রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
সামনের দিনগুলো ভালো নয়, অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে এমন মন্তব্য করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শোনা যায়, ক্ষমতায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলকে দেখা হয়েছে- এবার অমুককে (জামায়াতে ইসলামী) দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন- তাদের তো দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে।
রোববার (০৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।
এতে ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন। সকালে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তারেক রহমান বলেন, আমি গত ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছি, আমাদের সামনের সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়, সামনে অনেক কঠিন সময়ে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এই দেশের জনগণ এবং এই ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দিতে পারে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে- গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যে কোনো মূল্যে জনগণের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে অবশ্যই অনেক ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে পারব। কিন্তু ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে পারলেও তারপরেও কিন্তু সামনে অনেক কঠিন সময় বলে শঙ্কার কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা- এই দুটি বিষয় আমাদের এড্রেস করতে হবে। যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেজন্য সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সর্বপ্রথমে আমাদেরকে নজর দিতে হবে, সর্বপ্রথমে আমাদের ব্যবস্থা করতে হবে- দুর্নীতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব?
তিনি বলেন, আমরা যদি দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, নারী সমাজকে ক্ষমতায়ন করা নিয়ে, দেশের কৃষি ব্যবস্থা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমাদের বাধাগ্রস্ত হবে, স্লো হয়ে যাবে। যদি আমরা এই দুটি বিষয়ে এড্রেস করতে না পারি, পুরো জাতি এবং দেশ সংকটের মধ্যে পড়বে। আমরা মনে করি, একমাত্র বিএনপিই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে। কারণ- আমরা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতে আমরা সুযোগ পেলে এই কাজটি করে দেখাতে পারব ইনশাআল্লাহ। এ সময় বেকার সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনাসমূহে তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি- কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দুইজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সেই সময় সরকারে ছিলেন। এই দুজন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই, দুজনই সিনিয়র মানুষ, দুজনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন, তারা গত হয়েছেন। কাজেই যে মানুষ নেই, তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই- সেই দুইজন ব্যক্তির বিএনপি সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা যৌক্তিকভাবে দুইটি জিনিস প্রমাণ করে দেয়- এক. তাদের অবশ্যই পূর্ণ কনফিডেন্স ছিল খালেদা জিয়ার উপরে যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে- সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন। এখন তাদের দলের অন্য যে যত বড় বড় কথা বলুক না কেন, খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং দুর্নীতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে-এই আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে ছিল। সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সাথে ছিলেন। আমরা অন্য কিছু বলতে চাই না।
তিনি বলেন, তাদের দলের (জামায়াত) কেউ কেউ বলে থাকে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু অভিযোগ পাওয়া যায় না। স্বৈরাচারের সময় আমরা দেখেছি- কীভাবে আদালতকে ইনফ্লুয়েন্স করা হতো। কিন্তু স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পরে মোটামুটি আমরা বলতে পারি যে, আদালত এখন নিরপেক্ষ- নিরপেক্ষতা আমরা আশা করি। এই সেই নিরপেক্ষ আদালত থেকে আমরা দেখেছি, কারো বিরুদ্ধেই কোনো জিনিস প্রমাণিত হয়নি। এটি ছিল প্রোভাগান্ডা। আমাদেরকে আজকে এই উপসংহারে আসতে হবে যে, একমাত্র বিএনপি পেরেছিল দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে। ইনশাল্লাহ আগামী দিনেও বিএনপি পারবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শুনি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে- অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ একাত্তর সালে দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লাখো মানুষকে হত্যা করেছে, ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজারো হাজারো মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল- এই কথাটি আমাদেরক মনে রাখতে হবে।
ধর্মভিত্তিক একটি দলের জান্নাতের গ্যারেন্টি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জিনিসের কনফার্মেশন দিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন আমি যতটুকু বুঝি, অনেক মুরুব্বি ব্যক্তি আছেন, বুজুর্গ ব্যক্তি আছেন ধর্মীয় বিষয়ে- আমি একজন সাধারণ নরমাল মুসলমান হিসেবে যতটুকু বুঝি- যা আমার না, আমি যদি তা দেবার কথা বলি অর্থাৎ যেটি আমার না, সেটির কমিটমেন্ট যদি করি- তাহলে আমি তার সাথে পাল্লা দিচ্ছি। দোজক-বেহেশত দুনিয়ার সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তালাই বলতে পারে, সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই- আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি, সেটি হচ্ছে শিরিক। এটি হচ্ছে শিরিকের পর্যায়ে পড়ে।
ছাত্রদলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে- যারা এসব কথা বলে, তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন, আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহতালার, সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কী হবে, পরকালে কী হবে- সেটির ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কাজেই যারা এসব কথা বলে, তারা ইনেমে শিরিক করছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদের পৌঁছে দিতে হবে।
দেশকে গড়তে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটাই, কীভাবে দেশকে আমাদের গড়তে হবে। এই দেশকে শহীদ জিয়া গড়েছেন, ঠিক একইভাবে পরবর্তীতে নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের পরে এই দেশকে আবারো বেগম খালেদা জিয়া গড়েছিলেন। ২০০১ সালের পরে আবারও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে, দুর্নীতি নিমজ্জিত একটি দেশকে খালেদা জিয়া আবার উপরে উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আজ সারা দিন আমরা যেগুলো আলোচনা করেছি, সেগুলো যদি আমরা করতে পারি, তাহলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। আগামীতে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা দেশ গড়ব।
তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না; আমরা চাই একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশের মানুষের দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। যেখানে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, দুর্নীতির লাগাম ধরতে আমরা সক্ষম হবো- সে রকম একটি বাংলাদেশ চাই।
এ সময় দেশ গড়ার এই পরিকল্পনা সফল করতে ছাত্রদলকে মানুষের ঘরে ঘরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অনেক সময় লাগবে, কষ্ট হবে; অনেক কঠিন, অনেক শত্রু আছে- যারা আমাদের বাধা দিবে, কিন্তু এই দেশের মানুষকে কেউ বাধা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইনশআল্লাহ দেশ গড়ার পরিকল্পনার কাজ যখন আমরা শুরু করব বাংলাদেশের মানুষের রায় নিয়ে, তখনও ইনশআল্লাহ কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তোমাদের সকলকে যেতে হবে মানুষের দৌড়গোড়ায়, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির জিয়া উদ্দিন হায়দার, আবদুল মজিদ, আমিনুল হক, মীর শাহে আলম, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন আলোচকরা।
গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম
জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি থেকে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এদিন লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৭ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানির দাম ৩ দফায় বাড়ানো হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে জ্বালানি ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ কী হবে, সেই বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, সার্বিকভাবে ব্যর্থতার দায়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, আপাতত এই দু’জনকে সরিয়ে দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করা উচিত। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলো। কেন তাদের সরিয়ে দেয়া হলো— সেটি স্পষ্ট নয়। কিন্তু নিজ সেক্টরে যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছে, তাদের কিন্তু সরিয়ে দেয়া হচ্ছে না, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না। আমরা তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই।
এনসিপির দ্বিতীয় দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রহসনের জন্য একদলীয় যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, সেই কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সেখান থেকেই সংস্কার করে নতুন সংবিধান করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায়ে যে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে— সেই প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সাইবার আইনে যে সংশোধনী আনা হচ্ছে, সেটি সংসদে কোনোভাবেই পাস হতে দেয়া হবে না। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধসহ মানবাধিকার কমিশন আইনের মতো যেসব কর্তৃত্ববাদী আইন পাস করা হয়েছে, সেগুলো বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া আমরা ৫ আগস্ট থেকেই বলে এসেছি— জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের যে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এই বিচারের এখনও বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় জুলাই আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচারের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এই ৪ দফা দাবিতে রাজধানীতে গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকেল ৩টায় গণবিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি— নিজেদের দাবি আদায়ে এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন। এ সময় ঢাকা মহানগরে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে দাবি আদায়ে সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু তা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। জনগণ আমাদের বলে- ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের দুর্বলতা ছিল।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে মানুষ তাদের এত ভালোবাসা দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল টার্গেট হলো আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া। আমি বিশ্বাস করি, যারা দিন আনে দিন খায়, আল্লাহর পথে তাদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ৭০ ভাগ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, যারা দিন আনে দিন খায়।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ আমাদের যাদের সম্পদ দিয়েছেন, আমরা যেন তার নিয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করি। জান্নাতের জন্য নিজেদের ঠিকানা তৈরি করতে হবে। তিনি কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে রুকনদের উদ্দেশে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি মৃত্যু ও পরকালীন জীবন নিয়েও আলোচনা করেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমার চেয়ে কে দুর্বল, তা জ্ঞান ও সম্পদের দিক থেকে বিবেচনা করতে হবে। মহান আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের জন্য চোখের পানি ফেলে তার শুকরিয়া আদায় করতে হবে এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।
তিনি নবী ইবরাহিম (আ.) ও নবী ইসমাইল (আ.) এর ওপর আল্লাহর পরীক্ষা এবং তাদের ত্যাগের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না। তাই প্রতি মুহূর্তে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের অতীত সাংগঠনিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় দুই মহানগরীর অবস্থাই অনেক দুর্বল ছিল। আমাদের ভাই-বোনদের ত্যাগ, কুরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আল্লাহর দেয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেয়া হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা থামবো না, আমাদের থামার সুযোগ নেই। সামনে সিটি নির্বাচনে আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে ও দিনরাত একাকার করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার এগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।
সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বসে বসে আর তামাশা দেখব না। আমরা সংগতভাবেই প্রতিবাদ করব এবং যেখানে আমাদের সামর্থ্য হবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
শুক্রবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিমন্ত্রীর পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন মির্জা আব্বাস
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে গিয়ে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালের একটি কেবিন চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে যান বলে তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার একান্ত সহকারী মিজানুর রহমান সোহেল।
তিনি বলেন, “স্যার ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে উনার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। স্যার ভূমিমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।”
গত ২১ অক্টোবর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে বিএমইউ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে মো. নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দলের অস্থায়ী কার্যালয় ঢাকার বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে- অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল, এ.কে. ফ্লোরা।
সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে, মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। এ ছাড়াও যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস.এম. সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক, মো. আতাউল্লাহকে।
আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাহসীন রিয়াজ এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন আশরেফা খাতুন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইফতেখারুল ইসলাম।
আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সহ-আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারি ও অ্যাডভোকেট ছেহায়েত উল্লাহ।
প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। সহ-প্রচার সম্পাদক হয়েছেন মেজবাহ কামাল মুন্না ও শাহাদাত হোসেন। শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং সহ-শিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন সাকিব শাহরিয়ার।
বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে যারা
ঢাকা বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শওকত আলী। চট্টগ্রাম বিভাগ (দক্ষিণ)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ.এস.এম. সুজাউদ্দীন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাওয়াদুল করিম। রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইমরান ইমন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাকিব মাহাদী। চট্টগ্রাম বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজিদ নওরোজ শাহ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম সৈকত।
তালিকা অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশাররফ হোসেন। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ উদ্দিন তারেক। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শাহরিন ইরা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মোল্যা রহমতুল্লাহ। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. শামীম হামিদী। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন কাজী সালমান। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মিয়াজ মেহেরাব তালুকদার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তানহা শান্তা। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হাবিবুর রহমান অপু।
ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক (ডায়াস্পোরা) হিসেবে রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত ও তারেক রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিভাগে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিদওয়ান হোসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ।
নারীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সহ-পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত এবং সহ- মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সহ-ধর্ম সম্পাদক হিসেবে সাগর বড়ুয়া ও জয় বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মশিউর রহমান।
সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে লুৎফর রহমান এবং সহসংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে মেহেরাব সিফাত দায়িত্ব পেয়েছেন। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাইয়েদ জামিল এবং সহসাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে মাহবুব আলমের নাম রয়েছে তালিকায়। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন রাশেল উল আলম এবং সহ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহিদ তানজিম। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।
মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন এবং সহ-মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল দায়িত্ব পেয়েছেন। সমাজকল্যাণ সম্পাদক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদকে। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইশতিয়াক আকিব। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এবং সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে মুনা হাফসাকে রাখা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এবং সহ-অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সাইফুল ইসলাম সাইফ।
এ ছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসেবে মাজেদুর রহমান এবং সহশিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসেবে আব্দুল্লাহ মামুন নিলয় দায়িত্ব পেয়েছেন। সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক হয়েছেন মো. রাসেল মোল্লা। ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আহনাফ সাইদ খান এবং সহ-ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন ইমরান নাঈম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তামিম আহমেদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ লিওনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যুব ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া এবং সহ-যুব ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হিসেবে ওহায়িদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন। মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ডা. জাহেদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে এম. এম. শোয়াইব এবং সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে জাহিদ আহসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাতটি ইসলামি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী জোট’। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
আগামী ৫ ডিসেম্বর নীতিমালার বৈঠক
মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন জানান, সাতটি ইসলামি দলের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর এক নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ
নবগঠিত এই সমমনা জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো:
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ও নির্বাচনী অবস্থান
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকলেও জোটগতভাবে এখন এই সাতটি দল এক হয়ে কাজ করবে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরাও এই সাতটি দল একসাথে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
তবে জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলামের অবস্থান
এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে সাতটি দল একসাথে পথ চলতে সম্মত হয়েছে। যেসব দল আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত ছিল, তারাও সেই জোট ত্যাগ করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে একমত পোষণ করেছে।
সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতে ইসলাম অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব 'নির্দলীয়' অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নীতিমালায় চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত থাকলে তারা জোট ছাড়তেও দ্বিধা করবেন না।
ইশরাক হোসেন
প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’
ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’
ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’