ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ থামাতে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ বৈঠক শেষে আজ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমনটাই বলেছেন।
তিনি বলেন, তেহরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দেওয়ার পর তিনি আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাচ্ছেন। এদিকে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবিকে দায়ী করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এ ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এটি ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
ভ্যান্স বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে একটি ‘মৌলিক প্রতিশ্রুতি’ চাইছে ওয়াশিংটন। তবে এ আলোচনায় তেমন কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানকে প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য কিছুটা সময় দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভ্যান্স। এর আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আলোচনার সুযোগ দিতে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গতকাল শুরু হওয়া এই আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই কঠোর অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠানো হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানি গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘অতিরিক্ত দাবি’ করছে বলে অভিযোগ করার পরপরই বোঝা গিয়েছিল যে আলোচনায় টানাপোড়েন চলছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়।
পাকিস্তানের রাজধানীতে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক শেষে আজ জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একটি খুবই সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি, এটি আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক, ইরান তা গ্রহণ করে কি না।’
ভ্যান্স ইতিমধ্যে পাকিস্তান ছেড়েছেন।
এদিকে আজ ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণে ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি বলেছে, ‘ইরানি প্রতিনিধিদল ইরানি জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য টানা ২১ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে গেছে। ইরানি পক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবিগুলো আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এভাবে আলোচনা থেমে গেছে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেশটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ব্যবসায়ী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের বৈঠক হয়েছিল। ওই আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। হামলার শুরুতেই ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
হামলার পর দ্রুতই ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব খাটায়। এতে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে যায়। জ্বালানির বাড়তি দামে মার্কিন জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
গতকাল আলোচনা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনার ফলাফল নিয়ে তিনি তেমন উদ্বিগ্ন নন। তাঁর দাবি, ইরানের নেতাদের হত্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, এতে আমার কিছু যায় আসে না। কারণ, আমরা ইতিমধ্যেই জিতে গেছি।’
পাকিস্তানে আয়োজিত আলোচনায় ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে কুশনার ও উইটকফও ছিলেন। অন্যদিকে ৭০ সদস্যের ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। দলটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসরায়েলে প্রায় ১০টি অতিরিক্ত আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (এরিয়াল রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েন করতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট। এ বরাতে রোববার খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন বিমানগুলোর বেশিরভাগই তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবস্থান করবে।
এর ফলে সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা ৩০টিরও বেশি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানের সঙ্গে নতুন বিমানগুলো যুক্ত হবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে তথ্যটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যে ইরানে হামলা জোরদারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হয়েছে, যিনি প্রয়োজন হলে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করেন না। শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুবিও বলেন, আমার মনে হয় না ইরানের শাসকগোষ্ঠী আগে কখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। তিনি এমন একজন নেতা, যিনি বাস্তবে পদক্ষেপ নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দুই থেকে তিন দশক ধরে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই ইরানকে বিভিন্ন বিষয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান চুক্তি ভঙ্গ, বিভ্রান্তিকর কৌশল এবং প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড করে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। দীর্ঘ প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, আই-২০ সংগ্রহ, আর্থিক নথি, সবকিছু সম্পন্ন করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে ওঠে এফ-ওয়ান স্টুডেন্ট ভিসা।
সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন অনেক আবেদনকারীকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কেউ উদ্বিগ্ন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিয়ে, কেউ আবার দূতাবাসে অতিরিক্ত তথ্য পাঠানোর সঠিক উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার অনেকেই কল সেন্টারে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। এসব সমস্যার সহজ কিছু সমাধান আছে, যা আগে থেকে জানা থাকলে পুরো ভিসা প্রক্রিয়াই সহজ হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল: অ্যানোনিমাস হলেও দিতে হবে তথ্য
নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আবেদনকারীর ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্টের তথ্য। একজন আবেদনকারীকে তার বিগত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার লিংক ডিএস-১৬০ ফর্মে দিতে হবে। এমনকি আপনার কোনো অ্যানোনিমাস জিমেইল থাকলেও।
অনেকেই মনে করেন, যদি কোনো অ্যাকাউন্টে নিজের নাম প্রকাশ না থাকে বা সেটি অ্যানোনিমাস হয়, তাহলে সেটি উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো আবেদনকারী ব্যবহার করেন, সেগুলোর পরিচিতি বা হ্যান্ডেল সঠিকভাবে জানানো উচিত। কোনো অ্যাকাউন্ট অ্যানোনিমাস হলেও সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। কেননা এখানে একজন ভিসা অফিসার দেখতে চান, আবেদনকারী হিসেবে আপনি কোনো তথ্য গোপন করছেন কি না। সাধারণত ইউআরএল লিংক ফর্মে উল্লেখ করতে হয়।
এছাড়াও ভালো মতো জেনে নিন কোন মাধ্যমগুলো এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তালিকায় পড়ছে। সাধারণত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স, পিনটারেস্ট এর আওতায় পড়ে। তারপরেও নিরাপদ থাকার জন্য, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ, ৫ বছরের মধ্যে ডিলেটকৃত যদি কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে, এসব কিছুই আপনাকে সময় নিয়ে ডিএস-১৬০ ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় তথ্যের স্বচ্ছতা ও সত্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনপত্রে বা দূতাবাস থেকে তথ্য চাওয়া হলে ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য যথাযথভাবে দেওয়াই নিরাপদ।
দূতাবাসে তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন ই-মেইল ব্যবহার করবেন
অনেক সময় ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বা পরে দূতাবাস আবেদনকারীর কাছে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চেয়ে ই-মেইল পাঠায়। এ অবস্থায় অনেকেই বিভ্রান্ত হন, উত্তর কি যেকোনো ই-মেইল থেকে পাঠানো যাবে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে?
এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় আবেদনকারী যে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে ভিসার আবেদন করেছেন, সেই একই ই-মেইল ব্যবহার করা। এতে পরিচয় যাচাই সহজ হয় এবং যোগাযোগে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কমে।
অন্যদিকে, অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সেবা পরিচালনাকারী সিজিআই পোর্টালে একটি ফিডব্যাক বা রিকোয়েস্ট অপশন থাকে। যদি দূতাবাসের নির্দেশনা বা স্থানীয় ভিসা সেবার নিয়মে এই পোর্টাল ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় তথ্য বা সমস্যার বর্ণনা সেখানে জমা দেওয়া অধিক কার্যকর একটি উপায় হতে পারে। কেননা অনেক সময় পাঠানো ই-মেইল যান্ত্রিক কারণে না পৌঁছালেও ফিডব্যাক অপশনটিতে এই সুযোগ নেই।
কল সেন্টারে যোগাযোগ না হলে বিকল্প কী
ভিসা আবেদনকারীদের একটি সাধারণ অভিযোগ হলো, কল সেন্টারে বারবার ফোন করেও অনেক সময় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলা যায় না। বিশেষ করে ব্যস্ত মৌসুমে দীর্ঘ অপেক্ষা বা কল সংযোগ না পাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেমন: ইউএস ট্রাভেল ডকসের ওয়েবসাইটে লাইভ চ্যাট সুবিধা রয়েছে। ওয়েবসাইটে আপনার পুরো নাম এবং ই-মেইল দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব।
লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে আবেদনকারীরা সাক্ষাৎকার, নথিপত্র, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কিংবা প্রযুক্তিগত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই ফোনের তুলনায় এটি দ্রুত ও সুবিধাজনক সমাধান দেয়। পাশাপাশি কথোপকথনের লিখিত রেকর্ডও থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে।
মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ে চোর
কপাল মন্দ! মোটরসাইকেল চুরি করে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টার সময় অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশেই একটি দেওয়ালে ধাক্কা লাগে মোটরসাইকেলটির। দুর্ঘটনায় সড়কে ছিটকে পড়েন অভিযুক্ত চোর। সেই সুযোগে ছুটে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে পুলিশে তুলে দেয়। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের কটক জেলার মধুপাটনা থানাসংলগ্ন এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মধুপাটনা থানার আওতাধীন তিনিঘারিয়া নুয়াসাহি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দেওয়ালে ধাক্কা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। ঘটনা দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। এরপর পালানোর সুযোগ না দিয়ে তাকে আটক করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মধুপাটনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন দাবি করেন, আটক ব্যক্তিকে দেখে তাদের মনে হয়েছে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তবে তিনি সত্যিই অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি আগে এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়লো চোর ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ল চোর/ ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসার জন্য আবেদন করার সময় সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনলাইনে প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মটি বি-১ (ব্যবসায়িক) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছে।
ওই কর্মসূচির অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পাইলট কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করতে পারতেন। তবে নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে ৩ আগস্ট নিয়মটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হবে। কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশসহ যে কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে আসুক না কেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন। যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী। শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকে শুরু হয়েছে জনগণনা। ১৬তম জনগণনায় প্রথমবারের মতো এবারই ব্যবহৃত হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি। প্রথমবার নাগরিকদের জন্য থাকছে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার বিশেষ সুযোগও। জনগণনা হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার নিজেদের তথ্য সরকারি পোর্টালে জমা দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে সেই তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিলিয়ে দেখবেন জনগণনার কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকরা।
এদিন জনগণনার আনুষ্ঠানিক সূচনার মঞ্চ থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে এমন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে আলাদা কিছু করছে না।
অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ বা প্রতিবেশী দেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’
এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজস্থানের জয়সলমেরে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি এসইউভির সংঘর্ষে এক মেজর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই সেনা কর্মকর্তা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জয়সলমের শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে থাইয়াত সেনা এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় তিন সেনা কর্মকর্তা এসইউভিটিতে করে সেনা ঘাঁটিতে ফিরছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায় ওই এসইউভি এবং প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।
দুর্ঘটনার পর তিন সেনা কর্মকর্তাকেই দ্রুত সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মেজর হামজা আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হামজা আরিফের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক মাস আগে। দুর্ঘটনায় আহত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান ও লেফটেন্যান্ট অভিনব রাঠোর বর্তমানে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।