• প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ এএম

দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা, অলসতা কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে অনেকেরই নিয়মিত নামাজ ছুটে যায়। ইসলামে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পর সেই নামাজ আদায়ের সুযোগ আছে কি না, ইসলামি শরিয়তে কাজা নামাজ বলতে আদৌ কিছু আছে কি না, কিংবা ইচ্ছাকৃত নামাজ ছাড়লে তা কাজা করতে হয় কি না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি রয়েছে।


কাজা নামাজ কী


ইসলামি আইনশাস্ত্রে (ফিকহ) ফরজ আমল আদায়ের দুটি রূপ রয়েছে:


আদা: শরিয়ত নির্ধারিত সময়ের ভেতরে নামাজ আদায় করা।


কাজা: নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পর ছুটে যাওয়া নামাজ পরবর্তীতে পড়ে দায়িত্বমুক্ত হওয়া।


আল্লাহ–তাআলা নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)


তবে মানুষের ভুলত্রুটি বা বাধার কারণে ওয়াক্ত পার হয়ে গেলে সেই নামাজ আল্লাহর ‘ঋণ’ হিসেবে বান্দার ওপর থেকে যায় কি না, তা-ই কাজা নামাজের মূল প্রতিপাদ্য।


কাজা নামাজের প্রামাণিক ভিত্তি


ইসলামে কাজা নামাজের অস্তিত্ব হাদিসের স্পষ্ট বিবরণ ও মুসলিম মনীষীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) দ্বারা প্রমাণিত।


১. অনিচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছুটে গেলে: ঘুম বা ভুলে যাওয়ার কারণে নামাজ কাজা হলে তা স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদায় করা ফরজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নামাজের কথা ভুলে যায় কিংবা ঘুমের কারণে তা ছুটে যায়, তার কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হলো—যখনই তার মনে পড়বে, তখনই সে তা আদায় করে নেবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৭)


খন্দকের যুদ্ধের সময় কাফেরদের তীব্র আক্রমণের কারণে রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের আসরের নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা সম্ভব হয়নি। সূর্যাস্তের পর তিনি প্রথমে আসরের কাজা এবং পরে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৬)


অনিচ্ছাকৃত কাজা আদায়ের ব্যাপারে সব যুগের আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে। (আন-নববি, আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব, ৩/৬৬, দারুল ফিকর, বৈরুত, তাবি; ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনি, ১/৪৩৫, দারু আলামিল কুতুব, রিয়াদ, ১৯৯৭)


২. ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দিলে: কোনো যুক্তিসংগত অপারগতা ছাড়া ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগ করা মহাপাপ (কবিরা গুনাহ)। এটা চার মাজহাবের সর্বসম্মত মত। তবে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও খাঁটি তওবার পাশাপাশি পূর্বের সব ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা আদায় করা আবশ্যক:


হানাফি মাজহাব: ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগকারীর নামাজ জিম্মায় দায় হিসেবে থেকে যায় এবং তা কাজা করা ছাড়া দায়মুক্ত হওয়া যায় না। (আস-সারাখসি, আল-মাবসুত, ১/১২৪, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৯৯৩)


মালিকি মাজহাব: ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগের পরও অনুতপ্ত হয়ে পূর্বের নামাজ কাজা আদায় করা ফরজ। (ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিজকার, ২/৭৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০০)


শাফিয়ি মাজহাব: ইমাম শাফিয়ি যুক্তি দেন, ঘুমন্ত ব্যক্তির যদি কাজা লাগে, তবে অবহেলাকারীর ক্ষেত্রে কাজা আদায় আরও বেশি প্রযোজ্য। (আশ-শাফিয়ি, কিতাবুল উম্ম, ১/১৪৭, দারুল ওয়াফা, আল-মানসুরা, ২০০১)


হাম্বলি মাজহাব: অনুতপ্ত নামাজ ত্যাগকারী ইসলামের ওপর অটল থাকলে তার অতীত জীবনের নামাজ ধারাবাহিকভাবে কাজা করতে হবে। (ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনি, ১/৪৩৮, দারু আলামিল কুতুব, রিয়াদ, ১৯৯৭)


কাজা নামাজ নিয়ে সন্দেহ কেন


ইতিহাসের কিছু ফকিহ ও আলেম—যেমন ইমাম ইবনে হাজম, ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম প্রমুখ মত দেন যে ইচ্ছাকৃত নামাজ ছাড়লে পরবর্তী সময়ে আর কাজা হয় না। (আল-মুহাল্লা বিল আসার, ২/২৩৫, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৮৮; মাজমুউল ফাতাওয়া, ২২/৩৭, মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদিনা, ১৯৯৫; কিতাবুস সালাত ওয়া হুকমু তারিকিহা, পৃ. ৬৪, দারুল ইমাম আল-বুখারি, দামেস্ক, ২০০৬)


তাঁদের মূল যুক্তিগুলো হলো:


সময়ের বাধ্যবাধকতা: ওয়াক্ত আসার আগে যেমন নামাজ হয় না, তেমনি ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পরও তা পড়ার সুযোগ নেই।


ভুল তুলনা: হাদিসে শুধু ঘুমন্ত ও ভুলোমনা ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। কোনো ক্ষমার যোগ্য অপারগ ব্যক্তির বিধানকে ইচ্ছাকৃত অপরাধীর ওপর চাপানো ঠিক নয়।


নতুন নির্দেশের অভাব: শরিয়তে সময় পার হয়ে যাওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ত্যাগকারীর জন্য নতুন কোনো কাজা করার সরাসরি আদেশ আসেনি।


নফল দিয়ে পূরণ: রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন ফরজের ঘাটতি থাকলে আল্লাহ নফল দিয়ে তা পূরণ করবেন (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪১৩)। তাই তাঁদের মতে, কাজা না পড়ে বেশি বেশি নফল পড়া উচিত।


সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহদের জবাব


চার মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহ (জমহুর ওলামা) এই সন্দেহের জবাব দিয়েছেন:


অগ্রাধিকারমূলক যুক্তি: কোনো অপরাধ না থাকা সত্ত্বেও যদি ঘুম বা বিস্মৃতির কারণে আল্লাহর হক বাতিল না হয়ে কাজা করা লাগে, তবে অবহেলাকারী অপরাধীর ক্ষেত্রে নামাজ মাফ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তার দায় আরও কঠোর।


আল্লাহর ঋণ পরিশোধের মূলনীতি: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর প্রাপ্য ঋণ পরিশোধ করাই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৫৩)। নামাজ হলো একটি ঋণ; সময় পার হলেও বান্দার কাঁধ থেকে এই ঋণ দূর হয় না।


রোজার বিধানের সাদৃশ্য: রমজানের রোজা ইচ্ছাকৃত ভাঙলে সবার মতেই কাজা করতে হয়। রোজা যদি সময়ভিত্তিক হয়েও কাজা প্রযোজ্য হয়, তবে নামাজের ক্ষেত্রেও তা অবশ্য পালনীয়।


মুসলিম হিসেবে দায় বহাল: অলসতাবশত নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তি পাপী হলেও কাফের নয়। তাই তার অতীত জীবনের ফরজগুলোর দায় শরিয়ত অনুযায়ী বহাল থাকে।


নামাজ কাজা হলে কী করব


সংশয়ে পড়ে নামাজ কাজা না করে বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। চার মাজহাবের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী বিগত জীবনের কাজা নামাজ আদায় করে দায়মুক্ত হওয়াই নিরাপদ। তাই আমাদের করণীয় হলো:


আন্তরিক তাওবা: অতীতে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে কখনো নামাজ না ছাড়ার প্রতিজ্ঞা করা।


সম্ভাব্য হিসাব নির্ধারণ: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর কত দিন বা বছর নামাজ পড়া হয়নি, তার একটি সতর্কতামূলক আনুমানিক সংখ্যা ঠিক করে নেওয়া।


দৈনন্দিন রুটিন করে বিগত কাজা পড়া: বর্তমান পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সঙ্গে পেছনের ছুটে যাওয়া এক বা একাধিক ওয়াক্তের কাজা ধারাবাহিকভাবে আদায় করা (যেমন: আজকের ফজরের সঙ্গে পেছনের একটি কাজা ফজর পড়ে নেওয়া)।


সহজ নিয়ত: মনে মনে নিয়ত করা, ‘আমার দায়িত্বে থাকা পেছনের ছুটে যাওয়া কাজা নামাজের মধ্য থেকে প্রথম বা শেষ অমুক ওয়াক্তের (যেমন: ফজর/জোহর) ফরজ নামাজ আদায় করছি।’


শুধু ফরজ নামাজের কাজা পড়া: দৈনিক পাঁচ ওয়াক্তের ১৭ রাকাত ফরজ এবং এশার সঙ্গের ৩ রাকাত বিতর—মোট ২০ রাকাত। সাধারণ সুন্নত বা নফল নামাজের কাজা পড়তে হয় না।


অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি তাওবার পাশাপাশি নিয়মিত কাজা নামাজ আদায় করে নেওয়াই একজন সচেতন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাঠগড়ায় দায়মুক্তির নিশ্চয়তা লাভ করতে পারে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ এএম

প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসায় গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করার সুযোগ সবার থাকে না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে একজন মানুষ চাইলেই ঘরে বসে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রামাণ্য গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে গভীর ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন না।


নিজের ধর্ম ও জীবন পরিচালনার জন্য যতটুকু জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব, সঠিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করলে তা ঘরে বসেই অর্জন করা অসম্ভব নয়। তবে একটা নির্ভরযোগ্য, দক্ষ ও খোদাভীরু আলেমের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে হবে।


ঘরে বসে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের জন্য একটি রূপরেখা তুলে ধরা হলো।


প্রথম ধাপ: সহিহ-শুদ্ধ কোরআন পাঠ


ঘরে বসে কোরআন শিক্ষার যাত্রাটি শুধু পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মর্মার্থ অনুধাবনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।


কী পড়বেন:


তেলাওয়াত ও তাজবিদ: শুরুতেই কায়দা বা তাজবিদের কোনো নির্ভরযোগ্য বই নিয়ে কোনো দক্ষ কারির সহায়তায় বা অডিও-ভিডিও অ্যাপের মাধ্যমে হরফের মাখরাজ ও সিফাত ঠিক করে নিতে হবে।


অনুবাদ: পড়ার জন্য প্রামাণ্য ও সহজবোধ্য অনুবাদ নির্বাচন করতে হবে।


তাফসির: কোরআনের আয়াতের প্রেক্ষাপট বুঝতে সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তাফসির পড়া যেতে পারে। আধুনিক যুগের সহজবোধ্য কোনো তাফসির গ্রন্থ।


নামাজ ও ইবাদতের শর্ত হিসেবে ন্যূনতম কোরআনের কিছু অংশ সহিহ করে পড়া এবং তার মূল বিধান জানা প্রতিটি মুমিনের ওপর ব্যক্তিগত ফরজ। (আল-ফতোয়া আল-হিন্দিয়া, ১/৬২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০০)


২. দ্বিতীয় ধাপ: আকাইদ


ধর্মীয় শিক্ষার দ্বিতীয় ও সবচেয়ে সংবেদনশীল স্তম্ভ হলো সঠিক আকিদা বা বিশ্বাস গঠন করা। ভুলের বেড়াজাল থেকে ইমানকে রক্ষা করতে শরিয়তের মৌলিক বিশ্বাসগুলো পরিষ্কার থাকা জরুরি।


কী পড়বেন: তাওহিদ, রিনামাজ, ফেরেশতাকুল, আসমানি কিতাবসমূহ, পরকাল এবং তকদিরের ওপর ইমান আনার বিষয়টি বিস্তারিত জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে আকাইদ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ও সহজ গ্রন্থ, বা আলেমদের লেখা আকিদা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা অধ্যয়ন করা উচিত।


কেন আকিদা শিক্ষা: ইমানের মৌলিক বিষয়গুলোতে কোনো প্রকার সন্দেহ বা ভ্রান্তি দূর করার জন্য এবং সঠিক আকিদা লালন করার জন্য সমকালীন আকিদাহ বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, ১/১২৫, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯২)


৩. তৃতীয় ধাপ: দৈনন্দিন মাসআলা


ঘরসংসার ও কর্মব্যস্ত জীবনে একজন মানুষের হালাল-হারাম, পবিত্রতা, নামাজ, রোজা এবং লেনদেনের যেসব মাসআলা প্রতিদিন প্রয়োজন হয়, তা নিখুঁতভাবে জানা ফিকহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


কী পড়বেন:


পবিত্রতা ও নামাজ: অজু, গোসল, তায়াম্মুম এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক নিয়ম নির্ভরযোগ্য লেখকের নামাজ ও মাসআলা বিষয়ক বই পড়া যেতে পারে।


হানাফি ফিকহের আলোকে মাসআলা শেখার জন্য ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বজনস্বীকৃত এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ গ্রন্থ মুফতি কেফায়েতুল্লাহ দেহলভি রচিত ‘তা’লিমুল ইসলাম’ (৪ খণ্ডে সমাপ্ত) অথবা মাওলানা আশরাফ আলী থানবি রচিত ‘বেহেশতী জেওর’ (বিশেষ করে প্রথম দিকের অংশগুলো) অধ্যয়ন করা কার্যকর।


এই কিতাবগুলোতে ঘরে বসে দৈনন্দিন জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ মাসআলা শেখার সব উপাদান রয়েছে।


৪. চতুর্থ ধাপ: হাদিস অধ্যয়ন


নবীজির সুন্নাহ ও চারিত্রিক গুণাবলি নিজের জীবনে ফুটিয়ে তোলার জন্য হাদিস অধ্যয়ন অপরিহার্য।


কী পড়বেন: শুরুতেই বিশাল বুখারি বা মুসলিম শরিফ নয়; বরং চরিত্র ও আখলাক সংশোধনের জন্য ইমাম নববি সংকলিত হাদিসগ্রন্থ ‘রিয়াদুস সালেহিন’ দিয়ে শুরু করতে পারেন।


এই গ্রন্থে ইখলাস, সবর, সততা, তাকওয়া এবং সদাচরণের ওপর চমৎকার সব হাদিস সাজানো রয়েছে।


ঘরে বসে পড়ার কর্মপরিকল্পনা


নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ: প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর ফজরের পরের সময়টি অথবা রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় নির্দিষ্ট করে নিন। এই সময়ে কোনো মোবাইল বা অন্য ব্যস্ততা রাখবেন না।


নোট নেওয়ার অভ্যাস: পড়ার সময় খাতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা, নতুন শব্দ বা না-বোঝা বিষয়গুলো লিখে রাখুন।


মাসআলা যাচাই: ঘরে একা পড়তে গিয়ে যদি কোনো বিষয়ে ধন্দ তৈরি হয় বা ফিকহি মাসআলা বুঝতে সমস্যা হয়, তবে নিজে মনগড়া ফায়সালা না করে স্থানীয় কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির শরণাপন্ন হয়ে তা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ এএম
  • আপডেট : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ এএম

কোজাগরী পূর্ণিমা আজ। এ দিন হিন্দু সম্প্রদায় শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মী দেবীর পূজা করেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তরা বিনিদ্র থেকে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করেন। আশ্বিনী পূর্ণিমা ছাড়াও কেউ কেউ প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা করে থাকেন। কোনো কোনো অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যায় সন্ধ্যাবেলা লক্ষ্মীপূজার রীতি প্রচলিত আছে। ঘটে বা মূর্তিতে লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। এ পূজা ব্যক্তিগত বা সার্বজনীনভাবে অনুষ্ঠিত হয়।


শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ তথা ঐশ্বর্যের প্রতীক। উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মী। তাই লক্ষ্মী ঐশ্বর্যের দেবী।


লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণরূপে অবতার গ্রহণ করলে, লক্ষ্মী সীতা ও রাধারূপে তাদের সঙ্গিনী হন। কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে ভক্তগৃহে আসেন। প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থ সবাই দেবী লক্ষ্মীর পূজা দিয়ে আসছেন।


বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পালিত হবে ২৫ অক্টোবর রোববার। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে আজ রোববার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে। পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে।


লক্ষ্মীকে নিয়ে বাংলার জনসমাজে বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। এই গল্পগুলো পাঁচালি আকারে লক্ষ্মীপূজার দিন পাঠ করা হয়। একে লক্ষ্মীর পাঁচালি বলা হয়।


লক্ষ্মীপূজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো- সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপচাল ও জল। লক্ষ্মীপূজায় মঙ্গলঘট, ধানের ছড়ার সঙ্গে গৃহস্থের আঙিনায় শোভা পায় চালের গুঁড়ার আলপনায় লক্ষ্মীর ছাপ। এ উপলক্ষে রমণীরা উপবাস ব্রত পালন করেন।


লক্ষ্মীপূজায় রাত্রি জাগরণ করা হয়। কোজাগরী অর্থাৎ কে জাগরী বা কে জেগে আছো। শাস্ত্র মতে, এই রাতে লক্ষ্মী সবার বাড়িতে যান। যে গৃহের দরজা বন্ধ থাকে ও গৃহস্থরা ঘুমিয়ে থাকেন, সেখান থেকে লক্ষ্মী ফিরে আসেন। এ কারণে এই লক্ষ্মীপূজাকে কোজাগরী বলা হয়। লক্ষ্মীপূজায় অনেকে উপবাসব্রত পালন করেন। পূজা অর্চনার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা আঁকা হয়।


দুর্গাপূজা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম

একই বছরে দুইবার শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালে। পঞ্জিকার তিথি গণনার পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে প্রায় ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় দুর্গোৎসবে মাতবেন বাঙালিরা। বিরল এই ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জোড়া সপ্তমী এবং ২০২৭ সালে জোড়া মহাঅষ্টমীর পর ২০২৮ সালে তিথি গণনার ভিন্নতার কারণে দুই সময়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।


হিন্দু শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলায় মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। একটি হলো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত, অন্যটি সূর্য সিদ্ধান্ত। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তে দৃকসিদ্ধ গণনাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে সূর্য সিদ্ধান্তে মহাজাগতিক অবস্থানের ভিত্তিতে তিথি ও নক্ষত্র গণনা করা হয়। এই দুই পদ্ধতির হিসাবের পার্থক্যের কারণেই ২০২৮ সালে দুর্গাপূজার সময় এক হবে না।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৮ সালের দুর্গাপূজা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে। আর সূর্য সিদ্ধান্ত মেনে পূজার আয়োজন করা হলে তা হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে দুই দফার পূজার মধ্যে ১৫ দিনের বেশি ব্যবধান থাকবে। বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো বিভিন্ন মঠ, মন্দির ও আশ্রমে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে বনেদি বাড়ি, বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজার ক্ষেত্রে সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে এক বছরে দুইবার দুর্গাপূজার এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৮০ সালেও দুই পদ্ধতি অনুসারে দুই সময়ে দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উভয় পদ্ধতিতেই পূজার আয়োজন শুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়।


এক বছরে দুই দফায় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও সরকারি ছুটি দুইবার ঘোষণা করা হবে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিস, স্কুল ও কলেজে ছুটি থাকবে একবারই। বারোয়ারি পূজার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ছুটি নির্ধারণ করা হবে।

বিষয় :


ইসলামে উপহার আদান-প্রদান অত্যন্ত সুন্দর একটি রীতি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় উপহার আদান-প্রদান অত্যন্ত সুন্দর একটি রীতি। এর ফলে পারস্পারিক সৌহার্দ্য যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি এটি ক্ষোভ-বিদ্বেষ দূর করে। খোদ রাসুল (সা.) বলেছেন- তোমরা একজন অন্যজনকে উপহার দাও। উপহার মনের ময়লা দূর করে। এক নারী প্রতিবেশী অপর নারী প্রতিবেশীকে যদি বকরির (ছাগল) পায়ের এক টুকরা ক্ষুরও উপহার দেয়, তবুও যেন তা অবহেলা না করে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২১৩০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩৯৬)


তবে ইসলামে উপহার আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম ও ইনসাফের সুস্পষ্ট সীমারেখা রয়েছে। সব ধরনের উপহার দেয়া-নেয়া যেমন ইসলামে জায়েজ নেই, তেমনি যেসব উপহারের নামে সুদ-ঘুষ বা কোনো অন্যায়ের লেনদেন হয়- সেসব ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।


খোদ রাসুল (সা.)-ও হাদিয়া বা উপহার কবুল করতেন এবং অন্যদের উপহার দিতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিয়া (উপহার) কবুল করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৪) নিচে ইসলামে নিষিদ্ধ এমন ৪ ধরনের উপহার সম্পর্কে আলোচনা তুলে ধরা হলো:


রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কোনো ক্ষেত্রে উপহার আদান-প্রদান নিষিদ্ধ


রাষ্ট্রীয় কোষাগার কিংবা সরকারি কোনো দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উপহার আদান-প্রদান ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি মূলত ঘুষের নামান্তর। হাদিসেও এ বিষয়ে কঠোর বার্তা এসেছে। রাসুল (সা) ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৩৩৭)


আবু হুমায়দ সাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে- একবার নবীজি (সা.) আযদ গোত্রের ইবনু উতবিয়া নামের একজনকে সাদকা সংগ্রহের কাজে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন- এগুলো আপনাদের (অর্থাৎ, সাদকার মাল), আর এগুলো আমাকে হাদিয়া (উপহার) দেয়া হয়েছে। পরে নবীজি (সা.) এ কথা শুনে রাগান্বিত হয়ে বলেন- সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না? তখন সে দেখত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয়া কি না?


পরে রাসুল (সা) বলেন- যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, সাদকার মাল থেকে সামান্য পরিমাণও যে আত্মসাৎ করবে, সে তা কাঁধে করে কিয়ামতের দিন হাজির হবে। সেই মাল যদি উট হয়, তাহলে তা তার আওয়াজে, আর যদি গাভী হয়, তাহলে হাম্বা হাম্বা, আর বকরি হলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ রবে (আওয়াজ করতে থাকবে)। তারপর নবীজি (সা.) তার দু’হাত কিছুটা উত্তোলন করলেন যার ফলে তার উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেল। এরপর তিনি (নবীজি সা.) বারবার বললেন- হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি। হে আল্লাহ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪২৫)


চাকরি কিংবা কোনো কাজের বিনিময় হিসেবে উপহার গ্রহণ নিষিদ্ধ


ইসলামে বরাবরই সৎ কাজে উৎসাহ দেয়া এবং অসৎ কাজে নিষেধের কথা এসেছে। এ ক্ষেত্রে কারও চাকরি, বিপদমুক্তি কিংবা কোনো বৈধ কাজে কারও জন্য সুপারিশ করা মহৎ কাজ। তবে এই উপকারের বিনিময় হিসেবে কোনো উপহার গ্রহণ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ইসলামে কঠোর নিষেধ রয়েছে।


আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কোনো ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের জন্য কোনো বিষয়ে সুপারিশ করার কারণে যদি সে তাকে কিছু উপহার দেয় এবং সে (যে উপকার বা সুপারিশ করল) তা গ্রহণ করে, তাহলে সে সুদের একটি বড় দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৪১)


অর্থাৎ, ইসলামে কারও জন্য সুপারিশ করতে হলে নিঃস্বার্থভাবে সেটি করতে হবে। উপকারের পর উপহার নিলে ইসলামে সেটি সুদের মতোই পাপ হিসেবে গণ্য হবে। আর পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা এসেছে- আল্লাহ তায়ালা ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)


ঋণের সঙ্গে উপহার আদান-প্রদান নিষিদ্ধ


বিপদ-আপদে কাউকে ঋণ দেয়া উত্তম কাজ। তবে কাউকে ঋণ দিয়ে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নেয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ, ইসলামে এটিও সুদের অন্তর্ভুক্ত।


আবু বুরদা (রহ.) বলেন- একবার আমি মদিনায় গেলাম। পরে আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেবো এবং একটি (মর্যাদাপূর্ণ) ঘরে থাকতে দেব। তারপর তিনি বললেন- তুমি এমন স্থানে (তৎকালীন ইরাক) বসবাস করো, যেখানে সুদের কারবার অত্যন্ত ব্যাপক। যখন কোনো মানুষের কাছে তোমার কোনো প্রাপ্য থাকে, আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় নগণ্য বস্তুও হাদিয়া (উপহার) পেশ করে- তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৪২)


ইয়াহইয়া ইবনে আবু ইসহাক আল-হানাঈ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- তোমাদের কেউ কোনো জিনিস করয (ধার বা ঋণ) দেয়ার পর করযদার (ঋণগ্রহীতা) তাকে কিছু উপঢৌকন (উপহার) দিলে বা তার সওয়ারীতে (বাহন) আরোহণ করাতে চাইলে, সে যেন তাতে আরোহণ না করে এবং উপঢৌকন গ্রহণ না করে। তবে তাদের মধ্যে আগে থেকেই এমন সৌজন্যমূলক বিনিময়ের প্রচলন থাকলে সে ক্ষেত্রে আপত্তি নেই। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ২৪৩২)


সন্তানদের বৈষম্য করে উপহার দেয়া নিষিদ্ধ


ইসলামে সন্তানদের বস্তুগত উপহারের পাশাপাশি ভালো আচরণ ও শিক্ষা দেওয়াকেও সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে দেখা হয়। খোদ রাসুল (সা.) বলেছেন- কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার চেয়ে বেশি উত্তম কোনো জিনিস দিতে পারে না। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫২)


তবে বাবা-মায়ের জন্য সন্তানদের উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে সমতা ও ইনসাফ বজায় রাখাও জরুরি। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এক সন্তানকে বেশি বা দামি উপহার দেয়া এবং অন্যদের বঞ্চিত করা ইসলামে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।


আমির (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি নু’মান ইবনু বশীর (রা.) কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছেন যে- আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনত রাওয়াহা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাক্ষী রাখা ছাড়া (এ দানে) সম্মত নই। পরে তিনি রাসুল (সা.) কাছে হাজির হয়ে আরজ করলেন- আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। কিন্তু ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! সে আমাকে বলেছে- আপনাকে সাক্ষী রাখতে। এরপর তিনি (নবীজি সা.) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ ধরনের দান করেছ? জবাবে বশীর (রা) বললেন- না। পরে রাসুল (সা.) বললেন- তাহলে আল্লাহকে ভয় করো এবং আপন সন্তানদের মধ্যে সমতা রক্ষা করো। এরপর বশীর (রা.) ফিরে এসে তার দান প্রত্যাহার করে নেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৬)


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ এএম

ইবাদত একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকার করা—সবই নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। তবে শুধু আমল করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই আমল আল্লাহ–তায়ালার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমলের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর কাছে প্রতিদান লাভের ওপর। ইবাদত কবুলের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বিষয় জেনে নেওয়া যাক।


১. বিশুদ্ধ ইমান থাকা


নেক আমল কবুল হওয়ার অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো ইমান। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকা একজন মুমিনের জীবনের ভিত্তি। ইমান ছাড়া কোনো আমল পরকালে মুক্তি ও প্রতিদান লাভের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে পারে না।


আল্লাহ–তায়ালা বলেন, ‘আর যে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, পুরুষ হোক কিংবা নারী, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১২৪)


এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে সৎকর্মের প্রতিদান লাভের সঙ্গে ইমানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই একজন মুমিনের প্রথম দায়িত্ব হলো বিশুদ্ধ ইমান নিয়ে জীবনযাপন করা এবং শিরকসহ ইমানের পরিপন্থী সব বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করা।


২. সুন্নত অনুযায়ী আমল করা


ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। তবে কোনো কাজকে ইবাদত হিসেবে পালন করতে হলে তা রাসুলের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ধর্মের নামে এমন কোনো ইবাদত বা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা গ্রহণযোগ্য নয়, যার ভিত্তি নেই।


নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এ বিষয়ে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৯৭)


৩. হালাল খাবার গ্রহণ করা


নেক আমল কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও পবিত্র খাবার গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মানুষ নামাজ পড়ছেন, রোজা রাখছেন কিংবা দান-সদকা করছেন, কিন্তু তার উপার্জন ও ভোগের উৎস যদি হারাম হয়, তবে তা তার ইবাদত কবুলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’


এরপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত ও ধুলামলিন অবস্থায় দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করে। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং হারাম উপার্জন দিয়েই তার জীবন পরিচালিত।


এরপর নবীজি (সা.) বলেন, ‘তাহলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)


এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, হালাল উপার্জন ও পবিত্র জীবনযাপন ইবাদত কবুলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হারাম উপার্জন মানুষের আত্মিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ইবাদত কবুলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।


তাই নেক আমলের পাশাপাশি উপার্জন ও ভোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা জরুরি।


৪. আমলে ‘ইখলাস’ থাকা


ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ইখলাস। অর্থাৎ মানুষের প্রশংসা, সামাজিক মর্যাদা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত করা।


কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের তো এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তারই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।’ (সুরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫)


কেউ যদি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য দান করেন, নিজেকে ধার্মিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইবাদত করেন কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে নেক কাজ করেন, তবে তা ইখলাসের পরিপন্থী। ইসলামে এই লোকদেখানো মনোভাবকে ‘রিয়া’ বলা হয়, যা কঠোরভাবে নিন্দিত।


আল্লাহ–তায়ালা বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন; যারা লোকদেখানোর জন্য তা করে। (সুরা মাউন, আয়াত: ৪-৬)


তাই আমল করার আগে নিজের নিয়ত যাচাই করা উচিত। নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন, আমি কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজটি করছি, নাকি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য?


নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং লোকদেখানো মনোভাব থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাই ইখলাসের পথে চলার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।


মো. রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫১ এএম

বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পূর্ণ নিরাপত্তায় দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।


বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পূর্ণ নিরাপত্তার সহিত দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা উদযাপন করেছে।’


‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এভাবেই হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ নানা ধর্ম গোষ্ঠীর মানুষেরা নিরাপদে থাকবে, নিরাপদে ধর্ম পালন করবে, উৎসব করবে’ বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকেন, এটা আবারও প্রমাণ হলো। প্রমাণিত হলো যে, ফ্যাসিবাদী জমানায় রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য ও আওয়ামী লীগের প্রভু রাষ্ট্রের আশীর্বাদ পেতেই মন্দিরে পরিকল্পিত হামলা হয়েছে।’


রাশেদ খাঁন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তার সঠিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ-প্রশাসন, এসআরবি, আনসার-ভিডিপিসহ সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ও রাত জেগে পাহারা বসিয়ে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।’