আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
আইন মন্ত্রনালয়ে লিয়াকত আলী মোল্লা আইন সচিব হিসেবে যোগদানের পর মুখ থুবড়ে পড়েছে মন্ত্রনালয়ের সকল কার্যক্রম। নেয়া হচ্ছেনা অভিযুক্ত দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম ও থমকে গেছে। নিয়োগ বাণিজ্য ঘুষ দুর্নীতি নারী নির্যাতন ও নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও নেয়া হচ্ছেনা কোন ব্যবস্থা।
বর্তমান আইনসচিব জনাব লিয়াকত আলী মোল্লা চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা জজ থাকাকালে গোমস্তাপুর থানার মামলা নাম্বার-২ (২/১২/২০১৯ তারিখে) জিআর নং-২৯৪/১৯ (গোমস্তাপুর) ১০ কেজি পরিমাণ হেরোইন সহ গ্রেফতারকৃত আসামী হিরা ওরফে হিরো ওরফে প্রিন্স খানকে ২৬/২/২০২০ তারিখে ফৌজদারি মিস ৩৬৬/২০২০ মোকদ্দমায় জামিন প্রদান করেন।
এরআগে অপর আরো একটি হেরোইন মামলায় ৩কেজি২০০গ্রাম হেরোইন ও ৩২ প্যাকেট ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত আসামী শফিকুল ইসলাম ওরফে লাদেনকে ৫/১১/১৮ ইং তারিখে জামিন দেন আলোচ্য জেলা জজ লিয়াকত আলী মোল্লা। যার জি আর নং-৪৪৩/১৬ (চাঁপাই) ফৌজদারি মিসকেস নং-১৪৭৭/১৮ আদেশ নং-২ তারিখ ৫/১১/২০১৮।
এভাবে মাদক মামলার বহু আসামীকে নির্দ্বিধায় জামিন দিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ কোর্ট প্রাঙ্গণের দোকান-পাট, হোটেল ও গ্যারেজ ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত ১৪ লক্ষ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন তৎকালীন জেলা জজ লিয়াকত আলী মোল্লা।
এছাড়া, কোর্টের নতুন ভবনের নথি সংরক্ষণের জন্য সরবরাহকৃত নতুন ৩০টি লোহার র্যাক (যার একেকটির ওজন ২০০ থেকে ২৫০ কেজি ) গোপনে রাতের আঁধারে তৎকালীন নায়েব নাজির মাহবুব আলমের যোগসাজশে মাহবুব ফার্নিচার মার্টের নিকট চড়া মূল্যে বিক্রি করে দেয়। র্যাক বিক্রির টাকাও তিনি সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ।
১০ কেজি হেরোইন সহ গ্রেফতারকৃত আসামী দীর্ঘদিন জেলে আটক মর্মে অজুহাত দেখিয়ে ৪২ দিনের মধ্যে জামিন দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পাত্র হয়ে উঠেন লিয়াকত আলী।
এনিয়ে, ২০২০ সালের ২ মার্চ নওরোজ এ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে শাস্তিমূলক বদলী হিসেবে রাজশাহী মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে বদলী করা হয়।
পরবর্তীতে “জয় বাংলা” গান গেয়ে স্বৈরাচার হাসিনা ও সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হককে খুশি করে ঢাকার নিম্নতম মজুরী বোর্ডের চেয়ারম্যান হন তিনি। এরপর তিনি মানিকগঞ্জের জেলা জজ হিসেবে পদায়ন পান।
অতঃপর ৫ই আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে বিএনপির লোক হিসেবে জাহির করে বিচারপতি হবার জন্য প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে ভাইবা বোর্ডে উপস্থিত হন। কিন্তু তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক, ঘুষ-দুর্নীতি সহ অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারপতির হওয়া থেকে বাদ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ভাইভা বোর্ড।
এতেও তিনি থেমে থাকেন নি। অবশেষে, খোদ আইন মন্ত্রনালয়ের আইন সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই জেলা জজ, যে ১০ কেজি হেরোইন মামলার আসামিকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জামিন দিয়েছিলেন সেই মূল আসামীকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে সাজা প্রদান করেন তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরবর্তী জেলা জজ আদিব আলী।
তিনি সেই আদিব আলী যার জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জে। পৈতৃক বাসস্থান ভিটে মাটি আত্মীয় স্বজন সবাই বসবাস করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
তার পিতার কর্মস্থল পার্শ্ববর্তী জেলায় হবার সুবাদে ওই জেলার পরিচয়েই তিনি নিজ জেলায় পরপর ৪বার পদায়ন নেন। যুগ্ম জেলা জজ থেকে শুরু করে অতিরিক্ত জেলা জজ ও জেলা জজ হিসেবে তিনি প্রায় এক যুগের মত চাকরি করেছেন নিজ জেলাতেই।
নিজ এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে আদালতে উকিল থেকে শুরু করে নিকট আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন অবলীলাক্রমে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথমার্ধে বিশাল অংকের নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা দুর্নীতির অভিযোগে আদিব আলীকে ওএসডি করা হয়। মন্ত্রণালয়ে তাকে ওএসডি করার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রসিডিং শুরুর প্রক্রিয়া চলমান থাকাবস্থায় তারই ঘনিষ্ট বন্ধু লিয়াকত আলী মোল্লা আইন মন্ত্রণালয়ের আইন সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। লিয়াকত আলী মোল্লার সচিব হিসেবে যোগদানের পর থেমে গেছে আদিব আলীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কার্যক্রম।
লিয়াকত আলী মোল্লাকে নিয়ে নওরোজ এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইন উপদেষ্টাও বিব্রত বোধ করেন, জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৩ এর প্রধান মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান।
তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “উপদেষ্টা স্যার সচিবালয়ে তার কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে বলেন সচিবকে নিয়ে কেনো নওরোজে এতো লেখালেখি হচ্ছে? আপনারা মানা করতে পারেন না?”
তিনি এও বলেন, “আমি সচিব স্যারের সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার অধীনে চাকরি করেছি। স্যার সম্পূর্ণ নির্দোষ। এসব জামিন বাণিজ্য স্যার করেন নি, করেছেন তার স্ত্রী। ভাবিকেই দেখতাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে জামিন টামিন করাতে।”
মনিরুজ্জামানের এই সরল স্বীকারোক্তি কি প্রমান করেনা যে তিনি (সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা) ধোঁয়া তুলসী পাতা নন?
সুধী পাঠক, আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর জানতে চোখ রাখুন নওরোজের আগামী পর্বে।
নিউজ করায় ফাঁসানো হয়েছে আমাকে: নওরোজ সম্পাদক
ছবি : সংগৃহীত
পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক এ দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ঘটনার ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এরপর হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সেইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা।
ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল চারজনকে। অন্যদিকে, বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান দুইজন।
তবে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন না করায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
সুপ্রিম কোর্ট
গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে পাঁচ করবর্ষের জন্য এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর আদায় করতে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতির আবেদন) পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৮অক্টোবর) চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। চেম্বার আদালত আপিলের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে।
কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ রায় দিয়েছিল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। পরে গত ১২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় লিভ টু আপিল করে গ্রামীণ কল্যাণ।
প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন এবং শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। ফলে আপিল বিভাগে বিষয়টির চ‚ড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে আদালত। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইনের বিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিলের সুযোগ দিতে বলা হয় রায়ে।
পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল নিস্পত্তি করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে বলে আপিল বিভাগ। পুন:শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দুটি রিট আবেদন খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। যদিও ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট।
রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে তখন বলা হয়ছিল, রায় দেওয়া দ্বৈত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানি করেছিলেন। তাই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ (ডিফেক্টিভ) হবে। পরে প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলার নথি পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের এ রায় হয়।
সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চার বছরের দণ্ডের সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাসের ঘটনায় আলোচিত সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বছরের ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্ট
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
দেশের নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায় ও দুস্থ মানুষের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদ’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি।
নবগঠিত বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট তরুন লাল বেগী। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনার কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট সফল দাশ। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট অজয় টিকাকর, অ্যাডভোকেট বিমল চন্দ্র রায় ও অ্যাডভোকেট আকাশ দাস।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রী অনুপ কুমার সাহার সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন এডভোকেট সুমন কুমার রায়।
নবগঠিত এই পরিষদের মাধ্যমে দেশের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে আদালতে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন আইনজীবীরা। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছাড়েন বিচারক।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা এ মামলায় এ দিন জামিন শুনানি ছিল আখতারুজ্জামানের।
শুনানি শুরুর আগে দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে আখতারুজ্জামানকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এর আগে থেকেই এজলাস বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার মিনিট দুয়েক পর ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এজলাসে দাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ২ টা ৪১ মিনিটের দিকে ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মিনিট দুয়েক পর পুনরায় এজলাসে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।