাকলেও সেটিও ঢাকায় অবতরণ করে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকা ফিরে যায়। 


দেয়াল ধসে যুবকের মৃত্যু

নগরীর পূর্ব নাসিরাবাদ রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি-ব্লকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেয়াল ধসে মাছ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তাঁর দুই শিশুসন্তান ও শাশুড়ি আহত হয়েছেন। শফিকুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। 


প্রধান প্রকল্পের কাজ ফেব্রুয়ারিতে শেষ করার ঘোষণা 

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


গতকাল নগরের বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, নগরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ। তবে হিজড়া খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৬৮ শতাংশ। এটি শেষ হলেই মিলবে শতভাগ সুফল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


 




  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারি বুনিয়া গ্রামের কৃষক গৌতম সিকদারের নিজস্ব কৃষি খামারে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির চন্দন কচু। স্থানীয়ভাবে ‘চন্দন কচু’ নামে পরিচিত এ কচুটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। কচুটি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।


কৃষক গৌতম সিকদার জানান, তাঁর খামারে এ ধরনের আরও অনেক চন্দন কচু রয়েছে। বিশাল আকৃতির কচুটি প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সে হিসাবে কচুটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।


তিনি আরও জানান, কৃষিকাজে তিনি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সার বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাননি। নিজ উদ্যোগেই তিনি খামারে এসব কচু উৎপাদন করেছেন।


প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি কচু উৎপাদনের খবর এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কচুটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ব্যতিক্রমী ফসল কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

হেমন্তের শুভ্রতা ও নান্দনিক পালা বদলের ছোঁয়ায় প্রাণ প্রকৃতিতে পৌছে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার হালকা ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত। যেন আলো লাগলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। শিউলিঝরা রাতে হেমন্ত প্রকৃৃতি লুটিয়ে পড়ে সবুজ ধানের খেতে। 


অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারঙ প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে।


বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ আর শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। কিছু দিন গেলেই পাকতে শুরু করবে আমন ধান।


গ্রামীন জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল অবধি। রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ মাহবুব বলেন, এসময় সকালে হাঁটতে বেড় হই। কয়দিন যাবৎ ভোরে ঘণ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত নেমে এসেছে। চোখে ভেজা মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। ঢাকার আশে-পাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাওয়ায়ও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।


হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শ। সকালবেলায় দিঘল মাঠ, বিলঝিলে, ঘাসের ডগায়, শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে সূর্যের সোনালি আভায়। 


গ্রামের পুকুর, খাল,বিল ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা জলকেলিতে মেতেছে , কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দেখা যায় দিগন্তে কা কা ডাক ও কাঁশফুলের দোলা।


হেমন্ত ঋতু আমাদের  জানিয়ে দিচ্ছে  জীবন বড় সুন্দর, জীবন অনেক রঙিন আর প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে জীবনের গল্প । হেমন্তের এই নরম আলোয়, শীতল হাওয়ায় আমরা যেন খুঁজে পাই ভালবাসার নতুন ছোঁয়া।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) শুক্রবার  ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।


গণসংযোগকালে ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তাঁরা।


এ সময় ব্যবসায়ীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী ভাই ভাই, আমাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই—ধানের শীষে ভোট চাই।’ স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালান।


গণসংযোগে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।


তাঁরা আরও জানান, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ঔষধ ব্যবসায়ীদের এ গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

"নাটক মনুষ্যত্ব ও বিবেককে শাণিত  করে” -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নুতন নাট্যকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে এই কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 


ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহি নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, বিশেষ অতিথি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক  এস, এম জসিম উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলকে মোবাইলে অনলাইনে অযথা সময়  নষ্ঠ না করে আলোকিত মানবিক জীবন গড়তে নাটক বা সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া চর্চা বা পাঠ্যাভাষে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।


কর্মশালায় মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা আরণ্যক নাট্য দলের সিনিয়র নাট্য শিল্পী ও মিউজিক ডিরেক্টর পরিমল মজুমদার এ  নাটকের মঞ্চে ও ব্যক্তি জীবনে নিজেদের উপযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করছেন। 


উন্মুক্ত এ কর্মশালায়  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য  পেশাজীবীসহ ৫০জন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

দ্রুততম সময়ে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়াচ্ছে নীলফামারীর বিচার বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় একদিনে পৃথক তিনটি মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।​গত (২৩ অক্টোবর)নীলফামারীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।


আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. রনি ইসলাম ও মো. রাজু নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে জনউপদ্রব সৃষ্টির দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মো. শামীম নামে অপর এক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়।


আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে যেমন বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি মামলার জট কমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। আদালত অপরাধের ধরন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

​

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আজ শুক্র/শনি ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যটকদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো বুকিং হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে রুম সংকট। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড় 


 বৃহস্পতিবার পুজার ছুটি শেষ হলেও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটায়। বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্নয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।


আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা সমুদ্রের নোনাজলে গোসল, খেলাধুলা সহ হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাকঁড়ার চর সহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাতার কেটে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন শিশু কিশোর সহ নানা বয়সী ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউবা আবার প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার মোবাইলে কিংবা ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় বন্ধী হয়ে এমন সুখকর মুহুর্ত গুলোকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন। সূর্যোদয় সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বীচ কার্নিভাল উৎসব পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ বলে জানিয়েছেন আগতরা।


বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সড়ক ও বীচ এলাকায় তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন, এলইডি টিভি স্থাপন সহ নানা সাজসজ্জা করা হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে বীচ ফুটবল, বীচ ম্যারাথন, ঘুরি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুথিপাঠ, সাংস্কৃতিক সন্ধা, বাউল গান,পর্যটন বিষয়ক প্রমান্য চিত্র,ভলিবল খেলা, সেলিব্রিটি বীচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো,আতশবাজি সহ নানা আয়োজন করেছে। 


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী আরমান আলিফ, হাসান (আর্ক), ঐশি সহ দেশের খ্যতনামা শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও গান পরিবেশন করবেন কার্নিভাল উৎসবে। বীচ কার্নিভাল উৎসব উপভোগ সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীরা রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।


বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এ বীচ কার্নিভাল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।বীচ কার্নিভাল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীচ কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। বিশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি, পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, স্থানীয় সাংসদ এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের মিজ সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসি প্রমুখ।


এদিকে কুয়াকাটার ৩ শতাধিকেরো বেশি আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট থাকলেও তা আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় বুকিং ছাড়া এসে রুম সংকটে পরেছেন পর্যটকরা।পর্যটকদের  ভীড়কে পুঁজি করে চা ১০ টাকা,ডাব ২৫০ টাকা পিচ,ভ্যান-আটো ভাড়া ইচ্ছেমতো,খাবার হোটেলে অতিরিক্ত খাবার বিল ও আবাসিক হোটেলে বেশি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে অনেক হোটেলের বিরুদ্ধে।


পূজার ছুটি এবং বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিক্রি বেড়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কার্নিভালের দুই দিনে ৩ লাখ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনে কিছুটা রুম সংকট দেখা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এসোসিয়েশন ভূক্ত আবাসিক হোটেল গুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এসোসিয়েশন আওতাভুক্ত নয় এমন হোটেল মোটেল রিসোর্ট অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবার পরামর্শ দেন তিনি।


কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. ইনস্পেক্টর নাজমুল ইসলাম জানান, আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশ, এসআরবি সহ গোয়েন্দা সদস্য সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি রাখবেন। এছাড়াও সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা রাখতে কুয়াকাটা পৌরসভা সহ ট্রাফিক পুলিশ টহল থাকবে। 


কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন, পৌর প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক অবস্থা অব্যাহত আছে।কুয়াকাটায় কোন আইন অমান্যকারির ক্ষমা নেই। 


কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, পর্যটকদের উপর কোন অন্যায় আচরন বরদাস্ত করা হবে না। বীচ কার্নিভালের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অতিরিক্ত নজরদারি করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম সহ তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।পর্যটকদের নিরাপত্তায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।