বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। ৪৮ বছরে এসে বিএনপি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে, যার সঙ্গে দলটির অতীতের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে কিছু ভিন্নতা আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক অবস্থা। গত ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের তিনটি প্রধান পর্যায় স্পষ্ট।
প্রথম পর্যায় জিয়াউর রহমানের; যেখানে দলটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করে। দ্বিতীয়টি খালেদা জিয়ার আমল, যেখানে বিএনপি নির্বাচনী রাজনীতি এবং তাঁকে কেন্দ্র করে একটি গণদলে রূপান্তরিত হয়। পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে। তৃতীয় পর্যায়টি শুরু হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হন। এরপর বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এটি বিএনপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। একদিকে দল ও সরকারে তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা, অন্যদিকে প্রবীণ নেতৃত্বের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়া– এই সমন্বয় আগামী দিনের বিএনপির চরিত্র নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি কয়েকবার ক্ষমতায় গেছে; ক্ষমতা হারিয়েছেও। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকেছে, আন্দোলন করেছে এবং কঠিন রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলাদা। প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে, আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে এটি দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অতীতের অর্জন নয়; বরং ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি কীভাবে নিজেকে প্রমাণ করবে– সেটিই। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি দলের রাজনৈতিক সক্রিয়তা জরুরি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ আসন অর্জন শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; এটি বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটি বড় পালাবদল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় তৈরি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে এখন বিএনপির রাজনীতি।
দলের নানা পর্যায়ে এই আলোচনা দানা বাঁধছে যে, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততায় বিএনপি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকে কম নজর দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ মাঠে না থাকাও এর আরেকটি কারণ বলে মনে করেন দলের কেউ কেউ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন মন্ত্রী-এমপিকেন্দ্রিক এবং সেখানে রাজনীতি নয়; এমপির পছন্দ-অপছন্দই প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে বিষয়টি মানতে রাজি নন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, যারা নেতা, তারাই তো এমপি-মন্ত্রী। স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অনেকেও রাজনৈতিক নেতা। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুব সতর্ক। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানে বলছেন, সরকারের কাজে দলের সহযোগিতা লাগবে, কিন্তু দল যেন সরকারের ভেতরে ঢুকে না যায়।
বিএনপির চেয়ারম্যান গত ৪ জুলাই থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে তৃণমূলের দলকে শক্তিশালী করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাদের অনেকের ধারণা, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সংগঠন যে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে– দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তা উপলব্ধি করছেন।
সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এ সময়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা হয়েছে চারটি। দেশজুড়ে দলটির ৮২ সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি আর ৩১টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে। এর মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র আট জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটি।
সাংগঠনিক গতি বাড়ানোর লক্ষ্য গত ১৫ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজনকে পদায়ন করা হয়। এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে ১১টি। সবকটির কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা হয়নি। ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিকে বিদায় জানানো হয়েছে এক মাস আগে। সেই কমিটিও আটকে গেছে।
দলটির জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দুই বছর মেয়াদি ওই কেন্দ্রীয় কমিটি ১০ বছর পার করলেও নতুন কাউন্সিল করতে পারেনি। এ বছরের মধ্যে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিলেও কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। সারাদেশের জেলা ও মহানগর ছাড়া থানা-উপজেলা কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করার কাজ শুরু হয়ে যাবে। যেসব জেলা, থানা ও ইউনিটে কাউন্সিল বাকি আছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া কর্মিসভা ও ওয়ার্কিং মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমও চলবে।
বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর তৃণমূল সংগঠন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই সংগঠন আবার ভোটের মাঠে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সরকার পরিচালনার সময় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো তরুণ ভোটার। ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রত্যাশা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তারা শুধু দলীয় পরিচয় নয়; চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চায়।
এসব মোকাবিলায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে ত্যাগী নেতাকর্মী দরকার। কিন্তু অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলের ভেতরে নবাগত ও হাইব্রিড নেতাকর্মীর আনাগোনা বাড়ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ অন্য দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের ঘটনা ঘটছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দল ক্ষমতায় গেলে সব সময় কিছু লোক ফায়দা লুটতে চায়। এদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পান না। নেতাকর্মীরা বলছেন, ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে ক্ষমতায় আসে। এ জন্য জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়াসহ চড়া মূল্য দিতে হয়েছে নেতাকর্মীদের। তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছিলেন, ‘মিছিলের শেষ কর্মীকেও মূল্যায়ন করা হবে।’ অনেকের অভিযোগ, এখন মূল্যায়নে ত্যাগীরা পিছিয়ে পড়ছে।
বিষয়টি মানতে নারাজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দল যখন সরকারে যায়, তখন দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। তার মানে এই নয়, দল সরকারে ঢুকে গেছে। তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ঢেলে সাজাতে পারিনি, এটা সত্য। এখন আমরা অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনসহ দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।
হেফাজতে ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
পাবনা সদরের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে আটক করে।
এই পরিস্থিতির পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নিপীড়ন বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, ঠিক তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।
শনিবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমকে এই বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও নীতিভ্রষ্টতার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই অবস্থান ব্যক্ত করল। উল্লেখ্য, বেশ কিছু কওমি ও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা সুস্পষ্টভাবে জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশু নির্যাতনের বিষয়টিকে একটি ‘পুরোনো সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা সমাজের অন্যান্য স্থানেও কম-বেশি এই সমস্যাটি বিদ্যমান রয়েছে।
নিজস্ব কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ দেশের ৬টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড এবং তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশাবলী জারি করেছে।
উক্ত নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্যাতন বা অনৈতিক আচরণের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডগুলোতে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সেল এবং সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে এই সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাওয়া গেলে কিংবা অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেই মাদ্রাসার অধিভুক্তি বা সনদ স্থগিত অথবা বাতিল করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে হেফাজত নেতারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্কুল-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নিরাপত্তা নীতি অনুসরণের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ধরনের নৈতিক পদস্খলনের জন্য দোষীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি—উভয় ধরনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শিথিলতা বা আপস করা হবে না।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার সন্ধ্যায় পল্টন থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী।
তিনি জানান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন ১৯ জন। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। এ সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পল্টন থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ভোলা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছেন। সন্ধ্যার দিকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার উদ্দেশ্যে তারা জড়ো হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেফতারের পর তাদের পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-খতিবদের ভাতা বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি এবং দলীয়করণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির দিন ফুরিয়ে আসছে। তাদের অতীতের লুটপাট ও ভুয়া ইতিহাস সৃষ্টির অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিএনপি নিয়মিত জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলে এ জনপদকে শূন্য করে ফেলা হবে। তাই ঠাকুরগাঁওকে বাঁচাতে হলে আগামী ২৯ তারিখ ব্যা
লট বিপ্লবের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করে বিএনপিকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে হবে। ১৯৯৬ সালের মাগুরা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে গিয়ে ক্ষমতা হারিয়েছিল। বর্তমান নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির চেষ্টা করা হলে এ ঠাকুরগাঁও থেকেই সরকার পতনের কঠোর আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপির বিগত সাত মাসের শাসনকালের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি এই সময়ে টেন্ডারবাজি, সার সিন্ডিকেট ও সার ডিলার নিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপির প্রার্থীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ওই প্রার্থী বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা, নির্যাতন বা হয়রানির ইতিহাস নেই। নির্বাচনে কোনো ধরনের টালবাহানা বা কারচুপির চেষ্টা করা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, ভোটে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি হলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। প্রয়োজনবোধে ঠাকুরগাঁও আসন থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম এবং ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, বাজারে গিয়ে পণ্য কেনেন না রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা। তাদের হয়ে অন্যরা বাজার করেন। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও পণ্যের দাম সম্পর্কে তাদের যথাযথ ধারণা নেই।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা যখন বাজারে যাই, তখন পণ্য কিনতে গিয়ে দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? তিনি বলেন, এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দিনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষ যখন ধরে নিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়, তখন আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও প্রতিবাদ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচনের পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দলীয়করণ হবে না, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা হবে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা আমাদের বলেছেন, সরকার যেন তাদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলাম, তেমনি এ সময়ও অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন।
তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না, তাদের ধরা যাবে না, স্পর্শও করা যাবে না। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিএনপি সরকার সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। সেই অসম্ভবকে আবারও সম্ভব করতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা দেখাতে চাই, বিএনপি সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যায়।
তিনি বলেন, এটি কোনো দলের দাবি নয়। দলমত-নির্বিশেষে ধনী-গরিব সবার দাবি, আমরা পেট ভরে খেতে চাই, সুস্থভাবে বাঁচতে চাই এবং সবকিছু নিজেদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চাই।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা যারা গ্রাম থেকে এসেছি, যাদের মা-বাবা এখনো গ্রামে থাকেন, যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, তাদের কাছে এক টাকাও অনেক মূল্যবান। এ কারণেই আমরা যখন বাজারে গিয়ে পণ্য কিনতে চাই, তখন দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।
তিনি জানান, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাবেন তারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা চাই না, আপনারা এনসিপিতে যোগ দিন। আপনারা কোন রাজনৈতিক দল করেন, সেটিও আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়। আমরা আপনাদের অধিকারের জন্য রাজপথে নেমেছি। নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই আপনাদেরই করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি আপনাদের হয়ে এই লড়াই করে দেবে না।
মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে এখানে কেন আনতে হবে?
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যিনি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকেন, তিনি তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন না, সেখানে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। এর মাধ্যমে আগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই মাঠ পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাব, তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সব মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তার প্রধান দায়িত্ব নিজের মন্ত্রণালয়ের লোকদের দেখভাল করা। কিন্তু তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও পারলেন না। দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। এই ‘আগের চেয়ে ভালো’র মাপকাঠি কী, তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।
জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আমির আলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ।
এর আগে সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।
পরে পুলিশের একটি চৌকস দল জামায়াতের আমিরকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা শহর মৌলভীবাজারে এটিই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম সফর। তার সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
এর আগে সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া এবং ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।
মতবিনিময় সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। বিকালে তিনি রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ নভেম্বর। এ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। হাতে সময় মাত্র দুই দিন, এরপরই শুরু হবে প্রার্থিতা যাচাই ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসির ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর আপিল করা যাবে। ২৯ অক্টোবর এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন।
তপশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। পরদিন ২ নভেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ওই ঘটনার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
এরপর মিষ্টি পদত্যাগ করলে সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে। ওই শূন্য আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা থেকে শুরু করে প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচনের ভোটপর্ব সম্পন্ন হবে।