বহুতল ভবন আর আধুনিক মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষসহ পর্যাপ্ত ল্যাব থাকলেও শিক্ষক সংকটে ভুগছে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে একটি হল জিলা স্কুল ও অন্যটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে এ দু’টি স্কুলেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে আরেক বিষয়ের শিক্ষকের।
এতে ব্যাহত হচ্ছে স্কুল দু’টির শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান। তবে শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ১৯২৭ সালে বরগুনা এম.ই. স্কুল নামে বর্তমানের জিলা স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৩১ সালে মাধ্যমিক, ১৯৩৮ সালে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল এবং সবশেষ ১৯৭০ সালে সরকারি জিলা স্কুল হিসেবে রূপান্তরিত হয়। অপরদিকে জেলায় নারী শিক্ষার জন্য সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যায়ন শেষ করে অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বর্তমানে এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে কর্মরত। তবে বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে স্কুল দুটি। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বাইরের শিক্ষকদের কাছে।
বরগুনা জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে- বরগুনায় ছেলেদের জন্য একমাত্র সরকারি স্কুল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকলেও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দুটি পদই রয়েছে শুন্য। বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত মাত্র ২৫ জন। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষকদের জন্য ৮টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন ২ জন। গণিত শিক্ষকের ৮টি পদের বিপরীতে ৫ জন, ভৌতবিজ্ঞান শিক্ষকের পদ ৬টি পদই শুন্য। সামাজিক বিজ্ঞানে ৪টি পদের বিপরীতে ১ জন, ব্যবসায়ী শিক্ষা পদে ২ জনের বিপরীতে ১ জন শিক্ষক কর্মকর্ত আছেন। এ ছাড়া ইসলাম ধর্ম বিষয়ে ১ জন, শারীরিক শিক্ষায় ১ জন, কৃষি শিক্ষায় ১ জন, চারুকারুতে ২ জন, জীব বিজ্ঞানে ২ জন, ভুগোলে ২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বর্তমানে আইসিটি ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক নেই।
অপরদিকে, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদসহ বাংলা বিষয়ে ৬, ইংরেজিতে ১, গণিতে ১, সামাজিক বিজ্ঞানে ৪, ভৌত বিজ্ঞানে ৩, জীববিজ্ঞানে ৩, ব্যবসায় শিক্ষায় ২, ভূগোল ১, ইসলামি শিক্ষায় ১, চারু ও কারুকলায় ১, শারীরিক শিক্ষায় ১ জনসহ মোট ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এ দুটি স্কুলে ব্যাপক সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে এক বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের। এতে ক্লাসে পড়া বুঝতে সমস্যা হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্কুল দুটির শিক্ষার্থীদের।
জিলা স্কুলের নমব শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঈশান বলেন- আমাদের স্কুলে ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ২৫ জন শিক্ষক আছেন। এ কারণে একই শিক্ষকদের অনেক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের কঠিন বিষয়গুলোর শিক্ষক নেই। এতে কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী আল হাসনাইন হামী বলেন- আমাদের স্কুলে আইসিটির কোনো দক্ষ শিক্ষক নেই। বাংলার শিক্ষক অথবা ধর্মের শিক্ষক আইসিটির ক্লাস নিচ্ছেন। তাদের থেকে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা লাভ করতে ও তাদের বোঝানোর ধরন সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছি না।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা ইসলাম বলেন- আমাদের একজন শিক্ষক একাধিক বিষয়ে পাঠদান করছেন। এতে আমারা পূর্ণাঙ্গ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ল্যাবটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক না থাকায়। আমরা চাই আমাদের সব বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এ স্কুলে আসুক।
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী সাদিকা বলেন- স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি৷ আমাদের বাধ্য হয়ে বাইরের শিক্ষকদের কাছে পড়তে হয়। কিন্ত স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকলে ক্লাসে বসে আমাদের পড়া বুঝতে কোনো সমস্য হতো না।
শিক্ষক সংকটে এক শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের শিক্ষক মো. আল হাদী দুলাল বলেন- বর্তমানে আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের একাধিক ক্লাস নিতে হয়। আমরা প্রতিদিন সাতটা করে ক্লাস নিই। এই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কারণে আমরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রদের মধ্যে কিছু ঘাটতি থেকে যায়। আমরা শিক্ষকরা পরিশ্রম করি ঠিকই কিন্তু ছাত্রদের কাছ থেকে যে আউটপুট আমরা আশা করি সেটা আসলে কম পাচ্ছি। আর যেহেতু আমাদের সাইন্সের শিক্ষক নেই, সেই ঘাটতি অন্য কোনো শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বর্তমানে আমাদের সাইন্সের রেজাল্ট খুব ভালো হচ্ছে না। আর এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে হয়ে চলে আসছে।
চাকরির গ্রেড সমতায়ন না থাকায় মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকরা থাকছেন না জানিয়ে বরগুনা জিলা স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রাসেদুজ্জামান বলেন- সারা দেশেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আসলে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলো মেধাবী শিক্ষককদের ধরে রাখতে পারছে না। এর একমাত্র কারণ যথাসময়ে শিক্ষকদের পদ সমতায়ন না করা। আর এ কারণে মেধাবীরা এসেও আবার অন্য বিসিএস চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রমোশনসহ পদ মূল্যায়ন করা হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে আমি মনে করি।
বরগুনা জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন- স্কুলের শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। আমাদের আইসিটি শিক্ষক, কৃষি শিক্ষক ও হিন্দু ধর্মের জন্য আলাদা শিক্ষক নেই। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষক নেই। অবকাঠামগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছি। সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করানোর চেষ্টা করছি।
বরগুনার ঐতিহ্যবাহী সরকারি এ শিক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষক সংকটের বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার বলেন- স্কুল দুটিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। বিগত ১০ বছর আগে আরও বেশি সংকট ছিল। তবে গত তিন বছরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষক দেওয়ার কথা তা আমরা পাইনি। আর এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক যে শিক্ষা দেওয়া দরকার তা দিতে পারছি না। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বারবার শূন্য পদের তালিকা চেয়েছে এবং বারবারই দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের চাহিদা পূরণ হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকেরা জানান, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন ফোন করলেও ওসি সাড়া দেন না। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেন না। ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।
থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর একটি ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের, আরেকটির ৫৭ সেকেন্ড এবং অন্যটির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।
ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। ওসির টেবিলের চারপাশে সংসদ সদস্যের নেতা-কর্মীরা ঘিরে ছিলেন।
সংসদ সদস্য, তাঁর পিএস ও নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাঁকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।
পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’
ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’
মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’
ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’
নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তাঁর সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’
ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ তুলে ওসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য আমাকে সব সময় চাপ প্রয়োগ করেন তিনি (রুমিন ফারহানা)। আমি নোটডাউন করে রেখেছি। উনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এখানে এসেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব মিথ্যা।’
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে কী কারণে অটোরিকশাচালকেরা এ অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. বেনাজির হাবিব তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনছারুল ইসলাম (হিমু) স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. ফজলে রাব্বীকে আহ্বায়ক এবং মো. নওশাদ আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিউর রহমান দীপকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অধীন ১০টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।
প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।
সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।
রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।