ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ক্রিস্টাল জিমারম্যান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধ নিয়ে বেশ চিন্তিত। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে আগে সমর্থন দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। 


একের পর এক বোমা হামলা আর চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ট্রাম্পের হুমকির পর এখন একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই। জিমারম্যানের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো নিজের অজান্তেই এক অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।


বাগদাদ থেকে ফেরার পর বিষণ্নতা ও অনিদ্রায় ভুগছেন ৪০ বছর বয়সী জিমারম্যান। কলোরাডো স্প্রিংসের একটি ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া শেষে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ আসলে সম্পদ ও অর্থের অপচয়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি একজন উৎপীড়কের মতো হয়ে উঠছে।’


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাত সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প আবারও তার চিরায়ত বাগাড়ম্বর ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ফিরে গেছেন। 




ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি দেশটির বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকের মনেই ক্ষোভ, হতাশা ও বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে।


জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৬ জনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের বিরোধী। বলা বাহুল্য, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ বা ’৯০-এর দশকে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ে জনগণের জোরালো জনসমর্থনের তুলনায় এটি এক বড় পরিবর্তন।


অনেকের মতে, এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বিভ্রান্ত। তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধের জন্য জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেননি এবং যুদ্ধের কারণও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। উত্তর ক্যারোলাইনার ফেয়্যাটভিল শহরে কফিতে চুমুক দিতে দিতে ১৯ বছর বয়সী এমেলিয়া লরেঞ্জেন বলেন, ‘আমার মনে হয় না ট্রাম্প কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’


ফেয়্যাটভিল শহরটি ফোর্ট ব্র্যাগ সেনাঘাঁটির জন্য বিখ্যাত। এখানে সেনাবাহিনীর স্পেশাল অপারেশনস এবং থার্ড স্পেশাল ফোর্সেস গ্রুপের সদর দপ্তর অবস্থিত। তবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই বিরোধিতার সুর এখনো বেশ মৃদু। ক্যাফের আড্ডা কিংবা সাবেক সেনাসদস্যদের সভায় আলাপচারিতার মধ্যেই মূলত এই অসন্তোষ দানা বাঁধছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের প্রাক্কালে যেমন বিশাল গণবিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, এবার তার পরিবর্তে শুধু ছোটখাটো সমাবেশ হচ্ছে।


আমি অবাক হচ্ছি যে আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।


৬৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক মাইক কিফ


অরেগনের পোর্টল্যান্ডে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ৬৪ বছর বয়সী মাইক কিফ বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি, আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।’


ইরান যুদ্ধের বিরোধিতার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক দলের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরোধী। অন্যদিকে রিপাবলিকান ভোটারদের বেশির ভাগই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাচ্ছেন। জরিপটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আগে করা হয়েছিল।


তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়তে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য অশনিসংকেত দিচ্ছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ। এতে দেখা গেছে, রিপাবলিকানঘেঁষা নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থন নিয়ে স্পষ্ট বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের প্রতি ৫২ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানালেও ৪৫ শতাংশই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।


সিএনএনের মার্চ মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান দলের ভেতরের এই ফাটল মূলত ট্রাম্পের গতানুগতিক কট্টর সমর্থকদের বাইরে থেকে তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নিজেদের ‘মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) রিপাবলিকান’ হিসেবে পরিচয় দেন না, তাদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থনের হার কট্টর সমর্থকদের তুলনায় অনেক কম।


এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকানদের তুলনায় তরুণ রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে অনেক কম সমর্থন করছেন। সামগ্রিকভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটাররা এই যুদ্ধের জোরালো বিরোধিতা করছেন।


এমনকি যেসব রিপাবলিকান এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন, তাঁরাও এ পরিস্থিতিকে খুব একটা সন্তোষজনক মনে করছেন না। পিউ জরিপ বলছে, এই রিপাবলিকানদের মাত্র অর্ধেক মনে করেন যে যুদ্ধ ঠিকঠাক এগোচ্ছে।


কলোরাডো স্প্রিংস, সান আন্তোনিও এবং ফিয়্যাটভিলের মতো সামরিক শহরগুলোয় নেওয়া এসব সাক্ষাৎকারে ভোটাররা তাঁদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্প ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধবিরোধী’ এবং শান্তির পক্ষে প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় এলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।


যুদ্ধ শুরুর ছয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মার্কিনদের অনেকেই জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য কী, কিংবা কেন তিনি এ সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে হামলায় যোগ দিলেন-সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তাঁদের মতে, সবকিছুই খুব দ্রুত এবং অসংলগ্নভাবে ঘটেছে।


মার্কিন নাগরিকেরা বলছেন, জর্জ ডব্লিউ বুশ বা তাঁর বাবা জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের মতো সাবেক প্রেসিডেন্টরা আফগানিস্তান বা ইরাক হামলা এবং কুয়েত থেকে সাদ্দাম হোসেনকে হটানোর অভিযানের আগে মাসের পর মাস এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। তখন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল এবং কংগ্রেসেও বিতর্ক হয়েছিল।


অথচ এবার ইরানে হামলার আগে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এর ওপর সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনালাপে এবং ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গভীর রাতে ট্রাম্পের দেওয়া একের পর এক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্চের শুরুর দিকের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার এবং ৭১ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার মনে করেন, যুদ্ধের আগে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। বিপরীতে ইরাক যুদ্ধের আগে বুশ যেসব যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, তা জনসাধারণের বড় একটি অংশের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল বলে জরিপে দেখা গেছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া লরেঞ্জেন তাঁর একটি হুমকিতে বিশেষভাবে বিচলিত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় সেই ভয়াবহ ঝুঁকি আপাতত এড়ানো গেছে।


লরেঞ্জেন বলেন, ‘ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান দিক ছিল তিনি নিজেকে একজন যুদ্ধবিরোধী মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। অথচ সেই কথা বলার পর এখন আমরা তাঁকে এত দ্রুত যুদ্ধের দিকে পা বাড়াতে দেখছি। বিষয়টি আসলে মোটেও বোধগম্য নয়।’


ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে এই ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। ওই দুই যুদ্ধে ৭ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য ও ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন। 


বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ভোটাররা ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সেই মিথ্যা দাবি এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের রক্তাক্ত বিদায়ের কথা টেনে আনছেন। তাঁদের মনে এখন একটাই সংশয়, আবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?


৫৫ বছর বয়সী সাবেক মেরিন সেনা কুয়েতা রদ্রিগেজ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সময় ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে এক ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সে সময়কার সম্মিলিত শোক এবং মার্কিন নাগরিকদের একতাবদ্ধ হওয়ার কথা মনে করেন। ইরাক আক্রমণের বিষয়ে বুশের যুক্তির সঙ্গে তিনি একমত না হলেও রদ্রিগেজ মনে করেন, বুশ অন্তত জনগণকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।


সান আন্তোনিওর বাসিন্দা রদ্রিগেজ এখন ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ, ট্রাম্প দেশকে এমন এক অঞ্চলে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে অনেক সেনা ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় তিনি কংগ্রেসের ওপর হতাশ এবং অনেক নাগরিককে এই যুদ্ধ নিয়ে নির্লিপ্ত দেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


রিপাবলিকানপন্থী অন্যান্য সাবেক সেনা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁরা এখনো ট্রাম্প ও এই যুদ্ধকে সমর্থন করেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া এবং শত শত মার্কিন সেনা হত্যায় সহায়তা করা একটি ‘ধর্মতাত্ত্বিক স্বৈরতন্ত্রের’ ওপর হামলা চালানোর জন্য তাঁরা ট্রাম্পের প্রশংসা করছেন।


ট্রাম্পের সমালোচকেরা যেখানে ইরান হামলাকে অগোছালো বলছেন, সেখানে তাঁর গোঁড়া সমর্থকেরা মনে করেন এই হামলা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।


ইরাকে দায়িত্ব পালন করা ৫৮ বছর বয়সী গ্যারি ফ্রিস বলেন, ‘ইরান একটা হুমকি, একে নির্মূল করা দরকার।’ বর্তমানে নিজের হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেল নিয়ে রকি মাউন্টেন চষে বেড়ানো এই সাবেক সেনা বলেন, ইরান আক্রমণ করে ট্রাম্প দেখিয়েছেন, ‘তাঁর মেরুদণ্ড আছে।’


পশ্চিম আইওয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রতি জোরালো সমর্থনও রয়েছে। গত তিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ অঞ্চলে ট্রাম্পের জয়ের ব্যবধান ক্রমাগত বেড়েছে।


নিজের খামারের গরুর মাংস বিক্রি করেন ৫১ বছর বয়সী কেলি গ্যারেট। তিনি এমন একজন কৃষক, যিনি সরকারের এই ইরান আক্রমণের যৌক্তিকতা পুরোপুরি না বুঝলেও তাতে সমর্থন দিচ্ছেন। মূলত অনেক রিপাবলিকানেরই প্রেসিডেন্টের ওপর অটুট বিশ্বাস রয়েছে।


ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে আগে থেকেই বিপর্যয়ের মুখে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলো। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। ঠিক যে সময় কৃষকেরা বীজ বপনের জন্য জমি ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করছিলেন, তখনই অর্থনীতির ওপর এই নতুন আঘাত এল।


তবু আইওয়ার অনেক রিপাবলিকান কৃষক এই উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং করপোরেট মুনাফাখোরদের দায়ী করছেন।


অবসরপ্রাপ্ত কৃষক কট্টর রিপাবলিকান সমর্থক ওয়েইন ব্রিঙ্কস (৭২) মনে করেন, যদি এই যুদ্ধের ফলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যায়, তবে বর্তমানের এই সাময়িক কষ্ট মেনে নেওয়া সার্থক হবে।


ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে ব্রিঙ্কস বলেন, ‘ওরা চরম ধর্মীয় উগ্রপন্থী। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ভেবেছেন পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। পরে কখনোই তা সম্ভব হবে না। আমাদের কিছু একটা করতেই হতো।’


তবে কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইওয়াতেও এখন সন্দেহ আর উদ্বেগ দানা বাঁধছে। উডবেরি কাউন্টির কৃষক ও রিপাবলিকান সুপারভাইজার মার্ক নেলসন (৩৫) ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই আক্রমণ প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বার্তাকেই ক্ষুণ্ন করছে।


ট্রাম্পপন্থী প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন, অ্যালেক্স জোনস এবং মেগিন কেলিদের মধ্যেও এমন সমালোচনা এখন জোরালো হচ্ছে।


নেলসন বলেন, ‘এই যুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় হচ্ছে, তা হাস্যকর।’ যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রভাব কতটা ছিল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। নেলসনের মতে, ‘আমার মনে হয় না, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কোনো আসন্ন বিপদ ছিল।’





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। দীর্ঘ প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, আই-২০ সংগ্রহ, আর্থিক নথি, সবকিছু সম্পন্ন করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে ওঠে এফ-ওয়ান স্টুডেন্ট ভিসা।


সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন অনেক আবেদনকারীকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কেউ উদ্বিগ্ন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিয়ে, কেউ আবার দূতাবাসে অতিরিক্ত তথ্য পাঠানোর সঠিক উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার অনেকেই কল সেন্টারে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। এসব সমস্যার সহজ কিছু সমাধান আছে, যা আগে থেকে জানা থাকলে পুরো ভিসা প্রক্রিয়াই সহজ হতে পারে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল: অ্যানোনিমাস হলেও দিতে হবে তথ্য


নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আবেদনকারীর ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্টের তথ্য। একজন আবেদনকারীকে তার বিগত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার লিংক ডিএস-১৬০ ফর্মে দিতে হবে। এমনকি আপনার কোনো অ্যানোনিমাস জিমেইল থাকলেও।


অনেকেই মনে করেন, যদি কোনো অ্যাকাউন্টে নিজের নাম প্রকাশ না থাকে বা সেটি অ্যানোনিমাস হয়, তাহলে সেটি উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো আবেদনকারী ব্যবহার করেন, সেগুলোর পরিচিতি বা হ্যান্ডেল সঠিকভাবে জানানো উচিত। কোনো অ্যাকাউন্ট অ্যানোনিমাস হলেও সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। কেননা এখানে একজন ভিসা অফিসার দেখতে চান, আবেদনকারী হিসেবে আপনি কোনো তথ্য গোপন করছেন কি না। সাধারণত ইউআরএল লিংক ফর্মে উল্লেখ করতে হয়।


এছাড়াও ভালো মতো জেনে নিন কোন মাধ্যমগুলো এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তালিকায় পড়ছে। সাধারণত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স, পিনটারেস্ট এর আওতায় পড়ে। তারপরেও নিরাপদ থাকার জন্য, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ, ৫ বছরের মধ্যে ডিলেটকৃত যদি কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে, এসব কিছুই আপনাকে সময় নিয়ে ডিএস-১৬০ ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।


যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় তথ্যের স্বচ্ছতা ও সত্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনপত্রে বা দূতাবাস থেকে তথ্য চাওয়া হলে ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য যথাযথভাবে দেওয়াই নিরাপদ।


দূতাবাসে তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন ই-মেইল ব্যবহার করবেন


অনেক সময় ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বা পরে দূতাবাস আবেদনকারীর কাছে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চেয়ে ই-মেইল পাঠায়। এ অবস্থায় অনেকেই বিভ্রান্ত হন, উত্তর কি যেকোনো ই-মেইল থেকে পাঠানো যাবে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে?


এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় আবেদনকারী যে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে ভিসার আবেদন করেছেন, সেই একই ই-মেইল ব্যবহার করা। এতে পরিচয় যাচাই সহজ হয় এবং যোগাযোগে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কমে।


অন্যদিকে, অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সেবা পরিচালনাকারী সিজিআই পোর্টালে একটি ফিডব্যাক বা রিকোয়েস্ট অপশন থাকে। যদি দূতাবাসের নির্দেশনা বা স্থানীয় ভিসা সেবার নিয়মে এই পোর্টাল ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় তথ্য বা সমস্যার বর্ণনা সেখানে জমা দেওয়া অধিক কার্যকর একটি উপায় হতে পারে। কেননা অনেক সময় পাঠানো ই-মেইল যান্ত্রিক কারণে না পৌঁছালেও ফিডব্যাক অপশনটিতে এই সুযোগ নেই।


কল সেন্টারে যোগাযোগ না হলে বিকল্প কী


ভিসা আবেদনকারীদের একটি সাধারণ অভিযোগ হলো, কল সেন্টারে বারবার ফোন করেও অনেক সময় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলা যায় না। বিশেষ করে ব্যস্ত মৌসুমে দীর্ঘ অপেক্ষা বা কল সংযোগ না পাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করা যেতে পারে। 


যেমন: ইউএস ট্রাভেল ডকসের ওয়েবসাইটে লাইভ চ্যাট সুবিধা রয়েছে। ওয়েবসাইটে আপনার পুরো নাম এবং ই-মেইল দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব।


লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে আবেদনকারীরা সাক্ষাৎকার, নথিপত্র, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কিংবা প্রযুক্তিগত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই ফোনের তুলনায় এটি দ্রুত ও সুবিধাজনক সমাধান দেয়। পাশাপাশি কথোপকথনের লিখিত রেকর্ডও থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে।


মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ে চোর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

কপাল মন্দ! মোটরসাইকেল চুরি করে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টার সময় অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশেই একটি দেওয়ালে ধাক্কা লাগে মোটরসাইকেলটির। দুর্ঘটনায় সড়কে ছিটকে পড়েন অভিযুক্ত চোর। সেই সুযোগে ছুটে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে পুলিশে তুলে দেয়। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের কটক জেলার মধুপাটনা থানাসংলগ্ন এলাকায়।


পুলিশ জানিয়েছে, মধুপাটনা থানার আওতাধীন তিনিঘারিয়া নুয়াসাহি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দেওয়ালে ধাক্কা দেন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। ঘটনা দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। এরপর পালানোর সুযোগ না দিয়ে তাকে আটক করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মধুপাটনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।


প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন দাবি করেন, আটক ব্যক্তিকে দেখে তাদের মনে হয়েছে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তবে তিনি সত্যিই অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ।


পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি আগে এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়লো চোর ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ল চোর/ ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২৯ পিএম

বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসার জন্য আবেদন করার সময় সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনলাইনে প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মটি বি-১ (ব্যবসায়িক) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।


নিয়ম অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।


আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছে।


ওই কর্মসূচির অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


পাইলট কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করতে পারতেন। তবে নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।


ফেডারেল রেজিস্টারে ৩ আগস্ট নিয়মটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হবে। কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে।


সূত্র: রয়টার্স


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশসহ যে কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে আসুক না কেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন। যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী। শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।


ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকে শুরু হয়েছে জনগণনা। ১৬তম জনগণনায় প্রথমবারের মতো এবারই ব্যবহৃত হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি। প্রথমবার নাগরিকদের জন্য থাকছে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার বিশেষ সুযোগও। জনগণনা হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার নিজেদের তথ্য সরকারি পোর্টালে জমা দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে সেই তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিলিয়ে দেখবেন জনগণনার কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকরা।


এদিন জনগণনার আনুষ্ঠানিক সূচনার মঞ্চ থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে এমন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে আলাদা কিছু করছে না।


অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ বা প্রতিবেশী দেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।


তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’


এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

ভারতের রাজস্থানের জয়সলমেরে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি এসইউভির সংঘর্ষে এক মেজর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই সেনা কর্মকর্তা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


পুলিশের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জয়সলমের শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে থাইয়াত সেনা এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় তিন সেনা কর্মকর্তা এসইউভিটিতে করে সেনা ঘাঁটিতে ফিরছিলেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।


দুর্ঘটনার পর তিন সেনা কর্মকর্তাকেই দ্রুত সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মেজর হামজা আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হামজা আরিফের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক মাস আগে। দুর্ঘটনায় আহত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান ও লেফটেন্যান্ট অভিনব রাঠোর বর্তমানে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কাছের সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পাইপলাইন সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ এক বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাইপলাইনটি লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মিসরের বুক চিরে ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে।


ইরান ও তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতেও লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি পণ্য উত্তর দিকে রপ্তানির জন্য মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন এত দিন নিরাপদ রুট হিসেবে ভরসা জুগিয়েছে।


ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি নীল নদের অববাহিকায় অবস্থিত মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গত বুধবার ট্যাংকার দুটিতে ওই হামলা চালানো হয়। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং সুয়েজ খালে সরাসরি হামলার কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় উদ্বেগ যোগ করেছে।


পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এমএসটি মারকুই’-এর জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ ও ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করেও তেল পরিবহন এখন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে।’


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এ রুট দিয়ে বলতে গেলে কোনো ট্যাংকারই চলাচল করছে না। এ যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব তাদের বেশির ভাগ তেল লোহিত সাগর এবং দেশটির ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে শুরু করে। হুতিদের নতুন হুমকি ও হামলার কারণে ট্যাংকারগুলো এখন এই বাব আল-মানদেব তথা লোহিত সাগরের রুটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে।


বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইনের দিকে উত্তরমুখী চলাচলকারী সৌদি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হলো, এডেন উপসাগর হয়ে দক্ষিণ দিকের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে জাহাজগুলোকে।


২০ জুলাই লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ওই পাইপলাইন দিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। হুতিদের হুমকির পর জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।


জাহাজ চলাচলের গতিবিধি নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য, সুয়েজের ভূমধ্যসাগর প্রান্তের পোর্ট সাইড নোঙরখানায় প্রায় ৩০টি জাহাজ জড়ো হয়েছে। অথচ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও এ সংখ্যা ছিল ২০টির কাছাকাছি।


জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভোর্টেক্সা’-এর জর্জ মরিস বলেন, লোহিত সাগরে তেলবোঝাই করার পর ট্যাংকারগুলোর উত্তর দিকে; অর্থাৎ সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্টত বেড়েছে। আর এর মূল কারণ হুতিদের নতুন হুমকি (বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি)।


কেপলারের তথ্য বলছে, বাব আল-মানদেব দিয়ে দক্ষিণমুখী রুটে (এশিয়ার দিকে) তেলের প্রবাহ এখনো সচল থাকলেও তা চলতি মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জুনে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে বোঝাই করা তেলের ৮১ শতাংশ যেখানে দক্ষিণে গিয়েছিল, সেখানে জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশে। অনেক ট্যাংকার বাব আল-মানদেব সম্পূর্ণ এড়িয়ে চললেও চীনের মালিকানাধীন জাহাজসহ কিছু ট্যাংকার হুতিদের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে যাতায়াত করছে।


জর্জ মরিস জানান, হুতিদের হামলা আর নজরদারি এড়াতে এ দক্ষিণমুখী ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিজেদের অবস্থান লুকানোর চেষ্টাও বাড়ছে। ফলে ‘ট্র্যাকার’ বা অবস্থান শনাক্তকরণ যন্ত্র বন্ধ করে চলাচলকারী ট্যাংকারের সংখ্যা এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।


তবে মিসরে দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার ঘটনার মানে এ নয় যে সুয়েজ খাল এখনই কোনো তাৎক্ষণিক হুমকিতে পড়েছে, এমনটাই মনে করেন ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি’-এর আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের প্রধান অ্যালি ব্লেকওয়ে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাজার এখন পর্যন্ত সুয়েজ খালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি বা আশঙ্কা তৈরি করেনি।’


এ ড্রোন হামলার পরও গতকাল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মূলত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার খবরের দিকেই ব্যবসায়ীদের মূল নজর ছিল, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সামগ্রিক এ পরিস্থিতি নিয়ে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


বাজারে তেল পৌঁছানোর পথ আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হচ্ছে


ইরান হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ট্যাংকার অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো জ্বালানি রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।


অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় ইয়ানবু থেকে তেল বোঝাই করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজও পড়তে পারে।


হুতিরা এরই মধ্যে দেখিয়েছেন, তাঁদের ড্রোন ও রকেটের পাল্লার মধ্যে সুয়েজ খাল অঞ্চলও রয়েছে। তাঁরা একাধিকবার ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছুড়েছেন। যদিও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সেগুলো ভূপাতিত করার সুযোগও বেশি।


জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক দর নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস’-এর এলএনজি মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র বলেন, শুধু এ একটি কারণেই এখন জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যেতে পারে। মিসরে সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমাকারীরা সুয়েজ খালের জন্য বাড়তি “যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম” দাবি করতে পারেন।’ অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান এখনো (সুয়েজ নিয়ে) সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি দেয়নি।


একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সুয়েজ খালের কাছাকাছি মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোয় চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে শিপিং কোম্পানিগুলো।


যদিও মিসরের ভেতরে এ হামলাকে সুয়েজ খালের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের সাবেক বোর্ড সদস্য ওয়ায়েল কাদ্দুর বলেন, ‘খালটি সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।’


এ হামলার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল।


জর্জ মরিস বলেন, ‘জুনে এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ১৫ শতাংশই ইয়ানবু থেকে এসেছে। এ সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো বড় প্রভাবের মুখে পড়বে। বাব আল-মানদেবের বদলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সময় দ্বিগুণেরও বেশি লাগে। ফলে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় এক মাস বাড়তি লাগছে।’


অন্যান্য কারণেও সুয়েজ খাল দিয়ে বিশাল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বেশ জটিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিচের অংশ অনেক বেশি গভীর বা ভারী হওয়ায় তারা পুরোপুরি তেলবোঝাই অবস্থায় সুয়েজ খাল পার হতে পারে না। ফলে এ জাহাজগুলোকে প্রথমে সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল খালাস করতে হয়। এরপর ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর সেই তেল আবার জাহাজে তুলতে হয়।


হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বর্তমান সংকটে সুয়েজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্নের প্রভাবও হবে ব্যাপক।


সামুদ্রিক নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র‍্যান্সলেম বলেন, ‘সুয়েজ খাল অঞ্চলের যেকোনো স্থানে হামলা হলে যুদ্ধঝুঁকির বিমার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নও বদলে যাবে।’


ক্লেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, ‘সুয়েজ খালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে পড়বে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তার প্রভাব খুব দ্রুত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।’