হাইকোর্ট ভবন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ পিএম

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের বিধানই যথেষ্ট বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে। কেননা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।


এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মানসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ও তানিম খান।


অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের ৬ ধারা অনুযায়ী কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যর অনুমতি নিয়ে করতে পারতো। সেই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আমরা রিট করেছিলাম। আদালত রুল জারি করে পরে শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রুল বাতিল করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবো।


ইশরাত হাসান বলেন, ‘পবিত্র কোরানে আল্লাহর বিধান রয়েছে, তোমরা চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী ও সমতা বিধান করতে পারলে চার চারটি বিয়ে করতে পারো। যদি সমতা করতে না পারো তাহলে একজন স্ত্রীই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। এ ধর্মীয় বিধানে পুরুষের শারীরিক মানুষিক আর্থিক সামর্থ্য নির্ধারণ করবে কে? আমাদের দেশে বেশির ভাগ পুরুষ সমতা বিধান করতে পারে না। তাছাড়া পুরুষ আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়ে বিয়ের অনুমতি নিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য আমরা মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের ৬ ধারায় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলাম।’


প্রকাশিত রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিল গুরুতর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে। কেননা মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।


২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।


হাইকোর্টের রায়ে আরও বলা হয়, রিটকারি আইনজীবীরা চেয়েছিল, ১৯৬১ সালের ৬ ধারা বাতিল করে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নীতিমালার বিধান প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। ১৯৫৭ সালে তিউনিসিয়া বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে। অন্য দেশটি হল তুরস্ক যা বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে। ১৯২৬ সালে তুরস্ক ছিল প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যারা বহুবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ করেছিল। হাইকোর্ট বিভাগ ৬ ধারা বাতিল করে এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য ইসলামী আইনের ওপর জোর দিয়েছিল। সরকার এখনও উপরোক্ত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার কর্তৃক গঠিত একটি ফোরাম যদি ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুবিবাহকে অনুমোদন করে অথবা হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ অনুসারে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে, তাহলে বাংলাদেশে বহুবিবাহ সম্পর্কিত সমস্ত বিতর্ক দূর করতে পারে।


রায়ে বলা হয়, এটি স্বচ্ছ যে; ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারার অধীনে অন্য বিবাহের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। আইনটি পক্ষগুলোর (পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের) কোনও অধিকার হ্রাস করে না বা হরণ করে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি নিশ্চিত করার বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য সালিশ পরিষদের ওপর কোনও বাধা আরোপ করে না।


রায়ে হাইকোর্ট বলেন, আরবিট্রেশন কাউন্সিল বিবাহের পক্ষগুলোর ওপর কোনও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। তাই আমরা সমতা ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় বর্ণিত ন্যায়বিচার ও সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের অধীনে সমতা ও বৈষম্য। বরং এই বিধানটি সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের পরিপূরক, যা আইনের অধীন ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। এর অর্থ এই নয় যে আইন দ্বারা ধর্ম পালন, অনুশীলন এবং প্রচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যেতে পারে। এর অর্থ কেবল সংসদ আইন দ্বারা ধর্মীয় বিশ্বাস পালন, অনুশীলন এবং প্রচারের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এইভাবে সাংবিধানিক বৈষম্যের যুক্তি অনুপস্থিত। ধর্মীয় কার্যকলাপ এবং পালনের ক্ষেত্রে কোনও স্পষ্ট হস্তক্ষেপ নেই। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬-এর বিভিন্ন দিকের ওপর সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ বিচারিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে। তবে এর প্রযোজ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে শুধু দুটি বিএলসি (১৯৯৭) ২৩৩ (এইচসিডি) ধারা ৬ মুছে ফেলা এবং বহুবিবাহের ইসলামিক নিয়মকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শুধু একটি বিবাহকে সীমাবদ্ধ করে বহুবিবাহের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করা।


রায়ে ধর্মীয় অধিকার নিয়ে রায়ে আদালত বলেন, বহুবিবাহের কারণে একজন নারীর অধিকার লঙ্ঘন করার জন্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং পালনের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব হস্তক্ষেপ থাকতে হবে। কিন্তু আবেদনকারী আমাদের সামনে এই ধরনের যুক্তি প্রমাণ করতে পারবেন না। খ্রিস্টান দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের মামলায়, উচ্চ আদালত বিভাগ বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি নিশ্চিত করার সময়, একটি সুপারিশ করেছে যে ‘আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংসদ কর্তৃক সকল নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদ আইন প্রণয়ন করা উচিত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসলামিক ল রিসার্চ সেন্টার এবং লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ ছুটির আবেদন দায়ের করে। আপিলের শুনানি শেষে বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ বাতিল করে দিয়েছে। উল্লেখ করে যে, ‘সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের বিধানের পটভূমিতে আমাদের অভিমত যে, যে আবেদনের বিরুদ্ধে আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ বাতিল করা প্রয়োজন...’ (ইসলামিক সেন্টার ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ বনাম ইভা চৌধুরী, (২০০৩) ১১ বিএলটি (এডি) ১৮০)।


আপিল বিভাগ সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশের সাথে একমত হননি। এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মের স্বাধীনতাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়, তাদের ধর্ম নির্বিশেষে। এটিকে কোনওভাবেই সীমাবদ্ধ বা কেড়ে নেওয়া যাবে না। উপরে উল্লিখিত মামলায় আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, হাইকোর্ট বিভাগের ইচ্ছা রাষ্ট্র কর্তৃক বাস্তবায়িত হতে পারে। পর্যবেক্ষণটি নিম্নরূপ: ‘বিশেষ বিষয়ে বিজ্ঞ বিচারকদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে এবং রাষ্ট্র কর্তৃকও তা বাস্তবায়ন করা হোক, তা গুরুত্বের সাথে চাইতে পারেন।’


রায়ে আদালত বলেন, আমরা উপরে উল্লিখিত একই মতামতও প্রকাশ করেছি (পৃষ্ঠা ১৯-এ)। ওপরে আলোচিত কারণ এবং পরিস্থিতির জন্য, আমাদের বিবেচ্য মতামত হল যে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ বাংলাদেশের নারী নাগরিকদের কোনও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বহুবিবাহ। অতএব, নিয়মের সমর্থনে যে যুক্তিগুলো বলা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তাই নিয়মটি অবশ্যই প্রযোজ্য ও বাতিল করা হবে।


সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে নয়





শাহজালাল রুমিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ আদালতের

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১২ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত সেই অভিভাবক শাহজালাল রুমিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিম এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


আদালতে জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।


এর আগে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করে।


পরবর্তীকালে তার পক্ষে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত আবেদনকারীকে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন।


অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন জানান, আদেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এ লক্ষ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।


তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলার রায়ে যেসব আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব রায় বাস্তবায়নের জন্যও মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।


শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।


রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দ্রুত শেখ হাসিনার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়া না হলে তিনি যেকোনো সময় এসব সম্পত্তি ভোগ, বিক্রি কিংবা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করতে পারেন। এতে ট্রাইব্যুনালের বাজেয়াপ্তসংক্রান্ত রায় ও আদেশ কার্যকর করা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এ অবস্থায় শেখ হাসিনার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে তা দ্রুত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পত্তি থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও আহত ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহিদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।


এদিকে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছেন।


বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার রায়ে পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন। তারা হলেন- ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল। রায়ে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।


একইভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অপর তিন আসামি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।


গত ২৯ অক্টোবর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চার দণ্ডিত আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রির অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার নির্দেশও দেন ট্রাইব্যুনাল।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪১ পিএম

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তরুণীকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে নিখোঁজ হওয়ার দিন ওই তরুণীকে (১৯) তাহসিফ সাউরির সঙ্গে রাজধানীর একটি এলাকায় দেখা গিয়েছিল।


আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ–পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তরুণীকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। পরে তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যায়। এরপর তাঁরা আরও কয়েক জায়গায় যান। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হয়।


জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য ওই তরুণীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।


গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় গত শুক্রবার রাতে হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।


হাইকোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৯ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১২টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ২ হাজার ৩৫৪টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে মোট ৬২ হাজার ৮০২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। 


সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৯ হাজার ৭০৯টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবং রিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল


মাহবুব-উল আলম হানিফ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।


এ মামলার অন্য তিন আসামি—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন।


এর আগে, গত ৭ অক্টোবর দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। 


গত বছরের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় করা মামলায় তার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডলকে জামিন দিয়েছেন আদালত। 


বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।


আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামুন দীর্ঘদিন ধরে মান্নার পরিবারের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। এটি নিছক দুর্ঘটনা। আদালতে জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।


গত ২৬ অক্টোবর মামুন মণ্ডল (২৯) ও গাড়ির টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারীকে (৩৭) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. ইয়াউর রহমান। আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে মামুনের জামিন মঞ্জুর করা হয়।   


মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী সেলির নামে নিবন্ধিত ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫ নম্বরের একটি প্রাইভেট কার। গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নিতে মালিককে অনুরোধ করেন ভবন কর্তৃপক্ষ।  


পরে গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার জন্য ম্যানেজার মামুনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে গত ২৬ অক্টোবর গ্যারেজেই মামুন ও টেকনিশিয়ান সোহেল গাড়িটির মেরামতের কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


এ ছাড়া গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাচও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


এ ঘটনায় ভবনের ম্যানেজার মো. গাজি মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।