"ইচ্ছা ছিল আমার সমাবর্তনের সময় মা-বাবা উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু এখন সেটা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেল," বলছিলেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এক পিএইচডি শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম ওঠায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি এই কথা বলেন। ভিসা বন্ডের নিয়ম অনুযায়ী এখন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বি১ বা বি২ ভিসা পেতে একেকজনকে গুনতে হবে পাঁচ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের কেউ যদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি১) এবং পর্যটন বা ভিজিট ভিসায় (বি২) আবেদন করেন এবং তারা যদি এই দুই ভিসা পাওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন হন, তাহলে তাকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় থেকে ১৯ লাখ টাকা জামানত হিসেবে দিতে হবে যা অনেকের জন্যই বাড়তি চাপ বিবেচিত হবে। ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথমে ছিল সাতটি দেশ। কিন্তু গত ৬ই জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সেই তালিকা কয়েকগুণ বাড়িয়ে ৩৮টি করেছে।
নতুন দেশগুলোতে 'ভিসা বন্ড' কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি চালু হবে আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে। এই বন্ড ব্যবস্থা আপাতত ১২ মাস মেয়াদি একটি পরীক্ষামূলক (পাইলট) কর্মসূচি, যা চালু হয় গত ২০শে আগস্ট। ভিসা বন্ড কী ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক জামানত, যা ফেরতযোগ্য। দুই ক্যাটাগরিতে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন এই বন্ড বা জামানত নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের বিপুল সংখ্যক ভিসা দিয়ে থাকে। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
যারা ভিসা পাবেন তারা যেন নির্ধারিত সময়ের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। কেউ অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা দেশটির অভিবাসন আইন বা ভিসা বন্ডের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩৮ দেশের নাগরিকদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত 'ভিসা বন্ড' বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। আর, ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়ই ঠিক করা হবে বন্ডের পরিমাণ কত হবে। এটি নির্ধারিত হবে তিন ধাপে। পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।
কার কত পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবে ভিসা কর্মকর্তা। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি নির্ধারণ করবেন। আবার তিনি চাইলে কাউকে বন্ডের আওতার বাইরে রেখেই বি১ বা বি২ ভিসা দিতে পারেন।
বাংলাদেশের একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক কামরুজ্জামান রনি বলেন, "যখন ভিসা অফিসার নিশ্চিত হবে যে আপনাকে ভিসা দেবে, তখনই আপনাকে টাকা জমা দিতে বলবে।
বিষয়টা এমন না যে আবেদন করার সময়ই আপনাকে টাকা দিতে হবে।" বন্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া, নির্দেশ ছাড়া জমা নয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে নির্দেশ দেওয়ার পরে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের 'আই-৩৫২' ফর্ম জমা দিতে হবে। তাদেরকে পে.গভ (Pay.gov) নামের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতি জানাতে হবে।
এই নিয়ম ওই দুই ক্যাটাগরির সবার জন্য প্রযোজ্য। স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে আরও বলা হয়েছে, বন্ড জমা দিতে কোনো তৃতীয়-পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে না। মার্কিন সরকারের নিজস্ব সিস্টেমের বাইরে কোনো জায়গায় অর্থ পরিশোধ করলে তার জন্য মার্কিন সরকার দায়ী থাকবে না। আর কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কেউ যদি বন্ড ফি পরিশোধ করেন, তাহলে সেই অর্থও ফেরত দেওয়া হবে না। কনস্যুলার কর্মকর্তা বন্ড জমা দিতে বললে তখন আবেদনকারীকে পেমেন্ট করার একটি সরাসরি লিংক পাঠানো হবে। তাতে প্রবেশ করে অর্থ জমা দিতে হবে। যদিও তারা এও জানিয়েছে যে বন্ড জমা দেওয়া মানেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত না।
কিন্তু কামরুজ্জামান রনির ভাষ্য, "শুরুতে যে সাত দেশের জন্য বন্ড প্রযোজ্য ছিল, তাদের ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আমরা স্টাডি করে দেখেছি, বন্ড দিতে বলা মানেই ভিসা নিশ্চিত।" বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যখন জটিল হবে বন্ড জমা দিয়ে যারা ভিসা পাবেন, তাদের জন্য বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো–– বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (বিওএস), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে) যা নিউইয়র্কে নিউইয়র্কে অবস্থিত এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (আইএডি)। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা ত্যাগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য এই তিন বিমান বন্দর বরাদ্দ এখন।
এর বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে বা বের হতে পারবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে গন্তব্য যেখানেই হোক না কেন। যদি কেউ অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে বা বের হন, তাহলে তা বন্ডের নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে যতদিনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, ভ্রমণকারী যদি সেই নির্ধারিত সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন; বা, যদি অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সে দেশে অবস্থান করেন; অথবা থেকে যান; কিংবা আশ্রয় বা অন্য কোনো ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করতে যুক্তরাষ্ট্র।
এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য মার্কিন অভিবাসন দপ্তরে পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ। তবে ভিসাধারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর থেকে ঢোকার অনুমতি না পেলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে। তবে কতদিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া হবে, তা জানানো হয়নি।
বন্ড ব্যবস্থা চালুর কারণ প্রতিবেদনে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে অভিবাসন ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে শুরু থেকেই সোচ্চার। গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন ঠেকাতে একের পর এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই অবৈধভাবে বসবাস করা পিতামাতার সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বন্ধ করে আদেশ জারি করেছিলেন তিনি। সেসময় হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়। অভিবাসন ঠেকাতে জানুয়ারি থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তিনি কড়াকড়ি আরোপ করেন। গত মার্চে কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আসা পাঁচ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীর অস্থায়ী বৈধতা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশি কর্মী হিসেবে বা এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আবেদনকারীদের বাড়তি এক লাখ ডলার গুণতে হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনমত জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'পিউ রিসার্চ সেন্টারের' রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বেড়েছে ১৬ লাখ।
গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এত বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার ১৪ শতাংশেরও বেশি মানুষ অভিবাসী, ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে এটাই রেকর্ড পরিমাণ অভিবাসন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও ভিসা বন্ড কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে ভ্রমণ সীমিত হয়ে যাওয়ায় পরে আর সেটি কার্যকর করা যায়নি। এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর কীভাবে পড়বে মোটা অংকের ওই ভিসা বন্ডের খবরে মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বেশ কয়েকজন শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, কোথাও যাওয়ার জন্য এত বিপুল পরিমাণ টাকা ফেলে রাখা অনেক পরিবারের জন্যই কঠিন হবে।
কামরুজ্জামান রনি'র মতে, ভিসা বন্ডের কারণে বিদেশ ভ্রমণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। "বিশেষ করে ট্যুরিস্ট ও ভিজিট ভিসার আবেদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন, ট্যুর অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাতে। বৈধ ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের বিদেশ ভ্রমণের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে," তিনি যোগ করেন। বাংলাদেশের নাম ওই তালিকায় ওঠা মানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিরও ক্ষতি, এমনটাই মনে করেন তিনি।
"বিদেশে বার্তা যেতে পারে যে বাংলাদেশি যাত্রীরা হাইরিস্ক। এতে অনান্য দেশের ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে," বলেন তিনি। উল্লেখ, এই তালিকায় কিউবা, ভেনেজুয়েলা, কঙ্গো,আলজেরিয়া, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়েসহ আরও অনেক দেশ আছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল ও ভুটানের মতো দেশও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: বিবিসি
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জামাতা জ্যারেড কুশনার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গোপনে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত।
আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের মুঠোফোনে নজরদারি চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজেদের এজেন্ডা বা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কুশনারের গোপন আর্থিক সমঝোতার তথ্য এতে উন্মোচিত হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন জ্যারেড কুশনার। দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব আপত্তিকর মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’
অভিযোগে যা আছে
ম্যাথু কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে ভ্যানিটি ফেয়ার এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ম্যাথু কোল একজন খ্যাতনামা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোপনীয়তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের ওপর নজর রাখছিলেন। সে সময়ই তাঁরা কুশনারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দেখেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই অ্যাকাউন্টে শত শত মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। কুশনার এ অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন। অ্যাকাউন্টটিতে তাঁর প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি এর মালিক ছিলেন না। আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তথা এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ অ্যাকাউন্টটি দেখভাল করতেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গোপন তহবিল বা স্ল্যাশ ফান্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মূলত তাঁদের মাথা থেকেই এ অ্যাকাউন্টের ধারণা আসে; যদিও গোপন তহবিলের সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জমা করেছিলেন।
এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সেখানে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এ অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে এ অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।
এ লেনদেনের বিষয়ে কুশনার তৎকালে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এ পর্যন্ত আইনিভাবে কোনো অপরাধ বা অন্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনকালে। ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের শান্তি আলোচনা–বিষয়ক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।
কুশনারের অস্বীকৃতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জ্যারেড কুশনার এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা ও এমন কিছু কখনোই ঘটেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
কুশনার লিখেছেন, ‘আমরা নথিবদ্ধভাবে বা অন দ্য রেকর্ড প্রতিটি দাবি অস্বীকার করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করার জন্য সামান্যতম প্রমাণও হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই নজিরবিহীন অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের তারিখ বা যাচাইযোগ্য অন্য কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।’
ট্রাম্পের জামাতা উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন। তখন তাঁকে তীব্র গণমাধ্যম কাভারেজ, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং একজন বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
কুশনার আরও বলেন, ‘আমি নিজে থেকে এসব তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। এসব অভিযোগের কোনোটি তখন সামনে আসেনি। কারণ, ঘটনাগুলোর কোনোটিই আসলে ঘটেনি।’
কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এ প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিজেল লেখেন, ‘এটি কোনো ভুল–বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের বিষয় নয়। বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব নেই। এগুলো একদমই অবাস্তব। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন আপত্তিকর এবং মানহানিকর দাবি করা হয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মামলা করবেন?’ জবাবে মিজেল লেখেন, ‘সব পথই খোলা আছে।’
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।