ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ পিএম

চীনা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি ও গোয়েন্দা তথ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।


তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তথ্যের সহায়তায় ইরান একদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ শনাক্ত ও হুমকির মুখে ফেলতে পারছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আরও নিখুঁত হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।


সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ইরানের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সক্ষমতায় নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের তথ্য চারজন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছে সিএনএন।


সূত্রগুলোর দাবি, চীনা স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও ভৌগোলিক তথ্যের সহায়তায় গত জুলাইয়ে জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান এমন নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম হয়, যা মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের সহায়তা ছাড়া ইরানের পক্ষে করা কঠিন ছিল। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।


এছাড়া চীনা ভূ-স্থানিক তথ্যের সহায়তায় হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নজরদারির ইরানি সক্ষমতাও বেড়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর ফলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়ছে।


স্যাটেলাইট তথ্য কাজে লাগিয়ে ড্রোন হামলা


দুই মার্কিন সূত্রের ভাষ্য, চীনা তথ্যের সহায়তায় ইরান তুলনামূলক সরল প্রযুক্তির তাপ-অনুসরণকারী ড্রোনও আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে। এসব ড্রোন মাঝ আকাশে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তবে জাহাজ কখন নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছাবে, তা আগে থেকে বুঝে হামলার সময় নির্ধারণ করতে পারায় ড্রোনগুলোকে জাহাজের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলটি মূলত একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎক্ষেপণ করা এবং সেগুলোকে জাহাজের তাপ-স্বাক্ষর অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ দেওয়া।


এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক একটি মার্কিন নৌ-এসকর্ট অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনী এক ডজনের বেশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে এবং প্রায় ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করে। একই সময়ে প্রণালির আশপাশে প্রায় ৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আক্রমণও চালানো হয়।


মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের গোয়েন্দা সহায়তার পাশাপাশি রাশিয়ার সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে ইরানি বাহিনীর অর্জিত যুদ্ধ-অভিজ্ঞতাও তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।


চীনের সহায়তার পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা


তবে চীন ঠিক কতটা সহায়তা করছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, চীনা সরকার সরাসরি এই সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে কি না, নাকি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা করার ক্ষেত্রে নীরব সম্মতি দেওয়া হয়েছে- এ বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।


এ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। একজন মার্কিন গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়াকে চীন বরং বন্ধ করতে চায়।


তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চীনা গোয়েন্দা সহায়তা ইরানের যুদ্ধকৌশলে ইতোমধ্যে প্রভাব ফেলেছে।


হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপ প্রয়োগের জায়গাগুলোর একটি বলে মনে করেন মার্কিন কর্মকর্তা ও বাইরের বিশ্লেষকেরা। সেখানে মার্কিন সামরিক এসকর্ট এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান নিয়মিত হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে।


ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনের সক্ষমতায়ও উন্নতি


চীন ও রাশিয়ার কারিগরি সহায়তার ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গাইডেন্স বা দিকনির্দেশনা ব্যবস্থাতেও উন্নতি হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।


এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়মিত অভিজ্ঞতা অর্জন ইরানের সক্ষমতা বাড়িয়েছে ঠিকই, তবে বাইরের সহায়তাও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।


এদিকে ওয়াশিংটনও চীনা বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ছবি ইরানের হাতে যাওয়ার বিষয়টি ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন গত মে মাসে তিনটি চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, এসব কোম্পানির সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক হামলা সক্ষম করছে।


মার্কিন ঘাঁটিগুলো আরও ঝুঁকির মুখে


যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের কৌশলও বদলাচ্ছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদকে হুমকির মধ্যে রাখা এবং ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা।


এক গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইরান এখন নিয়মিত মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোন তৎপরতা নিয়ে নিয়মিত সতর্কতাও জারি হচ্ছে।


আরেক মার্কিন সূত্র বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলায় ইরানকে নিজেদের কৌশল ও সক্ষমতা উন্নত করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।


চীনের কাছ থেকে ইরান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পেয়েছে বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো- ইরানের নিম্ন ও মাঝারি উচ্চতায় উড্ডয়নকারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ-উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করলেও অপেক্ষাকৃত নিচু উচ্চতায় আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় নতুন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে।


এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে।


জর্ডানে হামলায় চীনা তথ্যের ভূমিকা


ইরান ২০২০ সালেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছিল। সে সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তেহরান।


তবে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, এরপর থেকে ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জনবল, সামরিক সরঞ্জাম ও মজুত স্থাপনার অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


জুলাইয়ে জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী হামলার ক্ষেত্রে চীনা সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কিছু মার্কিন কর্মকর্তা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও এর আগে ওই হামলার সঙ্গে চীনা স্যাটেলাইট ছবির যোগসূত্রের কথা জানিয়েছিল।


চীনা-ইরানি সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কতা

চীনের কাছ থেকে ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বেইজিং সরাসরি কোনও অনিয়মের কথা স্বীকার করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এর আগে বলেছিলেন, চীন সব সময় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে এবং সংঘাতকে ব্যবহার করে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার বিরোধিতা করে।


ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে চীন সহায়তা করছে কি না- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে এর আগে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের গতিপথে চীনের কর্মকাণ্ড কোনও পরিবর্তন আনেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে চীন সহযোগিতামূলক ভূমিকা নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সময় এই বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।


দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ নিয়েও উদ্বেগ


ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে চীন থেকে আমদানি করা ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা বেসামরিক ও সামরিক- দুই ধরনের কাজে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ নিয়েও উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র।


এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, চীনা যন্ত্রাংশের সরবরাহ না থাকলে ইরানের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে একই মাত্রায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো।


তবে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান যেভাবে নিজেদের সামরিক মজুত পুনর্গঠন করছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগের মূল্যায়নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে যুদ্ধের সব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ করার আগেই ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের এটিও একটি কারণ বলে তিনি মনে করেন।


চীনা স্যাটেলাইট তথ্য, রুশ সহায়তা, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দীর্ঘ সংঘাতে অর্জিত যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা- সব মিলিয়ে ইরানের হামলার নির্ভুলতা ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নগুলোতে উঠে এসেছে। তবে চীনা সরকারের সরাসরি নির্দেশে এসব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। সূত্র: সিএনএন




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।


সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।


আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: আল জাজিরা



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।


চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।


মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।


সূত্র: এনডিটিভি


চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।


চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।


চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।


শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।


ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।


আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম। 


উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল। 


দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।


আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।


বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।


সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।


আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।


মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।


মোহাম্মদ সাদিক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। 


এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।


মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।


উৎসবের' আবহ


মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।


পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।


৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।


তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"


'নামটাও মনে থাকে না'


তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।


মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"


মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।


এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।


স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন


বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।


আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।


শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।


যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।


পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।


সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।


শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।


মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে


শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।


জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।


এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।


মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।


কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।


নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।


"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"