ছবি : সংগৃহীত
বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে নিজ উদ্যোগে অভিযানে নেমেছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নগরীর আমানগঞ্জ এলাকায় তিনি ও তার সহযোগীরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।
এই ঘটনার ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নগরীর আমানগঞ্জ এলাকার টিবি হাসপাতাল মাঠে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন। এ সময় তার সহযোগীরা প্রথমে দুজন এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের চড়থাপ্পড় ও মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক মোবাইল ফোনে জানান, এলাকার মাদকের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাই নিরুপায় হয়ে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন এবং এলাকায় কোনো মাদকের ঠাঁই হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, রাত ৮টার দিকে নগরীর আমানগঞ্জের টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩-৪ জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে তারা ছাড়া পেয়ে যায়- এমন অভিযোগ করে তিনি জানান, তাই আপাতত হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় চড়থাপ্পড় মারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সন্তানকেও তো শাসন করা যায়, সেই হিসেবেই তিনি চড় মেরেছেন।’
প্রসঙ্গত, বিএনপি নেতা ইশরাক ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি গত শনিবার বিকেলে তার আসনের গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছিলেন। সেই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ইশরাকের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
এরপর সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে ইশরাক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
কামরুল হাসান (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরুল হাসান (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ছিনতাই হওয়া জিক্সার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নেওয়াজপুর গ্রামের ওক্কাছ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ কামরুল হাসান ওই বাড়ির মো. ইউছুফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দর্জি।
হাসানের খালাতো ভাই মো. শান্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান চট্টগ্রামে দর্জির কাজ করেন। দুই দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। শনিবার বিকেলে মোটরসাইকেলে খালাতো ভাই রাকিবকে (২০) নিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। পথে বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে বাংলাবাজার এলাকার হারুন ও আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে নুরু তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
এতে হাসানের বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের বাগুতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলিবিদ্ধ হাসান হাসপাতালে ভর্তি হন। তার একটি হাতের বাহুতে বুলেটের আঘাত রয়েছে। পেটের ওপরের অংশেও বুলেটের মতো আরেকটি আঘাত আছে, তবে সেখানে কোনো বুলেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নুরুর মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুল কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন
গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন। টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় শিশুটির পরিবারের আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন তিনি। এটিকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার একটি ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেছেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ১৫-১৬ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাটি সাজিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেউদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যান্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
প্রিন্সিপাল আরও অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা মাদ্রাসার তহবিল থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
ওই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত মুসলেউদ্দিন মাদ্রাসাটির একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক যাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেন, মব সৃষ্টি করে সেদিন মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দুঢ়কণ্ঠে বলছি, আমি কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি এই মাদ্রাসায় কোরআন পড়াচ্ছি ২০০৭ সাল থেকে।
তিনি বলেন, সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। এরপর একটা স্টাপলার নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এতে অনেক রক্ত ঝরেছে। যৌন হয়রানির বিষয়ে যে শিশুটিকে নিয়ে কথা হচ্ছে সেই শিশুটি ক্লাস ওয়ানে পড়ে। সে দুই-আড়াই বছর ধরে এখানে পড়ে। আমাদের এখানে তার বাবা কোনোদিন আসেনি। এই প্রতিষ্ঠানে শিশুটি ওই ওস্তাদের কাছে ছোট থেকে পড়ছে। ওর মতো এ রকম ২০-২৫ জন শিশুটি এখানে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তিনি বলেন, শিশুটির ওই অভিভাবক ফোন দিয়েছিলেন ভাইস প্রিন্সিপালকে। তিনি অসুস্থ, ঢাকার বাইরে আছেন।
সব বাচ্চা নাকি ভালো রেজাল্ট করেছে। এজন্য বাচ্চাটাকে ওই শিক্ষক বলেছেন, তোমাকে পাপ্পি দেব। সব বাচ্চাদের বলেছে, চকলেটও দিয়েছে। বলেছেন, ‘তোমাদের পাপ্পি দেব, তোমরা ভালো রেজাল্ট করবা। আমি তোমাদের অনেক বেশি আদর করবো।’ কথাটা ছিল এ রকম।
পরে শিশুটির মা ভাইস প্রিন্সিপালকে ফোন দিয়ে বলেছেন, ‘স্যার পাপ্পি দেওয়ার দরকার নাই। এমনি আদর করুক, ঠিক আছে।’
ওই ফোনের পর ভাইস প্রিন্সিপাল অভিযুক্ত শিক্ষককে ফোন দিয়ে বলেছেন যে, ‘আপনি কি এ রকম কথা বলেছেন?’ তখন ওই শিক্ষক বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি তো সবাইকে বলেছি। আমি তো দিইনি কাউকে। বলেছি, তোমাদের আমি পাপ্পি দেব।’
তখন ভাইস প্রিন্সিপাল শিক্ষককে বলেছেন, ‘যেহেতু একজন অভিভাবক বলেছেন এটা নিয়ে। আপনি ২৫ জনকে বলেছেন। তার মধ্যে একজন যেহেতু এটাকে অন্যভাবে দেখেছেন, আপনি এটা করবেন না।’
আমাকে না জানিয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল বিষয়টি এভাবে সমাধান করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ওই অভিভাবক পরবর্তীতে কি করেছেন? এখন প্রশ্ন হলো- ‘শিশুটি যদি এখানে কোনোভাবে হেজিটেশনে পড়তো অথবা যদি কোনো কারণে সে এটাকে ব্যাড-টাচ মনে করতো তাহলে অভিভাবক তো বাচ্চাকে পরদিন মাদ্রাসায় পাঠাতেন না। পরের দিন ওনার মেয়েকে তো পাঠিয়েছেন মাদ্রাসায়। এখন আমার প্রশ্ন জাতির কাছে, আমার শিক্ষক যদি খারাপ হয় তাহলে অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে আর পাঠাতেন না, যে এই মাদ্রাসায় আমি দেব না আমার বাচ্চাকে ব্যাট-টাচ করেছে বা চুমু দিয়েছি। কিন্তু উনি পরের দিন পাঠিয়েছেন। এটা আমাদের সিসিটিভি ফুটেজে আছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যেহেতু শিশুটি এসেছে তাহলে এখানে কোনো সমস্যা নেই। যেদিন ঘটনা ঘটেছে তার পরের দিন সেই শিশু আসছে। তার পরের দিনও এসেছে। সিসিটিভিতে শিশুটি খেলতেছে, ওস্তাদ পড়াচ্ছে, খুব আনন্দ করতেছে এখানে সিসিটিভিতে দেখাচ্ছে।’
প্রিন্সিপাল বলেন, ‘তিন-দিন, চার দিনের মাথায় ওই লোকটা (শিশুর বাবা) হঠাৎ করে গাড়ি নিয়ে কিছু লোকসহ যারা এই এলাকার না, আমরা চিনি না তাদের। আর উনাকেও আমরা চিনি না ঠিক। উনি কখনো আসেননি মাদ্রাসায়। ভর্তির সময় তার নানা আসতো, আর তার মেয়ে আসতো। উনি এসেই এখানে সবাইকে জিম্মি করে ফেলেছে। আমাদের কিছু টিচার এখানে ছিল, তাদেরকেও জিম্মি করে ফেললো।’
আলমাস হোসাইনের দাবি, ‘লোকজন হঠাৎ করে ঢুকে মানে একটা মব সৃষ্টি করে তারা আমার রুমে ঢুকে গেল। আমাকে খুব অকথ্য ভাষায় বলে, ওই শিক্ষককে নিয়ে আসো। আমি বলছি, ভাই আপনি কে? আমি তো আপনাকে চিনি না। বলে, আমাকে চিনবি তুই এখন। এইটা বলে এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেললো।’
তিনি বলেন, ‘একটা ম্যাডাম এখানে ছিল তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এখানে টাকা-পয়সা ছিল। আমাদের জমি কেনার টাকা ছিল। মাদ্রাসার নামে একটা জমি কেনার কথা হচ্ছিল। এজন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছি। সেটার আমাদের স্টেটমেন্ট আছে। সেই টাকা-পয়সা এখানে ছিল। এগুলো সবকিছু তছনছ করে ১৭ লাখ টাকা নিয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘পরবর্তীতে ওই শিক্ষক আসার পরে তাকে শুধু জিজ্ঞেস করেছে। শিক্ষক বলেছেন যে, হ্যাঁ, আমি চুমু দিতে চেয়েছিলাম। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে মারধর করেছে। এলাকার মানুষ যেই এসেছে তাদেরকে ধমক দিয়ে স্টপ করে দিয়েছে। কাউকে কথা বলতে দেয়নি। পরে আমরা কোনো রকমে ওই শিক্ষককে মেডিকেলে পাঠিয়েছি।’
তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা একটা খবর পেয়েছি, এখানে চার-পাঁচ জন ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তাদের ফেসবুক আইডিতে ঢুকে আমাকে অনেকে ছবি পাঠিয়েছে।
বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব করতে নয়: শিশুটির বাবা
যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।
শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’
মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব।’
১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানান এই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।
শিশুটির বাবা বলেন, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বীনি শিক্ষার জন্যই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেখানে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ওই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে উল্লেখ করে এই অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’
এদিকে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সি শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিবাদ চলছে। ঘটনার দিন মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা বাড়ি ফিরে মাকে জানিয়েছিল শিশুটি। এবার সেই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন শিশুটির মা মালিহা।
একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ওই সময় দর্শকের অনুরোধে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে স্ত্রীকে ফোন করেন তিনি। ফোনে মালিহা মেয়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মালিহা জানান, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ৮টায় মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠান তিনি। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাধারণ ক্লাসের পর সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশেষ আরবি ক্লাস হয়। ওই ক্লাস নিতেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ছুটির পর মেয়ে বাড়িতে ফিরলে তার মন খারাপ ও ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে বিষয়টি জানতে চান তিনি।
ফোনে মালিহা বলেন, ‘১৯ তারিখ সোমবার আমার মেয়েকে সকাল ৮টায় মাদ্রাসায় পাঠাই। ওদের ক্লাস সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হয়। সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত স্পেশাল আরবি ক্লাস হয়, যেটা ওই স্যার নেন। ছুটি হওয়ার পর মেয়ে যখন বাসায় আসে, আমি খেয়াল করি তার মনটা খারাপ। একটু কান্না কান্না ভাব আর একটু ভয় নিয়ে আছে।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, মা, তুমি এরকম ভয় পেয়ে আছো কেন? কী হয়েছে, আমাকে খুলে বলো। আমাকে বলতে চাচ্ছিল না। শুধু ভয় পেয়ে বলছিল, আম্মু, আমি বললে স্যার আমাকে মারবে। স্যার আমাকে মেরে ফেলবে।’
মালিহা জানান, পরে মেয়েকে বুঝিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ জানায়।
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আবার বলি, আমাকে একটু খুলে বলো। পরে বলছে, স্যার আমাকে আদর করছে। কী আদর করছে, মানে কেমন আদর—সে আমাকে বলছে, ব্যাড টাচ।
আম্মু, আমাকে স্যার ব্যাড টাচ করেছে। ব্যাড টাচ মানে কোথায় কোথায় তোমাকে ব্যাড টাচ করেছে? তো সে আমাকে বলল, আম্মু, আমাকে এই যে গালে, কপালে, ঠোঁটে—মানে বিভিন্ন জায়গায় পুরোটাই ব্যাড টাচ।’
ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা জানতে চাইলে মেয়ে মাদ্রাসার সিঁড়ির কথা জানায় বলে দাবি করেন মালিহা। তিনি বলেন, ‘আমি বললাম, এটা কোথায় হয়েছে? ওই মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, রুমের ভেতরে। এটা তো করা সম্ভব ছিল না।’
শিশুটি তাকে জানিয়েছিল, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। মালিহার ভাষ্য, ‘আম্মু, স্যার আমাকে বলছে, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নাই। আমার যখন ক্লাস শেষে সবাই বের হয়ে যাচ্ছিলাম, ছুটির পর যখন তারা ওপর থেকে নেমে আসে, তখন স্যার ওর হাতটা টেনে ধরে সিঁড়ির মধ্যে এগুলো করে।’
শিশুটি আরও জানিয়েছিল, বিষয়টি কাউকে না বলতে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে মালিহা বলেন, ‘স্যার তাকে নিজেই বলে, দেখো, তুমি যদি এই কথাটা বাসায় গিয়ে বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ সিঁড়িতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নাই। তোমার গার্ডিয়ানদের জানালে আমি কিন্তু তোমাকে মেরে ফেলব। তুমি এই কথা কাউকে বলতে পারবা না।’
মালিহা জানান, মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর মাদ্রাসার লুনা নামের এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানান তিনি। তার অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা ঘটনাটি প্রথমবার ঘটেছে উল্লেখ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তবে মা হিসেবে তিনি এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
এ বিষয়ে মালিহা বলেন, ‘মেয়ে থেকে এই ঘটনা জানার পর আমি মাদ্রাসারই একজন ম্যাডামকে জানাই এই বিষয়টা। উনার নাম হচ্ছে লুনা ম্যাডাম। ওনাকে জানানোর পর উনি আমাকে বললেন, দেখেন, এটা তো প্রথমবার ছিল, আমরা স্যারকে আরেকটা সুযোগ দিই। আমি মা হিসেবে ওনার এই কথায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি।’
এরপর মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকে ফোন করে অভিযোগের কথা জানান বলে দাবি করেন মালিহা। তিনি বলেন, ‘পরে আমি সাথে সাথে ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকে ফোন দিই। তখন কিন্তু তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না। তিনি নাকি ছুটিতে ছিলেন। তো ওনাকে আমি জানাই যে আমার মেয়ের সঙ্গে এরকম এরকম হয়েছে। স্যার এরকম ব্যাড টাচ করেছে। তো উনি বললেন, আমরা তাৎক্ষণিক পরের দিনই, ২০ তারিখেই, সিঁড়িতেও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে দেব এবং সর্বক্ষণই একজন মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবে। যখন একজন পুরুষ শিক্ষক ক্লাস নেবে, তখন পাশাপাশি একজন মহিলা শিক্ষকও থাকবে। ওনার কথায় আমি আশ্বস্ত হয়ে ২০ তারিখে আমার মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠাই।’
তবে পরদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাস নেন এবং মেয়ের কাছ থেকে বাসার নম্বর জানতে চান বলে অভিযোগ করেন মালিহা।
তিনি বলেন, ‘পাঠানোর পরে সেই দিনও ওই স্যার ক্লাস করে এবং আমার মেয়েকে বলে যে, তোমাকে আমার পছন্দ। তোমাদের বাসার নম্বর কত? মানে আমার মেয়ের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে বাসার নম্বর জেনে নিয়েছে।’
মালিহার অভিযোগ, সেদিন মেয়ে বাড়িতে ফেরার পরপরই ওই শিক্ষক তাদের বাসায় যান। তখন তিনি সন্তানদের নিয়ে একা ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘মেয়ে বাসায় আসার পরপরই উনি আমাদের বাসায় চলে এসেছেন। আর তখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বাসায় একা ছিলাম। কোনো পুরুষ মানুষ বাসায় নাই। উনি আমার বাসার সামনে এসে বারবার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। বলছেন—আপনার বাসার দরজা খুলেন, আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে।’
ওই সময় শিক্ষককে শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন বলে জানান মালিহা। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলেছি, আপনার সঙ্গে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। বাচ্চার বাবা কথা বলবে এই বিষয়ে আপনার সঙ্গে। তারপরেই আমি বাচ্চার বাবাকে জানাই ঘটনাটা।’
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মালিহা বলেন, ‘উনারা সবাই আমার বাচ্চার সঙ্গে অন্যায় করেছে, এখন উনারা অস্বীকার করেছে। আমি আমার ছোট বাচ্চা মেয়েটার প্রতি হওয়া অন্যায়ের জন্য বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই।’
গত ২১ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি তাকে চড় মারেন। পরে উপস্থিত জনতাও ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালতে শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে নিপীড়নের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।
ঘটনায় গ্রেফতার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ ঘিরে শিশুটির পরিবার এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পালটাপালটি অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলতে চায়নি। পরে মা-বাবাকে ঘটনার কথা জানায়।
শিশুটির বাবার করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠায় পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালতের পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, বিচারক শিশুটির বক্তব্য শুনে তা জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
শিশুটির মা মালিহা আক্তারের দাবি, মাদ্রাসা থেকে ফেরার পর মেয়েকে ভীত ও মনমরা দেখাচ্ছিল। কী হয়েছে জানতে চাইলে সে প্রথমে বলতে ভয় পায়। শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে মারধর করা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও শিশুটি মাকে বলেছিল বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সরাসরি সম্প্রচারের সময় স্ত্রীকে ফোন করেন। তখন মালিহা মেয়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিবরণ দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি শিক্ষকের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ জানায় এবং ঘটনাস্থল হিসেবে মাদ্রাসার সিঁড়ির কথা বলে।
মালিহার অভিযোগ, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই জানিয়ে শিক্ষক শিশুটিকে বিষয়টি কাউকে না বলতে ভয় দেখিয়েছিলেন। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর তিনি মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা লুনাকে বিষয়টি জানান। ওই শিক্ষিকা ‘অভিযুক্ত’ শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকেও বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন মালিহা।
তার ভাষ্য, পরদিন সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুরুষ শিক্ষকের ক্লাশের সময় একজন নারী শিক্ষককে উপস্থিত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে মেয়েকে আবার মাদ্রাসায় পাঠান তিনি। কিন্তু সেদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাশ নেন এবং শিশুটির কাছে বাসার ঠিকানা জানতে চান বলে অভিযোগ করেন মালিহা। তার দাবি, সেদিন বাড়ি ফেরার পর ওই শিক্ষক তাদের বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন এবং কথা বলতে চান। পরে তিনি বিষয়টি স্বামীকে জানান।
গত বুধবার শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জন মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্য শিক্ষক, শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন অধ্যক্ষ। এসব ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।
তবে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তাও দাবি করেছেন তিনি।
মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন শিশুটির মা
সেনবাগ থানা।
নোয়াখালীর সেনবাগে নিজ বসতঘর থেকে মো.হানিফ ওরফে সুমন (৪০) নামে এক মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের আলাবক্স বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা জানাজানি হয়।
নিহত সুমন ওই এলাকার আলাবক্স বেপারী বাড়ির মৃত তফাজ্জল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় ফকিরহাট বাজারে মুদি দোকানদার ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে সুমনের দোকান বন্ধ ছিল। পরে দোকানের কর্মচারী জাহিদুল হক শাহীন মালিকের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান। সেখানে বসতঘরের ভেতরে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। সুমনের স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে গত সাত থেকে আট মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে সুমন বাজারের হোটেলে খাবার খেতেন।
সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে দুদিন আগে ওই ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যায়নি।