পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর, এমপি।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি এসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন করা উন্নয়নকাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬৭ নম্বর নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং ৭৬ নম্বর দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ। এ ছাড়া ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জাকির পেশকারের অফিস থেকে বেলায়েত হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত এবং পেশকার মসজিদ থেকে ইউনুসের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
একই ওয়ার্ডে বড় কানুয়া আলীর দোকান সংলগ্ন বিসিসিটিএফ সিসি রোড থেকে হাওলাদার বাড়ি-বেপারী বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. হাসিবুল হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সদস্য সচিব মাসুদ রানা পলাশ, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম মান্নান উৎপল হাওলাদার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামীম হাওলাদার প্রমুখ।
এছাড়াও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে শিশুদের শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ গড়িয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মকবুল হোসেন নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মারা গেছেন।
মকবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। নিহতের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পথে জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে বালাগ্রাম ইউনিয়নে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মকবুল হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা।
মকবুল হোসেনের মরদেহ দুপুরে বালাগ্রামের নিজ বাড়িতে নেওয়ার সময় জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে দেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে মানববন্ধনটি বিক্ষোভে রূপ নেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মকবুল হোসেনসহ সংঘর্ষে আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই ঘটনায় প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা জলঢাকা থানায় ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পরে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও মামলা করা হলে সেটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২৩ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়। অর্থাৎ একই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মকবুল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, “আসামিদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাতক্ষীরা শহরের রাজারবাগান এলাকায় ১০ দশমিক ৫৮ শতক জমি জোরপূর্বক দখল নিতে বেড়ার প্রাচীর দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ এমনকি জীবন নাশের হুমকি-ধমকিতে থানায় জিডি করেও রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা চেয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ একাধিক উচ্চ মহলে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন জমির মালিক মোছাঃ মেহেরুন নেছা (৬১) নামে এক বৃদ্ধা নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজারবাগান মৌজার সাবেক খতিয়ান নং-৭৪০, হাল খতিয়ান নং-৫৯৮৭ এবং দাগ নং-২১১ ও ২১২-এর মোট ১০ দশমিক ৫৮ শতক জমি তিনি ক্রয় ও পৈতৃক সূত্রে মালিক হওয়ার সুবাদে আপডেট কাগজপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছেন। তবে জমিটি বেশ মূল্যবান হওয়ায় ৫ আগস্টের পর স্থানীয় মৃত মোদাচ্ছেরের ছেলে রেজা হোসেন (৫০) ও সিরাজ হোসেন (৪৫) এবং ওবেদ আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ (৬৫) দখল নিতে সকল ধরনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনু: ৮টার দিকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা জমিতে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে ঘেরাবেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাধা দিলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
তাছাড়াও জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে এরই মধ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ এডিএম আদালতে ১৬৭৩/ক্রিঃ নং স্মারকে একটি মামলা চলমান রয়েছে যার নম্বর পি-৯১৬/২৬, ধারা ১৪৫ ফৌঃ কাঃ। তার পরেও বিবাদীরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করলেও কোন সমাধান পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর এবং বর্তমানে বিবাদীদের কথিত হুমকির কারণে পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানান, দলের নামে এভাবে দখল বানিজ্য মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারামারি কিংবা গুরুতর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত সুব্যবস্থা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এমনটা প্রত্যাশা সকলের।
আসামি রাজিব
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আসামিদের বাড়ির টিনের বেড়া ও চাল ভেঙে খুলে পাশে স্তূপ করে রাখা হয়।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে রাজিব (২৩) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এ হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে চর কালিবাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, শরীফ মিয়া ও আরিফ মিয়াসহ পাঁচ যুবক প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। পানি দেওয়ার জন্য দরজা খুললে তাঁরা ওই নারীর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার পর রাতেই রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন।
মামলায় চর কালিবাড়ি এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩) ও আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩) এবং নূরুর ছেলে এনামুলকে (২২) আসামি করা হয়েছে। মামলার পাঁচ আসামিই চর কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আসামিদের শাস্তির দাবিতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রোববার ও সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা দুই দফা আলোচনা করেন। এর পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্র হয়ে মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ভাঙচুরে আসামিদের টিনের বসতঘরের বেড়া ও চাল ভেঙে ফেলা হয়। পরে খুলে নেওয়া টিন বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। তবে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভাঙচুর চললেও ওই সময়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল না।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা খবর পেয়েছি। চর কালিবাড়ি এলাকায় আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ফিলিং স্টেশনকে জ্বালানি তেল পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগে ৩৫ হাজার টাকা এবং একটি হোটেল-রেস্টুরেন্টকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভূল্লী থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ এস এম মাসুম উদ-দৌলা।
অভিযানকালে কুমারপুর এলাকার মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়। সেখানে জ্বালানি তেল পরিমাণে কম দেওয়ার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া ভূল্লী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে অবস্থিত অতিথি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবারের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় খাবার বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসা পরিচালনায় নিয়ম-কানুন মেনে চলা, সঠিক পরিমাপে পণ্য সরবরাহ এবং খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
অভিযান চলাকালে ভূল্লী থানা পুলিশের সহযোগিতা ছিল। অভিযানের পর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বরগুনা জেলা কারাগারে নেওয়ার সময় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাত করা ভেঙে কৌশলে পালিয়ে যাওয়া আল আমিনকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আটকের পরে আজ রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
জানা গেছে- পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় জি. আর ৩৩১/২৫(বর) মামলা দায়ের করেন। উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২১ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ রায় প্রদান করেন এবং the Penal Code এর ২২৫ (বি) ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট মোঃ আনোয়ার হোসেন আসামি আল আমিনকে ১ মাস ১৫ দিনের সশ্রম কারাদন্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনদায়ে আরো ১০ দিন বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে রায় ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, আসামি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ স্বীকার করলেও দাবী করেন ঘটনাটি তার অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং তিনি মনে করেছেন তার জামিন হয়েছে, তাই তিনি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বেঞ্চ সহকারি মোঃ কামাল হোসেন বলেন- ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট আল আমিনের বিরুদ্ধে বরগুনা সদর আদালতে পারিবারিক ডিক্রি ৩৬/২০১৮ জারি থাকায় আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজ্ঞ বিচারক।
তিনি আরও জানান- ওইদিন ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের ভ্যানে উঠানোর সময় মানুষের ভিড়ে হাতকড়া খুলে কৌশলে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিমান্ডে
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।