বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:০৭ এএম

আবারও একটি অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।


গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৫১টি জিতে নিয়েছে বিএনপি। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়া ধর্মভিত্তিক দলটি পেয়েছে ৪২টি আসন।


এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটে থাকা বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।


চারটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা এখনো বাকি। সেখানেও বেশ কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হয়। আর তাতে অনুমিতভাবেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই ফলের অর্থ হল, জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের সম্মতি দিয়েছেন দেশের নাগরিকরা। অবশ্য গণভোটের প্রক্রিয়া ও প্রশ্নের গঠন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; নাগরিকরা ভোট দিয়েছেন না বুঝেই।


তারেকের নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তন


১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবার সরকারগঠন করেছিল তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আর এবার তাদেরই সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি চতুর্থবারের মত দেশ শাসনের ভার নিতে যাচ্ছে।


সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একানব্বইয়ের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি।


তার পরের তিন নির্বাচনে দুই বার সরকার গঠন করলেও মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল একবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে দলটি চলে গিয়েছিল শাসন ক্ষমতার বাইরে।


আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনের দুটি বর্জন করেছিল বিএনপি, একটিতে হয়েছিল ভরাডুবি। এরপর চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সরকারে ফেরার পথ তৈরি হয়।


১৯ বছর পর বিএনপি যখন সরকারে ফিরছে, তখন নতুন মেরুকরণে বিরোধীর আসনে নেই তাদের ৩৫ বছরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা আর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের এবার ভোট করার সুযোগ ছিল না।


বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন সর্বোচ্চ ১৮ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগে এবার বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে বেশ। মায়ের ব্যাটন হাতে তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের ক্ষমতা কেন্দ্রে প্রায় তিন যুগের চেনা চেহারা বদলে যাবে।


এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তার মা, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। প্রায় দেড় দশক টানা দেশ শাসন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন।


খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনে একটা সময়ে পর্যায়ক্রমে সরকার প্রধান হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন যখন সরকার প্রধান হয়েছেন, অন্যজন তখন থেকেছেন বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় রাজপথে।


এক সময় তাদের বৈরি সম্পর্ককে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো ‘দুই বেগমের যুদ্ধ’ হিসেবেও চিত্রিত করেছে।


২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য তখনকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে কারাগাযে যেতে হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে তাকে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়।


চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর খালেদা জিয়া পুরোপুরি মুক্ত হন, আদালতের রায়ে মুক্তি পান সাজা থেকেও।গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া যখন চিরবিদায় নেন, তার কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষিত হয়েছিল ত্রয়োদশ নির্বাচনের তফসিল।


তার মৃত্যুর পর বিএনপির এক শোকাহত কর্মী আক্ষেপ করেছিলেন, “ও আল্লাহ, আর কয়টা দিন বাঁচায় রাখতা, আমার ম্যডাম যাতে নির্বাচনটা দেইখা মৃত্যুবরণ করত।”


আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি ছোটবড় দল। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থী ছিলেন ২০২৮ জন।


জামায়াতের একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে প্রচারের মাঝপথে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ২৯৯টি আসনে।


লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিপুল সংবর্ধনায় দেশে ফিরে নির্বাচনি যাত্রায় নেমেছিলেন তারেক রহমান, যিনি মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। দেশ গঠনের ‘পরিকল্পনা’ নিয়ে দেশে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে দেশবাসীর সমর্থন তিনি চান।


তার দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, খালেদা জিয়া; নির্বাচনি আমেজের মধ্যে তার এই বিদায়ে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তারেক।


ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিএনপি। তাদের জন্য আটটি আসন ছেড়ে দেয়।


২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।ভোটের প্রচারে জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও ধর্মের নামে রাজনীতি করা’ দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।


তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এতদিন রাজনীতি করে আসা জামায়াতকে তিনি ভোটের প্রচারে নতুন রূপে দেখানোর চেষ্টা করেন।


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের দল এলডিপির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে সঙ্গী হিসেবে পাশে টেনে নেয় জামায়াত। প্রার্থী করা হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও।


ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত বললেও ভোটের প্রচারের সময় নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরসহ কয়েক নেতার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।


জামায়াতের আমিরও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিএনপির অতীত মনে করিয়ে দিয়ে ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


ভোটের সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এসে বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি ‘কম-বেশি’ আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করতে চান।


ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাণটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোহানবাগ ঘুরে নিজের কার্যালয়ে এসে তিনি দেশজুড়ে ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।


তিনি বলেন, ‘‘ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।”


“আমি বিশ্বাস করি, গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আজকে সেই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই থাকবে।”


সকালে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমানও সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদের কথা বলেন ।


তিনি বলেন, “এই ভোটের মাধ্যমে আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না; বরং যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”


নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর বলেছিলেন, “আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই এগুলোকে ইগনোর করব। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না এবং আমাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করব। কারণ মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।”


২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে ঠাঁই পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা। তবে নিজেদের সক্ষমতায় সরকার গঠন তো দূরে থাকা, প্রধান বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ তাদের হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তারা সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে।


কেমন হল ভোট


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন গণভোট হয়। মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবেই দিনভর ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও কোথাও বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যয়নি। কোনো কেন্দ্র বাতিল বা স্থগিতও করতে হয়নি।


ভোট চলাকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। তবে তাদের পাঁচজনই মারা যান হঠাত অসুস্থ হয়ে। আরেকজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।


জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তিনটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ‘ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলার’ অভিযোগ তোলে।


এনসিপি বলে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগহণ ‘সন্তোষজনক’ হলেও তারপর থেকেই সারা দেশ থেকে তারা বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছে। ভোটের সময় বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও।


অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, কোনো কেন্দ্র ভোট স্থগিতও হয়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করায়, দেশবাসীকে ধন্যবাদও দিয়েছে তারা।


দুপুর ২টা পর্যন্ত সাড়ে ছয় ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে পুরো ৯ ঘণ্টায় কত শতাংশ ভোট পড়েছে, সে তথ্য এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।


দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটে নাগরিকদের ‘অংশগ্রহণের আগ্রহকে ইতিবাচক’হিসাবে বর্ণনা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস।


সারা দেশে ইউ মিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইতোমধ্যে আমরা তথ্য গোছানোর কাজ করছি। দুপুর পর্যন্ত ভোটে বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণের আগ্রহ ইতিবাচক দেখতে পাচ্ছি।”


এদিকে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা না করে ‘ঝুলিয়ে’ রেখেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে এখনি বিস্তারিত বলতে চাননি।


তিনি বলেন, “বেশকিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমরা বুঝছি না কেন। মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দিয়ে উধাও করে দেওয়া হল। ওনারা একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ের ১০টা, ১২টা ফল দিচ্ছেন।


“আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে সেখানে আমরা দেখেছি, এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে লোকালি বিভিন্ন টালবাহানা করা হচ্ছে।”


রাতে ঢাকা-৮ আসনে ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে পাল্টা অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।


তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায়’ জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।


একইসঙ্গে ফল ঘোষণার পরও যেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম অব্যাহত থাকে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব- এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।


“তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”


তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।


“এই নির্বাচন আমাদের জন‍্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ‍্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।


নোবেলজয়ী ইউনূস বিদায় বেলায় বলেন, “এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”



সর্বশেষ সব খবর

আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৭ এএম

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গ্রেপ্তারের পর সামনে আসছে তার একাধিক অপরাধের চিত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল কারওয়ান বাজারই নয়, নিজের এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক কাজ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভবন দখলের মতো নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন এই ছাত্রদল নেতা। ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর জানায়। এরপর আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয়ন ও তার অনুসারীদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় অধিবাসীরা।


বর্তমানে আদাবর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের ৫০ থেকে ৬০টি ভবনের পানি ও পয়েন্টনিষ্কাশন লাইনের কাজ জোর করে নিজেদের লোক দিয়ে করাতে ভবনমালিকদের বাধ্য করেছেন নয়নের সমর্থকরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল দাবি ও জোরপূর্বক আদায় করা হয়।


৬ নম্বর সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির নালার কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বনামধন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে চাইলে চার-পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িমালিককে হুমকি দেয়া হয়, যা পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। একই সড়কের আরেকটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্য মিস্ত্রি দিয়ে যে কাজ ১০ হাজার টাকায় করা যেত, সেখানে তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন এবং সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে এমব্রয়ডারি কারখানা, ফুটপাতের দোকান এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হতো।


এমনকি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বাবুলের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে নয়ন ও জসিমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। দখল করতে না পেরে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতাকে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।


তবে সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান জসিম চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।


উল্লেখ্য, গত মাসে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আওতাধীন আদাবর থানা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।কমিটির বিলুপ্ত হওয়া সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ দাবি করেছেন, নয়নকে আদাবরের কথা বলে আটক করলেও পরে কারওয়ান বাজারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তার মতে এক ধরণের চক্রান্ত।


তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতেই নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়নের বিরুদ্ধে আসা আদাবরের অন্যান্য চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও নাম বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৭ এএম

বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জ্বালানিমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন তিনি। স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সাইবার আইনসহ কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল।


বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। এ সময় এনসিপির দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর মানুষের সমস্যা বেড়েছে, অথচ সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই।


আর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাচ্ছে না। 

সর্বশেষ সব খবর

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ জয়পুরহাটে। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম

জয়পুরহাটের কালাইয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের এক তরুণীর সিঁথিতে জোরপূর্বক সিঁদুর পরানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।



এ সময় একপক্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ তুললেও অপরপক্ষ তা অস্বীকার করে নিজেদের ওপর হামলার দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালিপাড়া গ্রামে এক তরুণীর সিঁথিতে জোর করে সিঁদুর দিতে চাওয়ার অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং রাতেই তাদের জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত চিচোরন চন্দ্র মালীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন— সুবর্ণা রাণী (৪০), মলিনা রানী (৫৫), গোবিন্দ চন্দ্র মালী (৪৫), জয় চন্দ্র মালী (২৫) ও চিচোরন চন্দ্র মালী (৪৬)। এদের মধ্যে সুবর্ণা রাণী, মলিনা রানী ও গোবিন্দ চন্দ্র মালী হলেন তরুণীর পক্ষের এবং জয় চন্দ্র মালী ও চিচোরন চন্দ্র মালী হলেন অপরপক্ষের লোক।



স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছরের এক তরুণীকে দোলন (১৭) নামের এক যুবক শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছিল। বিষয়টি ওই তরুণী তার পরিবারকে জানায়। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মালিপাড়ায় সালিশ ডাকা হয়। সালিশ চলাকালে দুইপক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধ সৃষ্টি হয়।



একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তরুণীর পক্ষের তিনজন এবং যুবকের পক্ষের দুজন আহত হন। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।



এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক দোলন বলেন, পল্লবীর সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার কথা বলেছি। এর জন্য পল্লবীর বাবা-মা অন্য লোকজনকে নিয়ে তিনজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। একজনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে, আরও একজনকে মারধর করে আহত করেছে। হামলার সময় বাড়িঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ অনেক মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।



তবে তরুণীর বাবা শতুঘোন মালী বলেন, মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। কথা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে দুইপক্ষ তর্কে জড়ালে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের তিনজন আহত হয়। একজনের অবস্থা ভালো না।



কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারীউত্তাল সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী নামে এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


বৃহ্স্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে শহরের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে রায়পুর থানা পুলিশ।


তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  গ্রেফতার ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী রায়পুর উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। তিনি পৌর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।  এ বিষয়ে জানতে তার স্ত্রী রায়পুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


রায়পুর থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগে ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠান হবে।

সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

‎শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে ক্ষমা চেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।



‎শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে হুইপ নিজান লেখেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আমার বক্তব্যের কিছু অংশের কয়েকটি বাক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আপনারা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।’



তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা লক্ষ্মীপুর-৪ এর রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ, তরুণ-তরুণী, আমার বিপক্ষ দলের রাজনৈতিক নেতা এবং অন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই- আমার বক্তব্যের যে অংশটুকু আসলে ধর্মীয়ভাবে বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দেয়, সে অংশটুকুর জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনাদের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি।’



বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জানিয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান লেখেন, ‘আমি বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের মদীনায় অবস্থান করছি। এ পবিত্র স্থানে এসে আমি কায়মনোবাক্যে দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার ঈমানকে আরও সুদৃঢ় ও মজবুত করেন। মহান আল্লাহ যেন আমাকে সবার কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত রাখেন, আপনাদের কাছে সে দোয়া চাই।’



উল্লেখ্য, সম্প্রতি রামগতি ও কমলনগরের দুর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় দেওয়া তার একটি বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সুশীল ও তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ সব খবর

পাহাড়ে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি

থমথমে সাজেকে আতঙ্ক, পর্যটন ব্যবসায় ধস


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। 


এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে আবারও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।




এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা। 


গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে।


অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসাবে বিভিন্ন মহল থেকে উলে­খ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। 


জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ


বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে 


রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে।  


বন্ধ সাজেক, বড় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা


নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। 


সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা  মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন,  কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহণ খাত, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়েছে। একই কথা জানান সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা। 


সাজেক খুলে দিতে আলটিমেটাম


পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, ‘আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব।’ 

সর্বশেষ সব খবর